Baitush Sharaf

Baitush Sharaf A Mosque-Based Spiritual, Non-Political, Humanitarian Organization Registered under the Societies Act On his contemporaries, Hazrat Shah Abdul Jabbar (Rah.)

Allama Abdul Hai Nadwi (M.J.A)

Peer Saheb, Baitush Sharaf
President, Baitush Sharaf Anjuman-e Ittehad Bangladesh

Baitush Sharaf is an exceptional organization in the history of the practice and usage of spirituality. The main goal and purpose of the organization is the pure practice of Tasawwuf by assimilating the entire Islamic way of life. Since its inception, this organization working for the

moral, social and spiritual purity of the people. Baitush Sharaf is a place of refuge, service, kindness, love and a centre for the practice and research of science. The great founder of this organization was Qutbul Alam Shah Sufi Hazrat Maulana Mir Mohammad Akhtar (Rah.). With his extraordinary wisdom, unparalleled energy, personality, intelligence and good character, he earned the respect and love of the people, including contemporary scholars. After the passing of Hazrat Kebla in 1971, the only 'Khalifa' who carried the responsibility of this tremendous organization on his shoulders was Shah Sufi Allama Mohammad Abdul Jabbar (Rah.). He was appointed as the "Khaliphaye Azam" during his (Hazrat Kebla) lifetime based on knowledge, character and spiritual excellence. Due to his hard work and spiritual pursuits, Baitush Sharaf became well-known at home and abroad as a multidimensional organization dedicated to the welfare of humanity. was one of the scholars of the age, Pir-e-Kamel, one of the pioneers of mosque-based social service, a strong voice against shirk-bidaat. His contribution to the establishment of the Islamic Bank Bangladesh Limited and International Islamic University Chittagong always be remembered. As a successful writer, researcher and translator, he wrote 21 books, both large and small. After the passing of Allama Shah Abdul Jabbar (Rah.) on March 26, 1996, his longtime shadow Bahrul Uloom Allama Shah Mohammad Qutb Uddin (Rah.) took the helm of Baitush Sharaf. Until his passing on May 20, 2020, the Baitush Sharaf, including the Anjuman-e Ittehad, continued to operate under his able leadership. The great Morsheds of Baitush Sharaf have won the respect of the people with their deeds, services and kindness, spiritual pursuits. Kaderiya Tareeka is spreading around the fragrance of Deen Islam. As a result, they have been able to earn the devotion, respect and love of millions of people at home and abroad. Acceptance of Baitush Sharaf is universal today. The heart of religious and spiritual knowledge for millions of lost people. The main goal of Baitush Sharaf is to make a person a true believer Muslim by combining religion and deeds, to make him spiritual and moral by acquiring human qualities in the way followed by Tarikat.

ঐতিহাসিক মাহফিলে জবলে সীরতের সুবর্ণ জয়ন্তী প্রাসঙ্গিকতাঃমধ্যযুগে ঔপনেবেশিক আমল থেকেই মূলত জমিদারী প্রথার শুরু। ভারতবর্ষ...
25/04/2026

ঐতিহাসিক মাহফিলে জবলে সীরতের সুবর্ণ জয়ন্তী

প্রাসঙ্গিকতাঃ
মধ্যযুগে ঔপনেবেশিক আমল থেকেই মূলত জমিদারী প্রথার শুরু। ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করতেন। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হতো। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা আনয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবরের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যেই বিগত বছরের জমির খাজনা পরিশোধ করতে হতো। পরদিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ভূমির মালিক বা জমিদাররা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। সাথে প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য গরুর লড়াই, বলিখেলাসহ বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করা হতো।
এসময় একশ্রেণীর কৃষক নির্দিষ্ট ষাঁড় গরুকে আলাদাভাবে লালন পালনের মাধ্যমে মোটাতাজা করতো শুধু লড়াইয়ের জন্য। জমিদারদের পাইক পেয়াদা ও গোমস্তারা শুকনো মৌসুমে গ্রামের হাট-বাজারে ঢোল পিটিয়ে নির্ধারিত তারিখে ষাঁড়ের লড়াই দেখার আমন্ত্রণ জানাতো। মালিকগণ তাদের ষাঁড়গুলোকে বিভিন্ন রঙিন কাপড়, ঘুংগুর, দোয়াল দিয়ে গেঁথে দু'দিকে দু'জন রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে এসে লড়াইর মাঠে লেলিয়ে দিয়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে জাহেলিয়াত যুগের আদিমতায় মেতে উঠতো। কোন একটা ষাঁড় পরাস্ত না হওয়া পর্যন্ত চলতো রক্তাক্ত ও পৈশাচিক এই লড়াই। যে ষাঁড়টি প্রথম স্থান পেত সে পুরস্কার গরুর গলায় বেঁধে বাজারে বাজারে দেখানো হতো ঢোল তবলার তালে তালে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বলিখেলা। প্রচণ্ড দৈহিক শক্তির অধিকারী মল্লবীরেরাই ছিলেন বলিখেলার প্রধান আকর্ষণ। বর্তমানে পেশাদার বলির (কুস্তিগীর) অভাবে বলিখেলার তেমন আকর্ষণ না থাকলেও এটি এখনও বেঁচে আছে চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলীখেলার বদৌলতে। বলীখেলা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নাম। এর আভিধানিক নাম হচ্ছে মল্লযুদ্ধ বা কুস্তি প্রতিযোগিতা। তখনকার বলীরা নিজেদের বলী পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতো। চট্টগ্রামে আজও বহু বাড়ির পরিচিতিতে বলীর নাম যুক্ত আছে। যেমন ওয়ালীবলীর বাড়ি, সফরআলী বলীর বাড়ি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের নামজাদা বলী ছিলেন আনক্যা বলী, গইন্যা বলী, মিরা বলী, আছদ আলী বলী, বদু বলি, আহমদ ছফা বলী, ইয়াকুব বলী, সুলতান বলী, লোহাগাড়া চরম্বার সাহাব মিয়া বলি, বড়হাতিয়ার ছোয়াইন্যা (সোবহান হাজী) বলি প্রমুখ।

গরুর লড়াই আর বলিখেলা উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে গ্রামের মৃৎশিল্পী, হস্তশিল্পীরা বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসাতো। তবে মেলাগুলো মদ, জুয়া, হাউজিসহ নানা অশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ডে কলুষিত হয়ে পড়তো। প্রতাপশালী জমিদারদের তত্বাবধানে চলে আসা এসব অশ্লীল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো কোন সুযোগই ব্রিটিশদের আজ্ঞাবহ জমিদার নির্ভর সমাজব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের ছিলনা তখন। দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অনেক স্থানে বৈশাখী মেলার নামে গরুর লড়াই আর বলিখেলার আয়োজন করা হতো, তন্মধ্যে অবিভক্ত সাতকানিয়া মাদার্শার মক্কার এবং বড়হাতিয়ার ছিদ্দিক মিয়ার বৈশাখী মেলা তথা গরুর লড়াই আর বলিখেলা ছিল অন্যতম। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চল থেকে আসা নামি-দামি বলীরা এই দুই মেলায় কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন।

এবার আসা যাক মূল আলোচনায়ঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়ায় বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়
পাঁচ দশক ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক 'জবলে সীরত' নিয়ে। ২০২৬ সালের ২৪ ও ২৫ এপ্রিল ঐতিহাসিক জবলে সীরত মাহফিলের সুবর্ণ জয়ন্তী (৫০ বছর পূর্তি)। বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার, হাদিয়ে যামান আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর হাত ধরে জবলে সীরতের যাত্রা- এই সরল বাক্যটি বেশ আর কম সর্বমহলে জানা থাকলেও কি রকম জটিল ও বৈরী পরিবেশের মধ্যদিয়ে এই মাহফিলের উৎপত্তি এবং বিকাশ হয়েছিল লোকশ্রুতি ছাড়া স্বচ্ছ ইতিহাস অন্তত যাদের বয়স পঞ্চাচের নীচে তাদের নেই বললে চলে। আমার পরম সৌভাগ্য- ১১/১২ বছরের বাল্যবয়সী হলেও একেবারে শুরু থেকেই এই মাহফিলের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের জ্যান্ত সাক্ষী। সেইদিনের উত্তাল প্রতিরোধ সংগ্রামের স্মৃতি হৃদয়েের মণিকোঠায় এখনো অমলিন। সেই বাল্য স্মৃতি থেকেই আজকের এই প্রয়াস।

ব্য‌ক্তি প‌রিচয় অ‌তিক্রম ক‌রে প্রা‌তিষ্ঠা‌নিকতার বিস্তৃত আব‌হে নি‌জে‌কে মে‌লে ধ‌রে আদ‌র্শিক জীব‌নের মাইলফলক হ‌য়ে উ‌ঠা একটি নাম আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ:)। চিন্তার উন্নয়ন, চেতনার নবায়ন, অপরিসীম ত্যাগ ও জ্ঞান-সাধনার নান্দ‌নিক প্র‌চেষ্টার ফলশ্রুতিতে তিনি হয়ে উঠেন বাংলার জমিনে দ্বীনের প্রদীপ্ত শিখা হিসেবে। শুদ্ধচা‌রিতার নীরব সংগ্রা‌মে তি‌নি ছি‌লেন একজন সাহসী সৈ‌নিক। তাঁর চিন্তায় প্রখরতা ছিল, জ্ঞান গ‌রিমায় ছিল বৈ‌চিত্র্য। সমসাময়িক আর দশজন পীর এবং ওলামা- মাশায়েখরা চিরাচ‌রিত কায়দায় যে জি‌নিস‌টি‌কে দে‌খতেন এবং ভা‌বতেন, সেই দেখা ও ভাবনায় তিনি তুলনাহীন মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দি‌য়ে‌ছেন তাঁর কর্মমুখর জীব‌নের পর‌তে পর‌তে। অসাধারণ প্রজ্ঞা, অতুলনীয় কর্মশক্তি, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও চারিত্রিক মাধুর্যতা দ্বারা তিনি সমসাময়িক আলেম-ওলামাসহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেমেদ্বীন, পীর-এ কামেল, মসজিদ ভিত্তিক সমাজসেবার অন্যতম পুরোধা, শিরক- বিদআত- এর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বাড়ির অনেকটা দোরগোড়ায় বড়হাতিয়া ছিদ্দিক মিয়ার বলি খেলা ও গরুর লড়াইয়ের অন্তরালে দীর্ঘ ৪০ বৎসর ধরে চলে আসা মদ, জুয়া, হাউজিসহ অশ্লীল কর্মকান্ড বায়তুশ শরফের মরহুম পীর আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ:) এর জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক ছিল। স্থানীয় আলেম-ওলামাসহ এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব থাকলেও অনৈসলামিক এই কর্মকান্ড বন্ধে সরাসরি প্রতিরোধ সংগ্রামে না গিয়ে তিনি মরহুম ছিদ্দিক মিয়ার পরিবারের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে গরুর লড়াই ও বলিখেলার নামে অশ্লীলতায় ভরা এই মেলা বন্ধ করার লক্ষ্যে সময়-সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

১৯৭৬ সালে জমিদার ছিদ্দিক মিয়া ইন্তেকাল করলে তাঁর ছেলেরা বাবার জানাযার নামাজ পড়ানোর জন্য আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ:)-কে আহবান জানান। জমিদার ছিদ্দিক মিয়ার অন্তিম যাত্রার মুহুর্তে প্রত্যুৎপন্নমতি ক্ষমতাসম্পন্ন এই মর্দে মুজাহিদ কি কৌশলী ও দু:সাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন কেউ ভাবতেই পারেননি! জমিদার ছিদ্দিক মিয়ার সন্তানদের মাঝেও কয়েকজন ছিলেন এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। জানাযার পূর্ব মুহুর্তে অকুতোভয় দুঃসাহসী মর্দে মুজাহিদ হুজুর কেবলা আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) মরহুম ছিদ্দিক মিয়ার দুই পরিবারের সকল সন্তানদের বাবার কফিনের সামনে আসার আহবান জানালে সকলেই উপস্থিত হন। ছিদ্দিক মিয়ার সন্তানদের উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, "আমার জানা মতে, আপনাদের আব্বা খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন, আলেম-ওলামাদের অত্যন্ত কদর করতেন। তিনি যে উদ্দেশ্যেই গরুর লড়াই আর বলিখেলার আয়োজন করুন না কেন, তা আজ শরীয়তবিরোধী অসামাজিক কার্যকলাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এই মুহুর্তে মরহুম ছিদ্দিক মিয়ার সন্তান হিসেবে বাবার কফিনকে সামনে আপনারা সত্য-মিথ্যার এক মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন! আপনাদের বাবাকে জাহান্নামের দগ্ধ আগুন থেকে যদি মুক্তি দিতে চান তাহলে এক্ষণই আপনাদের বাবার কফিন ছুঁয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের স্বাক্ষী রেখে আগামীতে গরুর লড়াই ও বলিখেলা হতে দেবো না- মর্মে শপথ গ্রহন করতে হবে, নতুবা আমি জানাযা পড়াবো না; অন্য কোন মৌলভীকে দিয়ে পড়ান।"

ছিদ্দিক মিয়ার সন্তানদের সামনে এমন মুহুর্তে দু'টি বিষয় ছিল স্পর্শকাতরঃ
একদিকে খেলা আর মেলার মাধ্যমে ইহজাগতিক যশ-খ্যাতি ও বিনা পুঁজিতে বিপুল অর্থকড়ি হারানোর ভয়, অন্যদিকে নিজের জন্মদাতা বাবাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির মোক্ষম সুযোগ। স্মর্তব্য, মা-বাবার কফিনের সামনে সাধারণত সন্তানরা এতোই আবেগপ্রবণ থাকে, যেকোন দাবী দাওয়া পূরণে নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনা। কালবিলম্ব না করে মরহুম ছিদ্দিক মিয়ার সন্তানগণ বলে উঠলেন, "হুজুর! আমাদের বাবা জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হোক- সন্তান হিসেবে আমরা তা চাইনা। আমরা বাবার কফিন ছুঁয়ে শপথ করছি, গরুর লড়াই ও বলিখেলা আর হতে দেবো না।" উপস্থিত মুসল্লীদের উপস্থিতিতে সন্তানদের কাছ থেকে অঙ্গিকার পেয়ে আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার (রাহ.) যথারীতি জানাযার নামাজের ইমামতি করলেন।

সুদীর্ঘ ৪০ বৎসর ধরে চলে আসা ছিদ্দিক মিয়ার গরুর লড়াই আর বলিখেলা বন্ধে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর সুক্ষ্ম, দুরদর্শী, বিজ্ঞোচিত ও দু:সাহসিক ভূমিকার কথা তখনকার সময়ে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়ায়। রূপকথার কাহিনীর মতো আলোচনা চলে এখনো। যামানার এই মুজাদ্দিদ মেলার নামে অনৈসলামিক কর্মকান্ড বন্ধে করেই ক্ষান্ত থাকেননি, বড়হাতিয়া মগদীঘি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিমে যে পাহাড়ি টিলায় গরুর লড়াই ও বলিখেলার জুয়ার আসর এবং অশ্লীল নৃত্যগানের রঙ্গলীলা চলতো সেখানে ১৯৭৭ সালের ১১-১২ বৈশাখ সূচনা করলেন দুইদিনব্যাপী 'জবলে সীরাত' (সীরাতের পাহাড়) মাহফিল।

তিক্ত হলেও সত্য, কফিনের সামনে আবেগঘন মুহূর্তে মা-বাবার পক্ষে সন্তানরা যেকোন দাবী দাওয়া পূরণে নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আবেগ কেটে গেলে অনেক সন্তানকে আবার স্বরূপে আবির্ভূত হতে দেখা যায়। মরহুম ছিদ্দিক মিয়ার কয়েকজন সন্তানকেও একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গিয়েছিল। গরুর লড়াই আর বলিখেলার অন্তরালে জুয়া, হাউজি, নৃত্যাসর থেকে বিপুল অংকের টাকা আদায়ের লোভ সামলাতে না পেরে ছিদ্দিক মিয়ার কয়েকজন সন্তান এবং এলাকার বখাটে ও মাস্তান প্রকৃতির কিছু লোক মিলে গরুর লড়াই আর বলিখেলা পুনরায় চালুর অপচেষ্টা চালালে এলাকায় এক সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। আর এই পর্বটিও আমার চোখে দেখা, যা এখনো স্মৃতির মানসপটে জ্বলজ্বল করে। একদিকে হযরত শাহ আবদুল জব্বার (রাহ.)'র নেতৃত্বে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিম তৌহিদি জনতা, অন্যদিকে স্থানীয় কিছু প্রভাশালীর নেতৃত্বে বখাটে ও মাস্তানের দল। মরহুম ছিদ্দিক মিয়ার কয়েকজন ছেলের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে গরুর লড়াই আর বলিখেলা পুনঃ আয়োজনের ঘোষণা আসলে গোটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। শিরক-বেদআতসহ অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপোষহীন মহান মনীষী শাহ আবদুল জব্বার (রাহ.)'র নির্দেশনা পেয়ে স্থানীয় এশায়াতুল উলুম মাদ্রাসা, কুমিরঘোনা আখতরুল উলুম মাদ্রাসা, মালপুকুরিয়া মাদ্রাসা ও চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার সমন্বয়ে গড়ে উঠে সমাজবিরোধী অনৈসলামিক কর্মকান্ড প্রতিরোধ কমিটি। বায়তুশ শরফের মরহুম হুজুর কেবলার পক্ষে সেদিনের প্রতিরোধ সংগ্রামে সিপাহসালারের ভূমিকা পালন করেছিলেন এশায়াতুল উলুম মাদ্রাসার তদানীন্তন অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সেদিন তাঁর অগ্নিশর্মা নেতৃত্ব এখনো হৃদয়ে দাগ কাটে। নিজস্ব বাহিনী নিয়ে 'বিশেষ অস্ত্র' হাতে বড়হাতিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মাওলানা আবদুল ওয়াহাবের সদর্প অংশগ্রহণ প্রতিরোধ সংগ্রামীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা জোগায় এবং মুহুর্তেই তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। যুদ্ধের এই ময়দানে লস্করের পাড়ার মাওলানা ফজলুল হক, চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদরাসা থেকে আসা মাওলানা নুরুল ইসলাম হায়দরি, মাওলানা ওমর, সাবেক লোহাগাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নুরুল আবছার চৌধুরী, মাওলানা মমতাজুর রহমান, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মুসা, লোহাগাড়ার আলতাফ মিয়ার ছেলে মাওলানা আবু সুফিয়ান, রশিদের ঘোনার আবুল কাসেমদের বীরত্বের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কুমিরাঘোনা বায়তুশ শরফ আখতরুল মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষক-ছাত্রদের জিহাদি জজবা এখনো স্মৃতিতে দেদীপ্যমান। বিশেষ করে মাথায় গামছা বেঁধে বল্লমহাতে ক্বারী মাওলানা রহমত উল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ আব্বাস (রাহ.) এর নেতৃত্বে বাঁশখালীর মাওলানা ওমর, মাওলানা আনোয়ার, মাওলানা ইউসুফ আরমানীর সাহসিকতার কথা উল্লেখ না করলে নয়। চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার তদানীন্তন ইংরেজির অধ্যাপক কুমিল্লা নিবাসী সুঠামদেহী জনাব আবদুল গফুর স্যারের নেতৃত্বে মাদ্রাসার নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের সেন্টারিং এর কাঠ-বল্লম এবং রড নিয়ে সেদিনের বড়হাতিয়ামুখী বিশাল বিপ্লবী কাফেলায় বায়তুশ শরফের সম্মানিত রাহবার আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীসহ আমারও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তখন আমরা জামাতে হাস্তুমের (বর্তমান ৭ম শ্রেণী) ছাত্র। বিশাল মিছিলের সম্মুখভাগে ছিলেন মাদ্রাসার সিনিয়র ছাত্ররা, সাথে যোগ দেয় এলাকাবাসীও। সেইদিন প্রতিরোধ কাফেলায় ঝাড় তোলা টগবগে যুবক গৌরস্থানের মাওলানা নুরুল ইসলাম হায়দরী, রশিদেরঘোনার আবুল কাসেমসহ অনেকেই আজ পরপারের বাসিন্দা। লেখার কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আরো অনেকের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি।

দুপুর দুইটায় আমরা পৌঁছার পূর্বেই মগদীঘি স্কুল মাঠে উল্লেখিত মাদ্রাসা সমূহের ছাত্র শিক্ষক ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতার বিশাল উপস্থিতি দেখতে পাই। চুনতি মাদ্রাসা থেকে আসা বিশাল মিছিল দেখে উপস্থিত সবার মাঝে নতুন করে প্রাণের স্পন্দন দেখা দেয়। গরুর লড়াই আর বলিখেলার আয়োজকরা জবলে সীরতের পশ্চিম দিকে অবস্থান নেয়। এমন টানটান উত্তেজনাকর মুহূর্তে হঠাৎ পশ্চিম দিক থেকে ঢোল-তবলা আর বিয়ারিং পার্টির বাজনার আওয়াজ ভেসে আসলে প্রতিরোধকারীদের মাঝে দেখা দেয় চরম উত্তেজনা এবং মুহুর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যার হাতে যা ছিল তা নিয়ে আয়োজকদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে ঢোল তবলা আর মাইক ফেলে পশ্চিমে চাকফিরানি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। এসময় প্রতিরোধকারীরা বেতুয়া পাড়া, নাথ পাড়া, লস্কর পাড়া, দেওয়ান পাড়ায় গরুর লড়াই আর বলিখেলার পক্ষের লোকদের খুঁজতে থাকলে এ সমস্ত এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। কিছুক্ষণ পর পরিত্যক্ত ঢোল তবলা নিয়ে প্রতিরোধকারীরা মগদীঘি স্কুল মাঠে বিজয়বেশে ফিরে আসে। আর এ সময়ে আধুনগরের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মাওলানা শফিক আহমদ বিশাল এক লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন। উল্লেখ্য, ঐ সময়ে জমিদার মাওলানা শফিক আহমদের নেতৃত্বে শোষক ও অত্যাচারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গড়ে উঠা সাতগড়ের লাঠিয়াল বাহিনী মুর্তিমান এক আতংকের নাম ছিল।

এভাবেই বায়তুশ শরফের মরহুম হুজুর কেবলা আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর নির্দেশে সেইদিন বিনা রক্তপাতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি বড়হাতিয়ার ছিদ্দিক মিয়ার গরুর লড়াই আর বলিখেলা পুনঃ আয়োজনের খায়েশ চিরতরে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। তারপর থেকে প্রতিবছরই ১১-১২ বৈশাখ জবলে সীরত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চুনতির হযরত শাহ সাহেব হুজুর (রাহ.) প্রবর্তিত ১৯ দিনব্যাপী মাহফিলে সীরতুন্নবী (সা.) এর বক্তাদের বিষয়বস্তু প্রণয়নের ন্যায় শুরুর দিকে জবলে সীরাত এর বক্তাদেরও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করতেন চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার তদানীন্তন নাজেমে আ'লা আল্লামা আবুল বারকাত মুহাম্মদ ফজলুল্লাহ (রাহ.)। তাঁর রচিত "ধন্য ধন্য ধন্য তোমরা বড়হাতিয়ার অধিবাসী" শিরোণামের গজলটি তখনকার সময়ে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) প্রবর্তিত মাহফিলে জবলে সীরত পরিচালনার ভার ২০২১ সাল থেকে তাঁরই সুযোগ্য সন্তান, বর্তমান বায়তুশ শরফের রাহবার আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মা.জি.আ) এর স্কন্ধে। রাহবারে বায়তুশ শরফের নেতৃত্বে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং ৫০তম জবলে সীরত মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে উক্ত মাহফিলের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি।

লেখা: অধ্যাপক শাব্বির আহমদ

শ্রদ্ধেয় হুজুর কেবলার খুলনা সফরে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন ইছালে ছাওয়াব মাহফিলের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত.....
06/04/2026

শ্রদ্ধেয় হুজুর কেবলার খুলনা সফরে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন ইছালে ছাওয়াব মাহফিলের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত......

বাগেরহাটে বায়তুশ শরফের ঐতিহাসিক ইছালে সাওয়াব মাহফিলের ইতিবৃত্ত১২০৩ থেকে শুরু করে ১৭৫৭ খ্রিঃ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচশ’ বছর মুস...
02/04/2026

বাগেরহাটে বায়তুশ শরফের ঐতিহাসিক ইছালে সাওয়াব মাহফিলের ইতিবৃত্ত

১২০৩ থেকে শুরু করে ১৭৫৭ খ্রিঃ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচশ’ বছর মুসলমান সুলতান- সুবেদার- নবাব- নাযিমগণ তৎকালীন বঙ্গ শাসন করলেও এদেশে তাঁরা ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আশানুরূপ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেননি। এতদাঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে মূলত আউলিয়ায়ে কেরামগণের অক্লান্ত সাধনা, অনিঃশেষ ত্যাগ- তিতিক্ষা আর কোরবানির মাধ্যমে। ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর এ দেশের শাসনভার চলে যায় কার্যত: ইংরেজদের হাতে। ইংরেজরা ক্ষমতায় আসায় হিন্দু সম্প্রদায় ইংরেজ শাসকদের আনুকূল্য লাভ করেন। আর শাসনক্ষমতা হারিয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকেন মুসলমানরা। শুধু তাই নয়, ইংরেজগণ যেহেতু মুসলিম শাসকের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন, সেহেতু মুসলিমদেরকে তারা সবসময় শত্রুজ্ঞানে নিপীড়নের লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। যার ফলে মুসলিমদেরকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি থেকে শুরু করে সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখে দাবিয়ে রাখার কৌশলইই ছিল ইংরেজদের তথাকথিত শাসন নীতি। এরই ফলশ্রুতিতে দু'শো বছরের ইংরেজ শাসনকালে এদেশের মুসলিম জমিদারগণ পরিণত হন ভিখারিতে। কালক্রমে এমন একটা সময় এল যে, শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে পড়তে পড়তে মুসলিমগণ নিজেদের স্বকীয়তা, মর্যাদা এবং আভিজাত্য সবকিছু হারিয়ে ফেলে। এমনকি গ্রাম-গঞ্জের মুসলমানগণ ভুলে যেতে থাকেন ইসলামী শরীয়ত ও জীবন বিধান। তাদের আচার-আচরণে এসে যায় হিন্দুয়ানী প্রথা। চাল-চলন ও পোশাক-পরিচ্ছদে আসে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। অনেক মসজিদে আযান বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও রোযার কথাও ভুলে যায় অনেকে। অনেকে তাসাউফ ও সূফীবাদের নামে পীর- দরবেশদের আল্লাহর অবতার বা বিশেষ ‘‘ঐশ্বরিক’’ ক্ষমতার অধিকারী বলে গণ্য করে তাদেরকে এবং তাদের মাযারে সেজদা শুরু করে দেয়। শরীয়তের আহকাম পালনকে গুরুত্বহীন মনে করে গান-বাজনা ও নৃত্যগীতিকে সূফী ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে গণ্য করতে থাকে। গ্রাম-লোকালয়ে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি মুসলমানদের জীবন-যাত্রায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। গ্রাম- বাংলায় হিন্দুদের পূজা-পার্বণে অনেক মুসলমান ঘরেও দেখা যেত উৎসব।

এই সময় ফকির লালন শাহ (১৭ অক্টোবর ১৭৭৪ – ১৭ অক্টোবর ১৮৯০) নামের এক বাউলের আবির্ভাব ঘটে। অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক লালনকে আউলিয়া দরবেশ অভিহিত করে কিছু লোক প্রচার করতে শুরু করেন। যে ব্যক্তি জীবনে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েন নি, একটি রোজা রাখেন নি, যিনি চৈত্র-মাসের দোল পূর্ণিমাকে গ্রহণ করেছেন তার বাৎসরিক পূণ্যযজ্ঞের মাহেন্দ্র রজনীরূপে, যিনি যাপন করেছেন ইসলামের সঙ্গে গুরুতরভাবে সম্পর্করিক্ত এক মুশরেকী জীবন, যার শিষ্য প্রশিষ্যদের আধ্যাত্নিক সাধনার শ্রেষ্ঠতম অনুপান গঞ্জিকা (গাঁজা)-তিনিও বনে যান একজন আউলিয়া!! বাউলেরা বরাবরই রাগপন্থী। কামাচার বা মিথুনাত্নক যোগ সাধনই বাউল পদ্ধতি। বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমও ধর্মবিবর্জিত বিকৃত যৌনাচারী পরনে সফেদ লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, হাতে গলায় চুড়ি, আর মাথায় গেরুয়াধারী সংসার ত্যাগী এই মানুষগুলোকে সূফী-সাধকের আসনে বসিয়ে দেয়। বাউল তত্ত্ব কি, তা বুঝে নিতে ড. আহমদ শরীফের একটি উক্তিই যথেষ্ট। তিনি বলেছেন, বাউল সাধনাকে মূলত আধ্যাত্বসাধনা বলা হলেও এটি যৌনাচার এই সাধনার অপরিহার্য অঙ্গ। তাঁর ভাষায়, কামাচার বা মিথুনাত্বক যোগসাধনাই বাউল পদ্ধতি। বাউল সাধনায় পরকীয়া প্রেম এবং গাঁজা সেবন প্রচলিত। বাউলরা বিশ্বাস করে যে, কুমারী মেয়ের রজঃপান করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক তৈরী হয়। তাই বাউলদের মধ্যে রজঃপান একটি সাধারন ঘটনা। একজন বাউলের একাধিক সেবাদাসী থাকে।
বাউলরা তাদের বিকৃত ও কুৎসিত জীবনাচারণকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার জন্য বিভিন্ন গানে মোকাম, মঞ্জিল, আল্লাহ, রাসূল, আনল হক, আদম-হাওয়া, মুহাম্মদ-খাদিজাসহ বিভিন্ন আরবী পরিভাষা, আরবী হরফ ও বাংলা শব্দ প্রতীকরূপে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালি ছেউড়িয়ায় মূল আস্তানা হলেও বাউলরা যশোর, খুলনা, রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন মাজার, মসজিদকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে অনৈসলামিক যতোসব কর্মকান্ড শুরু করে দেয়। যুগ যুগ ধরে চলতে থাকে তাদের এসব তৎপরতা। কুষ্টিয়ার কুমারখালি ছেউড়িয়ার লালন মেলার সবচেয়ে বড় মেলা বসতো বাগেরহাট হযরত খানজাহান আলী (রাহ.) এর মাজার ও ষাট গম্বুজ মসজিদ এলাকায়। যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বার্ষিক এই মেলা অনুষ্ঠিত হতো। দুরদুরান্ত থেকে ডুগি-একতারা ও গাঁজার কল্কি নিয়ে ’সাধক পুরুষ' এর আগমন ঘটতো মেলাতে এবং বাউল শিল্পীরা লালনগীতি, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালী, মারফতি গানের আসর জমাতো। মাজারের দীঘিরপাড়ে রাত ভর চলে গান বাজনা। মেলাকে কেন্দ্র করে দোকানীরা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাহরী সম্ভার ও পসরা নিয়ে হাজির হতো মেলা প্রাঙ্গনে। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল ভক্তবৃন্দের পদচারনায় মিলন মেলায় পরিণত হতে হযরত খানজাহান (রঃ) এর মাজার প্রাঙ্গন। বাউলদের অপতৎপরায় সুদীর্ঘকাল ধরে আযান-নামাজ বন্ধ ছিল বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ।

আগেই বলেছি, এতদাঞ্চলে ইসলাম এসেছে পীর, মাশায়েখ এবং আউলিয়ায়ে কেরামগণের মাধ্যমে। ঠিক তেমনিভাবে, বাংলাদেশের মুসলমানদের এমনই এক দুর্দিনে আবারও এগিয়ে এসেছিলেন পীর, মাশায়েখ, আউলিয়ায়ে কেরাম। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও হিদায়েত কাজে তাঁরা ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলার গ্রামে গ্রামে। মুসলমানদের ফিরিয়ে এনেছেন সঠিক পথে। তাঁদের বদৌলতে অনেক মসজিদে আবার শুরু হয়েছিল আযান। রোযা-নামায ও শরীয়ত মোতাবেক শুরু হয়েছিল মুসলমানদের জীবন যাপন। এমন একজন পীর হলেন বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার মুজাদ্দেদে জামান আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)। ১৯৭৭ সালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ছিদ্দিক মিয়ার বলি খেলা ও গরুর লড়াই এবং লোহাগাড়া শাহপীর আউলিয়ার মাজারে ওরশের নামে অশ্লীল কর্মকান্ড বন্ধ করে ইছালে সাওয়াব মাহফিলের প্রবর্তন করে মহান এই সংস্কারক এর সুনাম- সুখ্যাতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারকদের অন্যতম হযরত খানজাহান আলী (রঃ) এর মাজার প্রাঙ্গন এবং তাঁরই গড়া ষাট গম্বুজ মসজিদে আজান- নামাজ বন্ধের সংবাদ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)-কে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। বলার অপেক্ষা রাখেনা, সুলতানি আমলে নির্মিত বিশাল এই মসজিদ ভারত উপমহাদেশে চিত্তাকর্ষক মুসলিম স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবে বর্ণনা করে ইউনেস্কো ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও যাদুঘর বিভাগ পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য এ ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং খানজাহান (রঃ) এর মাজারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে ।

ধারনা করা হয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে ‘খান-উল-আযম উলুঘ খান ই জাহান (খানজাহান আলী (রহঃ) নামে বেশি পরিচিত) মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৪৪০ সালের দিকে ভক্ত ও আশেকানদের নিয়ে তিনি বাগেরহাটে আসেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে রত ছিলেন। ১৪৫৯ সালের ২৩ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন (৮৬৩ হিজরি ২৬ জিলহজ্ব)। ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি মানব সেবার ব্রত নিয়ে তিনি এ অঞ্চলে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তার শাসনকার্য পরিচালনা করেন। সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। ষাট গম্বুজ মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।

ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ একদল ভন্ড দরবেশ ও বাউল সন্ন্যাসীদের কবল থেকে মুক্ত করে মুসল্লিদের জন্য উম্মুক্ত করার সুদূর পরিকল্পনা নিয়ে যুগের মুজাদ্দিদ, মর্দে মুজাহিদ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) খুলনা- বাগেরহাট এলাকার বিশিষ্ট ওলামা- মাশায়েখদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি খুলনা বড় মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে অংশগ্রহণ করে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং খানজাহান (রঃ) এর মাজারের করুণ কাহিনী শুনে খুবই ব্যথিত হন। কারো সাথে বিরোধ কিংবা সংঘাতে না জড়িয়ে পরবর্তী বছর চৈত্র পূর্ণিমায় ওরশ ও মেলার সময় ষাট গম্বুজ মসজিদ চত্বরে তিনদিনব্যাপী ইছালে সাওয়াব মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। হুজুর কেবলা বুঝতে পেরেছিলেন ওরশ ও মেলার নামে যুগ যুগ ধরে চলে শিরক- বিদআত, কুসংস্কার হুট করে বন্ধ করা যেমন সম্ভব নয়, রাতারাতি পরিবর্তন আনা যাবেনা। তিনি যোগাযোগ শুরু করলেন ষাট গম্বুজ মসজিদ কেন্দ্রীক মেলা কমিটি ও মাজার কমিটির লোকদের সাথে। তাদের সাথে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করে ওরশ ও মেলার নামে অনৈসলামিক যতোসব অপকর্ম তুলে ধরে এসব কুফল সম্পর্কে বুঝাতে চেষ্টা করেন। অনেকেই সাড়া দিলেন, আবার অনেকেই আর্থিক লোভ সামলাতে না পেরে বিরোধিতা শুরু করলেন। হুজুর কেবলা উভয় কমিটির সদস্যদের ডেকে মেলা এবং ওরশ থেকে কতো আয় হয় তা জেনে সেই পরিমাণ নগদ অর্থ তাদের হাতে তুলে দেন প্রথম বছরের মাহফিলকে বাধাহীন ও নিষ্কন্টক করতে। এতে কমিটির লোকজন সন্তুষ্ট চিত্তে সম্মতি দিলে ১৯৭৯ সালে যুগের মহান সংস্কারক আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) শতাধিক আলেম ওলামাসহ বিরাট এক কাফেলা নিয়ে তিনদিনব্যাপী ইছালে সাওয়াব মাহফিল আয়োজনের লক্ষ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ ও খান জাহান আলী (রাহ.) এর মাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

বায়তুশ শরফের পীর সাহেবের আগমনের খবর পেয়ে বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক সদলবলে মাহফিল স্থলে উপস্থিত হলে বিশাল মাহফিলের রূপ পরিগ্রহ করে। ঐতিহাসিক ঐ সময়ে মরহুম হুজুর কেবলার সাথে ছিলেন এমন অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য মতে, হযরত খানজাহান আলী (রাহ.) এর স্মৃতিধন্য ষাট গম্বুজ মসজিদের করুণ দৃশ্য দেখে মরহুম হুজুর কেবলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তখন মসজিদে আযান- নামাজ কিছুই হতোনা। ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জুতা পায়ে মসজিদে ঢুকে পড়তো। মসজিদের অভ্যন্তরে বাউল সন্নাসীরা আস্তানা গেঁড়ে বসে। তাদের আস্তানায় বাউল নারী- পুরুষ গান-বাজনায় মত্ত থাকতো। মানতের উদ্দেশ্যে মসজিদের কিছু স্তম্ভের চুনা, পাথর ও ইট খুলে নিতো পুত্রসন্তান লাভ, বিয়ে ও ব্যবসায় উন্নতি লাভের আশায়। একশ্রেণীর ভন্ড ফকির নানা উপকারের কথা বলে এসব স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা ইনকাম করতো। শরাব আর গাঁজার বিদঘুটে গন্ধ লেগেই থাকতো। মসজিদের অভ্যন্তরে ছিল খড়কুট আর জঞ্জালের স্তুপ। মরহুম হুজুর কেবলা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি নিজেও মসজিদের অভ্যন্তরের ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের কাজে অংশ নিয়েছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মসজিদের অভ্যন্তরে মূল ফ্লোর পর্যন্ত পৌঁছতে কয়েক ফুট ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করতে হয়েছিল ঐ সময়। মরহুম হুজুর কেবলা মেলা চলাকালীন তিনদিন মসজিদের গেইটে দ্বাররক্ষী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছিলেন, যাতে নামাজী ছাড়া কেউ ঢুকতে না পারে। হুজুর কেবলা মাহফিলে স্থানীয় এমপি, ডিসি, এসপি, টিএনও, ওসি, মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাদরে আমন্ত্রণ করতেন। শিরক, বিদআত, নানা কুসংস্কারের স্থলে এতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খল মাহফিলের আয়োজন দেখে আগত অতিথিরা বিমোহিত বিমুগ্ধ হতেন।

১৯৮৯ সালে প্রথমবার তিনদিনব্যাপী মাহফিলের দুইদিন ষাট গম্বুজ মসজিদ চত্বরে, একদিন খানজাহান আলী (রাহ.) এর মাজার এলাকায় আয়োজন করেন। তৃতীয়দিন হুজুর কেবলার নেতৃত্বে মাজারমুখী বিশাল কাফেলার কথা এখনো স্থানীয় লোকেমুখে রূপকথার কাহিনীর মতো। বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারে হযরত খানজাহান আলী (রাহ.) বিশাল অবদানের কথা তুলে মহান এই অলির মাজারকে শিরক, বিদআতমুক্ত রাখার জন্য মোতাওয়াল্লী পরিবারসহ স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে মরহুম হুজুর কেবলা সেইদিন আবেগঘন ও হৃদয়াগ্রাহী বক্তব্য রেখেছিলেন, যা স্থানীয়দের মনোবৃত্তিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। মুতাওয়াল্লী পরিবারারের অনেকে প্রথম প্রথম বায়তুশ শরফের মরহুম হুজুর কেবলার মহৎ এই উদ্যোগকে ভালোভাবে না নিলে তিনি হেকমত অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের বশে আনেন। এদিকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আলেমসমাজ হুজুর কেবলার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অনুকূল হতে থাকে। মাহফিলে স্থানীয় উদ্যোক্তদের মধ্যে মরহুম ছিদ্দিকুর রহমান ও মরহুম আবদুল বারিক সর্দার এর নাম মরহুম হুজুর কেবলার মুখে অনেকবার শুনেছি।

মুজাদ্দিদে জামান আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) ষাট গম্বুজ মসজিদ আবাদ করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি নিজ খরচায় মসজিদের জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেন এবং স্থানীয় লোকদের দিয়ে একটি মসজিদ কমিটিও গঠন করে দেন। শুধু তাই নয়, মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বায়তুশ শরফের উপর ছেড়ে দিতে হাইকোর্টে রিটও করেছিলেন মহান এই মুর্শিদ। এতেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি, মসজিদ সংলগ্নে প্রতিষ্ঠা করেন ষাট গম্বুজ বায়তুশ শরফ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৯৮ সালে ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিবছর বিশাল কাফেলা সহকারে বাগেরহাটের তিনদিনব্যাপী মাহফিলে অংশ নিতেন।

তাঁর ইন্তেকালের পর বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব বাহরুল উলুম আল্লামা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (রাহ.) অত্যন্ত সুচারুভাবে মাহফিলের আঞ্জাম দেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ষাট গম্বুজ বায়তুশ শরফ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা আলিম স্তরে উন্নীত হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় বায়তুশ শরফ শাহ জব্বারিয়া এতিমখানা, হেফজখানা। মরহুম পীর সাহেব বাহরুল উলুম আল্লামা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (রাহ.) এর ইন্তেকালের পর রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মা. জি. আ) নেতৃত্বে বাগেরহাটের তিনদিনব্যাপী ইছালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আল্লাহ পাক এই মাহফিলকে কেয়ামত পর্যন্ত কায়েম রাখুন- আমীন।

বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদীয়ে যামান শাহ্সূফী আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর ২৮তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে বায়তুশ শরফ...
27/03/2026

বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদীয়ে যামান শাহ্সূফী আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর ২৮তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আজ ২৭ মার্চ ২০২৬, জুমাবার কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলের প্রতি দাওয়াত রইল
26/03/2026

দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলের প্রতি দাওয়াত রইল

খুলনা বাগেরহাট ষাট গুম্বজ বায়তুশ শরফ মাহফিলের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ থেকে আগামী  ০১লা এপ্রিল  ২০২৬ বুধবার রাত ০৯...
25/03/2026

খুলনা বাগেরহাট ষাট গুম্বজ বায়তুশ শরফ মাহফিলের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ থেকে আগামী ০১লা এপ্রিল ২০২৬ বুধবার রাত ০৯:০০ টায় গাড়ি রওনা হবে, যারা যেতে আগ্রহী ৩০ মার্চ মঙ্গলবারের মধ্যে বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় অফিসে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। যোগাযোগ 01840805051

২৫ মার্চ বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদীয়ে যামান শাহ্সূফী আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর ২৮তম ওফাত বার্ষিকী১৯৯৮ সালের ...
25/03/2026

২৫ মার্চ বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদীয়ে যামান শাহ্সূফী আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর ২৮তম ওফাত বার্ষিকী

১৯৯৮ সালের এ দিনে চট্টগ্রাম ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের নিজ হুজরাখানায় সকাল ৭.০০ টায় ইন্তেকাল করেন বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে যামান শাহসূফী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)। পরদিন চট্টগ্রাম রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে লক্ষ লক্ষ মোমিন মুসলমানের অংশগ্রহণে স্মরণকালের ঐতিহাসিক বৃহত্তম জানাযা শেষে তাকে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ মসজিদের দক্ষিণ পাশের নিজ ফুলবাগানে সমাহিত করা হয়।

তাঁর সমকালে তিনি ছিলেন যুগের অন্যতম আলেমে দ্বীন, পীর-এ কামেল। অরাজনৈতিক মসজিদ ভিত্তিক সমাজসেবার পুরোধা, শীরক-বিদআত-এর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে নিবেদিত প্রাণ। দুঃস্থ মানবতার সেবায় সদা সক্রিয়।

তিনি তাঁর পীর-মুর্শিদ কুতুবুল আলম শাহসূফী হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতর (রাহ.) এর সুযোগ্য একমাত্র ইযাযত প্রাপ্ত খলিফা হিসেবে স্বীয় পীরের পদাঙ্ক অনুকরণ ও অনুসরণ করেন। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (এম.এ) মাদরাসাসহ ১৬টি মাদরাসা, ১৮টি এতিমখানা ও হিফজখানা, বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শহর-নগর-বন্দর-জনপদে ৬৫টি বায়তুশ শরফ মসজিদ এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ১টি পূর্ণাঙ্গ চক্ষু ও পঙ্গু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, প্রাইমারী স্কুল, মহিলা কলেজ ও মাদরাসাসহ শতাধিক সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

একজন সফল লেখক ও অনুবাদক হিসেবে তিনি ছোট বড় ২১ টি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। জীবনে ৩৩ বার পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। তিনি বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, বুলগেরিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, ইরাক, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান ব্যাপকভাবে সফর করেন।

এ মহা মনীষী ১৯৩৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী আপার র্বামার থাংগু জেলার পিনজুলুক রেল স্টেশন সংলগ্ন বাঙ্গালী কলোনীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আব্বা মৌলভী ওয়াছি উদ্দীন (রাহ.) ও আম্মা বেগম ফিরোজ খাতুন (রাহ.)।

ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়তুশ শরফ আখতরুল উলুম বালক-বালিকা দাখিল মাদরাসা, এতিমখানা ও হেফজখানা'র ৬৯ তম বার্ষ...
22/03/2026

ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়তুশ শরফ আখতরুল উলুম বালক-বালিকা দাখিল মাদরাসা, এতিমখানা ও হেফজখানা'র ৬৯ তম বার্ষিক সভা আগামীকাল ২৩ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنكُمْ صَالِحَ الأَعْمَالِঈদ মোবারক!আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের সকল নেক আমল কবুল করুন।
20/03/2026

تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنكُمْ صَالِحَ الأَعْمَالِ
ঈদ মোবারক!

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের সকল নেক আমল কবুল করুন।

আপনার যাকাত, ফিতরা ও দান-সদকার একটি অংশ বায়তুশ শরফ যাকাত ফান্ডে প্রদানের মাধ্যমে  হাসি ফুটাতে পারে হাজারো এতিম, গরিব-অসহ...
25/02/2026

আপনার যাকাত, ফিতরা ও দান-সদকার একটি অংশ বায়তুশ শরফ যাকাত ফান্ডে প্রদানের মাধ্যমে হাসি ফুটাতে পারে হাজারো এতিম, গরিব-অসহায় ও দুঃস্থের মাঝে।

Address

Baitush Sharaf Complex, Shah Abdul Jabbar Rah. Road, D. T Road
Chittagong
4100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Baitush Sharaf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Baitush Sharaf:

Share