30/06/2026
একটা ছোট্ট মেয়ে, একটা কথা বলা গরু আর একটা বাউল। আর তাদের মাঝখানে একজন মানুষ। মোটা ফ্রেমের চশমা, ব্যাক ব্রাশ করা চুল, একেবারে সাধারণ চেহারা। কিন্তু কী অসাধারণভাবে তিনি ওই তিনটা পাপেটের সঙ্গে কথা বলতেন! কখনো ব্যপারটা অস্বাভাবিক মনে না হওয়ার কারন মোস্তফা মনোয়ার। মনেই হতো, পাপেটগুলো সত্যিই জীবন্ত।
মোস্তফা মনোয়ার একটা সাদা কাগজের মধ্যে কিছু রংতুলি দিয়ে আঁকাআঁকি করতেন। একটা সাদা কাগজের মধ্যে এই যে দাগাদাগি করা রংতুলি দিয়ে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা যেতো গ্রামের দৃশ্য, রাখাল বালক বা অতি সাধারণ এবং একইসাথে অসাধারণ কিছু বানিয়ে ফেললেন পারুলের সাথে কথা বলতে বলতেই।
আর্ট, ছবি আঁকা, পাপেট বা শিল্প-শৈল্পিক এই জিনিসগুলা সম্পর্কে ওই বয়সের বাচ্চাদের মাথায় ইমপ্রিন্ট করার ক্ষেত্রে উনার ভূমিকা অসামান্য।
মনের কথা ছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি মোস্তফা মনোয়ার। সৃষ্টি করেছেন ‘পারুল’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। জড়িত ছিলেন ‘মীনা’র সঙ্গে। নির্মাণ করেছেন শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন ও জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’।
মোস্তফা মনোয়ার চলে গেছেন, কিন্তু প্রস্থান করেননি। তাঁর অনবদ্য সৃষ্টিকর্ম আর অসামান্য অবদান তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগ যুগ ধরে।