Save The Nature Of Bangladesh- চট্টগ্রাম মহানগর শাখা

Save The Nature Of Bangladesh- চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এদেশের পরিবেশ প্রকৃতি জলবায়ু ও জীববৈ?

Our Nature Our Right - Save The Nature Join The fight স্লোগানকে ধারন করে এদেশের পরিবেশ প্রকৃতি জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মহান শপথে যখন দেশে পরিবেশ রক্ষায় সমৃদ্ধ পরিবেশ আইন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইন ছিলনা তখনই এদেশের সবুজ সারথী দেশপ্রেমিক সেচ্ছাসেবী তরুণদের নিয়ে ২০০৫ সালের ৫ ই জুন প্রকৃতির বন্ধু আ.ন.ম.মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে Save The Nature Of Bangladesh নামের দেশের সর্ববৃ

হৎ পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রাতিষ্টানিক ভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। সারাদেশের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি প্রেমী ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে নিয়ে স্রোতের বিপরীতে পরিবেশ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সারাদেশে শুরু হয় সম্মিলিত প্রতিরোধ, আজ হাজারো দেশপ্রেমিক স্বপ্নবাজ তরুণ্যের একটাই লক্ষ্য We are fighting for the bright tomorrow.....

এদেশের সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা প্রকৃতির সবুজ ছায়ায় জন্ম নিয়েছে নজরুল, সুকান্ত, পল্লী কবি জসীম উদ্দিন ও বনলতা সেনের মত প্রকৃতি প্রেমী কবিরা । ভাবতেও খারাপ লাগে ভূমিদস্যু হায়েনাদের লুলুপ দৃষ্টি আজ প্রকৃতির অন্যতম প্রধান উপাদান গাছ-পালা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত সহ সবখানে। তারা তাদের ক্ষুদ্র ব্যাক্তি-স্বার্থকে চরিতার্থ করার কু-মানসে পাহাড় কেটে ডেকে আনছে পরিবেশের বিপর্যয়।

অন্যদিকে দেশের বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের মহোৎসব যেন সমগ্র মানচিত্র জুড়ে, যেখানে একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকার কথা সেখানে নেমে আসে সেখানে অঞ্চলভেদে ১০-১৫ ভাগে তাও প্রাকৃতিক বনভূমিকে ধ্বংস করে এদেশের প্রকৃতি পরিবেশ বিনাশী যে গাছে ফুল হয়না, ফল হয়না, পাখি বসেনা, প্রকৃতি পরিবেশের কোন উপকারে আসেনা, বনের ইকোসিস্টেম ধ্বংস করে এমন প্রেসক্রিপশন নির্ভর আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস বা সেগুনের মত ক্ষতিকর বৃক্ষের মুনাফালোভী সামাজিক বনায়ন প্রকল্প ।
এতে বিপন্ন ও বিলুপ্তির হুমকির মুখে পড়ে দেশের হাজারো বন্যপ্রাণী, যারা এদেশের প্রকৃতি পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম সমৃদ্ধ করে। দেশের বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে মানুষ বনের জমি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং কেটে সাফ করেছে প্রাকৃতিক পাহাড় ও বনভূমিকে, বনের মাঝেই আজ শত শত ইটভাটা ও করাত কল, প্রতিনিয়ত ইটভাটায় পুড়ছে বনের কাঠ ও কৃষি জমির উর্বর টপ সয়েল, যেন সর্বত্র প্রকৃতি বিনাশী এক যুদ্ধ প্রশাসন ও রাজনৈতিক পৃষ্টপোকতায়। বনের বিপন্ন আশ্রয়হীন অসহায় বন্যপ্রাণী ধরে এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনোদনের নামে গড়ে তোলা হয় চিড়িয়াখানা বা মিনি চিড়িয়াখানা। তারই একটি অংশ দেশের বিভিন্ন সিমান্ত অঞ্চল হয়ে নিয়মিত পাচার হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। সেই সাথে দেশীয় ও অতিথি পাখি, বন মোরগ, হরিণ হয়ে উটে পচন্দের মুখরোচক সুস্বাদু খাবারে।

নদী- নালা, খাল-বিল, বনভূমি ধ্বংস করে ভূমিদস্যুরা স্বপ্ন দেখে বরং এখানে কুড়ে ঘর নয়, হবে প্রাসাদোপম অট্টালিকা। উপকূলীয় অঞ্চলের সবুজ বেষ্টনী ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ও প্যারাবন নিধন করে গড়ে উটে লক্ষ লক্ষ একর চিংড়ি ঘের ও লবন মাঠ । ফলে ইকোসিস্টেম নষ্ট হবার ফলে পর্যটন নগরী ককসবাজার , কুতুবদিয়া উপজেলা বা সাতক্ষীরা সহ দেশের উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ নলকূপ দিয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির বদলে আসছে লবনাক্ত পানি ।
ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিঃসৃত বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে নদী ও সাগরে ফলে , ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য , ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সমূহ ।
অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পেলেও দেশের অধিকাংশ ইট পোড়ান হয় বনভূমি উজাড় করে । চলমান পাহাড় কাটার ফলে দেশের অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়েছে ।
সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর নামক একটি প্রতিষ্টান থাকলেও জনবল সংকট ও আইনী জটিলতার কারনে তারা পরিবেশ রক্ষায় ফলপ্রসু কোন ভূমিকা রাখতে পারছেনা । পরিবেশ আদালতে মামলা হয় ঠিকই কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রভাবের কারনে ভূমিদস্যুরা উপযুক্ত সাক্ষি প্রমানের অভাবে বেখসুর খালাস পেয়ে দ্বীগুন উৎসাহে পরিবেশ নষ্ট করছে , যার অহ রহ প্রমান রয়েছে ।
অন্যদিকে অব্যাহত পাহাড় কাটা ও বন ভূমি উজাড় করার ফলে বায়ুমন্ডলে র্কাবনডাইঅক্সাইডের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এতে মরূ অঞ্চলের বরফ গলতে শরু করেছে ফলে সাগরে পানির উচ্ছতা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এতে করে সাগর উপকূলের দ্বীপ ও দেশ সমূহের ভূভাগ আস্তে আস্তে পানির নীছে তলিয়ে যাচ্ছে এবং বায়ুমন্ডলের উজন স্তর ভেধ করে র্সূযের অতি বেগুনী রশ্ণী সরাসরি পৃথিবীতে এসে পড়ছে ফলে পৃথিবীতে নতুন নতুন রোগ ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে ।
তাই দেশ বাচাঁতে , প্রকৃতি বাচাঁতে ও পরিবেশ বাঁচাতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে Save The Nature Of Bangladesh হয়ে উটে এদেশের মানুষের বিশ্বাস ও আস্তার ঠিকানা তাই আজ এদেশের জনসাধারনের পরিবেশ আইন সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষার র্স্বাথে সচেতন দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহবান জানাচ্ছি ।

শুভেচ্ছান্তে
আ.ন.ম.মোয়াজ্জেম হোসেন
চেয়ারম্যান
Save The Nature Of Bangladesh

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চট্টগ্রামে"ন্যাচার কনভেনশন " ও বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আগামী মাসে বৃহৎ পরিসর...
24/05/2026

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চট্টগ্রামে"ন্যাচার কনভেনশন " ও বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আগামী মাসে বৃহৎ পরিসরে নাগরিক সভার আয়োজন করবে সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।


স্লোগানে
চট্টগ্রামের পরিবেশ প্রকৃতি জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মাটি, পানি, বায়ু, নদী, জলাশয়-জলাধার দূষণ নির্মূলে গৃহস্থালি বর্জ্য, ই-বর্জ্য, মেডিক্যাল বর্জ্য, সুয়ারেজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে, অবশিষ্ট পাহাড় প্রকৃতি সুরক্ষায়, অপরিকল্পিত নগরায়নের লাগাম টানতে, জনদূর্ভোগ নির্মূল করে দায়িত্বশীল সুনাগরিক গঠন, নগরের সবুজ আচ্ছাদন সমৃদ্ধির মাধ্যমে বাসযোগ্য নগরী গড়তে "ন্যাচার কনভেনশন " এর মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীল সমাজ সহ নাগরিকদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার মহান উদ্যোগ নিয়েছে সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ।

সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর এর সভাপতি জসীমউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Save The Nature of Bangladesh এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ ।
উক্ত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বশীল, পেশাজীবী, সরকারি চাকুরীজীবী ও সচেতন নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে “ন্যাচার কনভেনশন” ও “বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন” এর উদ্যোগে এবং “সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম শাখা”র আয়োজনে বৃহৎ পরিসরে “নাগরিক সভা” সফল করার লক্ষ্যে উপস্থিত সকলে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

Bangladesh Animal Welfare Association


A N M Moazzem Hossain Moazzem Riad

23/05/2026
আসসালামু আলাইকুম। “বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন” এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নাগরিক সভার আয়োজন সফল করার লক্...
20/05/2026

আসসালামু আলাইকুম।

“বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন” এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নাগরিক সভার আয়োজন সফল করার লক্ষ্যে "প্রস্তুতি সভা" অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন
“সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ” এর কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান এবং “বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন” এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক
জনাব আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ।

📅 তারিখ: ২৩/০৫/২০২৬, শনিবার
🕖 সময়: সন্ধ্যা ৭:০০ টা
📍 স্থান:SDG মিলনায়তন,হাজী বাদশা মিয়া বিল্ডিং(৫ম তলা),রূপনগর কমিউনিটি সেন্টার এর পাশে,নাসিরাবাদ,চট্টগ্রাম।

সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সময়মতো উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ বাঁধ: বাংলাদেশের জন্য নতুন ‘মরণফাঁদ’ভারত পূর্বেই গঙ্গা নদীর ওপর অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারেজ, তিস্তা নদীর...
02/05/2026

মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ বাঁধ:
বাংলাদেশের জন্য নতুন ‘মরণফাঁদ’
ভারত পূর্বেই গঙ্গা নদীর ওপর অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারেজ, তিস্তা নদীর উজানে তিস্তা ব্যারেজ (গজলডোবা), বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ বাঁধ, গোমতী নদীর ওপর ডুম্বুর বাঁধ, মনু নদীর উজানে মনু ব্যারেজ, খোয়াই ব্যারেজ এবং গোমতী নদীর ওপর মহারানী ব্যারেজের কথাও বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। #আন্তসীমান্ত_নদীর_স্বার্থ_সংরক্ষণে_চাই_জাতীয়_উদ্যোগ
গুগল ম্যাপে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের দিকে তাকালে একটি দৃশ্য বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের ঠিক ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গাঢ় সবুজ অঞ্চল রয়েছে। এটি মূলত ঘন বনাঞ্চলে ঘেরা একটি পাহাড়ি ভূখণ্ড। পৃথিবীর অন্যতম আর্দ্র স্থান চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম সংরক্ষিত বনাঞ্চলও এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

এই গাঢ় সবুজ জনপদের ডান দিক থেকে মিন্তদু নদ মেঘালয়ের জৈন্তিয়া পাহাড় দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সমতলে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে এটি সারি গোয়াইন নদ নামে পরিচিত। অন্যদিকে এর বাঁ দিক দিয়ে কিনশি নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করে যাদুকাটা নাম ধারণ করেছে।

এই দুই নদ–নদী বাংলাদেশের মেঘনা নদী অববাহিকার অংশ সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। সুরমাও একটি আন্তসীমান্ত নদী, যা ভারতে বরাক নামে পরিচিত। মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা যদি প্রত্যাশামতো বাস্তবায়িত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মিন্তদু ও কিনশি নদের বুকে অন্তত সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠবে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব আন্তসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবও উসকে দিয়েছে।

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার যে দাবি বাংলাদেশ করে আসছে, তাতে ভারত এখনো একমত হওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এর কারণ হলো, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পানির হিস্যা দেওয়ার বিরোধী আর এই রাজ্য দিয়েই নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
২০১২ সালে ভারত মিন্তদু নদের ওপর একটি বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করে। এর নাম দেওয়া হয় মিন্তদু লেশকা স্টেজ এক। বাংলাদেশ সেই সময় এই প্রকল্পের কোনো বিরোধিতা করেনি।

ভারতের যুক্তি ছিল, এটি ‘রান অব দ্য রিভার’ বা নদীর প্রবহমান স্রোতের ওপর নির্ভরশীল প্রকল্প। এতে পানি আটকে রাখার জন্য বড় কোনো জলাধার নেই। এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টানেলের সাহায্যে পানি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয় এবং পরে তা আবারও ভাটিতে নদীর বুকেই ছেড়ে দেয়।

কিন্তু ২০১৩ সালে ভারত যখন প্রথম প্রকল্পটির ভাটিতে মিন্তদু লেশকা স্টেজ দুই নির্মাণের ঘোষণা দেয়, তখন বাংলাদেশ এতে জোরালো আপত্তি জানায়। এর পর থেকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এটি একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় একই সময়ে বরাক নদের ওপর ভারতের পরিকল্পিত টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েও বাংলাদেশে বড় পরিসরে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত হিমঘরে পাঠাতে বাধ্য হয় ভারত।

তবে বর্তমানে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মিন্তদু লেশকা স্টেজ দুই প্রকল্পের কাজে নতুন করে গতি এসেছে। মেঘালয়ের বিদ্যুৎমন্ত্রী মেতবাহ লিংডোহ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন রাজ্য সরকার অত্যন্ত জোরেশোরে এই প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যে এর বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর তৈরি হয়ে গেছে।

মিন্তদু লেশকা স্টেজ দুই প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল যে এটি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তাসহ অর্থায়নের অন্য দিকগুলো খুব শিগগির চূড়ান্ত করবে রাজ্য সরকার। ১২৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মিন্তদু লেশকা স্টেজ এক প্রকল্পের উজানে থাকা ১৭০ মেগাওয়াটের সেলিম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।

মিন্তদু নদের ওপর পরিকল্পিত সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত প্রকল্প হলো এই সেলিম জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টানেল দিয়ে পানি অন্যদিকে ঘুরিয়ে আবার নদীতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখান থেকে পানি প্রায় তিন কিলোমিটার অবাধে প্রবাহিত হয়ে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটির মুখ পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে চালু থাকা স্টেজ এক প্রকল্পে মিন্তদু নদের পানির একাংশকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের মধ্য দিয়ে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর আবার নদে ছেড়ে দেওয়া হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম প্রকল্পের প্রায় তিন কিলোমিটার ভাটি থেকে নদের পানি আবার একটি ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা পরে আবার নদে ছাড়া হবে। খারখানা গ্রামের ভাটিতে থাকা ওই স্থান নদীটির বাংলাদেশে প্রবেশস্থলের প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

মেঘালয়ে বর্তমানে ১০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সম্মিলিতভাবে ৩৭৮ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। রাজ্যে সর্বশেষ বৃহৎ আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু ২০২৪ সালে রাজ্যের নতুন বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়নের পর থেকে অতিরিক্ত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে নতুন করে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

অল্প দূরত্বের ব্যবধানে কোনো নদীতে এ ধরনের প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি সারিবদ্ধ তিনটি বাঁধ থাকলে তা নদীর পানির প্রবাহের পরিমাণ, এর ধরন ও অববাহিকার অবক্ষয়ের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৫ সালে মেঘালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিন্তদু লেশকা স্টেজ এক প্রকল্পের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। অতিবৃষ্টির সময় এটি প্রায় ১০ হাজার ৪৪০ কিউসেক হারে প্রচুর পরিমাণে পানি নির্গত করে। বড় আকারের বন্যার সময় প্রবল ঢল খুব দ্রুত জলাধার পূর্ণ করে ফেলে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা বাঁধ উপচে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কারণে এর সার্বক্ষণিক বা ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।

অনেক ছোট প্রকল্পের যৌথ ধ্বংসাত্মক রূপ একটি বড় প্রকল্পের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। আর ঠিক এই কারণে এ ধরনের কাজ শুরুর আগেই প্রকল্প কতটা পরিবেশবান্ধব এবং এর সম্মিলিত প্রভাব কী, সেই সম্পর্কিত বিশদ মূল্যায়নের দরকার পড়ে।
কিনশি নদের ওপরও পরপর এমন বেশ কয়েকটি প্রকল্প গড়ে উঠতে যাচ্ছে। নদের ওপর ২৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কিনশি স্টেজ এক এবং ২৭৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার কিনশি স্টেজ দুই প্রকল্প দুটি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রথম প্রকল্পের কাজ আবারও শুরু করার লক্ষ্যে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। তবে এর বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

কিনশি নদের শাখা উমনগি নদে একটি জলাধার ভিত্তিক ও একটি স্রোত নির্ভর প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বছরের বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকল্প দুটি এখন জরিপ ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে খাসিয়া পাহাড়ে কিনশির অন্য শাখা নদে ওয়াহব্লেইতে ১৪০ মেগাওয়াটের মওব্লেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাজেট নথিপত্র অনুসারে এটিও প্রাথমিক গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।

প্রবহমান স্রোতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে নদীর জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ধরা হয়, কারণ এসব ক্ষেত্রে বড় কোনো জলাধারে পানি আটকে রাখা হয় না। তবে যখন একের পর এক পর্যায়ক্রমিক বাঁধ তৈরি হয়, তখন একটি কেন্দ্র থেকে নদীর বুকে পানি ছেড়ে দেওয়ার পরপরই তা প্রায়ই পরবর্তী প্রকল্পের জন্য আবার অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এতে আদি নদী খাতের এক বিশাল অংশে স্বাভাবিক প্রবাহ ধ্বংস হয়ে যায়।
এসব নদীর ক্ষেত্রে ভাটি অঞ্চলের তালিকায় নিচের দিকে অবস্থান করা বাংলাদেশের একটি বিশাল অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিন্তদু নদ সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আর কিনশি নদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।

আইনের নিয়ম মেনে মিন্তদু লেশকা স্টেজ দুই প্রকল্পের গণশুনানির সময় মেঘালয়ের স্থানীয় কিছু বাসিন্দা তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের মতে, প্রকল্পের কারণে নদটিকে প্রায় সম্পূর্ণ মাছশূন্য করে দেওয়া হবে। খনির দূষণের কারণে নদের পানি বেশ অ্যাসিডিক হয়ে পড়ায় এখানে আগে থেকেই মাছ কমে গেছে। নতুন প্রকল্পের কারণে নদের গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করায় বিশেষ করে বর্ষায় ও গ্রীষ্মে এখানে আসা ইলিশসহ অন্য সব পরিযায়ী মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে।

বোরঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারকে জানিয়েছেন, স্টেজ এক প্রকল্পের নির্মাণের সময় প্রচুর তেল ও সিমেন্ট নদে পড়ে সেখানকার পানি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলেছিল। তাঁরা এও অভিযোগ করেন যে নদের বুকে বাঁধ দেওয়ার পর অনেক জায়গা একেবারে শুকিয়ে যায়। এর প্রভাব স্থানীয় খেয়া পারাপারের ওপরও পড়ে। অন্যদিকে হঠাৎ বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদের স্রোত মানুষের দরকারি বালু আর পাথরের স্তরও ধুয়ে ভাসিয়ে নেয়।

নদের কাছের জায়গাগুলো বেশ উর্বর ও কৃষিকাজের উপযোগী। প্রকল্পগুলো নদের পানি শুকিয়ে ফেললে এসব প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদের ধার ঘেঁষে থাকা মানুষেরা মূলত নদ থেকে বালু উত্তোলন আর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, নতুন বাঁধের ফলে তাঁরা সেই আয়ের সুযোগ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবেন।

তবে বাস্তবায়নকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের এসব উদ্বেগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের মতে, গ্রীষ্মকাল ছাড়া এখানে নদের পানিতে অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে এমনিতেই খুব বেশি মাছ মেলে না। ফলে গ্রামবাসীর কর্মসংস্থান হারানো তেমন কোনো বড় চিন্তার বিষয় নয়। তাদের জোরালো দাবি হলো, এ ধরনের বাঁধ কখনো বন্যা তৈরি করে না, বরং বন্যা আটকাতেই কাজ করে।

কিন্তু মানুষের এই ভয়গুলোকে অমূলক বলার উপায় নেই। নদে একের পর এক এসব বাঁধ এলাকাটিকে তীব্র নদীভাঙন, ভূমিধস, ভূমিকম্প আর হড়কা বান বা হঠাৎ আসা পাহাড়ি বন্যার জন্য ভয়ংকর মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এসব প্রকল্পের ফলে ভাটি এলাকায় শুধু যে পানির অভাব দেখা যায় তা নয়, এর পাশাপাশি সেখানে নদীর ধরনটাও আমূল পাল্টে যায়। আর এই ক্ষতি বর্ষাকাল ছাড়া বাকি পুরো সময় ধরেই চলতে থাকে। পাহাড়ি বনাঞ্চল নষ্ট হওয়াকেও নদী খাতের বদলে যাওয়ার একটা অন্যতম কারণ মনে করা হয়। ইতিহাস সাক্ষী যে এগুলোর কারণে জলচর ও আশপাশের স্থলচর প্রাণী ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

অনেক ছোট প্রকল্পের যৌথ ধ্বংসাত্মক রূপ একটি বড় প্রকল্পের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। আর ঠিক এই কারণে এ ধরনের কাজ শুরুর আগেই প্রকল্প কতটা পরিবেশবান্ধব এবং এর সম্মিলিত প্রভাব কী, সেই সম্পর্কিত বিশদ মূল্যায়নের দরকার পড়ে। নদ ও এর পরিবেশের ক্ষতিটা কেমন হবে বা এর রূপ কেমন দাঁড়াবে, সেটা পুরোটাই এলাকার আবহাওয়া, নদের স্বাভাবিক স্রোত এবং কতটা বৃষ্টি হয়, তার ওপর সরাসরি নির্ভর করে।

উদ্বেগের ব্যাপার হলো, মেঘালয় ও বাংলাদেশের উত্তরাংশের পরিবেশ আর আবহাওয়ার ইতিমধ্যে একটা বড় রকমের বদল এসেছে। ধীরে ধীরে এই অঞ্চল আরও শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এক দিনেই হঠাৎই আগের চেয়ে চার গুণ বেশি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হয়েছে, যেগুলোর কারণে অতিদ্রুত মারাত্মক হড়কা বানের সৃষ্টি হয়। এতে বাংলাদেশে কতটা প্রভাব পড়বে এবং সেটা কী ধরনের হতে পারে, সেটা জানতে সবার আগে বিস্তারিত প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ পেতে হবে। কেবল সব তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমেই এই বিশাল প্রকল্পের সত্যিকারের বিপদের জায়গাটি পরিষ্কার হতে পারে।

স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য লেখক ও স্বাধীন সাংবাদিক
দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত
https://www.prothomalo.com/opinion/column/z30h7olwp7?fbclid=IwdGRjcARf6tVjbGNrBF_qWWV4dG4DYWVtAjExAHNydGMGYXBwX2lkDDM1MDY4NTUzMTcyOAABHpjyaPS0M07TaMdLb1cq7JsmH40lQ7MBLmhnR19MXvEvC_arI3qmbzgETE-__aem_O8aZGyD_kYactxHUqNbt-g&utm_id=97758_v0_s00_e0_tv1_a1demo0eb2ej7b

মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা যদি প্রত্যাশামতো বাস্তবায়িত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মিন্তদু ও কিনশি নদের বুক.....

Address

Chittagong
4000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Save The Nature Of Bangladesh- চট্টগ্রাম মহানগর শাখা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share