মুক্তিপথ উন্নয়ন কেন্দ্র
প্রধান কার্যালয়,মুক্তিপথ ভবন,৯৪১, জলিল নগর, রাউজান,চট্টগ্রাম।
‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচী
প্রকল্প বাস্তবায়নে: মুক্তিপথ উন্নয়ন কেন্দ্র, হলদিয়া শাখা।
অর্থায়নে : পল্লীকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF)
ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন আত্ন-কর্মসংস্থান,জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিপথ
উন্নয়ন কেন্দ্র এর যাত্রা শুরু হয়। এ লক্ষ্যে অর্জনে সুবিধাবঞ্চিত,অসচ্চল পরিবারের সদস্যদের সমিতিভুক্ত করে সরকারী বিধি-বিধান এর আলোকে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মুক্তিপথ কার্যক্রমের সূচনা হয়। মুক্তিপথ PKSF এর সহযোগিতায় মানব সম্পদ উন্নয়নে কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান সহ সমিতির সদস্যদের শিক্ষা,স্বাস্থ্য,পুষ্টি, জীবনমূখী ও জীবিকা সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলি নিয়ে কাজ করে আসছে।
সূচনা: বিগত জানুয়ারি ২০১৬ মাসে মাঠ পর্যায়ে শুরু হওয়া স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি,শিক্ষা কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে সূচনা করা হয়। ইতোমধ্যে উক্ত কার্যক্রম রাউজান হলদিয়া ইউনিয়নের জনগনের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যসেবিকাগণ সংশ্লিষ্ট হলদিয়া ইউনিয়নসমূহের প্রত্যন্ত এলাকা গ্রামসমূহে উপস্থিত হয়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে বিনামূল্যে প্রাথমিক রোগ পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনামূলক আলোচনা করেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষায় ডিপ্লোমাধারী স্বাস্থ্য-সেবিকাগণ গ্রাম পর্যায়ে সকল প্রকার রোগী বিশষত গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদেরকে সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন। এমবিবিএস ডাক্তারের দ্বারা সাপ্তাহিকভাবে স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের সর্ব্বোচ্চ সেবা গ্রাম পর্যায়ে পৌছানো হচ্ছে। জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য-ক্যাম্প পরিচালনা এবং সকল পর্যায়ে চিকিৎসা সার্ভিস স্বাস্থ্য সেবাকে আরও নিবিড় করেছে। মুক্তিপথ ও কার্যাক্রমে বাস্তবায়নে আন্তরিক ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পটভূমি:পটভূমি: ১.০ :
“ স্বাস্থ্য হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্ অবস্থা, শুধুমাত্র রোগীব্যাধি বা দূর্বলতার অনুপস্থিতিই নয়’ স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। মানব উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে স্বাস্থ্য সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) অনুসারে চিকিৎসাসহ জীবনধারনের মৌলিক উপকরনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য। বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আলমা- আতার ঘোষণানুসারে (১৯৭৮) প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ভিত্তিতে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণসহ ১৯৯০- এর শিশুদের জন্য বিশ্ব নেতৃত্বের সম্মেলন, ১৯৯৪ এর জনসংখ্যা ও উন্নয়নের আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ১৯৯৫এর বেইজিং নারী সম্মেলনের ঘোষণা/সিদ্ধান্তসহ ২০১৫ সালের মধ্যে সহস্রাদ্বের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিগত বছর গুলোতে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ুস্কাল যথেষ্ট পেয়েছে।
বিশেষতঃ অতীতের প্রবণতা ভেঙ্গে বর্তমানে পুরুষের চেয়ে মহিলাদের গড় আয়ু অধিক। অনূর্ধ্ব ১ ও ৫ বছরের শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। যক্ষ্না রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পোলিও ও কুষ্ঠরোগ কার্যত দেশ থেকে নির্মূল হয়েছে। অপুষ্টি হ্রাস, ৫ বছরের কম (৬-৫৯ মাস) বয়সী স্বল্প ওজন বিশিষ্ট শিশুর হার এবং ৫ বছরের কম বয়সী (২৪-৫৯ মাস) খর্বকায় শিশুর হার ও রাতকানা রোগের প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। এইচআইভি/এইডস এর প্রকোপ যদিও এখন পর্যন্ত অনেক কম, তবে সংক্রামণের বেশ ঝুঁকি রয়েছে। তবে দেশে প্রদত্ত স্বাস্থ্য সেবার মান সম্পর্কে জনগনের মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ার জন্য উচ্চ সেবা –মূল্য ও অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে দায়ী মনে করা হয়। সরকারী ও বেসরকারী খাতে স্বাস্থ্য সেবাদানের জন্য সম্মিলিতভাবে যে অর্থায়ন হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর নানাবিধ স্বাস্থ্য চাহিদা ও স্বাস্থ্য ব্যয় মেটানোর লক্ষ্যে সকলের সমন্বিত প্রয়াসের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ দারিদ্র বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এদেশের জনগণের বিশাল অংশ এখনও গরীব। তবে মানব উন্নয়ন সূচকে উন্নতি বিবেচনা বাংলাদেশ মাঝারি মানের মানব উন্নয়নকারী দেশ। স্বাস্থ্য হচ্ছে উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রুগ্ন স্বাস্থ্য দারিদ্র্য ও নিরক্ষতার অন্যতম কারণ এবং জ্ঞান আহরনে অন্তরায়। স্বাস্থ্যের সাথে দারিদ্র বিমোচন ও উন্নয়নের যোগসূত্র রয়েছে। স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটলে আয় বাড়ব, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।
এই প্রেক্ষাপটে, মুক্তিপথ উন্নয়ন কেন্দ্র “সমৃদ্ধি” কর্মসূচি রাউজান হলুদিয়া ইউনিয়নসমূহে উন্নত ও সুষম স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘স্বাস্থ্যসেবা,পুষ্টি ও শিক্ষা কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রমের উদ্দেশ্যঃ ২.০:
স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সমৃদ্ধি কর্মসূচিরভুক্ত ইউনিয়নের অধিবাসিদের বিশেষতঃ প্রান্তিক দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ (নারী,শিশু ও বয়স্ক) জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য,পুষ্টি ও পরিবার কল্যান অবস্থার টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে জনগনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি এবং শারীরিক ও মানসিক কল্যান সাধন করা।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সুনিদিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ হলোঃ
মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় জনগনের অভিগম্যতা সৃষ্টি এবং বৃদ্ধি করা।
স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা ও ডাক্তারী পরামর্শ গ্রহণপূরক ঔষধ ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করা।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি-স্তর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। পুষ্টিকর খাবার প্রাপ্তি সহজকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাক-সবজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।
মাও শিশু অপুষ্টির হার হ্রাস করা এবং শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার হ্রাস করণের প্রয়োজনীয় উদ্যেগ গ্রহণ করা
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রসব এবং প্রসূতি ও নবজাতকের পরিচর্যার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা
শিশু, কিশোরী ও গর্ভবতীদের প্রয়োজনীয় টিকা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করা
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং বায়োবৃদ্ধদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ সৃষ্টি করা
কমিউনিটি ক্লিনিক,স্থানীয় সরকারী বা বেসরকারী হাসপাতাল/প্রাইভেট ক্লিনিকের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণেরর সুচিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি সহজলভ্য
স্বাস্থ্যসোবা কার্যক্রমকে টেকসই করার লক্ষ্যে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার দল সৃষ্টি করা।
স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায়ধীন কর্মকান্ডসমূহ ও বাস্তবায়ন কৌশল : ৩.0:
স্বাস্থ্যসোব ও পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় বর্তমান পর্যায়ে নিম্নলিখিত কর্মকান্ড সমূহ চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় কর্মকান্ড ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলমান
কার্যক্রমসমূহের নাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো:
খানা পরিদর্শন
উঠান বৈঠক আয়োজন ও পরিচালনা
স্বাস্থ্য কার্ড বিক্রি,নবায়ন ও স্বাস্থ্য কার্ডে দৈনিক তথ্য পূরণ
স্ট্যাটিক ক্লিনিক আয়োজন ও পরিচালনা
স্ট্যাটেলাইট ক্লিনিক আয়োজন ও পরিচালনা
স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজন ও পরিচালনা
রেফারেল সার্ভিস
ঔষধ বিতরণ ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ
পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে সহযোগিতা প্রদান
সংযোগ স্থাপন
দিবস উৎযাপন ও র্যা লীতে অংশগ্রহণ
ব্লাড গ্রুপিং ও তথ্য সংরক্ষণ
স্যানিটেশন ও হাতধোয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সচেতনামূলক পোষ্টার বিতরণ
তথ্য ও রেজিষ্টার সংরক্ষণ
তথ্য বিশেষণ ও অভ্যন্তরীন মনিটরিং প্রতিবেদন
সমৃদ্ধি বাড়ি গড়া
সমৃদ্ধি’র আওতায় চলমান কার্যক্রমসমূহঃ
স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম
শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম
আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম
বিশেষ সঞ্চয় কার্যক্রম
পরিবারভিত্তিক স্যানিটেশন ও হাত ধোয়া কার্যক্রম
কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম
কৃমিনাশক ট্যাবলেট, আয়রণ ক্যাপসুল ও পুষ্টিকণা বিতরণ
উদ্যমী সদস্য (ভিক্ষুক) পুরবার্সন কার্যক্রম
সমৃদ্ধি ওয়ার্ড সমন্বয় কমিটি গঠন ও মাসিকভিত্তিতে সভা আয়োজন
বসতবাড়ি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সমৃদ্ধি বাড়ি গড়া
বন্ধুচুলা ও সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম
উন্নয়নে যুব সমাজ কার্যক্রম (প্রক্রিয়াধীন)
সমৃদ্ধিকেন্দ্র স্থাপন (প্রক্রিয়াধীন)