12/04/2024
নিজেকে নিয়ে বেঁচে থাকার মধ্যে কোন স্বার্থকতা নেই। বরং মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার মধ্যেই স্বার্থকতা বিরাজমান। মনুষ্যত্ববোধ তাকেই বলে যা মনের মধ্যে ধারন করে এ জগতে মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে আত্ম তৃপ্তি অনুভব করে। পক্ষান্তরে অমানবিকতা হলো অবলীলায় খারাপ কাজের মাধ্যমে নিজেকে হিংস্র মানব হিসেবে সমাজে জাহির করা। দিন যত যাচ্ছে মানুষের মধ্যে হিস্রতা ততটাই বিরাজ করছে। মানুষের মাঝে তৈরি হচ্ছে হিংসাত্মক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা থাকা ভালো কিন্তু হিংসাত্মক প্রতিযোগিতা থাকা ভালো নয়। এতে করে দিন-দিন সমাজের অবক্ষয় ঘটছে। এখন আর আগের মত মানুষের মধ্যে স্নেহ, প্রেম, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন পরিলক্ষিত হয় না। এখন মানুষ ক্রোধ, লোভ, মোহ ইত্যাদি দ্বারা তাড়িত হয়ে সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি পৃথিবীটাকে নরকে রূপান্তরিত করছে।
সত্যি আজ এসব ভাবলে খুব কষ্ট হয়। মনে হচ্ছে আবার ফিরে যাই একশ বছর পেছনে। যখন মানুষগুলো খুব সহজ ছিল, বড়রা ছোটদের প্রতি ছিল স্নেহ পরায়ন, ছোটরা বড়দের প্রতি ছিল শ্রদ্ধাশীল, নিকট আত্মীয়ের সুখ-দুঃখে ছিল আবেগ-প্রবণ, মানুষের প্রতি ছিল মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সামাজিক ভাবে আদব-কায়দার শাসন ইত্যাদি।
আবার ভয়ও হয়, যখন আগামী দিনগুলোর কথা ভাবি। বর্তমানটাকে চাক্ষুষ রেখে ভবিষ্যতের দিকে তাকালে মনে হয় কত ভয়ংকর দিনগুলোই না অপেক্ষা করছে গোটা জাতির জন্য।
যুগের এই ভয়ানক ব্যবধানটা একটু একটু করে মানুষ নিজের হাতে সৃষ্টি করেছে। আগে একটা শিশুকে ছোট বেলা থেকেই বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও শিক্ষাগুরু থেকে শুরু করে গোটা সমাজ আদব-কায়দার মধ্যে আবদ্ধ রাখত যাতে করে সন্তানটি একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পাড়ার গুরুজন পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগাতেন। ছোটরা বড়দের সম্মান করে চলত। একসাথে একজাগায় ছোটরা বড়দের পাশে বসত না। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছিল পড়াশোনার ব্যাপক প্রতিযোগিতা। আরও বহু ভালো কাজের সমারোহ।
অথচ আজ মানুষ নিজে নিজের সন্তানের হাতে অস্র তুলে দিচ্ছে, যেখানে ঐ সন্তানের হাতে থাকার কথা কলম। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েদের নানা রকম খারাপ কাজে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধ্বংস করে দিচ্ছে মেধাকে। পিছিয়ে দিচ্ছে গোটা জাতিকে। আর আমাদের নির্বোধ বাবা-মায়েরাও উৎসাহিত হয়ে নিজের ছেলে-মেয়েদের তুলে দিচ্ছে সেইসব অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে। ফলে তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাং। যে সন্তানটা হওয়ার কথা দেশের কর্ণধার, সে হচ্ছে কুলাঙ্গার। অনেক অভিভাবক আছেন যারা এসব কুলাঙ্গার সন্তান নিয়ে গর্ববোধও করেন। একবারও ভাবেন না, আজ অন্যকে কামড়ানোর জন্য যাকে তৈরি করছেন সেই হিংস্র মানবটি আপনার সাথেই থাকবে সবসময়। কামড় শিখে গেলে কাছে যাকে পাবে, তাকেই কামড়াবে। হিতাহিত জ্ঞান তার মধ্যে থাকবেনা, কারন তাকেতো জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা হয়নি। তাই বলছি সন্তানদের নিয়ে ভার্সিটি চিন্তা করেন। আমি রাজনীতির বিরোধীতা করছি না। রাজনীতি করারও একটা বয়সের দরকার আছে। এবং রাজনীতি করতে হলে নিজেকে ন্যায়-পরায়ণ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, ব্যাক্তিত্বকে জাগ্রত করতে হবে, সুশীল হিসেবে তৈরি হতে হবে, সৃষ্টিশীল মানুষ হতে হবে। তবেই সেই ধরনের রাজনীতিবিদগণ সমাজকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধ করবে। রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের কাছে অন্তরিক অনুরোধ ব্যক্ত করছি। আপনারা জাতিকে আগামীর সুন্দর সমাজ উপহার দিন। যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েন না।
আমি একক কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখিনি। গোটা জাতিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছি। যদি কারো সাথে মিলে যায় তবে নিজেকে শুধরে নেওয়ার সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। আসুন সবাই মিলে যুবসমাজটাকে সঠিক শিক্ষায় গড়ে তুলি। এতে করে গোটা জাতি লাভবান হবে। একটা সুন্দর যুগের স্বপ্ন দেখতে পারব।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাতির মঙ্গলার্থে সঠিক বুঝ জ্ঞান দান করুক।--- আমিন
Shahadat Khan