25/07/2025
শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫মে গণ হ ত্যার অভিযোগ এবং মাইলস্টোন দুটো ঘটনা দুই সরকারের আমলে ঘটলেও দুই জায়গাতেই আমাদের অবস্থান এক। শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের ঠিক কতজন মারা গেছেন তা নিয়ে শুরু থেকে ধোঁয়াশা ছিল। ধোঁয়াশার কারন ছিল আওয়ামি লীগ বিরোধী শক্তির প্রচারনা ওখানে হাজার হাজার মরে গেছে। আর লীগ সরকার তালিকা দিয়ে বলেছিল মারা গেছে ১১জন।
আদিলুর রহমান শুভ্র হেফাজত-বিএনপি-জামাতের লোক। এটা সবাই জানে। তার এনজিও অধিকার দাবী করে ওখানে ৬১ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু তার স্বপক্ষে তিনি কোন প্রমান দিতে পারেন নাই। এমনকি যারা মারা গেছে তালিকায় তাদের নাম ধাম, ঠিকানা দিতে পারেন নাই। আমি ধরে নিলাম লীগের আমলে লজ্জাশরম বা সরকারি বাঁধা যে কারনে হোক তিনি পারেন নাই। এখন পারছেন না কেন? এই সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসাবে তার প্রভাব ভীষন। তাও দিচ্ছেন না। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কোর্ট তার কাছে প্রমান চাইলে তিনি কোন প্রমান দিতে ব্যার্থ হন।
জামাত-বিএনপির প্রভাবও এই সরকারের শেয়ারহোল্ডার হিসাবে অনেক। তারাই বা কেন যে হাজার হাজার মরেছে বলে সভা-সমাবেশ, পত্রিকা-টিভি টকশো গরম করলেন এখন সেই গণ হ ত্যার তালিকাটা আজ এক বছরেও দিচ্ছেন না। আসলে ঐ তালিকা করার কথা বললেই পিছলে যান।হেফাজত ৯৩ জনের একটা খসড়া প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। তারাও নামধাম, ঠিকানা দিয়ে একটা চূড়ান্ত তালিকা আজ এক বছরেও দিতে পারে নাই। কিসের যে এত ভয় তাদের!
এইবার আসি তাদের সরকারের আমলে ঘটা মাইলস্টোনের ব্যাপারে। ওখানে কতজন শিশু-কিশোর পুড়ে মরেছে তা জানা যাবে না যদি না কোন ক্লাসের কোন সেকশনে কতজন মারা গেছে তার তালিকা স্কুল কতৃপক্ষ বা সরকার না দেয়। যদি তালিকাটা দেয় তবে ছাত্রছাত্রীরা মিলিয়ে ফেলতে পারবে কতজন আসলে মারা গেছে। শুধু ছাত্ররা নয়, সাংবাদিক-সিভিল সোসাইটিও মিলিয়ে নিতে পারবে সরকার সত্য বলেছে না মিথ্যা বলেছে। সরকার-সেনাবাহিনী-স্কুল যদি এই তালিকাটা না দেয় তবে বুঝতে হবে মহাঘাপলা আছে।
এই সময়ে এসে আমাদের দাবী দুটো। শাপলা চত্ত্বরে ৬১ জন হোক, ৯৩ জন হোক আর ১ লক্ষ হোক তাদের নামধাম, ঠিকানা প্রকাশ করে তালিকা দিন। আচ্ছা ওটা পরে দিয়েন দরকার হলে। আগে জরুরী ভিত্তিতে মাইলস্টোনে কোন ক্লাসে কত জন মারা গেছে তাদের ক্লাস, সেকশন, নাম, রোল নাম্বার দিয়ে তালিকা প্রকাশ করুন। তারপরে যদি দেখা যায় ২২ জন বা ২৯ জন বা ৩৩ জন তাহলে আপনারাই জিতলেন। জিততে আপনাদের এত ভয় কিসের!