01/11/2025
কেজিবির (সোভিয়েত ইন্টেলিজেন্স) মধ্যে ব্রিটিশ স্পাই ধরা পড়বার পর থেকে তাদের মধ্যে কিছু প্রচলিত কথা ছিলো, "Overt displays of loyalty often mask hidden betrayal" অথবা বলা যায় "Exaggerated patriotism can be a cover for deceit" বা "The louder a man shouts about loyalty, the more closely he should be watched" এটাও বলতো অনেকে। এর মানে হলো যে খুব বেশি চিল্লাফাল্লা করে, সেন্টমেন্ট দেখায়, তাকে খুব সহজেই "অতিরিক্ত দেশপ্রেমিক" বলা যায়, এমন লোককে সন্দেহের চোখে দেখা। কারন শত্রু বেশে ক্ষতির চাইতে বন্ধুবেশে ক্ষতি বেশি করা যায়।
তাই খুব সাবধান থাকা জরুরী। বিশেষ করে যখন দেশপ্রেমটা "ধর্মপ্রেমে" ডাইভার্ট হয়। খুব ধার্মিক, খুব দীনের ভালোবাসা, খুব নবীপ্রেম ভালো। তবে হুট করে সেই প্রেমটাকে ভায়োলেন্সে ট্রান্সফার করা দুটো কারনে হতে পারে, এক অতি উৎসাহে, যেটা হতে পারে। দুই, অন্য কোন উদ্দ্যেশ্যে। যেটা ঢাকতে বা যেটা আনজাম দিতে ধর্মের মুখোশ পরে থাকা লাগছে বা ধর্মের ঢোল পিটাতে হচ্ছে। যেমন, ভারতের মোদী সরকারকে এই একিউজেশনই দেয়া বিরোধীদলীয় কংগ্রেস জোট।
মনে রাখবেন, কিতাবী দিক থেকে, বিশ্বাসগত দিক থেকে হিন্দু মুসলিম মানে বহুশ্বেরবাদ আর একেশ্বরবাদ একসাথে থাকার কথা না। সেখানে এদেশে কিভাবে থাকছে বা থেকেছে যুগের পর যুগ? ট্রেইড অফ করে। কড়া মওলানাও সমাজে বসবাসের উদ্দেশ্যে হিন্দুদের "ভাই" ডেকেছে। কড়া ব্রাহ্মণও সেরকম মুসলিমদের "ভাই" ডেকেছে। কারন তারা জানতো এই রক্তারক্তি করার সময় যেমন নাই, বেশিরভাগেরই সহ্য করার টাকাপয়সাও নাই। তারপরও, ঝামেলা হয়নি? হয়েছে। তবে সেটা ম্যাসাকার কখন হয়েছে? যখন উদ্দেশ্যটা ধর্মের ছিলো না। ধর্মকে ব্যাবহার করে রাজনীতির ছিলো। ব্রিটিশরা এই কাজের পাইয়োনিয়ার।
যাইহোক, হুট করে দেশে কিছু প্র্যাকটিসিং মানুষজন হিন্দুবিরোধী বা হিন্দু ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। যাদের অনেকেরই পূর্বের কোন পরিচয় নেই। সিগনিফিকেন্ট কেউ ছিলোও না। হুট করেই মিডিয়া লাইমলাইটে চলে আসছে। এদেশে হিন্দুধর্মকে ব্যাবহার করে অন্য কোন একটা দেশ সমস্যা তৈরি করবে না, এমনটা অবশ্যই ভাবা যায় না। তবে এটা তদন্ত করা ছেড়ে দিতে হবে সরকারের জিম্মায়। এখন তেড়েমেরে আসবেন হয়তো, যে আমাদের কি দায়িত্ব নাই। অবশ্যই আছে। তবে দায়িত্ব পালন করছেন নাকি কোন একটা এজেন্ডার ট্র্যাপে পড়ছেন সেটাও দেখা আপনার দায়িত্ব। যদি দেখেন এটা ভাববার সময় পাচ্ছেন না, তাহলে সময় নিন, ভাবুন। শুনতে "হাইরা গ্যালাম" টাইপ মনে হয়, তবে আপনার এও জেনে রাখা উচিত এদেশে রক্তারক্তি মারপিট করিয়ে কার লাভ?
এদেশে দাঙ্গাহাঙ্গামা করিয়ে, ডিভাইড এন্ড রুল করিয়ে ব্রিটিশরা দুইশ বছর চুষে খেয়ে আজ কি সুখে নাই? কমপক্ষে দুইশবছর আগে নাই? কেমনে আছে? আমাদের বোকা বানিয়েই তো এগিয়েছে। একই কাজ প্রত্যেকটা ইম্পেরিয়ালিষ্টরা করবে। তাই, খুব সাবধান।
আমি অনুরোধ করবো দেশের সমস্ত ঘরানার আলেমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করবেন। অযোগ্যদের থেকে মাইক কেড়ে নেবেন। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। সাথে দেশের মানুষের জন্য কোনটা উপকার সেটা নিয়ে কথা বলবেন। দেশ আপনাদেরও। এখানে রক্তারক্তি হলে রক্তের ছিঁটা আপনাদেরও জোব্বাতে পড়বে। তাই আমার অনুরোধ আপনারা একদম উন্মুক্তভাবে কথা বলুন। স্টেটমেন্ট দিন।
®সংগৃহীত