03/06/2026
প্রচণ্ড তাপদাহে চারদিকের পরিস্থিতি ও ওষ্ঠাগত প্রাণ। এই সময়ে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির নাম 'হিটস্ট্রোক'। একটু অসচেতনতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিজে সচেতন হোন এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।
হিটস্ট্রোকের প্রধান লক্ষণসমূহ:
শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪° ফারেনহাইট বা তার ওপরে চলে যাওয়া।
শরীর প্রচণ্ড ঘেমে যাওয়া অথবা একেবারেই ঘাম না হওয়া (ত্বক লাল ও শুকনো হয়ে যাওয়া)।
তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো বা ঝিমঝিম করা।
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
পালস বা হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত হওয়া।
মানসিক ভারসাম্যহীনতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে পড়া।
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় :
প্রচুর পানি পান করুন: তৃষ্ণা না পেলেও সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত খান।
পোশাক নির্বাচনে সতর্ক হোন: হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং সুতির পোশাক পরুন।
রোদ থেকে বাঁচুন: বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি, সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে নয়: দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে ঘরের বাইরে ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
খাবারে পরিবর্তন আনুন: সহজে হজম হয় এমন তরল ও হালকা খাবার খান। বাসি বা রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন।
যা করবেন না:
তীব্র রোদে সরাসরি বা খালি গায়ে দীর্ঘক্ষণ থাকবেন না।
চা, কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় কম পান করুন, কারণ এগুলো শরীরকে আরও ডিহাইড্রেটেড (পানিশূন্য) করে দেয়।
বদ্ধ বা গরম গাড়ির ভেতর শিশুদের একা রেখে যাবেন না।
কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা:
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে (এসি বা ফ্যানের নিচে) নিয়ে যান।
২. পরনের অতিরিক্ত বা টাইট পোশাক ঢিলেঢালা করে দিন।
৩. পুরো শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন বা গায়ে পানি ঢালুন (সম্ভব হলে আইস প্যাক বা বরফ বগল, ঘাড় ও কুঁচকিতে দিন)।
৪. জ্ঞান থাকলে ধীরে ধীরে পানি বা স্যালাইন খাওয়ান। জ্ঞান হারালে জোর করে মুখে কিছু দেবেন না।
৫. অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
সচেতনতাই পারে এই তীব্র গরমে আমাদের সুস্থ রাখতে। নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকেও সচেতন করুন।