14/04/2026
স্থানীয়দের বঞ্চিত করে নিয়োগ! সন্দ্বীপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিএইচডি (পার্টনারস ইন হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ও সামনে এসেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মানস বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৬টি পদে মোট ২৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পদগুলো হলো—মেডিকেল সাপোর্ট স্টাফ, ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্ট, ওয়ার্ড বয়, নিরাপত্তা প্রহরী, আয়া ও ক্লিনার। পরে ২৫ নভেম্বর এসব পদে ২৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের সন্দ্বীপ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্ত থাকলেও নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই বাইরের এলাকার। কারও বাড়ি বাঁশখালী, আবার কারও চকবাজার এলাকায়। এছাড়া একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন,“বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এটি সন্দ্বীপবাসীর সঙ্গে প্রতারণা।
আরেক বাসিন্দা সোহাগ বলেন, এই নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার দাবি জানাই।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা প্রহরী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে জানা যায়, তাকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। বরং দিনের বেলায় তাকে হারামিয়া ২০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের ওষুধ বিতরণ করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাতে মালেক মুন্সি বাজার এলাকার ‘সন্দ্বীপ মডেল ফার্মেসি’-তে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি সেখানে চাকরি করেন না বলে দাবি করেন।
এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা কোথায় ডিউটি করছেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মানস বিশ্বাস বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। সবই পিএইচডি কর্তৃপক্ষ জানে।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নিয়োগ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও অবনতি হতে পারে।