20/11/2025
দেশে আইনের শাসন বিদ্যমান এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুনিশ্চিত অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, তবে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তার শাস্তি নির্ধারিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু পদমর্যাদা বা ক্ষমতা যা-ই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তিরই অপর কোনো নাগরিকের গায়ে নূন্যতম আঁচড় দেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই।
সম্প্রতি কথিত 'গালি প্রদান' বা মৌখিক অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশের নাগরিক তরুণ আলেম সাইফুল ইসলামের বাসভবনে প্রবেশ করে সেনাবাহিনীর একটি দল কর্তৃক তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও জখম করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশ্ন জাগে, কোনো সভ্য দেশের আইনি কাঠামোতে অভিযুক্তকে নিজগৃহে গিয়ে প্রহার করার বিধান আছে কি? সংবিধান বা দণ্ডবিধিতে মানহানি কিংবা কটুভাষার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা ও শাস্তির বিধান রয়েছে, কিন্তু সেই শাস্তি কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত শারীরিক নির্যাতন হতে পারে না।
মজলুমের ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা সব সময় মার্জিত নাও হতে পারে, কিন্তু তার জবাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা যদি ‘মব জাস্টিস’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাকে বিনা বিচারে মারধর করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ধরে নিলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধ করেছেন; কিন্তু সেই অপরাধের বিচার ও শাস্তি প্রদান হতে হবে রাষ্ট্রীয় আইন অনুসারে। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেন, তখন সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়? জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে এই ধরণের ফ্যাসিবাদী আচরণ কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।
সাইফুল ইসলাম ভাই লাইভে এসেছে। বিস্তারিত তার মুখ থেকেই শুনুন।