03/10/2024
শিবিরের কমিটিতে ছাত্রী নাই কেন?
ইদানিং কিছু দায়িত্বশীল সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি অযৌক্তিক প্রশ্নের অবতারনা করা হচ্ছে। আর তা হলো শিবিরের কমিটিতে কেন ছাত্রী নাই। উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবেই এই প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠার চার দশক পেরিয়ে গেলেও কেনো তাদের ১ জন কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সেক্রেটারি ছাত্রী বোনদের মধ্য থেকে হলোনা?
তারা কি অযোগ্য নাকি তাদের দলে নারীদের অবমূল্যায়ন করা হয়?
আর ছাত্র শিবিরের কমিটিতে কেন ছাত্রী নেই তার জবাব আমি ব্যক্তিগতভাবে এভাবেই দিয়ে থাকি..
প্রথমত, শিবির ইসলামী আদর্শবাদী একটি সংগঠন। বাংলাদেশে কোনো ইসলামি ছাত্র সংগঠনের কমিটিতে ছাত্রী নাই। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তার গঠনতন্ত্র এভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এভাবেই কার্যক্রম চলছে।
দ্বিতীয়ত, ছাত্রীদের জন্য স্বতন্ত্র প্লাটফর্ম বা স্বতন্ত্র সংগঠনেই ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্বাস করে। তাদের নিজস্ব পরিসরে নেতৃত্ব থাকবে, নিজস্ব ও স্বতন্ত্র কর্মসূচি থাকবে।
তৃতীয়ত, নামাজ পরা যেমনি ফরজ পর্দাও ইসলামে তেমনি ফরজ। বিবাহ পূর্ববর্তী নারী পুরুষ যদি একই সংগঠনবদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন করে তবে পর্দার ফরজ বিধান অবশ্যই লঙ্ঘিত হবে। যা ইসলামি আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। কুরআনে বলা হয়েছে, তারা (মুমিনরা) যেনো তাদের দৃষ্টিকে অবনমিত রাখে এবং নিজেদের লজ্জা স্থানকে হেফাজত করে।
তাছাড়া বিবাহ বহির্ভূত নারী-পুরুষের সম্পর্ককে হাদিসে যিনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যা হারাম। আর ইসলামী সংগঠনসমূহ আল্লাহর এই জমিনে তার বিধানের পূর্ন বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করে। তাই কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ ঘটতে পারে এমন সকল সম্ভাবনাকে ছাত্রশিবির এভোয়েড করে।
চতুর্থত, যে সকল ছাত্র সংগঠন মানব রচিত মতাদর্শ বাস্তবায়নে তৎপর তাদের সংগঠনে ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশার কারনে নারীর সম্মান এবং মর্যাদা বহুলাংশে নষ্ট হচ্ছে। হাজার হাজার ঘটনার নজির রয়েছে যে তারা একত্রে দলীয় কার্যক্রম করতে গিয়ে নারীদের শ্লীলতাহানি করেছে, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে লিভ টুগেদার করেছে বছরের পর বছর, ধর্ষন করেছে, নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করিয়েছে, নারী ঘটিত কারনে সংঘর্ষ এবং হত্যার ঘটনা ঘটেছে, ইভটিজিং, সম্মিলিত মাদক সেবন, পরকিয়ার সম্পর্ক ইত্যাদি সমাজ বিধ্বংসী ও অনৈতিক ঘটনার নজিরে পত্রিকার পাতা ভরপুর হয়েছে।
অথচ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নামে ৪৮ বছরের ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা নাই। সুতরাং এটা সময়ের দাবী ছাত্রীদের জন্য আলাদা সংগঠন থাকা। তাহলে নারীদের মর্যাদা রক্ষিত হবে কেননা তারা আমাদের মায়ের জাতি। অত্যাধিক সম্মানিত।
তবে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিবিরের অসংখ্য গঠনমূলক কার্যক্রম রয়েছে। যেমন : বৃত্তি প্রকল্পে অংশগ্রহন, শিক্ষা সহায়তা, ক্যারিয়ার গাইড লাইন প্রোগ্রাম, নবীন বরণ অনুষ্ঠান, এ+ সংবর্ধনা, সেমিনারের আয়োজন ইত্যাদি।
লিখেছেন: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ভাই
কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।