হাটহাজারী পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস প্রসঙ্গে................
১৯১৪ হতে ১৯৮৬ ইংরেজী দীর্ঘ ৭২ বছর পার হয়ে বর্তমানে একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ ও পুর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯১৪ ইংরেজীতে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঠিক ইতিহাস এখনও অনেকের কাছে অজ্ঞাত। এ ব্যাপারে আমরা
এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল হতে আশির দশক পর্যন্ত পথ চলার আলেখ্য উপস্থাপনের এক দুঃসাহসিক প্রয়াস গ্রহণ করেছি। দুঃসাহসী প্রয়াস এ জন্যেই বলছি বিদ্যালয়ের সঠিক ইতিহাস দীর্ঘ ৭২ বছর পর সংগ্রহ করা রীতিমত দুঃসাধ্য,ঝুঁকিপুর্ণ। এ জন্য বিদ্যালয়ের পুরাতন দলিল-পত্র, পুরাতন পরিচালনা কমিটিগুলোর কার্যবিবরণী বই এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের অভিমত সংগ্রহ করেছি। অবশ্য আমরা এমন ধারণা পোষণ করিনা যে, বক্ষমান নিবন্ধটি বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস। তবে আমরা মোটামুটি একটা রূপরেখা দাঁড় করানোর চেষ্টা এতে করেছি। ভবিষ্যৎ বংশধরগণ এবং গবেষকগণ এ নিবন্ধ হতে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস জানার জন্য সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ প্রসঙ্গে আমরা স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই, এ নিবন্ধে উল্লেখিত তথ্যাবলী অধিকাংশ বিদ্যালয়ের দলিল-পত্র হতে নেয়া হয়েছে। বিতর্কিত কিছু বিষয়াদি এই নিবন্ধ হতে বাদ দেয়া হয়েছে কারণ এতে কিছু পরলোকগত ব্যক্তির নাম জড়িত। আলোচ্য নিবন্ধে যদি কোন বক্তব্য অসম্পূর্ণ থাকে বা ভিন্নমতের অবকাশ থাকে তাহলে আমাদেরকে অবহিত করলে পরবর্তী সময়ে সুযোগমত তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে।
বর্তমানে কাচারী রোডের উত্তর পাশে জগন্নাথ বাড়ীর পূর্বদিকে (বর্তমানে যেখানে বিদ্যালয়ের মার্কেট) ১৮৯৫ ইংরেজী সালে হাটহাজারী এম.ই.স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করতে সর্বমোট ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১০২০ ( একহাজার বিশ ) টাকা। তখন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন তৎকালীন হাটহাজারী মুন্সেফি আদালতের মাননীয় মুন্সেফ।
১৯১৩ ইংরেজী সালে হাটহাজারী এম.ই স্কুল পরিচালনা সংসদ উক্ত এম.ই.স্কুলকে উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। এজন্য বিভাগীয় বিদ্যালয় পরিদর্শক মহোদয় ১৯১৩ ইংরেজীর ১৩ই মার্চ বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে এম.ই.স্কুলকে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করার অনুমতি প্রদানের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং এজন্য তিনি পরিচালনা কমিটিকে কয়েকটি শর্ত দিয়েছিলেন যে, বিদ্যালয়ের জন্য ১০০০০ ( দশ হাজার ) টাকার তহবিল করতে হবে। এর মধ্যে ৫০০০ টাকা দালান, ১০০০ টাকা ছাত্রাবাস, ২০ বিঘা জমির দাম ২৫০০ টাকা এবং ৭০০ টাকা আসবাব পত্র খাতে।
তৎকালীন হাটহাজারী মুন্সেফী আদালতের আইনজীবি সমিতির সক্রীয় সহযোগিতায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজ কমীরা উদ্যোগী হয়ে দশ বিঘা জমি সংগ্রহ করলেন। আইনজীবি সমিতি মাসিক ১০০ টাকা দান করার কথা ঘোষণা করলেন। স্থানীয় জনসাধারণ হতে প্রায় ৭০০০( সাত হাজার) টাকা সংগ্রহ করা হল। ক্রয়করা জমির উপর মাটির দালান নির্মিত হলো এবং পুর্ণোদ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হল। নাম দেয়া হল “হাটহাজারী উচ্চ বিদ্যালয়”। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিলেন বাবু যোগেশচন্দ্র গাঙ্গুলী মহাশয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মি: এ.এইচ.ক্লেটন ১৯১৪ ইংরেজী ১২ই জুন তারিখে নব- প্রতিষ্ঠিত “হাটহাজারী উচ্চ বিদ্যালয়” পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে বিদ্যালয়ের সাফল্য কামনা করে পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য করেন।
নব-প্রতিষ্ঠিত হাটহাজারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালনা কমিটি গঠিত হলো। এতে তৎকালীন হাটহাজারী মুন্সেফী আদালতের মুন্সেফ মহোদয় বাবু গোপালচন্দ্র বোস এম.এ.বি এল মহাশয়কে প্রেসিডেন্ট, হাটহাজারী আইনজীবি সমিতির সেক্রেটারী এডভোকেট দুর্গাদাশ নন্দীকে সেক্রেটারী, হাটহাজারীর তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার মৌলভী সালেহ আহমদকে অডিটর এবং সদস্যবৃন্দ চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেসি’র মৌলভী আবদুল ওয়াদুদ সেরাস্তাদার, নিকাহ রেজিস্ট্রার মৌলভী হাফিজুর রহমান, আইনজীবি বাবু রাম গোবিন্দ চৌধুরী, বাবু রমেশচন্দ্র বণিক, বাবু অপর্ণাচরণ দে, বাবু নবীনচন্দ্র বড়ুয়া, মৌলভী মুন্সি আবদুল হক মোক্তার। উক্ত কমিটি বিদ্যালয় জন্মলগ্ন হতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।
মেখল নিবাসী বাবু রমেশচন্দ্র মহাজন তাঁর প্রয়াত মাতা “পার্বতী দেবীর” শ্রাদ্ধের খরচের ৪০০০ টাকা বিদ্যালয় তহবিলে এককালীন দান করেন। ১৯১৫ ইংরেজীতে এই দানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘হাটহাজারী উচ্চ বিদ্যালয়ে’র নতুনভাবে নামকরণ করা হয় “হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়” নামে। এসময়ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি কয়েকজন সদস্য রদবদল করে পূর্বের কমিটির
অধিকাংশ সদস্য বহাল ছিলেন। ক্রমান্বয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিদ্যালয়ের স্থান সংকুলান হচ্ছিলনা। তখন তৎকালীন পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয় ভবনকে আরও প্রশস্ত জায়গায় সুবৃহৎ ভবনে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং তৎকালীন মুন্সেফ মহোদয়ের বাসভবন ছিল বর্তমান উপজেলা রাজস্ব অফিসারের বাসভবনে। মুন্সেফ মহোদয় তাঁর বাসভবন সংলগ্ন বর্তমানে যেখানে বিদ্যালয়ের ভবন সমূহ অবস্থিত উক্ত স্থানটি পছন্দ করেছিলেন এবং তৎকালীন পরিচালনা কমিটি বর্তমান স্থানে টিনের ছাউনির মাটির দালান মাঝখানে সুবৃহৎ মিলনায়তনসহ বিদ্যালয়ের সুদৃশ্য ভবন নির্মাণ করলেন। বিদ্যালয় ভবনের নিকটে একটি পুকুর খনন করে স্থানটিকে মনোরম এবং সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা হল। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে বিদ্যালয় স্থানান্তরিত করা হয়। জমি খরিদ, দালান নির্মাণ এবং আসবাব-পত্র সহ তখন সর্বমোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১২০০০( বার হাজার) টাকা। অবশ্য তখন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ যা বর্তমানে রাঙ্গামাটী সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত তা ছিলনা। এ সময় উচ্চ বিদ্যালয় সমূহ নিয়ন্ত্রণ করা হত কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক। ১৯১৬ ইংরেজীর ২২শে জুলাই ৯৫০ নং পত্রের মাধ্যমে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়কে স্বীকৃতি প্রদান করেন।
১৯২৫ ইংরেজীর ২৯শে এপ্রিল তৃতীয়বারের মতো বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হল। প্রেসিডেন্ট- মুন্সেফ মহোদয়, সেক্রেটারী- বাবু দুর্গাদাশ নন্দী উকিল, সদস্য হিসেবে নতুন আসলেন, জনাব মোবারক আলী চৌধুরী (রহিমপুর) এবং বাবু শরৎচন্দ্র মহাজন (ফটিকা)।
১৯২৫ ইংরেজীর শেষের দিকে মুন্সেফী আদালত হাটহাজারী হতে চট্টগ্রাম জেলা আদালত ভবনে স্থানান্তরিত হলে বিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মুন্সেফ মহোদয় এবং সেক্রেটারী বাবু দুর্গাদাশ নন্দী উকিল মহাশয় চট্টগ্রাম শহরে চলে যান। শূন্যপদ পুরণ করা হয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজী হাফিজুর রহমান (নিকাহ রেজিস্ট্রার) এবং সেক্রেটারী হিসেবে বাবু রমেশচন্দ্র মহাজনকে নিয়ে।
১৯৩০ ইংরেজীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয় নাই। ১৯৩১ ইংরেজীতে নির্বাচন হল। নির্বাচনে মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেক হিন্দু ও অর্ধেক মুসলমান সদস্য নির্বাচিত হল। অর্ধেক হিন্দু সদস্যদের সমর্থনে সেক্রটারী হলেন বাবু রমেশচন্দ্র মহাজন এবং
বাকী অর্ধেক মুসলমান সদস্য নিয়ে সেক্রেটারী হলেন জনাব আবদুল লতিফ উকিল। ১৯৩৩ ইংরেজীর ১৪ই ফেব্রুয়ারী তারিখে বিভাগীয় বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শকের প্রতিবেদনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অভিযুক্ত করেন এবং ১৯৩৪ ইংরেজীর ২৭শে আগস্ট তারিখের প্রতিবেদনে কমিটি বাতিলের সুপারিশ করেন।
অবশেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে ১৯৩৫ ইংরেজীর ১৭ই ফেব্রুয়ারী নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। মৌলভী আবদুল লতিফ সেক্রেটারী এবং বাবু রমেশচন্দ্র মহাজনকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। বিদ্যালয়ের খাজনা আদায়ের খাতায় দেখা যায় যে, ১৯৩৫ ইংরেজীর ১৫ই সেপ্টেম্বরে বাবু রমেশচন্দ্র মহাজন লিখিতভাবে ফেরৎ দানের অঙ্গীকারে বিদ্যালয়ের রেজিস্টারী, বিনা রেজিস্টারী কবলা, খতিয়ানসহ মোট ১৬টি দলীল নিজ হেফাজতে নিয়া যান যা পরে আর ফেরৎ দেয়া হয় নাই।
নব-নির্বাচিত সেক্রেটারী মৌলভী আবদুল লতিফ উকিলের নেতৃত্বে নতুন উৎসাহ উদ্দীপনায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। বাবু অপর্ণাচরণ মহাজন ও বাবু রজনী কুমার সেনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত জমি খরিদ করা হয় এবং বিদ্যালয়ের বড় খেলার মাঠ তৈরী হয়। উক্ত কমিটির নেতৃত্বে ১৯৪০ ইংরেজীর ২৯শে জানুয়ারী তৈরী হয় বিদ্যালয়ের মসজিদ।
১৯৩৯ ইংরেজীর ১৮ই জানুয়ারী বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং ১৯৪০ এর ২৯শে জানুয়ারী পরিদর্শনে আসেন বাংলার মন্ত্রী বাবু শীষচন্দ্র নন্দ।
১৯৩২ ইংরেজী হতে ১৯৬০ ইংরেজী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন মৌলভী আবদুল লতিফ উকিল। ১৯৩২ ইংরেজী হতে সার্কেল অফিসার কে পদাধিকার বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিযুক্ত করা হয়।
১৯৪৬ ইংরেজীতে তদানীন্তন এম. এল.এ. খাঁন বাহাদুর ফরিদ আহমদ চৌধুরী বর্তমান হাটহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিসের পূর্ব পার্শ্বে দু’খানা বৃহৎ আকারের ছাত্রাবাস নির্মাণ করে দেন। স.ও.জ জায়গাসহ পরে তা নিয়ে যায়।
১৯৫৮,৫৯,৬০ ইংরেজীতে উপর্যুপরি ঘুর্ণিবার্তায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিবাস, ছাত্রাবাস মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিশেষ করে ১৯৬০ এর বড় ঝড়ে বিদ্যালয়ের দালান ও টিনের ছাউনির বিশেষ ক্ষতি হয়। এ সময় বিদ্যালয় ভবন মেরামতের প্রয়োজনে তৎকালীন পরিচালনা কমিটি বর্তমানে জগন্নাথ বাড়ীর দক্ষীণাংশে অবস্থিত বিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্রাবাসের ভিটিজমি বিক্রি করে দেন। বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মৌলভী হাফিজুর রহমান স্থানীয় যুবক,সমাজকর্মী এবং শিক্ষানুরাগীদের এক সভা আহবান করে বিদ্যালয় ভবন মেরামতের এবং পুন:নির্মাণের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
১৯৬১ ইংরেজীর ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত এই সভায় চাঁদা সংগ্রহের জন্য সার্কেল অফিসারকে সভাপতি, বাবু সত্যরঞ্জন মহাজনকে সেক্রেটারী এবং জনাব শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে জয়েন্ট সেক্রেটারী করে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও পুন:নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহের জন্য হাটহাজারী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব এম.এ.ছাত্তারকে সভাপতি, জনাব শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে সম্পাদক এবং সৈয়দ আবদুল কাইয়ুমকে সহ-সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি ৬০০০(ছয় হাজার) টাকা সংগ্রহ করে বিদ্যলয় ভবন পুন:নির্মাণ করেন। এ কমিটির সাথে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সাহেবের অঙ্গীকার ছিল যে, তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পরবর্তী নির্বাচনে কমিটির সদস্যদের বিদ্যোৎসাহী হিসেবে ভোটার তালিকাভুক্ত করবেন। কিন্তু নানা কারণে তাঁর পক্ষে সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা সম্ভব হয় নাই ফলে পুনরায় নানা বিরোধ দেখা দেয়।
১৯৬৭ ইংরেজীর শেষের দিকে জনাব শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি, জনাব মোহাম্মদ ইউনুছ মিঞাকে সম্পাদক জনাব এমদাদুল হক মিঞা ও জনাব আবদুল মালেক মাস্টার প্রমুখকে নিয়ে হাটহাজারী শিক্ষা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি উপযুক্ত সৎ এবং কর্মঠ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা কমিটি গঠনের চেষ্টা চালাতে থাকেন। এ কমিটির উদ্যোক্তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইতিহাস বিভাগের প্রধান (পরে উপাচার্য) ড. আবদুল করিমকে হাটহাজারীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী করতে সক্ষম হন। বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জনাব এ.কে.এম ইউনুছের সহযোগিতায় হাটহাজারী শিক্ষা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন দান করেন এবং ড. আবদুল করিমকেও ভোটার তালিকাভূক্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষানুরাগী বিভাগ হতে সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দান করেন। সকলের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ড. আবদুল করিমকে সম্পাদক এবং জনাব আবদুল মালেক মাস্টারকে সহ সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
ড. আবদুল করিমের নেতৃত্বে শুরু হয় হাটহাজারী কলেজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ