ADHAN

Call Directions Website Contact the organization

ADHAN আদহান একটি অলাভজনক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আমরা মসজিদ ভিত্তিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামিক প্রকাশনার সাথে যুক্ত আছি।

⭐ফরাসি সাহিত্যের শিক্ষার্থী থেকে জাপানি ভাষায় কুরআনের তাফসির অনুবাদক: খাওলা নাকাশমা কাওরির অনন্য জীবনগাথাজাপানের একজন ম...
29/06/2026

⭐ফরাসি সাহিত্যের শিক্ষার্থী থেকে জাপানি ভাষায় কুরআনের তাফসির অনুবাদক: খাওলা নাকাশমা কাওরির অনন্য জীবনগাথা

জাপানের একজন মেধাবী তরুণী, যিনি একসময় ফরাসি সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিমগ্ন ছিলেন, পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে জাপানি ভাষায় ইসলামী জ্ঞানের প্রসারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি হলেন খাওলা নাকাশমা কাওরি (Kaori Nakashima Khawla)।

খ্রিষ্টীয় নব্বইয়ের দশকে ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিক Albert Camus-এর সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি মানবজীবনের অর্থ, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিক সত্যের সন্ধানে গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করেন। এই অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তিনি ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, একত্ববাদ, নৈতিক আদর্শ এবং মানবতার বার্তা তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। দীর্ঘ অধ্যয়ন ও আত্মিক অনুসন্ধানের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নতুন নাম রাখেন খাওলা নাকাশমা কাওরি।

ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে জাপানি ভাষাভাষী মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে জাপানি ভাষায় নির্ভরযোগ্য ইসলামি গ্রন্থের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই তিনি নিজেকে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং অনুবাদের কাজে নিয়োজিত করেন।

তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিখ্যাত কুরআন তাফসির গ্রন্থ Tafsir al-Jalalayn-এর জাপানি অনুবাদ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত এই তাফসিরকে জাপানি ভাষায় উপস্থাপন করা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য একটি কাজ। কিন্তু খাওলা নাকাশমা দৃঢ় সংকল্প ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। যখন তিনি ক্যানসারের মতো কঠিন ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হন, তখনও তিনি তাঁর মিশন থেকে সরে দাঁড়াননি। হাসপাতালের শয্যায় শুয়েও তিনি অনুবাদের কাজ চালিয়ে যান। শারীরিক দুর্বলতা, চিকিৎসার কষ্ট এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং তিনি তাঁর অবশিষ্ট সময়কে ইসলামী জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে উৎসর্গ করেছিলেন।

মাত্র ৪৭ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে খাওলা নাকাশমা কাওরি এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যা জাপানে ইসলামের অধ্যয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অনুবাদ, গবেষণা এবং আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে সত্যের সন্ধান একজন মানুষকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে।

খাওলা নাকাশমা কাওরির জীবন আমাদের শেখায় যে জ্ঞান, বিশ্বাস এবং অধ্যবসায় একত্রিত হলে একজন মানুষ নিজের জীবনকে শুধু পরিবর্তনই করতে পারেন না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি স্থায়ী আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর জীবনকাহিনি ইসলামি জ্ঞানচর্চা, আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ এবং সত্যের অনুসন্ধানে নিবেদিত মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

⭐উমর রিওইচি মিতা: যিনি প্রথম মূল আরবি থেকে জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেনউমর রিওইচি মিতা (Ryoichi Mita, 三田了一) ছিলেন জাপ...
29/06/2026

⭐উমর রিওইচি মিতা: যিনি প্রথম মূল আরবি থেকে জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেন

উমর রিওইচি মিতা (Ryoichi Mita, 三田了一) ছিলেন জাপানের অন্যতম বিশিষ্ট মুসলিম এবং মূল আরবি ভাষা থেকে জাপানি ভাষায় পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক। তাঁর অনুবাদ আজও জাপানি ভাষাভাষী মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অনুবাদগুলোর একটি।

🔹প্রাথমিক জীবন

জন্ম: ১৮৯২ সালে, জাপানে।

তিনি প্রথম জীবনে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং চীনে দীর্ঘ সময় কাজ করেন।

ব্যবসায়িক জীবনে মুসলিম সমাজের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন।

🔹ইসলাম গ্রহণ

তিনি প্রায় ১৯৪১ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় উমর (Omar/Umar)।

তিনি ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন এবং আরবি ভাষা শেখেন, যাতে কুরআন সরাসরি মূল ভাষা থেকে বুঝতে পারেন।

🔹পবিত্র কুরআন অনুবাদের কাজ

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আরবি ভাষা, তাফসির এবং ইসলামি সাহিত্য অধ্যয়নের পর তিনি কুরআন জাপানি ভাষায় অনুবাদ করেন।

গ্রন্থের নাম: 聖クラーン (Sei Kurān), অর্থ "পবিত্র কুরআন"।

প্রকাশ: ১৯৭২ সালে।

এটি ছিল মূল আরবি ভাষা থেকে জাপানি ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ, যা একজন মুসলিম অনুবাদ করেছিলেন।

অনুবাদের সময় তিনি বিভিন্ন প্রামাণিক তাফসির ও আরবি অভিধান ব্যবহার করেন।

🔹অনুবাদের বৈশিষ্ট্য

মূল আরবি পাঠের অর্থ যথাসম্ভব বিশ্বস্তভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

ভাষা সহজ, মার্জিত ও সাহিত্যিক।

কঠিন আরবি শব্দের ব্যাখ্যা ও টীকা সংযোজন করা হয়েছে।

জাপানি মুসলিম সমাজে এটি দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনুবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

🔹জাপানে ইসলামের প্রসারে অবদান

উমর মিতা শুধু অনুবাদকই ছিলেন না, তিনি:

ইসলাম সম্পর্কে বক্তৃতা দিতেন।

জাপানে ইসলাম পরিচিত করার কাজে সক্রিয় ছিলেন।

মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দাওয়াহ কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

অনেক জাপানিকে ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেন।

🔸তাঁর আগে কি কোনো জাপানি অনুবাদ ছিল?

হ্যাঁ। ১৯২০ সালে সাকামোতো কেনইচি (Sakamoto Ken-ichi) প্রথমবার জাপানি ভাষায় কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। তবে সেটি মূল আরবি থেকে নয়, ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। এজন্য ইসলামী গবেষণায় উমর রিওইচি মিতার অনুবাদকেই মূল আরবি থেকে প্রথম জাপানি অনুবাদ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়।

🔹মৃত্যু

মৃত্যু: ১৯৮৩ সালে।

তিনি জাপানের ইসলামি ইতিহাসে একজন পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আমাদের সব সম্মানিত অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের পবিত্র ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা!
29/05/2026

আমাদের সব সম্মানিত অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের পবিত্র ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা!

23/03/2026

🌟জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৮ নারী সাহাবি

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৮ নারী সাহাবি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম।
মহান আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবিদের অনেকে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যেমন পুরুষ সাহাবিরা ছিলেন, নারী সাহাবিরাও ছিলেন। এখানে আমরা দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৮ নারী সাহাবির কথা বলেছি।

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম
ইসলামের ইতিহাসে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীরা ছিলেন ঈমান, চরিত্র ও ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত। মহান আল্লাহ ও রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–এর প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য, ধৈর্য, ইবাদত ও নৈতিকতায় তাঁরা এমন উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছান, যার কারণে দুনিয়াতেই তাঁদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জীবন মুসলিম নারীদের জন্য আদর্শ, অনুপ্রেরণা ও পথনির্দেশনার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

▪️১. খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️২. সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️৩. আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️৪. হাফসা বিনতে ওমর (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️৫. ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️৬. উম্মে জাফর (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️৭. উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)
▪️৮. উম্মে সুলায়েম গুমাইসা বিনতে মিলহান (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা)

🔸১. খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)

নবীজির (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম ও সবচেয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা) ছিলেন নবীজির ওপর ঈমান আনা প্রথম মানুষ; নারী-পুরুষ সবার মধ্যে প্রথম। নবীজির ওপর ইমান ও নবীজিকে সমর্থন-সহযোগিতার কারণে তিনি আল্লাহর কাছেও মর্যাদা লাভ করেন। বিভিন্ন হাদিসে তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মুমিন নারীদের একজন বলা হয়েছে। জীবনকালেই তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম ও জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।

হজরত আবু হোরায়রা (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত একদিন হজরত জিবরাইল (আলাহিসসালাম) মহান আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন, তার সাথে একটি পাত্র রয়েছে, যাতে তরকারি আছে বা (বর্ণনাকারী বলেন) খাবার অথবা পানীয়। তিনি আপনার কাছে এসে পৌঁছলে তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং তাঁকে জান্নাতে একটি বাঁশের ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো কোলাহল বা কষ্ট থাকবে না। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

🔸২. সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.)
সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.) ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। বলা হয় তিনি ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী সপ্তম ব্যক্তি। মুজাহিদ (রহ.) বলেন,মহান আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র কাছে প্রথম প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণকারী সাত ব্যক্তি হলেন, হযরত খাদীজা রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহা, আবু বকর রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু, বিলাল রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহু খাব্বাব রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহু, সুহাইব রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু, আম্মার রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু এবং তাঁর মা সুমাইয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)।

মক্কায় সুমাইয়ার (রা.) পরিবার ছিল বনু মাখজুমের আশ্রিত। যখন সুমাইয়া (রা.), তার স্বামী ইয়াসির, তাদের ছেলে আম্মার এবং ভাই আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন আবু জাহল ও তার গোত্র বানু মাখজুমের মুশরিকরা তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাঁকে শহীদ করে দেয়। তিনি ইসলামের প্রথম শহীদ।

তিনি দুনিয়াতেই জান্নাতের সুংসবাদ পেয়েছিলেন। ইবনে হিশাম ইবনে ইসহাকের সূত্রে লিখেছেন, বনু মাখজুম আম্মার ইবনে ইয়াসির ও তার বাবা-মাকে রৌদ্রতপ্ত দুপুরে বের করে আনত এবং মক্কার উত্তপ্ত বালুতে ফেলে রাখতো। একদিন মহান আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের করুণ অবস্থা দেখে বলেছিলেন, ধৈর্য ধরো, হে ইয়াসিরের পরিবার! তোমাদের প্রতিশ্রুত ঠিকানা হলো জান্নাত! (সীরাতে ইবনে হিশাম) (তাবরানি ফিল কাবির)

🔸৩. আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)
আল্লাহর রাসুলের (সা.) প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা (রা.) দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। আয়েশা (রা.) নিজেই বর্ণনা করেন, জিবরাইল (আ.) একদিন একটি সবুজ রঙের রেশমি কাপড়ে তার (আয়েশার) প্রতিচ্ছবি নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখিয়ে বলেন, ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী। (সহিহ বুখারি)

🔸৪. হাফসা বিনতে ওমর (রা.)
রাসুলের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র স্ত্রী ওমরের (রাদীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ) মেয়ে উম্মেল মুমিনিন হাফসা (রা.) দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার হাফসাকে (রা.) তালাক দিয়েছিলেন। তখন জিবরাইল (আ.) এসে বলেন, হাফসা প্রচুর রোজা রাখেন ও নামাজ আদায় করেন, তিনি আপনার জান্নাতের স্ত্রী, তাকে ফিরিয়ে নিন। (মুস্তাদরাক হাকেম)

🔸৫. ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (রা.)
নবীজির (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র কন্যা ফাতেমা (রাদীয়াল্লাহুতায়ালা আনহা) দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। হোজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, একজন ফেরেশতা যিনি আগে কখনো পৃথিবীতে আসেননি, তিনি আমাকে সালাম দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, ফাতেমা জান্নাতের নারীদের নেতা, আর হাসান ও হোসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা। (সুনানে তিরমিজি)

🔸৬. উম্মে জাফর (রা.)
উম্মে জাফর (রা.) ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ একজন নারী সাহাবি। তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। একবার তিনি নবীজির (সা.) কাছে গিয়ে এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া চাইলেন। নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আপনি চাইলে ধৈর্য ধরুন এবং আপনি জান্নাত লাভ করবেন। আর আপনি চাইলে আমি দোয়া করি। উম্মে জাফর (রা.) বললেন, আমি ধৈর্য ধরব। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

🔸৭. উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)
নবীজির (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র নারী সাহাবি উম্মে হারাম বিনতে মিলহানকে (রা.) নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে বলেছিলেন, তিনি সমুদ্রযুদ্ধে অংশ নেবেন। পরবর্তীতে তিনি মুয়াবিয়ার (রা.) খেলাফতকালে সমুদ্রযুদ্ধে অংশ নেন এবং সেখানেই শহীদ হন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

🔸৮. উম্মে সুলায়েম গুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.)
উম্মে সুলায়েম গুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) প্রখ্যাত সাহাবি আনাস ইবনে মালিকের (রা.) মা। তিনিই বালকবয়সী আনাসকে (রা.) নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র খেদমতের জন্য নিয়ে এসে বলেছিলেন, মদিনার সবাই আপনার জন্য উপহার এনেছে, আমি আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি, সে আপনার সেবা করবে।

তিনিও দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, সেখানে আমি কারও চলার আওয়াজ পেলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, কে? লোকেরা বলল, তিনি আনাস ইবনে মালিকের মা গুমাইসা বিনতে মিলহান। (সহিহ মুসলিম)

🌙 আরবি (সঠিকভাবে)تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْعِيدٌ مُبَارَكٌ عَلَيْنَا وَعَلَيْكُمْاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْب...
22/03/2026

🌙 আরবি (সঠিকভাবে)

تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ
عِيدٌ مُبَارَكٌ عَلَيْنَا وَعَلَيْكُمْ

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ
وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

📖 বাংলা উচ্চারণ

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্‌না ওয়া মিন্‌কুম
ঈদুন মুবারাকুন আলাইনা ওয়া আলাইকুম

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
ওয়া লিল্লাহিল হামদ

🇧🇩 বাংলা অর্থ

আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের (ইবাদতসমূহ) কবুল করুন।
এই ঈদ আমাদের ও আপনাদের জন্য বরকতময় হোক।

আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

🌟মহান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:“আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি তোমার অবসর সময় আমাক...
22/03/2026

🌟মহান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

“আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি তোমার অবসর সময় আমাকে ইবাদতে ব্যয় করো, আমি তোমার অন্তরকে সমৃদ্ধিতে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করে দেব। আর যদি তা না করো, তবে আমি তোমার জীবনকে ব্যস্ততা ও কষ্টে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব না।”

— সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৪৬৬

নীচের বক্তব্যটি আমির Muhammadu Sanusi II–এর যিনি নাইজেরিয়ার কানু প্রদেশের আমির। এর বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো:“আমার মতে...
22/03/2026

নীচের বক্তব্যটি আমির Muhammadu Sanusi II–এর যিনি নাইজেরিয়ার কানু প্রদেশের আমির। এর বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো:

“আমার মতে, ওয়াহাবিবাদ ও সালাফিবাদের মধ্যে এমন এক ধরনের অসহিষ্ণুতা আছে, যা Boko Haram–এর মতো গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আফ্রিকার ইসলাম তার নিজস্ব চিন্তাধারা, প্রাচীন সাম্রাজ্য এবং নিজস্ব ইতিহাস নিয়ে গড়ে উঠেছে। আর আমাদের ইসলাম বোঝানোর জন্য সৌদি আরব বা ইরানের কোনো প্রয়োজন নেই।”

Emir Muhammadu Sanussi
(Emir of Kano, Nigeria 🇳🇬

🌟ইসলামের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসক: রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)ইসলামের ইতিহাসে চিকিৎসা ও মানবসেবার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল না...
21/03/2026

🌟ইসলামের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসক: রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)

ইসলামের ইতিহাসে চিকিৎসা ও মানবসেবার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নাম হলেন Rufaidah Al‑Aslamia (রুফাইদা আল-আসলামিয়া রা.)। তাঁকে অনেকেই ইসলামের প্রথম নারী সার্জন ও নার্স হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবিয়া এবং মানবসেবার এক অনন্য উদাহরণ।

🔹জন্ম ও শিক্ষা

রুফাইদা মদিনার বনি আসলাম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন দক্ষ চিকিৎসক। পিতার কাছ থেকেই তিনি চিকিৎসাবিদ্যার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সহানুভূতিশীল, সংগঠক ও সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।

🔹মদিনায় চিকিৎসা সেবার সূচনা

নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় হিজরত করে আসেন, তখন রুফাইদা তাঁকে স্বাগত জানানোর অন্যতম ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। পরে তিনি মদিনায় একটি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে অসুস্থ ও আহত মানুষের চিকিৎসা করা হতো।

রুফাইদা শুধু নিজে চিকিৎসা করতেন না, বরং অন্য নারীদেরও প্রশিক্ষণ দিতেন যাতে তারা রোগীদের সেবা করতে পারে। তাঁর এই উদ্যোগ ইসলামের ইতিহাসে নারীদের চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

🔹যুদ্ধক্ষেত্রে মানবসেবা

ইসলামের বিভিন্ন যুদ্ধে তিনি আহত সৈন্যদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অংশ নেন—

▪️Battle of Badr▪️Battle of Uhud▪️Battle of the Trench (খন্দক)▪️Battle of Khaybar

যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি একটি তাঁবু স্থাপন করতেন, যেখানে আহত সৈন্যদের চিকিৎসা করা হতো। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম “ফিল্ড হাসপাতাল” বা মোবাইল চিকিৎসা ইউনিটের একটি উদাহরণ।

খন্দকের যুদ্ধে তিনি সাহাবি Sa'd ibn Mu'adh (রা.)-এর বাহুতে বিদ্ধ তীর অপসারণ করে চিকিৎসা করেন। তাঁর নেতৃত্বে একটি নার্স দলও কাজ করত, যারা আহতদের সেবা দিত।

🔹ইসলামি সমাজে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যচর্চা

সেই সময় মুসলমানরা রোগকে শুধু আল্লাহর শাস্তি হিসেবে দেখতেন না। বরং পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত নামাজ, এবং সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাসকে সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হতো। হাসপাতালগুলোতে নারী ও পুরুষ রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হতো।

🔹আধুনিক সময়ে তাঁর স্মৃতি

আজও তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ:
বাহরাইনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে “রুফাইদা আল-আসলামিয়া অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়।

পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত Aga Khan University-এর একটি ভবনের নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে।

🔹ইতিহাসে তাঁর গুরুত্ব

রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.) মানবসেবা, চিকিৎসা দক্ষতা এবং নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বিখ্যাত নার্স Florence Nightingale-এর প্রায় ১২০০ বছর আগে চিকিৎসা ও নার্সিং সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

আজ তাঁর নাম তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও ইসলামের ইতিহাসে তিনি নারীদের সাহস, মানবতা এবং চিকিৎসা সেবার এক অনন্য প্রতীক।

🔹একনজরে রুফাইদা আল আসলামিয়া(রা.) সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

▪️নাম: রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)
▪️জন্ম: আনুমানিক ৬২০ খ্রিস্টাব্দ
▪️জন্মস্থান: পবিত্র মদিনা
▪️মৃত্যু: সঠিক সাল অজানা
▪️মৃত্যুস্থান: পবিত্র মদিনা
▪️কবর: পবিত্র মদিনা

▪️নীচের চিত্রগুলি AI কর্তৃক অংকিত রুফাইদা (রা.), হাসপাতালের কল্পিত চিত্র। এবং তাঁর কবরগৃহ চিত্র কল্পিত নয়।

পবিত্র জুম'আতুল বিদা মুবারক!
20/03/2026

পবিত্র জুম'আতুল বিদা মুবারক!

20/03/2026

সৌদি আরবের ঘড়ি টাওয়ারটি আলোকিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদুল ফিতরের সূচনা ঘোষণা করেছে। 💚

Address

Momin Road
Chittagong
4000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ADHAN posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to ADHAN:

Shortcuts

Share