30/07/2026
মান্তাদের সরকারি সেবায় যুক্ত করতে বরিশালে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
নদীনির্ভর জলেভাসা মান্তা জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল দক্ষতা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মান্তা জনগোষ্ঠীর অধিকার, বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়নের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ইয়ুথনেট গ্লোবাল বাস্তবায়িত ‘মান্তাকানেক্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
বরিশাল অঞ্চলের মান্তা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে আসছে। এই সংলাপের মাধ্যমে মান্তা কমিউনিটির সদস্যরা সরাসরি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, টুঙ্গিবাড়িয়া ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এশিয়া ফাউন্ডেশনের টিম লিডার মীর জুনায়েদ জামালসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, মান্তা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সাংবাদিকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “আমরা মানুষ, আমাদের একসঙ্গে বাঁচতে হবে। আমার কাছে সব মানুষ সমান। মান্তা, হিজড়া, হিন্দু-মুসলিম—এ ধরনের কোনো ভেদাভেদ রেখে আমরা সামনে এগোতে পারব না।”
তিনি বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। আমি মান্তাদের জন্য কাজ করব। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে তারা সিটি করপোরেশনে আসতে পারবেন। আমি সবসময় তাদের পাশে আছি।”
সংলাপে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা মান্তা জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান সেবা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “মান্তা পরিচয়ের আগে তারা মানুষ। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু কোনো প্রকল্পের বিষয় নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “মান্তাকানেক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এসব উদ্যোগকে সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের নিয়মিত সেবার সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে অন্তর্ভুক্তি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই হয়।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ বলেন, “মান্তারা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
এই সংলাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় প্রতিনিধি, মান্তা কমিউনিটির সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় মান্তাদের জীবনমান উন্নয়ন, সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মান্তাকানেক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ইয়ুথনেট গ্লোবাল মান্তা জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
Barishal City Corporation