02/06/2026
দিনটি ছিল সোমবার, ৭ জুন ১৯৯৩ সাল। বাসা থেকে বের হয়ে দোকানে গিয়েছিলাম। রাস্তায় শুনি মাইকিং। তখন যে কোনো কিছুর ঘোষণা হতো এলাকায় মাইকিং করে। সেদিনও টু স্ট্রোক অটোরিকশায় করে মাইকিং হচ্ছিল। একটা শোক সংবাদ। দূর থেকে ভেসে আসা আওয়াজ শুনে মনে করেছিলাম, এলাকার কারো মৃত্যুর খবর। কিন্তু কাছে আসতেই যেন সবকিছু পাল্টে গেল। যিনি শোক সংবাদ ঘোষণা করছেন তার গলাটাও ধরে আসছিল। স্পষ্টতই কান্না লুকিয়ে ঘোষণা দিচ্ছিলেন তিনি। যখন তিনি বললেন, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত, তখনই কিশোর মনের বুকটা কেঁপে উঠল। এ পদবী আমরা শুধু আমাদের বড় হুজুর কেবলার জন্যই ব্যবহার করি।
কোনো কিছু ভাবার আগেই যখন মাইকে ভেসে এলো, আওলাদে রাসূল (দ) হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা) ইন্তেকাল করেছেন, তখন কেমন লেগেছিল সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে আম্মাকে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। আমার আব্বা-আম্মা দুজনই হুজুর আল্লামা তৈয়ব শাহ (রা) এর মুরিদ। বলুয়ারদীঘি খানকায় কত শতবার যে গিয়েছি হুজুরের সান্নিধ্য পেতে। হুজুর চট্টগ্রাম আসলেই সেখানে আসা-যাওয়া ছিল নিয়মিত ব্যাপার। এখনো মনে আছে, আমাকে কোরআনুল করিমের সবক দিয়েছিলেন হুজুর কেবলা। একটা অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাসে পানিতে ফুঁক দিয়ে সে পানি দিয়েছিলেন খেতে। ১২ রবিউল আউয়াল ছিল সবচেয়ে আনন্দের দিন। ঈদের দিন। বলুয়ারদীঘি খানকার সামনে সরু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতাম সকাল থেকে আব্বার সাথে। হুজুর নেমে এসে একটা জিপ গাড়িতে উঠতেন। তার পেছন পেছন চলত হাজার হাজার মানুষ আর শত শত গাড়ি। কিছুদূর প্রাইভেট কারে আর কিছুদূর পায়ে হেঁটে যেতাম জামেয়া ময়দানে। দেখতে দেখতে ৩৩ বছর পার হয়ে গেল, এখনো সেই দিনের কথা ভুলতে পারি না। পরদিন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদী আর দৈনিক পূর্বকোণ কিনেছিলাম। হুজুর কেবলার মৃত্যুর সংবাদ ব্যানার লিড করেছিল দৈনিক পূর্বকোণ। অনেকদিন সে পত্রিকাগুলো সংরক্ষণে ছিল। পরে বারবার বাসা পাল্টানোর কারণে কখন যেন হারিয়ে গেল। আজ ১৫ জিলহজ, হুজুর আল্লামা তৈয়ব শাহ (রা) এর বার্ষিক ওরসে পাক। আল্লাহ হুজুর কেবলাকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করুন, আমিন।
লেখা: Kashem Shah