08/05/2025
"আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস"
থ্যালাসেমিয়া কি?
এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির হার কমে যায় আশংকাজনক হারে, উপযুক্ত পরিমাণে রক্তকণিকা তৈরি হয় না...আক্রান্তের দেহে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে, সাথে কমে যায় লোহিত কণিকার আয়ুও... ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিনের কারনে রক্তকনিকা বেশিদিন বাচতে পারে না, রক্তকনিকা ভেঙে যায়... ফলে দেখা দেয় মারাত্মক রক্ত শুন্যতা...
প্রতিকারঃ
এই রোগের সম্পূর্ণ প্রতিকার আজও আবিষ্কৃত হয়নি... চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে আজীবন নিয়মিত রক্ত গ্রহণ, ব্যয়বহুল ওষুধ এবং ইঞ্জেকশান এর উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (Bone Marrow Transplantation) এর মাধ্যমে এই রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব, কিন্তু তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যয়বহুল এবং বাংলাদেশে করা সম্ভব নয়।
প্রতিরোধঃ
থ্যালাসেমিয়া বংশানুক্রমে পাওয়া রক্তের একটি রোগ... যদি দুইজন বাহক বিয়ে করে, তাদের বাচ্চার থ্যালাসেমিয়ার সম্ভবনা রয়েছে ২৫% ...
আর যদি একজন বাহক একজন সুস্থ কাউকে বিয়ে করে তাইলে বাচ্চা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অতি নগণ্য, বাচ্চা সর্বোচ্চ বাহক হতে পারে...
*** বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর "থ্যালাসেমিয়া সনাক্তকরণ পরীক্ষা" করিয়ে নেয়া জরুরী... এই পরীক্ষাটির নাম "হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস"
রক্ত সংগ্রহঃ
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রতি মাসে অন্যের রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়... প্রতিমাসে কমপক্ষে ১ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হতে পারে। আর হিমোগ্লোবিন একবারে নেমে গেলে কখনো মাসে ২ ব্যাগ রক্তের ও প্রয়োজন পড়ে।
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের জন্যঃ
--- প্রতিমাসে যদি ১ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয় তাহলে কমপক্ষে ৫ জন "নিয়মিত রক্তদাতা"দের সাথে যোগাযোগ রাখুন। ধরুন, প্রথম মাসে একজন রক্তদাতা রক্তদান করলেন, দ্বিতীয় মাসে দ্বিতীয় রক্তদাতা, তৃতীয় মাসে তৃতীয় রক্তদাতা এবং চতুর্থ মাসে চতুর্থ রক্তদাতা করলেন। প্রথম রক্তদাতা রক্তদান করতে পারবেন আবার ৫ম মাসে। এভাবে চলতে থাকবে৷ (পঞ্চম রক্তদাতা রিজার্ভ হিসাবে থাকবেন, অন্য রক্তদাতা কোন কারনে রক্তদান করতে না পারলে পঞ্চম রক্তদাতা রক্তদান করবেন)
=================================
এই পোস্টটি লেখার সবচেয়ে বড় কারন হল নিচের ম্যাসেজটি সবাইকে জানানোঃ
"সবারই বিয়ের আগে "হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস" করা উচিত, থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কিনা জেনে নেয়া খুব জরুরী...... এটি একটি জেনেটিক রোগ, সে কারণে এই রোগ প্রতিকার না করে প্রতিরোধ করতে হয়..."
আমাদের অজ্ঞতার জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন থ্যালাসেমিয়া নামক রক্তশূন্যতার এই মারাত্মক রোগটি নিয়ে পৃথিবীতে না আসে... আসুন নিশ্চিত করি।