31/12/2021
উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যেদিন শহীদ করা হয়, সেদিন তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিলো ১,৫০,০০০ (দেড় লক্ষ) দিনার, ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) দিরহাম অর্থসম্পদ। নগদ অর্থমূল্যের পাশাপাশি কুরা ও হুনাইন উপত্যকায় তাঁর জমি ছিলো, উট ও ঘোড়া ছিলো; যেগুলোর অর্থমূল্য ছিলো ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) দিনার।
যুবাইর ইবনে আউয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি প্রপার্টি ছিলো, যার অর্থমূল্য ৫০,০০০ দিনার। সেই জায়গায় তাঁর ১,০০০ টি ঘোড়া ছিলো।
ইরাকে তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যবসা ছিলো। সেখান থেকে তাঁর আয় হয় ১,০০০ দিনার।
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর আস্তাবলে ১,০০০ টি ঘোড়া, ১,০০০ টি উট ও ১০,০০০ টি ভেড়া ছিলো। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮৪,০০০ দিনার।
এই চারজন সাহাবীই দুনিয়ার বুকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত।
সাহাবীদের সময়ে ২০ দিনার বা ২০০ দিরহাম সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হতো। বর্তমান সময়ের অর্থমূল্যে যা আনুমানিক ৫,৩৫,৫০০ টাকা।
১ দিনারের (৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ) মূল্য বর্তমান সময়ে প্রায় ২৬,৭৭৫ টাকা।
আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সাহাবীরা একইসাথে দুনিয়ার এতো ধন-সম্পদের মালিক এবং একইসাথে দুনিয়াবিমুখ কিভাবে হোন? দুটো কি বিপরীতধর্মী?
আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তির মধ্যে এই প্রশ্নের জবাব আছে। তিনি বলেন:
"বিমুখতা মানে তুমি কিছুর মালিক হবে না, তা নয়। বরং এর মানে হলো কোনো কিছু যেনো তোমার 'মনিব' না হয়।" [মিযানুল হিকমাহ: ৪/২৯৯০]
তথ্যসূত্র:
Dr. Nazeer Ahmed, Islam in Global History: 1/47-48.
-----
|| বিলিয়নিয়ার সাহাবী ||
- আরিফুল ইসলাম
১৭ ডিসেম্বর ২০২১