29/06/2023
নিত্যকার মতো সেদিন ও ম্রোচ্যা পানি আনার জন্য 'তুইয়া' গুলো নিয়ে ঝর্ণার কাছে গিয়েছিল। ঝর্ণার কাছে যেতে যেতে সে কিছু শাক ও তুলে নিল সিদ্ধ করে খাওয়ার জন্য।
চারিদিকে নানা শাক দেখে তার মন খুশিতে উচ্ছল হয়ে গেল। তবে, ঝর্ণার যতো কাছে সে যাচ্ছিল, কেমন এক অদ্ভুত শব্দ যেন তার কানে আসতে লাগল। এ তো চিরাচরিত সেই পরিচিত শব্দ না, যেটা সে জন্ম থেকে শুনে শুনে আসছে ঝর্ণা আর বনপাহাড়ের থেকে। আজ কেনো যেন অন্য এক ধরনের সুর, এক চাপা সুর যেন কিছু বলতে চাচ্ছে কানে কানে। পাতার ঝিরিঝিরি আওয়াজেও অচেনা এক সুরের আভাস আজকে, বাতাসে ও অন্য এক গন্ধ নাকে লাগছে তার, এ সুর তো সে চিনে না, এ গন্ধ তো তার অপরিচিত। গা ছমছম করতে লাগলো ম্রোচ্যা'র। এই বনপাহাড়ে কোনোদিন তার কিছুতে ভয় লাগেনি, কিন্তু আজ কেন যেন তার গায়ে কাটা দিয়ে উঠতে লাগলো। সে ধীরে ধীরে আগাতে লাগলো ঝর্ণার দিকে। যে ঝর্ণাকে সে নিজের মায়ের মতো জেনে এসেছে ছোটবেলা থেকে, তার কাছে যেতে কেন তার আজকে এত ভয় লাগছে?
হঠাৎ তার চোখ গিয়ে পড়লো লাল, সবুজ নানা বর্ণের কিছু জিনিসে। ঝর্ণার তীরে, মাটিতে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে, পানিতেও ভাসমান বেশ কিছু। ম্রোচ্যা অবাক হলো। এগুলো কি? কোথা থেকে আসলো? আগে তো কোনোদিন দেখে নি। সে ভয়ে ভয়ে কাছে গিয়ে বুঝতে পারলো, সে অপরিচিত সুর এই জিনিসগুলো থেকে হচ্ছিল। সে একটু মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলো কাছ থেকে সে সুর শোনার। অসহ্য, ভয়ংকর আর বিশ্রী সে সুর! সে খুব সতর্কতার সাথে একটাতে হাত দিয়ে দেখল, 'শক্ত-পাতলা আর রঙিন এক আবরণ দিয়ে বানানো এক ধরণের 'তুইয়া', সে বললো মনে মনে।
বাড়ি ফেরার সময় সে কি মনে করে একটা রঙিন 'তুইয়া'তে ও পানি ভরে নিয়ে নিল সাথে।
পথে যেতে যেতে হঠাৎ যেন দ্রুত সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে লাগলো, বাতাস উন্মত্ত হয়ে গেলো মুহূর্তেই। ওই ভয়াবহ সুরটা যেন খিলখিল করে আরও বিশ্রীভাবে হাসতে লাগলো, এক অশুচি কান্নায় যেন আহাজারি করতে লাগলো বনপাহাড়.....!
('তুইয়া': লাউয়ের খোলের একধরণের পাত্রকে ম্রো ভাষায় 'তুইয়া' বলা হয়। সাধারণত পাহাড়ি দুর্গম এলাকার ঝরনা-ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে রাখা হয় এতে। এই পাত্র একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে গরমের সময় পানিকে ঠান্ডা রেখে প্রশান্তি আনে শরীর-মনে।)
Collected