18/05/2026
চট্টগ্রামের নন, তবুও চট্টগ্রামের জন্য করেছেন দান!
উপমহাদেশের ইতিহাসে দানশীলতা, মানবতা ও শিক্ষাবিস্তারের এক উজ্জ্বল নাম হলেন "হাজী মুহাম্মদ মহসীন"। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের বিপুল সম্পদ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয় না করে মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। আজও তার দানের সুফল ভোগ করছে বাংলা অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ।
১৭৩২ সালে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন হাজী মুহাম্মদ মহসীন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী ও মানবিক গুণে গুণান্বিত। জীবনের একটি বড় সময় তিনি ভ্রমণ ও ধর্মীয় সাধনায় কাটান। পবিত্র হজ পালন শেষে তিনি “হাজী” উপাধিতে ভূষিত হন।
নিজের বোনের বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। এরপর তিনি গড়ে তোলেন বিখ্যাত “মহসীন ফান্ড”, যার অর্থ দিয়ে এতিম, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সাহায্য করা হতো। শিক্ষাবিস্তারের জন্যও তিনি রেখে যান বিশাল অবদান। তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে চট্টগ্রামের Chittagong Haji Muhammad Mohsin College আজও অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
শুধু দানশীলতাই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, জীবনের শেষ সময়ে তিনি অত্যন্ত সাধারণভাবে জীবনযাপন করতেন এবং সময় কাটাতেন ধর্মীয় অনুশীলনে। এমনকি শেষ জীবনে তিনি নিজ হাতে পবিত্র কোরআন শরীফ নকল বা কপি করেও সময় অতিবাহিত করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
১৮১২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু মৃত্যুর দুই শতাব্দী পরও তার মানবিকতা, শিক্ষা প্রেম ও দানশীলতা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। সমাজে যখন সম্পদ নিয়ে অহংকারের প্রতিযোগিতা দেখা যায়, তখন হাজী মুহাম্মদ মহসীনের জীবন আমাদের শেখায়—মানুষের জন্য রেখে যাওয়া কাজই প্রকৃত সম্পদ।©️
#মুহসিন