My Islam

Call Directions Website

My Islam আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে....

আমরা জান্নাত চাই। দু‘আয় জান্নাতুল ফিরদাউসও চাই। কিন্তু কখনো কি নিজের জীবনটার দিকে তাকিয়ে ভেবেছি—আল্লাহ যাদের ফিরদাউসের উ...
18/08/2026

আমরা জান্নাত চাই। দু‘আয় জান্নাতুল ফিরদাউসও চাই। কিন্তু কখনো কি নিজের জীবনটার দিকে তাকিয়ে ভেবেছি—আল্লাহ যাদের ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী বলেছেন, তাদের গুণগুলোর কতটা আমার মধ্যে আছে?

জান্নাতের কথা শুনলে মন নরম হয়ে যায়। মনে হয়, “ইয়া আল্লাহ, আমাকেও সেখানে জায়গা দিন।” কিন্তু জান্নাত শুধু মৃত্যুর পরের কোনো সুন্দর স্বপ্ন নয়। কুরআন এমন কিছু মানুষের জীবনযাপনও আমাদের সামনে তুলে ধরেছে, যাদের সম্পর্কে শুরুতেই বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে”, আর শেষে বলা হয়েছে, তারাই ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে এবং সেখানে স্থায়ী থাকবে। —সূরা আল মু’মিনুন, ২৩:১–১১। রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও বলেছেন, আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইলে আল ফিরদাউস চাইতে, কারণ এটি জান্নাতের সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ অংশ।

তাহলে একটু নিজের জীবনের ভেতর ঢুকে দেখি।

সালাতে দাঁড়িয়েছেন। মুখে সূরা পড়ছেন, কিন্তু মাথার মধ্যে বাজারের হিসাব, অফিসের কাজ, কার message-এর reply দেওয়া হয়নি, কাল কী করতে হবে—সব চলছে। সালাত শেষ হলো, কিন্তু পাঁচ মিনিট পরে কী পড়েছিলেন সেটাই মনে করতে পারছেন না। অথচ সফল মুমিনদের প্রথম গুণগুলোর একটি হিসেবে আল্লাহ বলেছেন, তারা নিজেদের সালাতে খুশু অবলম্বন করে। খুশু মানে এই নয় যে পৃথিবীর কোনো চিন্তা কখনো মাথায় আসবে না। বরং বারবার ছুটে যাওয়া মনটাকে আবার আল্লাহর সামনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। নিজেকে মনে করানো, “আমি এখন কার সামনে দাঁড়িয়ে আছি?”

তারপর সালাম ফিরিয়েই ফোন হাতে নিলেন। একটু social media দেখবেন ভেবেছিলেন। একটা gossip, তারপর অন্য কারও personal life, comment section-এর ঝগড়া, এমন আলোচনা যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। দেখতে দেখতে আধঘণ্টা চলে গেল। কুরআন সেই সফল মুমিনদের আরেকটি পরিচয় দিয়েছে, তারা ‘লাগও’ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অর্থাৎ অনর্থক, অসার ও অকল্যাণকর কথা-কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে। এর মানে হাসি, গল্প বা বিশ্রাম নিষিদ্ধ নয়। প্রশ্ন হলো, আমার দিনের কতটা এমন কিছুর পেছনে যাচ্ছে যা না আমার দুনিয়াকে ঠিক করে, না আখিরাতকে?

আবার আমরা হয়তো বলি, “আমি তো কারও বড় ক্ষতি করি না।” কিন্তু ঈমান শুধু কিছু গুনাহ না করার নাম নয়। আমাদের সম্পদের মধ্যেও আল্লাহর হক আছে। যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়, তারা কি হিসাব করে সেটি আদায় করছি? Savings বাড়ছে, account balance দেখছি, investment নিয়ে ভাবছি—কিন্তু কখনো বসে জিজ্ঞেস করছি কি, “আমার সম্পদে কারও নির্ধারিত হক বাকি পড়ে আছে?” সূরা আল মু’মিনুনে সফল মুমিনদের গুণের মধ্যে যাকাত আদায়ের কথাও এসেছে।

তারপর এমন একটি বিষয়, যেটা আজকের সময়ে খুব নিঃশব্দে পরীক্ষা নেয়—লজ্জাস্থানের হিফাজত। আপনি একা থাকলে কী দেখেন, কার সঙ্গে কী ধরনের private chat করেন, চোখ কোথায় থামে, কোনো সম্পর্ক আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে—অনেক কিছু মানুষ জানবে না। কিন্তু আল্লাহ জানেন। তাই পবিত্রতা শুধু “আমি যিনা করিনি” এই এক লাইনের হিসাব নয়। বরং এমন content, সম্পর্ক, পরিবেশ ও অভ্যাস থেকেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা, যা ধীরে ধীরে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার দিকে ঠেলে দেয়।

আরেকটা দৃশ্য খুব পরিচিত। কাউকে বললেন, “কাল টাকা দিয়ে দেব।” দিলেন না। বললেন, “এই কথাটা কাউকে বলব না।” পরে গল্প করতে গিয়ে বলে ফেললেন। অফিসে এমন দায়িত্ব পেলেন যা কেউ check করবে না, তাই একটু ফাঁকি দিলেন। কারও document, password, টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য আপনার কাছে amanah ছিল, কিন্তু আপনি সেটাকে হালকাভাবে নিলেন। অথচ ফিরদাউসের উত্তরাধিকারীদের আল্লাহ এমন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে।

খেয়াল করলে দেখবেন, এগুলো কোনো বিশাল heroic deed নয়। এগুলো প্রতিদিনের জীবন। সময়মতো টাকা ফেরত দেওয়া। গোপন কথা গোপন রাখা। নিজের দায়িত্বটা ঠিকভাবে করা। “আমি আসব” বললে চেষ্টা করে যাওয়া। কারণ চরিত্রের সত্যতা বড় বক্তৃতায় যতটা ধরা পড়ে, অনেক সময় ছোট ছোট amanah-তেই তার চেয়ে বেশি ধরা পড়ে।

আর সূরাটির শুরুতে সালাতের খুশুর কথা বলার পর শেষের দিকে আবার সালাতের কথাই এসেছে, “যারা নিজেদের সালাতসমূহের হিফাজত করে।” ব্যাপারটা খুব ভাবার মতো। শুধু আবেগ নিয়ে কোনো এক রাতে দীর্ঘ নফল নয়; বরং প্রতিদিনের ফরজ সালাতগুলোকে জীবনের schedule-এর মধ্যে রক্ষা করা। আমরা meeting-এর জন্য সময় রাখি, exam-এর জন্য alarm দিই, flight ধরতে কয়েক ঘণ্টা আগে বের হই। কিন্তু সালাতকে বলি, “একটু পরে পড়ব।” তারপর সেই “একটু পরে” কখন যে অনেক পরে হয়ে যায়, বুঝতেই পারি না।

এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল, কিন্তু এটি সূরা আল মু’মিনুন ২৩:১–১১-এ উল্লেখিত ওই গুণগুলোর তালিকার অংশ নয়। ওই অংশে সরাসরি এসেছে সালাতে খুশু, লাগও থেকে দূরে থাকা, যাকাত, লজ্জাস্থানের হিফাজত, আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা এবং সালাতসমূহের হিফাজত। আর ইস্তিগফারের গুরুত্ব আমরা আলাদাভাবে নবী ﷺ-এর জীবন থেকে দেখি। তিনি নিজেই দিনে সত্তরেরও বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন।

এখন হয়তো নিজের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, “এগুলোর কত জায়গাতেই তো আমি দুর্বল।”

এই অনুভূতিটা আপনাকে হতাশ করার জন্য নয়। বরং এখান থেকেই ইস্তিগফারের প্রয়োজন বোঝা যায়। আপনি perfect হওয়ার পর আল্লাহর কাছে ফিরবেন না। ভুল করছেন বলেই ফিরবেন। সালাতে মন চলে গেছে, আবার চেষ্টা করুন। কথায় গীবত ঢুকে গেছে, তাওবা করুন। কোনো amanah নষ্ট করেছেন, সম্ভব হলে ঠিক করে দিন। কোনো গোপন গুনাহে আটকে গেছেন, সেখান থেকেই ফিরে আসুন। পড়ে যাওয়া আর পড়ে থাকা এক জিনিস নয়।

সমস্যা হলো, আমরা জান্নাতকে অনেক সময় শুধু মৃত্যুর পরের destination হিসেবে ভাবি। অথচ জান্নাতের পথের character তৈরি হচ্ছে আজকের জীবনেই। আপনার সালাত কেমন, আপনার জিহ্বা কী নিয়ে ব্যস্ত, সম্পদে আল্লাহর হক মনে থাকে কি না, একাকীত্বে আপনি নিজেকে কতটা রক্ষা করেন, মানুষের বিশ্বাস আপনার কাছে নিরাপদ কি না, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আপনার দিনের কোথায় দাঁড়িয়ে আছে—এসবই তো সেই পথের অংশ।

তাই আজ সবকিছু একসঙ্গে বদলাতে যাবেন না। একটি জায়গা বেছে নিন। হয়তো আপনার জন্য সেটা ফজরের সালাত। হয়তো এমন একটা group chat থেকে দূরে থাকা যেখানে মানুষের কথা নিয়েই সময় যায়। হয়তো বহুদিনের একটি amanah ফেরত দেওয়া। হয়তো ফোন থেকে এমন কিছু content সরিয়ে দেওয়া যেটা আপনাকে বারবার গুনাহের দিকে টানে। হয়তো যাকাতের হিসাব ঠিক করা। অথবা প্রতিটি সালাতে কয়েক সেকেন্ড থেমে মনে করা, “আমি এখন আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছি।”

আমরা কখনো ভাবি ফিরদাউসের মানুষরা বুঝি আমাদের থেকে একেবারে অন্যরকম কেউ। অথচ সূরা আল মু’মিনুনের এই গুণগুলো দেখলে মনে হয়, আল্লাহ আমাদের প্রতিদিনের জীবনটাই বদলাতে বলছেন। সালাত, কথা, সম্পদ, পবিত্রতা, দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি—সবকিছুর ভেতরে ঈমান ঢুকিয়ে দিতে বলছেন।

জান্নাতুল ফিরদাউস শুধু চাইবার জায়গা নয়। এমন জীবন গড়ারও চেষ্টা করতে হবে, যে গুণগুলোকে আল্লাহ নিজেই ফিরদাউসের উত্তরাধিকারীদের গুণ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।

তাই আজ দু‘আ করুন:

ইয়া আল্লাহ, আমরা শুধু ফিরদাউসের নাম শুনে আবেগাপ্লুত হতে চাই না। আমাদের এমন মানুষ বানান, যাদের সালাতে খুশু আছে, অনর্থক ও অকল্যাণকর কথা-কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা আছে, সম্পদে আপনার হক আদায়ের যত্ন আছে, চরিত্রে পবিত্রতা আছে, আমানতে বিশ্বস্ততা আছে এবং সালাতের প্রতি হিফাজত আছে। আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করুন। বারবার পড়ে গেলেও আপনার দিকে ফিরে আসার তাওফিক দিন এবং আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

📌 আজ সবগুলো নয়। এই গুণগুলোর মধ্যে যে একটি জায়গায় আপনি সবচেয়ে দুর্বল, সেখান থেকেই শুরু করুন।

27/06/2026
আজ মাগরিবের পর মোটামুটি ধার্মিক একটি মুসলিম পরিবারের ৯ বছর বয়সী, চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে মজার ছলে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি...
11/06/2026

আজ মাগরিবের পর মোটামুটি ধার্মিক একটি মুসলিম পরিবারের ৯ বছর বয়সী, চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে মজার ছলে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি কোন দলের সাপোর্টার?” ছেলেটি আনন্দের সাথে উত্তর দিল, “আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার।”
আমি বললাম, “আচ্ছা, ব্রাজিলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের নাম বলো।” সে মুচকি হেসে এক নিঃশ্বাসে নয়-দশজন খেলোয়াড়ের নাম বলে দিল।
এরপর আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমরা তো মুসলমানের সন্তান, তাই না?” সে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
আমি বললাম, “তাহলে পাঁচজন সাহাবীর নাম বলো।” সে একটি নামও বলতে পারলো না। কয়েকজন নবীর নাম জিজ্ঞেস করলে অনেক চিন্তা করে দুই-তিনজনের নাম বললো। এরপর মুসলমান হিসেবে জানা দরকার এমন আরও কিছু মৌলিক বিষয় জানতে চাইলে দেখা গেল, সে ব্রাজিল সম্পর্কে যতটুকু জানে, দ্বীন সম্পর্কে তার সামান্য অংশও জানে না।

এই ঘটনা কোনো একক শিশুর নয়; বরং এটি আমাদের সময়ের একটি গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি।
আজকের শিশুরা ফুটবলারদের জীবনী জানে, কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ জানে না। তারা বিদেশি তারকাদের নাম মুখস্থ রাখে, কিন্তু উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিচয় জানে না। তারা ক্লাব, দল ও খেলোয়াড় নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়, কিন্তু নবী-রাসূলদের জীবন তাদের কাছে অপরিচিত।

প্রশ্ন হলো, এই শিশুরা আগামী বিশ বছর পর কেমন মুসলমান হবে?

গবেষণা বলে - শিশুকালে যে আদর্শ, মূল্যবোধ ও পরিচয় একজন মানুষ গ্রহণ করে, পরবর্তী জীবনে সেটিই তার চিন্তা ও ব্যক্তিত্বের ভিত্তি গড়ে দেয়। পরিবারই সন্তানের প্রথম বিদ্যালয়, আর পিতামাতাই তার প্রথম শিক্ষক। আধুনিক গবেষণাও দেখায় যে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেলে শিশুর পরিচয়বোধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে অন্য সংস্কৃতির প্রভাবে সহজেই প্রভাবিত হয়।

ইসলাম এই বিষয়ে বহু আগেই সতর্ক করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো..." (সূরা তাহরীম: ৬)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
আরেক হাদিসে এসেছে:
"প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে; অতঃপর তার পিতা-মাতাই তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক বানায়।"
অতএব সন্তানের দ্বীনি পরিচয় গঠনের প্রথম দায়ভার পরিবার ও অভিভাবকদের উপরই বর্তায়।

বিশেষ করে আলেম-উলামাদের জন্য এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁরা জাতির ধর্মীয় অভিভাবক। মসজিদ, মাদরাসা ও মক্তবের প্রচলিত কার্যক্রমের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য আকর্ষণীয় সিরাত শিক্ষা, সাহাবীদের জীবনী, ইসলামী কুইজ, পাঠচক্র এবং প্রযুক্তিনির্ভর দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। শুধু বয়স্কদের ওয়াজ-নসীহত যথেষ্ট নয়; আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে ঈমান, পরিচয় ও আদর্শের বীজ বপন করাও জরুরি দায়িত্ব।
আমরা যদি আজ আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে নবী ﷺ-এর ভালোবাসা, সাহাবীদের আদর্শ এবং ইসলামের মৌলিক জ্ঞান পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো মুসলমান নাম ধারণ করবে; কিন্তু মুসলিম পরিচয়ের গভীরতা হারিয়ে ফেলবে।
একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিশুদের চিন্তা ও আদর্শ দ্বারা। তাই আজ যদি আমাদের সন্তানরা ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের চেয়ে সাহাবীদের কম চেনে, তবে এটি কেবল একটি শিশুর অজ্ঞতা নয়; বরং এটি আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত ব্যর্থতার একটি সতর্কবার্তা।

এখনও সময় আছে। সন্তানদের হাতে শুধু স্মার্টফোন নয়, কুরআনও তুলে দিতে হবে; শুধু খেলোয়াড়দের গল্প নয়, সাহাবীদের গল্পও শোনাতে হবে; শুধু দুনিয়ার সফলতার স্বপ্ন নয়, আখিরাতের সফলতার লক্ষ্যও শেখাতে হবে।
নচেৎ একদিন আমরা এমন এক প্রজন্ম পাবো, যারা পৃথিবীর অনেক কিছু জানবে, কিন্তু নিজের দ্বীন, ইতিহাস ও পরিচয় সম্পর্কে থাকবে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞ।

ইস্তিগফারের বরকতএক লোক মসজিদে প্রবেশ করলো। মন খারাপ। এক পাশে গিয়ে বসে রইলো। এক জন বৃদ্ধ হুযুরও আরেক পাশে ছিলেন। বৃদ্ধ হু...
08/06/2026

ইস্তিগফারের বরকত

এক লোক মসজিদে প্রবেশ করলো। মন খারাপ। এক পাশে গিয়ে বসে রইলো। এক জন বৃদ্ধ হুযুরও আরেক পাশে ছিলেন।
বৃদ্ধ হুযুর কৌতূহলী হয়ে পশ্ন করলেন:
-বাছা! এখন তো নামাযের সময় নয়। তুমি কেনো মসজিদে এলে?
-হুযুর! আমি বিয়ে করেছি, বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো। এখনো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে, আমাদের ঘরে নতুন কোনও মেহমান আসে নি। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেশ পেরেশান। সংসারে সন্তান না থাকাতে আমার স্ত্রীকে নানা জন নানা কথা বলে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সন্তান না দেয়ার ফায়সালা করলে, আমি সেটাতে রাজি। আমি আমার স্ত্রীকেও বারবার সান্তনা দিয়ে আসছি। আর সন্তান না হওয়াতো স্ত্রীর দোষ নয়। আমরা দুজনেই বিষয়টার সাথে সম্পৃক্ত।

মানুষের কটাক্ষ আর বিদ্রুপের কারণে অবস্থা এমন হয়েছে যে, আামার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে, সে কিছুদিন পর পুরোপুরি পাগল হয়ে যাবে। রুবাবাহ মানে আমার স্ত্রী, সে এতো ভালো একটা মেয়ে, তাকে ছাড়া আমার জীবনটাও পানসে হয়ে যাবে। জীবনের কোনও স্বাদ আমি পাবো না।

আমি কোনও ডাক্তার-বৈদ্য-কবিরাজ বাদ রাখিনি। কিছুতেই কিছু হলো না। বৃদ্ধ হুযুর বললেন:
-তুমি স্থির হয়ে বসো। আমি তোমাকে একটা ওষুধ দেবো। ওষুধটার ব্যবহারবিধি খুবই কঠিন। তবে আমি আল্লাহর ওপর পুরোপুরি তাওয়াক্কুল করেই বলছি। এ ওষুধে তোমার অবশ্যই সন্তান হবে। ইনশাআল্লাহ।
-আল্লাহর দোহাই লাগে হুযুর! আপনি যত কঠিন আর কষ্টকর ওষুধই দেন, আমি সেটা ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ
-তোমরা দুজনেই, ফজরের আযানের কমপক্ষে একঘণ্টা ঘুম থেকে উঠবে। সময়টাকে দুইভাগে ভাগ করে নিবে।
=প্রথম ভাগে কিয়ামুল লাইল অর্থাত তাহাজ্জুদ পড়বে।
=দ্বিতীয় ভাগে ইস্তিগফার পড়বে।
এভাবে নিয়মিত আমল করে যাবে।

কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
“ আর আমি বললাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করো, নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। (এর ফলে) তিনি তোমাদের ওপর প্রবল বর্ষণ করবেন, আর তিনি তোমাদেরকে সম্পদ, সন্তান দ্বারা সাহায্য করবেন। আর তোমাদের জন্য বানিয়ে রাখবেন বাগ-বাগিচা। আর তোমাদের জন্য প্রবাহিত করবেন নদীনালা”। সূরা নূহ।

লোকটা ঘরে ফিরে গেলো। স্ত্রীকে বললো:
-ওগো! আল হামদুলিল্লাহ, অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন।
-কিভাবে?
স্বামী বিষয়টা খুলে বললো। জিজ্ঞাসা করলো:
-তুমি কি এই আমল করতে প্রস্তুত?
-জ্বি, আমি অবশ্যই প্রস্তুত। আপনার সাথে কোন কাজেই বা আমি অপ্রস্তুত থাকি? আমরা কোন দিন থেকে আমলটা শুরু করবো?
-কেনো আজ থেকেই, কোনও ওযর আছে তোমার?
-জ্বি না।
তারা দুজনেই আমলটা শুরু করলো। পনের দিন যেতে না যেতেই স্ত্রীর মধ্যে গর্ভের বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ পেতে শুরু করলো। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর তিনিও বিস্মিত হয়ে বললেন:
-আপনাদের জন্য তো সুখবর আছে।

এটা ছিলো ইস্তিগফারের বরকত। কুরআনের আয়াতটাতে তো আল্লাহ তা‘আলা এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন।

ইয়া আল্লাহ, আমাদেরকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার তাওফীক দান করুন। আমীন

~শাইখ আতীক উল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

📌 পোস্ট-টি সদকায়ে জারিয়া এবং ইসলাম প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করে অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হোন। এই পোস্ট আপনার আখেরাতের কঠিন মুসিবাতের সময় নাজাতের ওসিলা হয়ে যাক, আমিন🤲

চাকরি নেই। ঋণের চাপ। মাসশেষে হিসাব মেলে না।এই তিনটা কথা যদি আপনার জীবনের সাথে মিলে যায়, এই পোস্টটা আপনার জন্য।✅ কুরআন ও...
31/05/2026

চাকরি নেই। ঋণের চাপ। মাসশেষে হিসাব মেলে না।

এই তিনটা কথা যদি আপনার জীবনের সাথে মিলে যায়, এই পোস্টটা আপনার জন্য।

✅ কুরআন ও হাদীস থেকে ১১টি আমল। কোনটা কখন পড়বেন, সব বলছি।

🌿 ১. চাকরি খুঁজছেন, পাচ্ছেন না?

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে পড়ুন।

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

▪️ওয়া মাই ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজআল লাহু মাখরাজা, ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহতাসিব।

▪️অর্থ, যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করে দেন। এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করেনি। সূরা আত-তালাক, আয়াত ২-৩।

🌿 ২. ঋণের বোঝায় রাত কাটছে না?

ফজরের পর প্রতিদিন পড়ুন।

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

▪️আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

▪️অর্থ, হে আল্লাহ, তোমার হালাল দিয়ে হারাম থেকে বাঁচাও। তোমার অনুগ্রহ দিয়ে অন্য সবের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করো। তিরমিযি, হাদিস নং ৩৫৬৩।

🌿 ৩. ব্যবসায় বরকত নেই?

দোকান খোলার সময় পড়ুন।

وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ

▪️ওয়া বারিক লী ফীমা আতাইত।

▪️অর্থ, আর তুমি আমাকে যা দিয়েছো তাতে বরকত দাও।

🌿 ৪. মনে হচ্ছে দোয়া কবুল হচ্ছে না?

আল্লাহ বলেছেন।

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

▪️ওয়া ইযা সাআলাকা ইবাদী আন্নী ফাইন্নী কারীব, উজীবু দাওয়াতাদ্দাই ইযা দাআন।

▪️অর্থ, যে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৬।

দোয়া কবুল না হওয়া প্রত্যাখ্যান নয়। হয়তো আরও ভালো কিছুর জন্য রাখছেন।

🌿 ৫. ফজরের পর জায়নামাজ থেকে ওঠার আগে পড়ুন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

▪️আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযকান তাইয়িবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।

▪️অর্থ, হে আল্লাহ, উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক এবং কবুল হওয়া আমল চাই। ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৯২৫।

🌿 ৬. সংসার চালাতে পারছেন না?

যাকারিয়া আ. এর দোয়া পড়ুন।

رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

▪️রব্বি লা তাযারনী ফারদা, ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসীন।

▪️অর্থ, হে আমার রব, আমাকে একা ছেড়ে দিও না। তুমিই সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী। সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৯।

🌿 ৭. তাহাজ্জুদে পড়ুন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

▪️রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান্নার।

▪️অর্থ, হে আমাদের রব, দুনিয়ায় কল্যাণ দাও, আখিরাতে কল্যাণ দাও, জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো। সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২০১।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়া সবচেয়ে বেশি পড়তেন।

🌿 ৮. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কমপক্ষে একশবার ইস্তিগফার করুন।

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

▪️আসতাগফিরুল্লাহ।

▪️আল্লাহ বলেছেন, যে বেশি ক্ষমা চায়, তার জন্য রিজিকের দরজা খুলে দেন। সূরা নূহ, আয়াত ১০-১২।

🌿 ৯. প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে সূরা ওয়াকিয়া পড়ুন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়বে, সে কখনো অভাবে পড়বে না। ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত।

একবার হলেও।

🌿 ১০. কষ্টের মাঝেই আছে সহজ।

إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

▪️ইন্না মাআল উসরি ইউসরা।

▪️অর্থ, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই আছে সহজ। সূরা আশ-শারহ, আয়াত ৬।

"সাথে", পরে নয়। কষ্টের ভেতরেই সহজ লুকিয়ে আছে।

🌿 ১১. দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া

হতাশার সময় সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো দোয়া।
রাসূল ﷺ এই দোয়া পড়তে শিক্ষা দিয়েছেন:

আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ

উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজান।"

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
— Sahih al-Bukhari

পোস্টটা সেভ করুন। সিজদায়, তাহাজ্জুদে, ফজরের পর, যখন মনে পড়বে খুলে পড়বেন।

☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে ইসলামিক পেজ কে ফলো দিয়ে রাখুন!

উত্তরপ্রদেশের একজন ইমাম বলছেন, ঈদ বা কুরবানি নিয়ে আলোচনার চেয়ে সরকারের বিধিনিষেধ সম্পর্কে মুসল্লিদের জানাতে হচ্ছে বেশি। ...
28/05/2026

উত্তরপ্রদেশের একজন ইমাম বলছেন, ঈদ বা কুরবানি নিয়ে আলোচনার চেয়ে সরকারের বিধিনিষেধ সম্পর্কে মুসল্লিদের জানাতে হচ্ছে বেশি। মসজিদের বাইরে খোলা মাঠে কিংবা রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না‍। প্রয়োজনে শিফট করে নামাজ পড়তে হবে। কারো সাথে কোনো ঝামেলায় জড়ানো যাবে না। কারো সাথে তর্কবিতর্ক করা যাবে না‍। কারো উস্কানিমূলক কমেন্টে রিপ্লাই দেওয়া যাবে না‍।

লক্ষ্ণৌয়ের একজন ইমাম জানান, ঈদের সময় জায়গার স্বল্পতার কারণে মসজিদের বাইরেও নামাজের কাতার হয়‍। কয়েকমিনিটের জন্য রাস্তা বন্ধ হয়‍। নামাজ শেষ হলেই রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হয়‍। কিন্তু এটুকুও করা যাবে না‍।

প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, পেয়ার সে মানেঙ্গে থেক হ্যায়, নাহি মানেঙ্গে তো দুসরা তারিকা আপনায়েঙ্গে … (যদি তারা ভালোভাবে মানে, তাহলে তো ভালো; যদি না মানে, আমরা অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করব)‍।

অন্য পদ্ধতির মানে কী- সেটা এখানকার মুসলিমরা ভালো করেই জানে‍। একজন মুসলিম যুবক আলজাজিরাকে বলেছেন, গতবছর একটা খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়, এমনকী ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনও আটকে দেওয়া হয়‍।

মিরাটে পুলিশ আগেই ঘোষণা দিয়েছে, কেউ রাস্তায় নামাজ পড়ার চেষ্টা করলে জেলে পাঠানো হবে‍। অবশ্য হোলি উৎসবের সময় এই পুলিশ সদস্যরাই রাস্তা আটকে নাচানাচি করেছিল।

যাই হোক, সমস্যাটা শুধু বাইরে নামাজ পড়া নিয়ে না, মসজিদ বা ঈদগাহে নামাজ পড়লেও সমস্যা‍ আছে। কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে গত আটবছর ধরে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ‍।

পশ্চিমবঙ্গেও একই সমস্যা‍। ওপেন স্পেসে নামাজ পড়া যাবে না‍। কয়েক দশক ধরে কলকাতার বৃহত্তম ঈদের জামায়াত হয় রেড রোডে‍। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ সেখানে নামাজ পড়ে‍। এবছর সেখানে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে‍। বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুমতি নেওয়া হয়েছে‍। সেখানে পালাক্রমে জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে কঠোর পুলিশি পাহারায়‍।

পুরো ভারতে গরু কুরবানি সংক্রান্ত সমস্যা তো বলাই বাহুল্য‍। পশ্চিমবঙ্গে এবার মুসলমানরা গরু কিনতে সাহস করেনি‍। হিন্দু গরু ব্যবসায়ীরাও পড়েছে বিপদে। এই পরিস্থিতিতে ছাগলের দাম ৭৫% পর্যন্ত বেড়ে গেছে‍। কলকাতার বিফ বার্গার রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে‍।

আলজাজিরার রিপোর্ট বলছে, ভারতের মুসলিমরা মোটামুটি নিয়তি মেনে নিয়েছে‍। কেউই কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে চায় না‍। সবাই ভয়ে ভয়ে থাকছে‍। অন্তত বাইরে বের হয়ে যেন অপমানিত হতে না হয়, এটুকুই চাওয়া‍।

হজের মৌসুমে আল্লাহর মেহমানদের মাঝে মাটিতে শুয়ে থাকা এই ব্যক্তিটি হলেন আইভেরিকোস্টের মহামান্য প্রেসিডেন্ট ডক্টর আল-হাসান ...
27/05/2026

হজের মৌসুমে আল্লাহর মেহমানদের মাঝে মাটিতে শুয়ে থাকা এই ব্যক্তিটি হলেন আইভেরিকোস্টের মহামান্য প্রেসিডেন্ট ডক্টর আল-হাসান আবদুর রহমান ওয়াতারা। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে গিয়েছেন। এমনকি প্রথাগত কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী সৌদি রাজকীয় প্রাসাদে অবস্থান করার যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তার জন্য তিনি রাজকীয় দেওয়ানের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায়?
তিনি কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াই এসেছেন। আল-হাসান আইভেরিকোস্টের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তাঁর দেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—সব দিক থেকে স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সে দেশের মাথাপিছু আয় বার্ষিক ৫ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার করেছেন, ফলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হয়েছে, আর তাই তিনি আজ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন। আল্লাহর একজন একনিষ্ঠ বান্দার এই গৌরবোজ্জ্বল ছবি বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর হজ কবুল করুন এবং তাঁকে সকল কল্যাণের তাওফীক দান করুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ছবিটি পুরনো, এটি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৪৪৫ হিজরী) সালের হজ মৌসুমের।

ত্যাগের মহত্তম পরীক্ষা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির গল্প",,ইসলামের ইতিহাসে এবং মানব ইতিহাসের পাতায় ত্যা...
25/05/2026

ত্যাগের মহত্তম পরীক্ষা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির গল্প",,ইসলামের ইতিহাসে এবং মানব ইতিহাসের পাতায় ত্যাগের সবচেয়ে বড় এবং অবিস্মরণীয় ঘটনা হলো হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির ঐতিহাসিক কাহিনী। আজ আমরা যে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালন করি, তা মূলত এই বাবা-ছেলের অসীম ত্যাগেরই এক জীবন্ত স্মৃতিচারণ।
আপনার অনুরোধের আলোকে সেই হৃদয়স্পর্শী সম্পূর্ণ গল্পটি নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

ত্যাগের মহত্তম পরীক্ষা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির গল্প

১. দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক টুকরো চাঁদ
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ছিলেন আল্লাহর এক মহান নবী। দীর্ঘ জীবনের বহু বছর পার হয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। তিনি আল্লাহর দরবারে আকুল হয়ে দোয়া করতেন, "হে প্রভু! আমাকে একটি সৎ ও নেককার সন্তান দান করো।" অবশেষে বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। মা হাজেরার কোল আলোকিত করে জন্ম নিল এক পরম সুন্দর ও বাধ্য সন্তান, যার নাম রাখা হলো 'ইসমাইল'। ইসমাইলকে পেয়ে ইব্রাহিম (আঃ)-এর মরুভূমির জীবনে যেন আনন্দের জোয়ার এল।
২. স্বপ্নের সেই কঠিন নির্দেশ
দেখতে দেখতে ইসমাইল (আঃ) বড় হতে লাগলেন। যখন তাঁর বয়স মাত্র তেরো বছর—যে বয়সে একটি সন্তান পিতার হাঁটাচলা ও কাজের প্রধান সঙ্গী হয়, ঠিক তখনই নেমে এল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা।
জিলহজ মাসের ৮ তারিখ রাতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) স্বপ্নে দেখলেন, মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি ভাবলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তো তাঁর উটগুলো। পরদিন তিনি ১০০টি উট আল্লাহর নামে কোরবানি করে দিলেন। কিন্তু ৯ তারিখ রাতে তিনি আবারও একই স্বপ্ন দেখলেন। এবার তিনি বুঝতে পারলেন, দুনিয়াতে তাঁর কলিজার টুকরা সন্তান ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো বস্তু নেই। আল্লাহ আসলে তাঁর আদরের সন্তানকেই কুরবানি হিসেবে চাচ্ছেন।
৩. পিতা ও পুত্রের ঐতিহাসিক কথোপকথন
১০ জিলহজ সকালে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মিনা প্রান্তরের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। তবে তিনি ছেলেকে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলেন না, বরং তিনি দেখতে চাইলেন আল্লাহর নির্দেশের প্রতি ছেলের মনোভাব কেমন। তিনি ইসমাইল (আঃ) কে ডেকে অত্যন্ত নরম সুরে বললেন:
"হে আমার প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে নিজ হাতে জবেহ (কোরবানি) করছি। এখন এ বিষয়ে তোমার রায় কী, তা আমাকে বলো?"
পিতার মুখে এই ভয়ংকর স্বপ্নের কথা শুনে তেরো বছরের কিশোর ইসমাইল (আঃ) একটুও ভয় পেলেন না, কিংবা জীবন বাঁচানোর কোনো আকুতি করলেন না। বরং তিনি এক ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় উত্তর দিলেন। তিনি বললেন:
"আব্বাজান! আপনাকে আল্লাহ তাআলা যে আদেশ করেছেন, আপনি ঠিক তা-ই করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।"
৪. শয়তানের চক্রান্ত ও মিনার পথে যাত্রা
পিতা ও পুত্র যখন আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য মিনা প্রান্তরের দিকে রওনা হলেন, তখন ইবলিস শয়তান চরম হিংসায় মেতে উঠল। সে ভাবল, এই কোরবানি যদি সফল হয়ে যায়, তবে ইব্রাহিম ও ইসমাইল আল্লাহর কাছে অমর হয়ে যাবেন।
শয়তান প্রথমে মা হাজেরার কাছে গিয়ে ফুসলাতে লাগল, "তুমি কেমন মা? তোমার স্বামী তোমার একমাত্র সন্তানকে জবাই করতে নিয়ে যাচ্ছে!" মা হাজেরা উত্তর দিলেন, "যদি এটি আমার রবের নির্দেশ হয়ে থাকে, তবে আমার জান-মাল সবকিছুই তাঁর জন্য উৎসর্গ।"
এরপর শয়তান ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাইল (আঃ) কে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করল। ইসমাইল (আঃ) রাগান্বিত হয়ে মাটি থেকে পাথর তুলে শয়তানকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলেন। (আজও হজের সময় হাজিরা যে জামারাত বা শয়তানকে পাথর মারেন, তা ইসমাইল (আঃ)-এর সেই ঘটনারই সুন্নাহ)। চক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে শয়তান অপমানিত হয়ে পালিয়ে গেল।
৫. ছুরির নিচে জবেহ ও অলৌকিক মহিমা
অবশেষে মিনার এক নির্জন স্থানে বাবা ও ছেলে এসে দাঁড়ালেন। ইসমাইল (আঃ) পিতাকে বললেন, "আব্বাজান! আপনি আমার হাত-পা ভালো করে বেঁধে নিন, যেন ব্যথার চোটে আমি নড়াচড়া না করি। আর আপনার চোখ দুটি কাপড় দিয়ে বেঁধে নিন, যেন ছেলের ছটফটানি দেখে পিতা হিসেবে আপনার হাত কেঁপে না ওঠে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনে কোনো কমতি না হয়।"
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নিজের চোখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধলেন। পরম আদরের সন্তানকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে তাঁর গলায় ধারালো ছুরি চালালেন। আনুগত্য আর ভালোবাসার এক চরম মুহূর্ত!
কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু। তিনি ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানি করার মানসিকতা ও ইখলাস দেখতে চেয়েছিলেন, ইসমাইলের রক্ত নয়। জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ জান্নাত থেকে একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন এবং ইসমাইলকে সরিয়ে সেই জায়গায় দুম্বাটি রেখে দিলেন।
৬. চোখ খুলে বিস্ময়
কোরবানি শেষ করে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন চোখের কাপড় খুললেন, তখন তিনি বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন! তিনি দেখলেন, তাঁর চোখের সামনে অলৌকিকভাবে একটি দুম্বা জবেহ হয়ে পড়ে আছে, আর তাঁর অক্ষত, প্রাণপ্রিয় সন্তান ইসমাইল পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছেন!
আসমান থেকে আওয়াজ এল, "হে ইব্রাহিম! তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছ। আমি আমার নেককার বান্দাদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।"
গল্পের অমূল্য শিক্ষা:
চূড়ান্ত আনুগত্য: আল্লাহর যেকোনো নির্দেশের সামনে নিজের যৌক্তিকতা বা আবেগ বিসর্জন দিয়ে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করাই হলো প্রকৃত ইমান।
ধৈর্য ও ইখলাস: বাবা ও ছেলের এই আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় যে, কোরবানি মানে পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও তাকওয়াই আল্লাহর দরবারে পৌঁছায়।
কোরবানির মূল চেতনা: প্রতি বছর পশু কোরবানির মাধ্যমে মুমিন বান্দারা মূলত এই শপথই নেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারা তাদের জীবনের যেকোনো প্রিয় বস্তু এবং নিজেদের ভেতরের পশুবৃত্তিকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত।

ত্যাগের মহত্তম পরীক্ষা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির গল্প",,ইসলামের ইতিহাসে এবং মানব ইতিহাসের পাতায় ত্যাগের সবচেয়ে বড় এবং অবিস্মরণীয় ঘটনা হলো হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির ঐতিহাসিক কাহিনী। আজ আমরা যে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালন করি, তা মূলত এই বাবা-ছেলের অসীম ত্যাগেরই এক জীবন্ত স্মৃতিচারণ।
আপনার অনুরোধের আলোকে সেই হৃদয়স্পর্শী সম্পূর্ণ গল্পটি নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

ত্যাগের মহত্তম পরীক্ষা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর কোরবানির গল্প

১. দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক টুকরো চাঁদ
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ছিলেন আল্লাহর এক মহান নবী। দীর্ঘ জীবনের বহু বছর পার হয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। তিনি আল্লাহর দরবারে আকুল হয়ে দোয়া করতেন, "হে প্রভু! আমাকে একটি সৎ ও নেককার সন্তান দান করো।" অবশেষে বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। মা হাজেরার কোল আলোকিত করে জন্ম নিল এক পরম সুন্দর ও বাধ্য সন্তান, যার নাম রাখা হলো 'ইসমাইল'। ইসমাইলকে পেয়ে ইব্রাহিম (আঃ)-এর মরুভূমির জীবনে যেন আনন্দের জোয়ার এল।
২. স্বপ্নের সেই কঠিন নির্দেশ
দেখতে দেখতে ইসমাইল (আঃ) বড় হতে লাগলেন। যখন তাঁর বয়স মাত্র তেরো বছর—যে বয়সে একটি সন্তান পিতার হাঁটাচলা ও কাজের প্রধান সঙ্গী হয়, ঠিক তখনই নেমে এল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা।
জিলহজ মাসের ৮ তারিখ রাতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) স্বপ্নে দেখলেন, মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি ভাবলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তো তাঁর উটগুলো। পরদিন তিনি ১০০টি উট আল্লাহর নামে কোরবানি করে দিলেন। কিন্তু ৯ তারিখ রাতে তিনি আবারও একই স্বপ্ন দেখলেন। এবার তিনি বুঝতে পারলেন, দুনিয়াতে তাঁর কলিজার টুকরা সন্তান ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো বস্তু নেই। আল্লাহ আসলে তাঁর আদরের সন্তানকেই কুরবানি হিসেবে চাচ্ছেন।
৩. পিতা ও পুত্রের ঐতিহাসিক কথোপকথন
১০ জিলহজ সকালে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মিনা প্রান্তরের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। তবে তিনি ছেলেকে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলেন না, বরং তিনি দেখতে চাইলেন আল্লাহর নির্দেশের প্রতি ছেলের মনোভাব কেমন। তিনি ইসমাইল (আঃ) কে ডেকে অত্যন্ত নরম সুরে বললেন:
"হে আমার প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে নিজ হাতে জবেহ (কোরবানি) করছি। এখন এ বিষয়ে তোমার রায় কী, তা আমাকে বলো?"
পিতার মুখে এই ভয়ংকর স্বপ্নের কথা শুনে তেরো বছরের কিশোর ইসমাইল (আঃ) একটুও ভয় পেলেন না, কিংবা জীবন বাঁচানোর কোনো আকুতি করলেন না। বরং তিনি এক ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় উত্তর দিলেন। তিনি বললেন:
"আব্বাজান! আপনাকে আল্লাহ তাআলা যে আদেশ করেছেন, আপনি ঠিক তা-ই করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।"
৪. শয়তানের চক্রান্ত ও মিনার পথে যাত্রা
পিতা ও পুত্র যখন আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য মিনা প্রান্তরের দিকে রওনা হলেন, তখন ইবলিস শয়তান চরম হিংসায় মেতে উঠল। সে ভাবল, এই কোরবানি যদি সফল হয়ে যায়, তবে ইব্রাহিম ও ইসমাইল আল্লাহর কাছে অমর হয়ে যাবেন।
শয়তান প্রথমে মা হাজেরার কাছে গিয়ে ফুসলাতে লাগল, "তুমি কেমন মা? তোমার স্বামী তোমার একমাত্র সন্তানকে জবাই করতে নিয়ে যাচ্ছে!" মা হাজেরা উত্তর দিলেন, "যদি এটি আমার রবের নির্দেশ হয়ে থাকে, তবে আমার জান-মাল সবকিছুই তাঁর জন্য উৎসর্গ।"
এরপর শয়তান ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাইল (আঃ) কে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করল। ইসমাইল (আঃ) রাগান্বিত হয়ে মাটি থেকে পাথর তুলে শয়তানকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলেন। (আজও হজের সময় হাজিরা যে জামারাত বা শয়তানকে পাথর মারেন, তা ইসমাইল (আঃ)-এর সেই ঘটনারই সুন্নাহ)। চক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে শয়তান অপমানিত হয়ে পালিয়ে গেল।
৫. ছুরির নিচে জবেহ ও অলৌকিক মহিমা
অবশেষে মিনার এক নির্জন স্থানে বাবা ও ছেলে এসে দাঁড়ালেন। ইসমাইল (আঃ) পিতাকে বললেন, "আব্বাজান! আপনি আমার হাত-পা ভালো করে বেঁধে নিন, যেন ব্যথার চোটে আমি নড়াচড়া না করি। আর আপনার চোখ দুটি কাপড় দিয়ে বেঁধে নিন, যেন ছেলের ছটফটানি দেখে পিতা হিসেবে আপনার হাত কেঁপে না ওঠে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনে কোনো কমতি না হয়।"
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নিজের চোখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধলেন। পরম আদরের সন্তানকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে তাঁর গলায় ধারালো ছুরি চালালেন। আনুগত্য আর ভালোবাসার এক চরম মুহূর্ত!
কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু। তিনি ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানি করার মানসিকতা ও ইখলাস দেখতে চেয়েছিলেন, ইসমাইলের রক্ত নয়। জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ জান্নাত থেকে একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন এবং ইসমাইলকে সরিয়ে সেই জায়গায় দুম্বাটি রেখে দিলেন।
৬. চোখ খুলে বিস্ময়
কোরবানি শেষ করে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন চোখের কাপড় খুললেন, তখন তিনি বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন! তিনি দেখলেন, তাঁর চোখের সামনে অলৌকিকভাবে একটি দুম্বা জবেহ হয়ে পড়ে আছে, আর তাঁর অক্ষত, প্রাণপ্রিয় সন্তান ইসমাইল পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছেন!
আসমান থেকে আওয়াজ এল, "হে ইব্রাহিম! তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছ। আমি আমার নেককার বান্দাদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।"
গল্পের অমূল্য শিক্ষা:
চূড়ান্ত আনুগত্য: আল্লাহর যেকোনো নির্দেশের সামনে নিজের যৌক্তিকতা বা আবেগ বিসর্জন দিয়ে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করাই হলো প্রকৃত ইমান।
ধৈর্য ও ইখলাস: বাবা ও ছেলের এই আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় যে, কোরবানি মানে পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও তাকওয়াই আল্লাহর দরবারে পৌঁছায়।
কোরবানির মূল চেতনা: প্রতি বছর পশু কোরবানির মাধ্যমে মুমিন বান্দারা মূলত এই শপথই নেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারা তাদের জীবনের যেকোনো প্রিয় বস্তু এবং নিজেদের ভেতরের পশুবৃত্তিকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত।

__ সংগৃহীত

👉 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে ইসলামিক পেজকে ফলো দিয়ে রাখুন!

খুব কাছ থেকে কিছু ফ্যামিলি দেখেছি, যারা তাদের বাবাকে প্রচন্ড অপছন্দ করে। এর কারণ হিসেবে খেয়াল করলাম, সেই বাবাদের সাথে তা...
16/05/2026

খুব কাছ থেকে কিছু ফ্যামিলি দেখেছি, যারা তাদের বাবাকে প্রচন্ড অপছন্দ করে। এর কারণ হিসেবে খেয়াল করলাম, সেই বাবাদের সাথে তাদের মায়ের সম্পর্ক তেমন ভালো নয়। সত্যি বলতে, একটা বাচ্চা বাবাকে ভালোবাসতে শেখে মায়ের চোখ দিয়েই।

মা যখন ভালো থাকে, নিরাপদ থাকে, বাচ্চা সেই পরিবেশে বাবাকে হিরো বানায়। আর বাচ্চার মা যদি প্রতিদিন চোখ মুছে, ধমক-গালি খায়, বাচ্চারা সব দেখে এবং মনে রাখে। এইসব সন্তানেরা বড় হওয়ার পর বেশিরভাগই দূরত্ব বেড়ে যায় বাবার সাথে। এমনকি অবাধ্য সন্তানের পেছনেও এটা এক প্রকার বাস্তবতা। দেখবেন, এসব পরিবারের ছেলে সন্তান একটু বড় হলেই বাবাকে চ্যালেঞ্জ করে। মূলত এটা একটা ভাঙা সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিণতি।

তাই আমি সবসময় ভাইদের বলি, সন্তান মানুষ করতে চাইলে তার মাকেও ভালো রাখুন। নয়তো একদিন অবাক হয়ে আবিষ্কার করবেন, সন্তান পাশে নেই।

Address

Dubai
9440

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when My Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share