05/05/2026
মনে করুন আপনার এমন একটি রোগ হয়েছে, যে রোগের চিকিৎসা এই মুহুর্তেই দরকার, তা না হলে আপনি বাঁচবেন কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই।কিন্ত আপনাকে সেই চিকিৎসাটা দেওয়া হবে আজ থেকে দেড় বছর পর!
তাহলে ততদিন কি আপনি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বেঁচে থাকবেন বলে মনে হয়?
কিন্ত শুনলে অবাক হবেন যে, একেবারেই ঠিক এই ঘটনাটাই প্রতিনিয়ত ঘটছে বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সাথে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইন্সটিটিউটে বর্তমানে ৫ হাজার ক্যান্সার আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী রেডিও থেরাপীর জন্য অপেক্ষায় বসে আছে। যাদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে তাদের রেডিও থেরাপি দেওয়া এখনই অত্যাবশ্যক, কিন্ত তাদেরকে থেরাপির জন্য সিরিয়াল দেওয়া হচ্ছে আজ থেকে এক থেকে দেড় বছরে পরের সিরিয়াল। কারন একটাই, এতোগুলো রোগীকে থেরাপি দেওয়ার জন্য হাসপাতালের লজিস্টিক সক্ষমতা নেই।
ক্যান্সার আক্রান্ত দুলাল মিয়া, ময়মনসিংহ থেকে এসেছেন। তার ক্যান্সার কোষের চিকিৎসার জন্য এখনই রেডিও থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন কিন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেরাপি দেওয়ার সিরিয়াল দিয়েছি ৭ মাস পরের সিরিয়াল। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো,"আপনি কি সাত মাস পরে থেরাপি নিতে আসবেন?" তখন সে বললো,"বেঁচে থাকলে আসবো"। তার আত্মীয় ও এমনকি চিকিৎসকরা পর্যন্ত মোটামুটি নিশ্চিত যে, এতোদিন পর থেরাপি দিলে সে ও তার মত অবস্থার রোগীগুলোকে আর বাচানো সম্ভব না। এই হলো বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্যন্সার আক্রান্ত রোগীদের অবস্থা।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৭ টি রেডিও থেরাপি মেশিনের মধ্যে ২ সচল আছে। যা দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ২০০ রোগীকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। অথচ সাতটিই সচল থাকলে আরো বেশি সংখ্যক মুমূর্ষু রোগীদের থেরাপি দেওয়া যেত।
সরকারের এমন এমন কিছু প্রজেক্ট আছে, যা দিনশেষে অনুতপাদনশীল খাতে ব্যায় হয়। কিন্ত মরনব্যাধী ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি ও ইনসেনটিভ ছাড়া বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের এই শোচনীয় অবস্থা কোনদিন লাঘব হবেনা। কেননা এই মরনব্যাধী ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যায়বহুল। যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।দিনশেষে একটু বাঁচার আশায় জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইন্সটিটিউটের দ্বারস্থ হতে পারলেও,যে সময়ের মধ্যে থেরাপি নেওয়া বাধ্যতামূলক সেই সময়ের চেয়ে অন্তত এক দেড় বছর পর থেরাপির সিরিয়াল পাচ্ছে রোগীরা। যা রোগিদের বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনছে।
লেখা: মেহেদি হাসান
゚