11/07/2026
কবরের লাশ পর্যন্ত পানির চাপ নিতে না পেরে বেরিয়ে গিয়ে ভেসে গিয়েছে। সেই ভিডিওতে স্থানীয় ব্যক্তি আফসোসের সুরে বলছে, আমরা বহুবার বলেছি ত্রাণ চাই না। একটা শক্ত মজবুত বাঁধ চাই। লাশের নিরাপত্তা চাই। 🥲
রাত থেকেই জানালা দিয়ে বৃষ্টির শব্দ পাচ্ছি। রাতে ঘুমও ভালো হয়েছে। ছুটির দিন। নাশতা কিনে আনলাম। পরিবারসহ পেট ভরেও খেলাম। আলহামদুলিল্লাহ! ভালোই আছি। বিদ্যুৎতের কোন সমস্যা নেই। খাবারের কোন সমস্যা নেই। পানির কোন সমস্যা নেই। আত্মীয় স্বজন সবাই নিরাপদেই আছে।
ঐদিকে বন্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ঘর পানিতে ডুবে গিয়েছে। ঘুমানোর জন্য বিছানা নেই, খাবার খাওয়ার জন্য খাবার নেই। পিপাসায় পানি নেই। আলোতে চলার জন্য বিদ্যুৎ নেই। রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ও মৃত লাশকে দাফন করারও সুযোগ নেই।
যাকে বলা যায় কাউকে 'ভাতে পানি' মারা আর কী।
বিছানায় শুয়ে থাকা শিশু কীনা ঘরের মেঝের পানিতে ডুবেই মারা গেলো। উখিয়া আর চকোরিয়ায় পাহাড় ধসে পড়লো মাদ্রাসার উপর, ১০ শিশু প্রাণ হারালো, আহত হলো অর্ধ শতাধিক। এখন পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। পানি বন্দি হয়ে আছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ যখন আসে, তখন ধনী গরীব সবাইকেই এক ছাদের নিচে এনে ফেলে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কখনও ভেদাভেদ করে না।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ এলেই আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই। শৈশবে ঘরের মেঝেতে পানি ঢুঁকে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, ঝড়ের তাণ্ডবে টিনের চাল উড়ে যাওয়ার পর মায়ের ওঁরে লুকিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি চাই না আমার সন্তানরা এসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হোক। কোন বাবা মাই চায় না।
কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছর আমাদের দেশের একটা বড় অংশকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অদ্ভূত এক জীবন। জান-মাল হারিয়ে প্রতিবার মাথা উঁচু করে ফিরে দাঁড়াবার চেষ্টা।
অথচ চাইলেই দূর্যোগ পরিবর্তী সময়ে জান-মালের ক্ষতি কমানোর জন্য অবকাঠামোগত যতটুকু উন্নয়ন জরুরী তার কতটুকুইবা বাস্তবায়ন হয়?
আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের ভাই-বোনদেরকে এই কঠিন দূর্যোগ পরিস্থিতি উত্তরণের মোকাবেলা করার সামর্থ্য দান করেন। 🤲