13/09/2026
সীতাকুণ্ডে কারো সামান্য কোনো অসুস্থতা হলেই প্রায়শই চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়, যেখানে সময়, খরচ, কষ্ট, আর ঝুঁকি সবই বেড়ে যায়। আমরা বিশ্বাস করি, চিকিৎসা কোনো বিলাসিতা নয়, এটা মৌলিক অধিকার।
চট্টগ্রাম জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সীতাকুণ্ড। শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস। কিন্তু জনসংখ্যা ও এলাকার গুরুত্বের তুলনায় এখানকার স্বাস্থ্যসেবা এখনো পর্যাপ্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সাধারণ অসুস্থতা থেকে শুরু করে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অনেক মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, উন্নত রোগ নির্ণয়, জটিল অস্ত্রোপচার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই নির্ভরতা আরও বেড়ে যায়।
ক্যান্সার ও কিডনি রোগের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। একজন ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসার জন্য বারবার চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। একজন কিডনি রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য দূরের হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। একটি চিকিৎসার পেছনে শুধু হাসপাতালের খরচই নয়, যুক্ত হয় যাতায়াতের খরচ, সময়, রোগীর শারীরিক কষ্ট এবং পরিবারের সদস্যদের অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ। অনেক পরিবারের জন্য এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থা একসময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। আর্থিক সামর্থ্যের পাশাপাশি চিকিৎসার সহজলভ্যতাও তখন একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছে মুনির ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, কিডনি ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আমরা উপলব্ধি করেছি, শুধু চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; মানুষের দোরগোড়ার কাছাকাছি মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। একটি রোগী যখন চিকিৎসার জন্য নিজের এলাকা থেকে বারবার দূরের শহরে যেতে বাধ্য হন, তখন তার চিকিৎসার পথ আরও কঠিন হয়ে যায়। তাই সীতাকুণ্ডের স্বাস্থ্যসেবার এই বাস্তব চিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই মুনির ফাউন্ডেশন দীর্ঘমেয়াদে একটি বৃহৎ স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে।
সেই স্বপ্নের নাম “Munir Health City”। আমাদের পরিকল্পনা একটি সাধারণ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা সীতাকুণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে একজন মানুষ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার একটি বড় অংশ নিজ এলাকাতেই পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
Munir Health City-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে ক্যান্সার চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ক্যান্সার রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহায়তা এবং ভবিষ্যতে গবেষণার সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সীতাকুণ্ডের মানুষ যেন ধীরে ধীরে একটি নির্ভরযোগ্য স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার সুবিধা পান এবং শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য দূরের শহরের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন।
একইভাবে কিডনি রোগীদের জন্যও থাকবে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনা। কিডনি রোগের চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবার মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সুযোগকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য থাকবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, অবকাঠামো ও অনুমোদনের ভিত্তিতে কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সার্জারি সেবাও এই ব্যবস্থার অংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে আমাদের স্বপ্ন শুধু ক্যান্সার ও কিডনি চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। Munir Health City-তে পর্যায়ক্রমে হৃদরোগ, চক্ষু, নাক-কান-গলা, শিশু, নারী ও মাতৃস্বাস্থ্য, মেডিসিন, সার্জারি, ডায়াগনস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের সাধারণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন মানুষ তার বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের জন্য একটি সমন্বিত চিকিৎসা অবকাঠামোর সুবিধা পেতে পারেন।
আমাদের কাছে একটি হাসপাতালের সফলতা শুধু তার ভবনের আকার, আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা চিকিৎসা বিভাগের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। একজন অসহায় রোগী কতটা সহজে চিকিৎসা পাচ্ছেন, একজন দরিদ্র পরিবার কতটা স্বস্তির সঙ্গে চিকিৎসা নিতে পারছে এবং একজন রোগী কতটা মানবিক আচরণ পাচ্ছেন সেটিও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই Munir Health City-এর মূল দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে সাশ্রয়ী ও মানবিক চিকিৎসাসেবা। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষের আর্থিক সামর্থ্য চিকিৎসা পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে না দাঁড়ায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়।
আমরা জানি, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা কোনো ছোট উদ্যোগ নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিশাল অবকাঠামো, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, গবেষণার সুযোগ, প্রশিক্ষিত জনবল, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি একটি বড় পরিসরের সম্মিলিত সহযোগিতা। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু কোনো বড় পরিবর্তনই একদিনে তৈরি হয় না। একটি স্বপ্ন প্রথমে ধারণা হিসেবে জন্ম নেয়, তারপর পরিকল্পনায় রূপ নেয় এবং মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একসময় বাস্তবতায় পরিণত হয়।
Munir Health City আমাদের কাছে শুধু মুনির ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্প নয়; এটি সীতাকুণ্ডের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে চাই, যেখানে সীতাকুণ্ডের একজন মানুষ অসুস্থ হলে শুধুমাত্র উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে দূরের শহরে ছুটতে হবে না। একজন কিডনি রোগী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য নিজের এলাকার কাছাকাছি একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা পাবেন। একজন ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য একটি প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে পারবেন। আর সাধারণ রোগে আক্রান্ত একজন মানুষও প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সহজে সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মুনির ফাউন্ডেশন একা এগিয়ে যেতে চায় না। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের জন্য বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রকৌশলী, স্থপতি, গবেষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, প্রবাসী, দাতা, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষ প্রত্যেকের নিজস্ব জ্ঞান, দক্ষতা, সময়, শ্রম কিংবা আর্থিক সহযোগিতা এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনি যদি মনে করেন সীতাকুণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, আপনি যদি এই স্বপ্নের অংশীদার হতে চান, কিংবা আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ, মেধা, সময়, শ্রম, পেশাগত দক্ষতা অথবা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে চান, তাহলে মুনির ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আসুন, আমাদের সঙ্গে কথা বলুন, আপনার মতামত ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আমাদের জানান। আমরা বিশ্বাস করি, একটি বড় স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যায়, যখন সেই স্বপ্নের সঙ্গে অনেক মানুষ নিজেদের যুক্ত করেন।
মুনির ফাউন্ডেশনের “Everyone Can Help Someone” বিশ্বাসকে সামনে রেখে আমরা এই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চাই।
আমরা আজ একটি স্বপ্নের কথা বলছি। আগামী দিনের সীতাকুণ্ডকে আরও সুস্থ, আরও মানবিক এবং চিকিৎসাসেবায় আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দীর্ঘ, কিন্তু পথ যতই দীর্ঘ হোক, শুরুটা আজ থেকেই হতে পারে। আর সেই শুরুতে আপনার অংশগ্রহণই হতে পারে আগামী দিনের একটি বড় পরিবর্তনের ভিত্তি।
আমাদের এই প্রজেক্ট এ যেকোনো ভাবে সহযোগিতা করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন ।