24/01/2026
৫ই আগষ্টে নায়েবে আমীরের পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙ্গার ভিডিওটা চোখে পড়লো। টানা কয়েকবার দেখেছি। শত শত পুলিশের সামনে নেতাকর্মীদের পিছনে রেখে বীরদর্পে হেঁটে আসার দৃশ্যটা হৃদয়ে দাগ কেটে যাওয়ার মত। দেখতে দেখতে কেন জানি চোখে পানি চলে আসলো—জুলাইয়ের অন্যতম নেতা হয়েও আজ তাকে কত ব্যাশিং-ই না করা হয়! দাঁড়ি-টুপি আর ওলামাদের উপর ওদের এতো ক্ষোভ কেন তা কোনোভাবেই ভেবে পাচ্ছি না!
নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটা দল মাঠে কাজ করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জুলাইয়ের নায়ক বলা হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমীরকেও গতকাল সারজিস আলম জুলাইয়ের নায়ক উপাধি দিয়েছেন।
মজার বিষয় হলো, আমাদের দল আমাদেরকে লিডারশীপ শেখানোর সময়ে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলো—নেতা সেই হয় যে কর্মীদের আগে আগে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। যে ব্যক্তি কর্মীদের কাজে নামিয়ে পায়ের উপর পা' তুলে বিশ্রাম আর হুকুম করে সে ব্যক্তি নেতা নন বরং কর্পোরেট ও ভোগবাদী হুকুমদাতা হয়ে ওঠেন। এই ব্যক্তিদেরকেই স্বৈরাচার বলা হয়ে থাকে।
একথা তো সকলেই জানে—জুলাইয়ে জাতীয় পর্যায়ের দু'জন নেতাকেই রাজপথে হাঁটতে দেখা গিয়েছে আর তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই এবং নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীম হাফিজাহুল্লাহ! অথচ উত্তপ্ত সেই পরিবেশে দুটো বুলেট ছুটে এসে কপাল ভেদ করাটা খুউবই সামান্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।
আমরা জুলাই নিয়ে ব্যবসা করিনি। চিৎকার করে বলতে পারি—আমার নেতারা জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারী করেননি। ব্যবসা, জুয়া, গাদ্দারী সবই করেছে অন্যরা, জুলাইয়ের তথাকথিত স্টেকহোল্ডারগণ।
আমরা দাড়ি-টুপিওয়ালারা স্বচ্ছ, ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান। সুতারাং আমাদের সাথে তোমরা যতই গাদ্দারী করো না কেন, যতই মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ষড়যন্ত্র করে দেশবাসীর সামনে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াও না কেন—আমরা আপোষহীনই থাকবো।
দেশবাসীকে বলছি, শরীয়াহ শাসনকে ঘৃণা করে, ওদের প্রোপাগাণ্ডায় বিশ্বাস করে আমাদেরকে যতই দূরে ঠেলে দেও না কেন আমরা কোনোদিন তোমাদেরকে বিক্রি করবো না, দেশকে ভুলে যাবো না, শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারী করবো না, আমাদের ইসলাম আমাদেরকে তা করতে দেয় না।
জেনে রেখো বাংলাদেশ, আমরা গাদ্দারী করতে শিখিইনি, জানিই না।