08/06/2026
২০১৮ সালে, ১৭ বছর বয়সী এক ছেলে।
নাম মানিক।
ডান পায়ের হাঁটুর উপর ফোলা আর ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কি মায়াবী চেহারা ছিল! একদম ছোট্ট একটা ছেলে, চোখে ভয়, মুখে কষ্ট চেপে রাখার চেষ্টা।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধরা পড়লো Osteosarcoma। আর দুঃখজনকভাবে তখনই বোঝা গেল, রোগটা অনেক দূর ছড়িয়ে গেছে।
মানিক ছিল একেবারে গরিব ঘরের সন্তান। চিকিৎসার খরচ, রক্ত, সবকিছুই তখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
সেদিন দুই ব্যাগ রক্ত দরকার ছিল। যা দিলেন ডা: মেহেদীনুল ইসলাম সেতু ভাই আর তার কলিগরা। আর পুরো অর্থোপেডিক্সের স্যাররা সব খরচ নিজেরা বহন করেছিলেন।
ওয়ার্ডের নার্স, ওয়ার্ড বয়, ডাক্তার সবাই সেদিন যে মানবিকতা দেখিয়েছিলেন, সেটা সত্যিই অবর্ণনীয়।
মানিক অল্প কিছুদিন ভর্তি ছিল। কিন্তু এই অল্প কয়েকদিনেই সে পুরো ওয়ার্ডের প্রাণ হয়ে গিয়েছিল।
তারপর তাকে ছুটি দেওয়া হলো।
মাঝে মাঝে ফোন দিতো। তার মা আমাকে ভাই বানিয়েছে।
একদিন হঠাৎ মানিক ফোন করে বলল, “মামা, খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।”
আমি বুঝলাম, ফোনের ওপাশে মানিক কাঁদছে। কণ্ঠটা ভাঙা ভাঙা, শুধু বারবার বলছিল, “মামা, খুব কষ্ট হচ্ছে… আমি বাঁচব তো?”
এরপর প্রফেশনাল চাপ, জীবনের ব্যস্ততা… অনেকদিন খেয়াল করিনি মানিকের ফোন আসছে না।
হঠাৎ একদিন সেই নাম্বার থেকে কল আসে।
ফোন ধরতেই ওপাশে হানিফের কণ্ঠ। মানিকের ছোট ভাই।
সে বলল, “মামা… হানিফ ভাই আর নাই।”
আমার কণ্ঠ আটকে গেল।
বুকটা হুট করে মুচড়ে উঠলো।
মানিক নেই।
Osteosarcoma সত্যিই মরনঘাতী।
কিন্তু ভালোবাসাও যে সংক্রামক।
মানিক নেই… কিন্তু ও রয়ে গেছে স্মৃতিতে, রয়ে গেছে অনুভবে, রয়ে গেছে মননে।
মানিক যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক। 💔
ক্যান্সার হায়রে ক্যান্সার 💔
লেখা:
Dr-Abdur Rahman
মামা নামক সেই ডাক্তার,
ডা: মেহেদীনুল ইসলাম সেতু ভাই 🖤🖤