04/06/2023
পরিবেশ হচ্ছে পৃথিবীর অস্তিত্ব, স্বাভাবিকতা ও জীবনের অনুকূল উপাদান বজায় রাখার অনিবার্য নিয়ামক। জীব ও পৃথিবীর স্বাভাবিকতার সাথে পরিবেশের সম্পর্ক নিবিড়। পরিবেশ দূষণের কারণে বিশ্ব ক্রমশ বিপর্যয়ের দিকে এগুচ্ছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য যে ভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে পৃথিবী নামক গ্রহ অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
১৯৭৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে আজকের এই দিনটি "বিশ্ব পরিবেশ দিবস" হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
কেউ কেউ মনে করেন Pandemic Covid-19 এর সাথে পরিবেশ বিপর্যয়ের একটা সম্পর্ক আছে। এটা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। তবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দেয়ার নেপথ্য নায়ক ধনী এবং উন্নত বিশ্ব। বড় বড় শিল্পকারখানা, পারমাণবিক চুল্লি নির্মান, নির্বিচারে বন ধ্বংসের ফলে দিনে দিনে অস্বাভাবিক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ওজনস্তর পাতলা হয়ে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। ধীরে ধীরে বরফ যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আমাদের উপকূলীয় এলাকার এক তৃতীয়াংশ আগামি ৩০ বছরের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যাবে। জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে প্রায় ৬ কোটি মানুষ। কি ভয়ংকর তথ্য!
বাঁচতে হলে প্রচুর পরিবেশ বান্ধব বনায়ন করতে হবে। আসুন বৃক্ষনিধন বন্ধ করি। প্রত্যেকে দু-চারটি করে পরিবেশ বান্ধব গাছ লাগাই।
সবুজে ঢেকে দিতে হবে সব ফাকা জায়গা। পাখির বাসস্থান এবং খাবারের বিষয়টিও গাছ লাগানোর সময় মাথায় রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রতিটি ফল খাওয়ার পর বীজটি যেকোনো স্থানে পুঁতে ফেলি বা রাস্তায় চলাচলের পথে কোথাও ফেলে দিলেও আপনা আপনিই সেখানে চারা গজিয়ে যাবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
৫ জুন, ২০২৩ বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবারের প্রতিপাদ্য হলো, "প্লাস্টিক দূষন সমাধানে সামিল হই সকলে।" এবং শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, " সবাই মিলে করি পণ বন্ধ হবে প্লাস্টিক দূষণ।''
প্লাস্টিক ব্যবহার করা এবং যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করতে হবে। দরকার হলে এগুলো রিসাইকেল করতে হবে।
দিনটি পালন উপলক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসুচি যেমন র্যালি, শোভাযাত্রা র আয়োজন করা হয়েছে।
একই সাথে বরিশাল সিটি নির্বাচন উপলক্ষে নগর এখন প্লাস্টিক মোড়ানো পোস্টার, ব্যানারে সয়লাব।
নির্বাচনের পরপর কিভাবে এই জঞ্জাল অপসারণ এবং পরিবেশ রক্ষা করে বিনষ্ট করা যাবে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে এখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখতে হবে।
আসুন আমরা পরিবেশ বান্ধব বনজ ও ফলদ গাছ লাগাই, নিরাপদ অক্সিজেন আমাদের অধিকার, অহেতুক বৃক্ষনিধন না করি। বায়ু, পানি, শব্দদূষন না করি, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনি। নিজে বাঁচি, দেশ বাঁচাই, বিশ্ব বাঁচাই।
বিশ্বব্যাপী একটি নির্দিষ্ট দেশের পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দ্যেশ্য।
সকলের সহযোগিতায় বরিশাল হোক পরিবেশ বান্ধব, ছায়াঢাকা, সবুজ স্মার্ট সিটি।
লেখকঃ কাজী মিজানুর রহমান
জলবায়ু ও পরিবেশ কর্মী।
০৫/০৬/২০২৩ ইং