15/04/2026
হাটহাজারীতে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারের অরাজকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক Md Ataur Rahman Meah মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ফেসবুকে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দেখিয়েছেন—একই এলাকায় ৫/৬টি দোকানে ৫/৬ রকম দাম, ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ কেউই বৈধ বিক্রয় রসিদ দিতে পারছে না। একজন আরেকজনের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে—ডিস্ট্রিবিউটার, ডিলার, কোম্পানি—কিন্তু বাস্তবে কেউই জবাবদিহির মধ্যে নেই।
এই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, এলপিজি বাজারে একটি অস্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রণহীন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্য কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। Bangladesh Energy Regulatory Commission নির্ধারিত দামের বাইরে গিয়ে বিক্রি করা এবং Value Added Tax and Supplementary Duty Act 2012 অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিক্রয় রসিদ প্রদান না করা—উভয়ই আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইভাবে Consumer Rights Protection Act 2009 অনুযায়ী ভোক্তার কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), হাটহাজারী শাখার পক্ষ থেকে আমরা এই অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে, ডিস্ট্রিবিউশন চেইন তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং রসিদবিহীন লেনদেন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান—রসিদ ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ে ক্রয় বিক্রয় করা থেকে বিরত থাকুন এবং যেখানেই অনিয়ম দেখবেন, তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই এই অরাজক বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।
ছবিঃ প্রতিকী।