07/04/2025
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত: এক শতাব্দীর রক্তাক্ত ইতিহাস
আজকে যেটা আমরা সংবাদে দেখি—ইসরায়েল ও গাজার যুদ্ধ, তার পেছনে আছে প্রায় ১০০ বছরের জটিল ইতিহাস। কবে শুরু হলো এই দ্বন্দ্ব? কেন থামছে না? চল একটু সংক্ষেপে চোখ রাখা যাক—
১. শুরুটা ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার বালফোর ঘোষণা দিয়ে বলে ফিলিস্তিনে একটি "ইহুদি রাষ্ট্র" গড়ে তুলবে। অথচ তখন সেখানে বাস করতেন মূলত ফিলিস্তিনি আরবরা। শুরু হয় টানাপোড়েন।
২. ১৯৪৭: জাতিসংঘের বিভাজন প্রস্তাব জাতিসংঘ প্রস্তাব দেয়—একটি ইহুদি রাষ্ট্র (ইসরায়েল) ও একটি আরব রাষ্ট্র (ফিলিস্তিন) গঠনের। ইহুদিরা মেনে নিলেও আরবরা মানে না। এরপরেই সহিংসতা শুরু।
৩. ১৯৪৮: ইসরায়েলের জন্ম ও আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা দেয়ার পর আরব দেশগুলো আক্রমণ করে। ইসরায়েল টিকে যায়, কিন্তু হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী হয়ে পড়ে। এই ঘটনাই 'নাকবা' নামে পরিচিত।
৪. ১৯৬৭: ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল দখল করে গাজা ও পশ্চিম তীর এই যুদ্ধের পর থেকে শুরু হয় ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, যার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা বিদ্রোহ চালাতে থাকে।
৫. ১৯৮৭: হামাসের উত্থান ও প্রথম ইন্তিফাদা গাজা-ভিত্তিক ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস গড়ে ওঠে, যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে নামে।
৬. ২০০৬: হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস গাজার শাসন নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় নিয়মিত যুদ্ধ—প্রায় ২–৩ বছর পরপরই বড় ধরনের সংঘর্ষ।
সংঘর্ষের বড় বড় ধাপগুলো:
২০০৮, ২০১২, ২০১৪, ২০২১ – বারবার যুদ্ধ, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর – হামাস ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ চালায়, ১২০০ জন নিহত, বহু মানুষ জিম্মি
এরপর ইসরায়েল গাজার ওপর পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ চালায়, হাজার হাজার প্রাণহানি
২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল – আবারও যুদ্ধ শুরু, এই মুহূর্তে চলছে নতুন সংঘর্ষ
প্রশ্ন হচ্ছে—এটা কখন থামবে? এই যুদ্ধ শুধু রাজনীতি নয়, এটা মানবতার ট্র্যাজেডি। নিরীহ নারী-শিশুদের রক্তের দায় কার?
আমরা যদি ইতিহাস না জানি, তাহলে বর্তমানের খবর বোঝা কঠিন। তাই ইতিহাস জানাটা জরুরি—আর মানবতা রক্ষা করাটাই সবচেয়ে জরুরি।
আসুন, শান্তির পক্ষে দাঁড়াই। যুদ্ধ নয়, মানবতা জয় পাক।