Economics Thinking Center-ETC

Economics Thinking Center-ETC Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Economics Thinking Center-ETC, Nonprofit Organization, Badda.

ETC — An Independent Research Center on Global Economic Development Strategy for Aggregate Economic Policy Making, Financial Systems, and Entrepreneurship Building.

★নতুন বাজেটে নতুনতর মুদ্রাস্ফীতির অদ্ভুত হিসাবঃমূল্যস্ফীতিতে CPI হল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স, যার অর্থ একটি পরিবারের জীবন...
12/06/2026

★নতুন বাজেটে নতুনতর মুদ্রাস্ফীতির অদ্ভুত হিসাবঃ

মূল্যস্ফীতিতে CPI হল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স, যার অর্থ একটি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিবর্তন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এটি পরিমাপ করে থাকে, যা বর্তমানে ৯.৪২%। এর মানে হলো, গত বছরের একই পরিমাণ খরচের জন্য এই বছর ৯.৪২% বেশি টাকা লাগবে।

তবে এই হিসাবে কিন্তু আছে হিউজ বিবিএস ধরে নেয় যে মোট খরচের মাত্র ১৫% আবাসন ও ইউটিলিটি বিলের পেছনে ব্যয় (ওয়েটিং) হয়। হাস্যকর বিষয় হলো, ২০০৫-০৬ সালেও এই বেইজ ওয়েটিং ছিল ১৬%।

এর অর্থ দাঁড়ায়, বাংলাদেশের গড়পড়তা সব পরিবারের আবাসন ও ইউটিলিটি বিল বাবদ খরচ এভারেজে এখন ১% কম হচ্ছে আগের তুলনায় , অর্থাৎ, মুদ্রাস্ফীতির হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে একটি পরিবার তাদের মোট ব্যয়ের মাত্র ১৫% আবাসন ও ইউটিলিটি খাতে খরচ করে।

সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতির এই হিসাবটিও অবাস্তব । বাংলাদেশের মানুষ বিগত ১৬ বছরে ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে কতটুকু এগিয়েছে, তা কোনো ডাটা না দেখে কেবল নিজের মাসিক বিল আর আয়ের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

অর্থনীতিতে CPI-এর পদ্ধতিতে একটা পুরনো বাজার-ঝুড়ি (Basket) ব্যবহার হয়, যেখানে বাসাভাড়ার বৃদ্ধি (House Rent Growth) বাস্তবের তুলনায় কম থাকলে মুদ্রাস্ফীতির হার কম দেখায়। বাংলাদেশে এই অভিযোগ নতুন না — অনেক অর্থনীতিবিদও বলেন BBS-এর CPI Basket আপডেট করা দরকার।

এখানে যুক্তি আসতে পারে যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে থাকে, সেখানে বাড়ি ভাড়া নেই, তাই এটি মোট খরচের ১৫ শতাংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাহলে আগে কেন এটি ১৬ শতাংশ ধরা হতো? এখন কেন কমলো? ইন্ডিয়া, পাকিস্থান, নেপালে ৪০% পর্যন্ত বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বাড়ছে। কিন্তু ইন্ডেক্স ওয়েট পদ্ধতিতে বাংলাদেশে তা কমছে, যা দুনিয়ার এক আশ্চর্য দেশ হল বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক পলিসি সেন্সে বলছি না মূল্যস্ফীতি হিসাব মিথ্যা। এমনও হতে পারে যে, মানুষ বিপুল সংখ্যায় শহরে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সামর্থ্যবান হয়ে নিজের বাড়ি করে শহরে থাকছে। অথবা এমনও হতে পারে যে, আবাসন খরচ বাড়লেও মানুষের অন্যান্য খরচ যেমন বিনোদন, সপ্তাহে দুবার রেস্টুরেন্টে খাওয়া কিংবা প্রতি মাসে শপিং করার প্রবণতা অনেক বেশি বেড়েছে। যার ফলে শতকরা হিসাবে বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি খরচ কমে গেছে।

যদিও ইকোনমিক ম্যাথ সেন্স, পরিসংখ্যানের ডাটাভিত্তিক অস্বাভাবিক হার এবং বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফি অনুযায়ী এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বাস্তবে কিন্তু বাসাভাড়া ও ইউটিলিটি প্রপার মেজারে আনলে মুদ্রাস্ফীতি কমতেও পারে সর্বক্ষেত্রে।




১৯৭১ সালের দিকে আমেরিকায় একজন কারখানার কর্মী একটি বাড়ি কিনতে পারতেন। এর সাথে তিনি তিনটি সন্তান লালন-পালন করতে পারতেন, ত...
08/06/2026

১৯৭১ সালের দিকে আমেরিকায় একজন কারখানার কর্মী একটি বাড়ি কিনতে পারতেন। এর সাথে তিনি তিনটি সন্তান লালন-পালন করতে পারতেন, তাদের কলেজে পাঠাতে পারতেন এবং পেনশন নিয়ে অবসরে যেতে পারতেন। আর এই সবকিছুই সম্ভব হতো পরিবারের মাত্র একজনের উপার্জনে।

আজ উচ্চশিক্ষিত স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ফুল-টাইম কাজ করেও কোনোমতে শুধু বাসার ভাড়াটুকু জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মাঝে যা কিছু ঘটেছে তা কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া। ধীরগতির, সুনির্দিষ্ট এবং বেশিরভাগ মানুষই এটা টের পাননি।

আমেরিকান মধ্যবিত্ত শ্রেণী একসময় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ছিল। এটি ছিল সেই ইঞ্জিন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তুলেছিল। এটি তৈরি করেছিল উপশহর (suburbs), শপিং মল, অটোমোবাইল সংস্কৃতি এবং এমন এক ভোক্তা-ভিত্তিক অর্থনীতি যা দেখে পুরো পৃথিবী তাদের অনুকরণ করেছিল।

আর বর্তমানে?
সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীকেই ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ফাঁপা করে দেওয়া হচ্ছে। এটি ঘটছে অত্যন্ত নীরবে, ধীরে ধীরে ও এমনভাবে যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। আর যখন বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারেন আসলে কী ঘটছে, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আমেরিকা বিজয়ী বেশে ঘরে ফেরে। যে কারখানাগুলোতে এতকাল বোমা আর ট্যাঙ্ক তৈরি হতো, সেগুলো রূপান্তর করা হলো রেফ্রিজারেটর, গাড়ি আর ওয়াশিং মেশিন তৈরির কারখানায়। যুদ্ধফেরত সৈন্যরা পেলেন 'জিআই বিল (GI Bill)', যা তাদের শিক্ষা, কম সুদে গৃহঋণ এবং চাকরির প্রশিক্ষণে ভর্তুকি দিয়েছিল।

ফেডারেল সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে তুলেছিল এবং তা দারুণ ভাবে কাজ করেছিল। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে, আমেরিকায় প্রকৃত মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। বাড়ি কেনার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। একটি ইউনিয়নভুক্ত চাকরি পাওয়ার জন্য কেবল হাই স্কুল শিক্ষাই যথেষ্ট ছিল, যা দিয়ে জীবনযাত্রার মানসম্মত ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং পেনশনের নিশ্চয়তা পাওয়া যেত।

এই সময়ে সবচেয়ে ধনী আমেরিকান এবং বাকি সাধারণ মানুষের মধ্যকার ব্যবধান আসলে কমে এসেছিল। অর্থনীতিবিদরা একে বলেন "দ্য গ্রেট কম্প্রেশন (The Great Compression)"। এটি ছিল আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত অর্থনৈতিক সমতার কাছাকাছি একটি রূপ।

পুঁজিবাদ তার আপন গতিতে চলছিল বলেই এমনটা হয়েছিল, তা নয়। এটি ছিল কিছু অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট নীতি, নির্দিষ্ট ক্ষমতার কাঠামো এবং একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল যা চিরকাল স্থায়ী হওয়ার মতো ছিল না। যারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন, যারা দেখতে পেয়েছিলেন সামনে কী আসছে। তারা ইতিমধ্যেই এর পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে শুরু করেছিলেন।

১৯৭১ সালে হোয়াইট হাউসে আছেন রিচার্ড নিক্সন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে চুষে খাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং আমেরিকা এক বড় সমস্যায় পড়েছে। ব্রেটন উডস (Bretton Woods) ব্যবস্থার অধীনে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছিল আমেরিকান ডলারের মূল্য সোনার সাথে যুক্ত ছিল।

বাজারে প্রচলিত প্রতিটি ডলারের পেছনে ফোর্ট নক্সে (Fort Knox) সমপরিমাণ ভৌত সোনা সংরক্ষিত ছিল। অন্য যেকোনো দেশ যেকোনো সময় আমেরিকার কাছে তাদের ডলার জমা দিয়ে তার বদলে সোনা দাবি করতে পারত। ১৯৭১ সালে, দেশগুলো ঠিক সেটাই করতে শুরু করল। প্রথমে ফ্রান্স, তারপর ব্রিটেন এবং একে একে অন্যরা। আমেরিকার সোনার রিজার্ভ দ্রুত খালি হতে লাগল।

নিক্সনের সামনে তখন একটি পথই খোলা ছিল এবং ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট তিনি সেই সিদ্ধান্তটি নিলেন। রবিবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ঘোষণা করলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ডলারের বিপরীতে সোনা দেবে না। এভাবেই, ডলার সোনার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে গেল। এটি রূপান্তরিত হলো একটি সম্পূর্ণ 'ফিয়াট কারেন্সি' (fiat currency) বা কাগজি মুদ্রায়।

যার মূল্য মার্কিন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কৃতিত্ব ছাড়া আর কিছুর ওপর নির্ভরশীল নয়। সে সময় বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারেননি এর অর্থ কী। এমনকি আজকের দিনেও অনেকে তা বোঝেন না। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর।

যখন অর্থ কোনো ভৌত সম্পদের (যেমন সোনা) সাথে যুক্ত থাকে, তখন সরকারের হাত বাঁধা থাকে। তারা কেবল ততটুকুই খরচ করতে পারে যতটুকু সম্পদ তাদের রিজার্ভের ব্যাকআপে আছে। কিন্তু যখন কেউ সেই বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দেন, যখন অর্থ কেবল কাগজ আর কিছু সংখ্যায় পরিণত হয়। তখন আর্থিক খেলার নিয়ম পুরোপুরি বদলে যায়।

হঠাৎ করেই ফেডারেল রিজার্ভ ইচ্ছামতো টাকা ছাপানোর ক্ষমতা পেয়ে গেল। সরকারগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজেট ঘাটতি চালাতে শুরু করল। আর আর্থিক খাত সোনার কাঁটাতার থেকে মুক্ত হয়ে, এমন এক গতিতে বড় হতে লাগল যা আগে কখনো সম্ভব ছিল না।

অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদদের মতে, এটিই ছিল আমেরিকান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পতনের শুরুর অন্যতম মুহূর্ত। নিক্সনের এই ঘোষণার ঠিক দুই মাস পর আরেকটি ঘটনা ঘটে। সে সময় এটি জনসাধারণের দৃষ্টিতে প্রায় আসেনি। কিন্তু আজ পেছন ফিরে তাকালে বোঝা যায়, এটি আমেরিকার অর্থনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী দলিলগুলোর একটি ছিল।

লুইস পাওয়েল নামের একজন কর্পোরেট আইনজীবী একটি মেমো বা স্মারকপত্র তৈরি করেন। পাওয়েল ছিলেন একজন সম্মানিত আইনজীবী, যাকে পরবর্তীতে নিক্সন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের আগস্টে, তিনি ইউএস চেম্বার অফ কমার্সের জন্য একটি গোপনীয় মেমো লিখছিলেন। মেমোটির একটি সহজ কিন্তু কঠোর শিরোনাম ছিল: অ্যাটাক অন দ্য আমেরিকান ফ্রি এন্টারপ্রাইজ সিস্টেম (আমেরিকান মুক্ত ব্যবসায়িক ব্যবস্থার ওপর আঘাত)।

সেখানে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, আমেরিকার বড় বড় কর্পোরেশন, ব্যবসায়ী, ধনী ব্যক্তি এবং আর্থিক অভিজাত শ্রেণী একটি সাংস্কৃতিক যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলন দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছিল। ভোক্তা অধিকার কর্মীরা জয়ী হচ্ছিলেন। পরিবেশগত নিয়মকানুন কঠোর হচ্ছিল। সরকারের পরিধি বাড়ছিল এবং ক্ষমতার ভারসাম্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হাত থেকে চলে যাচ্ছিল শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের দিকে।

পাওয়েলের মেমোটি ছিল আসলে একটি যুদ্ধ পরিকল্পনা। থিংক ট্যাংক বা গবেষণা সংস্থায় অর্থায়ন করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করা কংগ্রেসে (সংসদে) ব্যবসায়িক স্বার্থে জোরালো লবিং করা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণা করাকে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যবসায়ী বান্ধব বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে, বিচার ব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করা এবং এই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়েছিল।

মাত্র এক দশকের মধ্যে, সেই মেমোর ধারণাগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু শক্তিশালী এবং বিপুল অর্থায়নে পুষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল। যেমন দ্য হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ক্যাটো ইনস্টিটিউট, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট এবং আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।

এই সংস্থাগুলো গবেষণা চালাতে শুরু করে এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ও রাজনীতিবিদদের বোঝাতে সক্ষম হয় যে কর্পোরেশনের জন্য যা ভালো, তা আমেরিকার জন্যেও ভালো। তারা প্রচার করতে থাকে যে, নিয়মকানুন হলো সমৃদ্ধির শত্রু, শ্রমিক ইউনিয়নগুলো অদক্ষ এবং মুক্ত বাজারকে যদি তার নিজের গতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা সবার ভাগ্য পরিবর্তন করবে।

পরবর্তীতে এই অর্থনৈতিক মতাদর্শ একটি নাম পায়: 'রেগানমিক্স' (Reaganomics) বা ট্রিকল-ডাউন থিওরি (trickle-down theory)। আর ১৯৮০ সালে, এই মতাদর্শই হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা পুরোপুরিভাবে দখল করে নেয়।

এসব নীতির আমূল পরিবর্তন রোনাল্ড রেগান একটি সহজ বার্তা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন: "সরকার আমাদের সমস্যার সমাধান নয়; সরকার নিজেই একটি সমস্যা।" কেউ রেগানকে পছন্দ করুন বা নাই করুন, এরপরে যা ঘটেছিল তা ছিল আমেরিকান শ্রমিক, কর্পোরেশন এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের এক আমূল পরিবর্তন।

কর ছাড় এবং নিয়ম শিথিল করণ সর্বোচ্চ করের হার, যা কয়েক দশক ধরে ৭০%-এর ওপরে ছিল, তা কমিয়ে মাত্র ২৮% করা হয়। কর্পোরেট খাতের ওপর থেকে নানা ধরণের নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মকানুন তুলে নেওয়া হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। এরপরেই সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ওপর।

১৯৮১ সালে পেশাদার বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকরা ধর্মঘটে যায়। এটি ছিল একটি বড় পদক্ষেপ তারা ছিলেন সরকারি কর্মচারী, যারা উন্নত বেতন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানাচ্ছিলেন। রেগান তাদের সবাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন প্রায় ১১ হাজার কর্মীকে, এক রাতেই তারা বেকার হয়ে যায়।

কর্পোরেট আমেরিকার কাছে বার্তাটি ছিল একদম পরিষ্কার। সরকার আর কর্পোরেট ক্ষমতার বিপরীতে সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে দাঁড়াবে না। সরকার এখন থেকে একপাশে সরে থাকবে। এর পর বেসরকারি খাতে ইউনিয়ন সদস্যপদে নামে এক বিশাল ধস। কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে মোড় নেয়, যখন শ্রমিকের ক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে আর্থিক খাতের ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে।

এক অদৃশ্য শক্তি অর্থনীতিবিদরা একটি শব্দ ব্যবহার করেন যা সাধারণ মানুষ খুব একটা শোনেননি। কিন্তু এই একটি শব্দই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ধ্বংসের পেছনের আসল রহস্য উন্মোচন করে। শব্দটি হলো 'ফিনান্সিয়ালাইজেশন' (Financialization) বা অর্থনীতির আর্থিকীকরণ। আমেরিকার ইতিহাসের সিংহভাগ সময় জুড়ে অর্থনীতি ছিল মূলত কোনো কিছু উৎপাদন করার বিষয়।

কারখানা পণ্য তৈরি করত, শ্রমিকরা মূল্য যোগ করত এবং কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের গুণগত মান ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা করত। মুনাফা আসত উৎপাদন থেকে। কিন্তু ১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকে এর গতি তীব্র রূপ নেয়।

অর্থনীতির মূল ভিত্তি বদলে যেতে শুরু করে। আর্থিক খাত, যেমন ব্যাংক, হেজ ফান্ড, প্রাইভেট ইকুইটি, ওয়াল স্ট্রিট এমন এক গতিতে বাড়তে থাকে যা অর্থনীতির বাকি সব খাতকে ছাড়িয়ে যায়। অর্থায়ন বা ফিন্যান্স আর কেবল বাস্তব অর্থনীতির মূলধন জোগানোর হাতিয়ার রইল না; ফিন্যান্স নিজেই অর্থনীতিতে পরিণত হলো।

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর এর প্রভাব ছিল সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক। যখন একটি কোম্পানির প্রাথমিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় কেবল তার শেয়ার হোল্ডারদের খুশি রাখা। তার শ্রমিক, তার সমাজ ও তার কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের কথা চিন্তা না করে তখন পুরো হিসাবটাই বদলে যায়।

মুনাফার টাকা শ্রমিকদের উচ্চ মজুরি, ভালো যন্ত্রপাতি বা নতুন গবেষণায় বিনিয়োগ করার পরিবর্তে, কর্পোরেশনগুলো সেই অর্থ শেয়ার বাইব্যাক এবং ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের পকেটে পাঠাতে শুরু করে। কর্মচারীদের কোম্পানির সম্পদ হিসেবে দেখার পরিবর্তে, তাদের এমন এক 'খরচ' হিসেবে দেখা শুরু হলো যা যতখানি সম্ভব কমিয়ে আনা দরকার।

দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরিবর্তে, তারা কেবল পরবর্তী তিন মাসের আয়ের রিপোর্টের দিকে নজর দিতে লাগল। 'প্রাইভেট ইকুইটি' ফার্মগুলো এর এক নিষ্ঠুর রূপ প্রদর্শন করে। তারা একটি চলমান এবং ভালো কোম্পানি কিনে নিতো। সেটিকে ঋণের সাগরে ডুবিয়ে দিত, সেখান থেকে নিজেদের ফি ও ডিভিডেন্ড তুলে নিত, এবং কর্মী ছাঁটাই করে খরচ কমাত।

অবশেষে কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীরা শত কোটি টাকা নিয়ে বিদায় নিত, আর শ্রমিকরা হারাত তাদের চাকরি। এই একই ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সংবাদপত্র, হাসপাতাল, নার্সিং হোম, খেলনা কোম্পানি, মুদি দোকান এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে।

এই পুরো প্রক্রিয়ার মাঝেও আর্থিক খাত কিন্তু বড় হতেই থাকে। শেয়ার বাজারের সূচক রেকর্ড ভাঙতে থাকে। জিডিপি (GDP) সংখ্যার দিক থেকে ঠিকঠাক দেখায়। কিন্তু এই সমস্ত মুনাফা কেবল তাদের কাছেই পৌঁছায় যাদের আগে থেকেই সম্পদ বা 'অ্যাসেট' ছিল।

অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডার এবং শীর্ষ ১০% ধনী ব্যক্তি, যাদের হাতে আমেরিকার সিংহভাগ স্টক এবং বিনিয়োগের পোর্টফোলিও রয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যাদের সম্পদের উৎস কোনো ইনভেস্টমেন্ট বা অ্যাসেট নয় বরং তাদের দৈনন্দিন মজুরি, তারা চারদিক থেকে পিষ্ট হতে শুরু করে।

বর্তমান পরিস্থিতি হল আমেরিকার শীর্ষ ১% ধনীর হাতে এখন দেশের নিচের স্তরের ৫০% মানুষের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদ রয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের দেওয়া তথ্য। ১৯৮০ সালের পর থেকে আমেরিকায় একজন শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা ৬০%-এরও বেশি বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় সাধারণ শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি প্রায় একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে।

বিপরীতে মধ্যবিত্ত জীবনের স্থায়িত্বের মূল তিনটি উপাদান - আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খরচ, এই একই সময়ে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি বেড়েছে। আমেরিকার এক পুরো প্রজন্ম সেটাই করেছে, যা তাদের করতে বলা হয়েছিল। তারা কঠোর পড়াশোনা করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে, ডিগ্রি নিয়েছে এই আশায় যে এটি তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে।

কিন্তু আজ তারা এমন এক পৃথিবীতে পা রেখেছে, যেখানে তাদের স্বাগত জানাচ্ছে ঋণের বিশাল বোঝা এবং এমন সব চাকরি, যা দিয়ে তাদের বাবা-মায়েরা যে ধরণের জীবনযাপন করতেন তার অর্ধেকও অর্জন করা সম্ভব নয় বেঁচে থাকার জন্য। এটি কোনো একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়। এটি একটি ব্যবস্থার সমস্যা ও ব্যর্থতা। অথবা আরও নির্ভুলভাবে বললে, এটি একটি সিস্টেমের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত পুনর্নির্মাণ।

আমেরিকানরা কঠোর পরিশ্রম করা বন্ধ করে দিয়েছে বলে মধ্যবিত্ত শ্রেণী ধ্বংস হচ্ছে না। এটি ধ্বংস হচ্ছে কারণ গত ৫০ বছর ধরে, অর্থনীতির নিয়মগুলো অত্যন্ত নীরবে এবং পদ্ধতিগতভাবে এমন কিছু মানুষের দ্বারা পুনর্লিখিত হয়েছে যারা জানতেন, তারা কী কী পরিবর্তন করছেন।

**তথ্যসূত্রঃ
(০১) The Death of Money: The Coming Collapse of the International Monetary System; by James Rickards.

(০২) The Power of Money: How Governments and Banks Create Money and Help Us All Prosper; by Paul Sheard.

(০৩) Crashed: How a Decade of Financial Crises Changed the World; by Adam Tooze.

(০৪) Manias, Panics, and Crashes: A History of Financial Crises; by Charles Kindleberger.

(০৫) This Time Is Different; by Carmen Reinhart & Kenneth Rogoff.

(০৬) Lords of Finance: The Bankers Who Broke the World; by Liaquat Ahamed.

(০৭) When Genius Failed: The Rise and Fall of Long-Term Capital Management; by Roger Lowenstein.

(০৮) House of Cards: A Tale of Hubris and Wretched Excess on Wall Street; by William D. Cohan.

অনেক ডিজাইনার ও ডেভেলপার আমাদের সাথে একমত হতে পারবেন না হয়তো। অথচ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এখন সবচেয়ে বেশি কর্মস্থান থে...
24/05/2026

অনেক ডিজাইনার ও ডেভেলপার আমাদের সাথে একমত হতে পারবেন না হয়তো। অথচ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এখন সবচেয়ে বেশি কর্মস্থান থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে ডেভেলপার এবং ডিজাইনারদের জবগুলো, এর সাথে অনলাইন মার্কেটিংয়ে অনেক বড় ধাক্কা খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

পরবর্তীতে ভিডিও এডিটিংয়ে একটা শক ওয়েভ দেখতে পাবে। কারণ ক্লড যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সে সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিবে। সাথে জেমিনি এবং গুগুলের ডীপ মাইন্ড প্রজেক্ট মূলত একটা AI ইকো সিস্টেম তৈরি করছে। যাদের মূল লক্ষ্য হল ওয়ান স্টপ সলিউশনে চলে যাওয়া। এর মানে হল মার্কেটে যে ছোট ছোট AI গুলে আছে তারা এর সাথে আর পাল্লা দিয়ে বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবেনা।

এই যে এতো এতো সিরিয়াস পরিবর্তন হচ্ছে। আর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আর্থিক অবস্থা নতুনভাবে পরিবর্ধিত আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে বাংলাদেশের তেমন কোন নজর নেই। না আমাদের ইয়ুথ জেনেরেশন খুব মনোযোগী না এসব ব্যাপারে। হাতে গোনা কিছু তরুণ এটা নিয়ে ভাবলেও বেশিরভাগ তরুণেরা জানেই না, কীভাবে AI বেইজড প্রতিযোগীতা দ্রুত বাড়ছে অর্থনীতির বর্তমান পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত পৃথিবীতে।

🎓𝗔𝗡𝗡𝗢𝗨𝗡𝗖𝗘𝗠𝗘𝗡𝗧 𝗢𝗙 𝗨𝗡𝗗𝗘𝗥𝗚𝗥𝗔𝗗𝗨𝗔𝗧𝗘 𝗔𝗗𝗠𝗜𝗦𝗦𝗜𝗢𝗡 𝟮𝟬𝟮𝟱–𝟮𝟬𝟮𝟲The Dhaka School of Economics (DScE) hereby invites formal application...
13/05/2026

🎓𝗔𝗡𝗡𝗢𝗨𝗡𝗖𝗘𝗠𝗘𝗡𝗧 𝗢𝗙 𝗨𝗡𝗗𝗘𝗥𝗚𝗥𝗔𝗗𝗨𝗔𝗧𝗘 𝗔𝗗𝗠𝗜𝗦𝗦𝗜𝗢𝗡 𝟮𝟬𝟮𝟱–𝟮𝟬𝟮𝟲
The Dhaka School of Economics (DScE) hereby invites formal applications for admission into the Bachelor of Social Sciences (Honours) programmes for the Academic Session 2025–2026.

All degrees are officially conferred by the University of Dhaka.

𝗔𝗖𝗔𝗗𝗘𝗠𝗜𝗖 𝗣𝗥𝗢𝗚𝗥𝗔𝗠𝗠𝗘𝗦
● Bachelor of Social Sciences (Honours) in Environmental and Resource Economics
● Bachelor of Social Sciences (Honours) in Development Economics
● Bachelor of Social Sciences (Honours) in Entrepreneurial Economics

✅ 𝗪𝗛𝗬 𝗦𝗧𝗨𝗗𝗬 𝗔𝗧 𝗗𝗦𝗰𝗘
𝗔𝗰𝗮𝗱𝗲𝗺𝗶𝗰 𝗙𝗲𝗮𝘁𝘂𝗿𝗲𝘀
● Provision of an academically rigorous economics education with an interdisciplinary focus.
● Instruction by highly trained faculty members.
● Access to comprehensive academic resources and facilities.
● Opportunities for participation in seminars and academic conferences.
● Scope for undergraduate-level dissertation and thesis work addressing national and international issues.

𝗖𝗮𝗿𝗲𝗲𝗿 𝗣𝗿𝗼𝘀𝗽𝗲𝗰𝘁𝘀
● Professional placement in government and public sector entities.
● Employment within banking and financial institutions.
● Careers in international organizations and non-governmental organizations (NGOs).
● Roles in private sector organizations and corporate industries.
● Opportunities in teaching and research-based institutions.

𝗣𝗥𝗢𝗚𝗥𝗔𝗠𝗠𝗘 𝗦𝗧𝗥𝗨𝗖𝗧𝗨𝗥𝗘
● Duration: 4 Years (8 Semesters).

𝗠𝗜𝗡𝗜𝗠𝗨𝗠 𝗘𝗟𝗜𝗚𝗜𝗕𝗜𝗟𝗜𝗧𝗬 𝗖𝗥𝗜𝗧𝗘𝗥𝗜𝗔
Prospective candidates must satisfy the following academic requirements:
● Secondary School Certificate (SSC) or Equivalent: Completion between the years 2020 and 2023.
● Higher Secondary Certificate (HSC) or Equivalent: Completion in the year 2024 or 2025.
● Grade Point Average (GPA): A minimum combined GPA of 6.00 (inclusive of the fourth subject), with a minimum of GPA 3.00 in both SSC and HSC or equivalent examinations.
● International Curriculum (O/A Level): A minimum of five subjects in O Level and two subjects in A Level. Candidates must have attained at least a Grade B in O Level and a Grade C in A Level.

𝗦𝗖𝗛𝗘𝗗𝗨𝗟𝗜𝗡𝗚 𝗔𝗡𝗗 𝗦𝗨𝗕𝗠𝗜𝗦𝗦𝗜𝗢𝗡
● Application Period: 11 May 2026 to 24 June 2026
● Admission Examination: 10 July 2026.

𝗔𝗣𝗣𝗟𝗜𝗖𝗔𝗧𝗜𝗢𝗡 𝗣𝗥𝗢𝗖𝗘𝗗𝗨𝗥𝗘
Candidates are required to complete the application process via the prescribed online portal:
🌐 https://du-dsce.applyingnext.com

📍 Address: 4/C Eskaton Garden Road, Dhaka 1000, Bangladesh
📌 https://share.google/9EuTeHjWUhM593KSL
📞 Hotline/WhatsApp: +8801333387797
📧 Official Email: [[email protected]]
🌐 Institutional Website : www.dsce.edu.bd

*Source: Department of Entrepreneurship Economics, Dhaka School of Economics.

শ্রমই হল দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি — সকল শ্রমজীবী মানুষকে জানাই মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা। 🛠️🔬📝📚🖋️
30/04/2026

শ্রমই হল দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি — সকল শ্রমজীবী মানুষকে জানাই মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা। 🛠️🔬📝📚🖋️

মানচিত্রের সীমারেখা অপরিবর্তিত থাকলেও বদলে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে পাকিস্ত...
21/04/2026

মানচিত্রের সীমারেখা অপরিবর্তিত থাকলেও বদলে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (এমইএনএ) অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক।

বৈশ্বিক এ ঋণদাতার নতুন এ কাঠামোগত বিন্যাসে জন্ম নিয়েছে ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ বা ‘এমইএনএএপি’ নামের নতুন এক অর্থনৈতিক বলয়। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার উৎস, উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরতা এবং জ্বালানি আমদানির ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করেই এ কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিশ্বব্যাংক চলতি মাসেই ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাস কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কমে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ আরো জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এ অঞ্চল থেকে ভূ-অর্থনৈতিকভাবে সরে যাওয়ায় আঞ্চলিক ভারসাম্য ভারতের দিকে আরো ঝুঁকতে পারে। এতে এ অঞ্চলের সমন্বিত অর্থনৈতিক উদ্যোগ আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার বণ্টনেও পুনর্বিন্যাস হতে পারে, যেখানে বাকি দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়াকে একটি কম সংহত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতে পারে, যেখানে দেশভিত্তিক কৌশলই বেশি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

*Article:
https://bonikbarta.com/bangladesh/L6ED55NJNBnJ5YhG/

**Source: Daily Bonik Barta ( বণিক বার্তা ),
Bonik Barta Digital.

যে মহাদেশে বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে সবুজ বিনিয়োগ বা সামাজিক নীতিতে বড় ধরনের ব্যয় রাজনৈতিকভাবে প্রায় নিষিদ্ধ, সেখানে ইউক্রেন যু...
20/04/2026

যে মহাদেশে বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে সবুজ বিনিয়োগ বা সামাজিক নীতিতে বড় ধরনের ব্যয় রাজনৈতিকভাবে প্রায় নিষিদ্ধ, সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ একটি শক্তিশালী অজুহাত তৈরি করে দেয়—প্রতিরক্ষা–শিল্প কমপ্লেক্সে সরকারি ঋণ ঢেলে দেয়ার জন্য। নীরব সত্যটি ছিল এই যে একটি অনন্ত যুদ্ধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিল: ইউরোপের স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য কেইনসীয় পাম্প–প্রাইমিংয়ের আদর্শ ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করছিল এ যুদ্ধ। এ বৈপরীত্য ছিল প্রাণঘাতী। যদি ইউক্রেন যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়ে যেত, তবে এ অর্থনৈতিক পাম্প–প্রাইমিং টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ত।

*Source: [https://bonikbarta.com/editorial/qki5UZE6VaCI6t5e/]

বিশ শতকের শেষভাগের বৈশ্বিক ব্যবস্থার অবশিষ্ট স্তম্ভগুলো একে একে ভেঙে পড়েছে এ বছর। এত দিন যাকে একটি বিশ্ব ব্যবস্থ...

15/04/2026

★ Pattern of Economic Life Style.

পড়াশোনা হলো সবচাইতে বড় শর্টকার্টের নাম। পড়াশোনা হলো সেই মিডিয়াম যে মিডিয়াম সমাজে একটা বিভাজন তৈরি করে। শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত এর বিভাজন। আপনার অনেক টাকা আছে কিন্তু এডুকেসন নেই। আপনাকে কেউ গুনবে না। কিন্তু আপনার শিক্ষার সাথে টাকা আছে, আপনাকে সবাই সাহেব মানবে। পড়াশোনা হলো সবচাইতে সহজ কাজ। ঘরে বসে পড়া পড়তে হয়, রাস্তায় স্ট্র্যাটেজিক্যাল পড়া সম্ভব হয় না। ধরেন, একজন রিক্সাওয়ালার মাসিক আয় ঢাকা শহরে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে ধরলে দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সে কোনদিন সাহেবের ইজ্জত পাবে না।

আগামী ৫ বছর পর একজন রিক্সাওয়ালার মাসিক আয় হবে হয়তো ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এই ৫০ হাজার টাকা আয় করেও সে নিজের জীবন বদলাতে পারবে না। কারণ, তার দিন এনে দিন খেতে হয়। জীবনে সে একসাথে ৫০ হাজার টাকার মুখ দেখবে না। সে একদিনে এক হাজার টাকা আয় করে, দিনশেষে তার একটা টাকাও থাকে না। কারণ, সে হিসাব করে চললেও সেভিংস করতে পারবে না। উলটো আর কিস্তিতে ঋণ নিয়ে চলতে হয়।

ঐ ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি দিয়েই সে যা আয় করে সব শেষ হয়ে যাবে। বড় কথা হল মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করলেও তার একটা জিনিস নেই সেইটা হলো এডুকেটেড ব্রেন এবং মাইন্ড। সে কোনদিন ঐ ৫০ হাজার টাকাকে এক লাখ টাকা বানাতে পারবে না।

পড়াশোনা হলো সেই শর্টকার্টের নাম আপনি যদি ব্যাড জিনিয়াস হন ব্যক্তি হন আপনি আগামীতে হবেন হারসাত মেহেতা। আপনি যদি ব্যাডজিনিয়াস হন ইন্ডিয়ার ডন লরেন্স বিষ্ণুই এর মত হতে পারবেন। সে ছিল আইনজীবী। আইনজীবী থেকে ইন্ডিয়ার অন্যতম বড় ডন। যাকে দেখে সালমান খান ভয় পায়।

আইন এতো ভাল জানে যে তার সাথে প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউ পারে না। কারণ, আইনের লুপ হোল সে নিজেই জানে। আপনি যদি ব্যাড জিনিয়াস হন আপনি হতে পারবেন আপনি বেনজির আহমেদ, ডিবির হারুন। যারা ধরাছোয়ার বাহিরে। এডুকেসন ব্যাড জিনিয়াসরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাহিরে থাকে। সমাজে সকল প্রকারের ধরা খায় অশিক্ষিত খারাপ ব্যক্তিরা।

আপনি মনীষী হতে চাইলেও আপনার দরকার হবে এডুকেসন, আপনি সফল খারাপ ব্যক্তি হতে চাইলেও আপনার দরকার হবে এডুকেসন। আপনার লাইফের গোল যেইটায় হোক এডুকেসনকে তুচ্ছ করে দেখবেন না। যারা পড়াশোনায় মনোযোগ পান না তাদের শুধু একটা টিক্স বলে রাখলাম। বইয়ের প্রতিটা পাতার মাঝে টাকা, ক্ষমতা এবং স্ট্যাটাস খুঁজতে শুরু করুন।

এইটা বই নয়, এটা একটা ম্যাজিক গার্ডেন। এই বই আপনাকে দিবে সোসাইটিতে ইজ্জত, বলবান বানাবে এবং হবে উপরে উঠার সিঁড়ি। এই বইকে জেরোক্স স্ক্যান করে ব্রেনে সেইভ করে আপনি মনের খাতায় লিখে রাখবেন। বইটার নাম হল "রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড"। এই বইয়ের জ্ঞানকে নিউরণে সেইভ করুন। থিউরিক্যাল নলেজ এবং প্র্যাক্টিক্যাল নলেজের ফিউসন ঘটিয়ে রুল করুন।

Address

Badda

Telephone

01754628173

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Economics Thinking Center-ETC posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Economics Thinking Center-ETC:

Share