Zakir Hossain Foundation

Zakir Hossain Foundation Zakir Hossain Foundation starting 2011 in Bangladesh and Dubai.

কুরবানী সম্পর্কে যাবতীয় সকল মাসয়ালা:-০১. কার উপর কুরবানী ওয়াজিব ? উঃ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলি...
09/05/2026

কুরবানী সম্পর্কে যাবতীয় সকল মাসয়ালা:-

০১. কার উপর কুরবানী ওয়াজিব ?
উঃ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২।

ফতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দে রয়েছে,
"قربانی ہر اس مسلمان عاقل بالغ مقیم پر واجب ہے جس کے پاس حاجت اصلیہ سے زائد نصاب کے بقدر مال ہو، چاہے سونا چاندی ہو یا نقدی یا مال تجارت۔ نصاب چاندی کا اعتبار کیا جائے گا جو 612 گرام 36 ملی گرام ہے۔"*

প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ মাল থাকলে কুরবানী ওয়াজিব। নেসাব রূপার হিসাবে ৬১২.৩৬ গ্রাম।
[ফতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ, জি: ৬, স: ৩১০]।

সেই হিসেবে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার মালিক হলেই কুরবানী ওয়াজিব। এটাই আজকের সঠিক হিসাব।

বিঃ দ্রঃ একাক এলাকায় একাক দাম। তাই দাম কম বেশি হতে পারে। তাই নিকটস্থ কোন জুয়েলার্সে গিয়ে সঠিক ভালো করে জেনে নিবেন।

০২. নিসাবের মেয়াদ কত দিন?
উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

০৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম?
উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।

০৪. যদি নাবালেগ ছেলের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ না।

০৫. বালেগ কিন্তু সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন নয় তবে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ না।

০৬. যদি নাবালেগের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি?
উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না।

০৭. দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে
তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।

০৮. কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে?

উঃ একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে ন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য।
কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া।

আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের টাকা থেকে কম হয়, তাহলে গোশত সহ যতো টাকার গোশত কম হয়েছে পুরোটাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন, ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে, গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।

০৯. প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?
উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।

১০. রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?
উঃ ১০, ১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।

১১. কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?
উঃ- গরু, উট, মহিষ, দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া।

১২. পশু দের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?
উঃ- না, পুরুষও মহিলা উভয় দিয়ে হবে।

১৩. পশুর বয়স সীমা কত?
উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর
ভেড়া, দুম্বা ছাগল ১ বছর।
ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয়
যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে।
তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবে হবে না।

১৪. শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?
উঃ উট, গরু,মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন কমে হলে সমস্যা নেই, তবে একা দেওয়া উত্তম। ছাগল, দুম্বা, ভেড়াতে একজন।

১৫. গোশত ভাগে কম বেশি হলে?
উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে?
উঃ কারো কুরবানী হবে না।

১৭. কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে?
উঃ হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে।

১৮. শরীকদার-দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয়, তাহলে কি কুরবানী হবে?
উঃ না না না! কারো কুরবানী হবে না।

১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানী নিয়তে কিনার অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?
উঃ ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব, তবে গরিব ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।

২০. কোন ধরনের পশু নির্বাচন করা উত্তম?
উঃ রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।

২১. যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে?
উঃ না।

২২. রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ না।

২৩. দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ একটা দাত নেই এটা কোন ভাবেই হবে না, অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারা কুরবানী হবে না।

২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?
উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে।
তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধে হলেও হবে।

২৫. লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?
উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না। তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।

২৬. অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃনা তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।

২৭. কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?
উঃ ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
এবং গরিব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না
তবে কিনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে।

আর গরিব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটাই দিতে হবে।
দুটাই দেওয়া তখন ওয়াজিব।

২৮. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?
উঃ হ্যাঁ, গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। (কাযীখান ৩/৩৫০)

২৯. পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?
উঃ বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে।

৩০. জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?
উঃ সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!

৩১. পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয় না তখন করনীয় কি?
উঃ এই পশু ধারা কুরবানী হবে না।
তবে এখানে গরিব ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে
ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।

৩২. আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে?
উঃ হ্যাঁ হবে, তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।

৩৩. পশু কোথায় জবাই করা উত্তম?
উঃ যেখানে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশংকা কম থাকে।

৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম?
উত্তমঃ নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম।

৩৫. বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?
উঃ- হ্যা হবে।

৩৬. অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয়নি আবার অন্যজন অস্ত্র হাতে নিয়ে রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, জায়েজ আছে। তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার না বললে কুরবানী হবে না।একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে।

৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?
উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।

৩৮. কুরবানীর পশু দ্বারা কেউ হাল চাষ করে ফেললে সেক্ষেত্রে করনীয় কি?
উঃ অন্য পশু দ্বারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।

৩৯. কুরবানির পশুর,দুধ পান করা যাবে কি?
উঃ না।

৪০. যদি পশুর জবাইর আগে এমন হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে তাহলে করনীয় কি?
উঃ সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে.
ভুলে খেয়ে ফেললে যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।

৪১. পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবে?
উঃ তার ওয়ারিশরা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে
করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে।
তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।

৪২. জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?
উঃ ঐ বাচ্চা জীবিত সদকা করে দিতে হবে।
সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।
এখানে জবাই করা বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনে খেতে পারবেন না।

৪৩. মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?
উঃ হ্যাঁ, করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে। উছিয়ত না করলে আপনে খেতে পারবেন।

৪৪. তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?
উঃ হ্যা রাখা যাবে যতো দিন ইচ্ছে!

৪৫. অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?
উঃ না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে।

৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)
উঃ হ্যাঁ, হবে তবে সেটা বড় কৃপনতার পরিচয়।

৪৭. গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?
উঃ না।

৪৮. জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?
উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।

৪৯. জবাই করার অস্ত্র কেমন হতে হবে?
উঃ দাড়ালো হওয়া উত্তম।

৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?
উঃ নিস্তেজ হওয়ার পর পশু।

৫১. এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?
উঃ যাবে তবে ঠিক না নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন?

৫২. কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?
উঃ হ্যাঁ, তাতে কোন সমস্যা নেই।

৫৩. পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?
উঃ ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
গরিব হলে লাগবে না।

৫৪. মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?
উঃ না।

৫৫. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়?
উঃ ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।

৫৬. কুরবানী গোশত খাওয়া কি?
উঃ মুস্তাহব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম।

৫৭. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?
উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না।

৫৮. হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না।

৫৯. পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?
উঃ- না।

৬০. নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?
উঃ উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য।
এটার গোশত সবায় খেতে পারবে।

৬১. খাসিকৃত পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ হ্যাঁ যাবে

৬২. বিদেশে অবস্থানে ব্যক্তির করনীয় কি?
উঃ উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে

৬৩. পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?
উঃ হ্যা, তবে বিক্রি করলে টাকা সদকা করতে হবে।

৬৪. জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?
উঃ উত্তম, হাদিয়া দেওয়া।

৬৫. কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?
উঃ যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না।

৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা যাবে।
আল্লাহ সকলকে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন।

হঠাৎ করেই আল্লাহর থেকে দূরত্ব অনুভব করছেন ?তাহলে এই সিম্পল চেক-লিস্টটা ফলো করুন:-01. আজকে আমি কি আমার ৫ ওয়াক্ত নামাযে অব...
09/05/2026

হঠাৎ করেই আল্লাহর থেকে দূরত্ব অনুভব করছেন ?

তাহলে এই সিম্পল চেক-লিস্টটা ফলো করুন:-
01. আজকে আমি কি আমার ৫ ওয়াক্ত নামাযে অবহেলা করছি?
02. কুরআনের সাথে আমার সম্পর্ক কি কমে গেছে?
03. দুআ কি শুধু বিপদে পড়লেই করছি, নাকি স্বাভাবিক সময়েও রবের সাথে কথা বলছি?
04. গুনাহকে কি ছোট ভেবে বারবার করেই যাচ্ছি?
05. এমন কোন বিষয় কি আছে, যা আমার হৃদয়কে ধীরে ধীরে আরও কঠিন করে দিচ্ছে?
06. দুনিয়ার ব্যস্ততা কি আমার আখিরাতের চিন্তাকে ঢেকে ফেলছে?
07. নেককার মানুষদের সোহবত কি আমার জীবন থেকে কমে গেছে?
08. আমি কি খুব বেশি স্ক্রিন, গান, অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট বা বিভ্রান্তিতে ডুবে আছি?
09. আমি কি বার বার তওবা করা কি পিছিয়ে দিচ্ছি এই ভেবে-“আরেকটু পরেই আমি ঠিক হয়ে যাব”?
10. আমি কি এখনো বিশ্বাস করি যে, আমি সৎ বান্দা হিসেবে আল্লাহর কাছে ফিরে গেলে আল্লাহ হারানো উট খুঁজে পাওয়ার মতই খুশি হবেন?

যদি এমনটা হয়ে থাকে, আশা হারাবেন না! আল্লাহর সাথে আনার দূরত্ব।

এবার এই ১০টি অ্যাকশন প্ল্যান হাতে নিন:-

01. আজকের নামায ঠিক করুন:-
কাজা, অবহেলা, তাড়াহুড়া যেটাই থাকুক না কেন, আজ থেকেই নামাযকে আবার গুরুত্ব দিন। আল্লাহর নৈকট্যের প্রথম দরজাগুলোর একটি হলো সালাহ।

02. প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পড়ুন:-
এক পৃষ্ঠা, অর্ধেক পৃষ্ঠা, বা শুধু কয়েকটি আয়াত! তবুও পড়ুন। কুরআনের সাথে সম্পর্ক ফিরলে হৃদয়ের ভেতর আলো ফিরতে শুরু করে।

03. প্রতিদিন নিজের ভাষায় দুআ করুন:-
শুধু মুখস্থ দুআ নয়, নিজের কষ্ট, শূন্যতা, ভয়, গুনাহ সবকিছুই খুলে বলুন আল্লাহকে। দূরত্ব কমানোর সবচেয়ে সহজ পথগুলোর একটি হলো আন্তরিক দুআ।

04. তাৎক্ষণিক তওবা শুরু করুন:-
যে গুনাহটা বারবার হচ্ছে, সেটাকে হালকা ভাববেন না। আজকে, এখনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং অন্তত সেই পথে যাওয়ার একটি দরজা বন্ধ করুন।

05. একটি হারাম বা বিভ্রান্তিকর অভ্যাস কমিয়ে দিন:-
হোক সেটা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং, গান, খারাপ কনটেন্ট, বা সময় নষ্ট করা- অন্তত একটি জিনিস চিহ্নিত করে কমিয়ে ফেলুন।

06. সকাল ও সন্ধায়র যিকিরে নিয়মিত ফিরে যান:
অল্প হলেও নিয়মিত যিকির শুরু করুন। হৃদয় যখন শুকিয়ে যায়, যিকির তখন তাকে আবার নরম করতে সাহায্য করে।

07. নেককার মানুষের সোহবত খুঁজুন
ভালো বন্ধু, ইসলামী আলোচনা, হালাকাহ, বা উপকারী কোনো বোনের সঙ্গ-ঈমান টিকিয়ে রাখতে সৎ সঙ্গ খুবই জরুরি।

08. প্রতিদিন ৫ মিনিট নিজের হিসাব নিন
আজকে আমি কী করেছি, কোথায় ভুল করেছি, কোথায় আল্লাহকে ভুলে গেছি, কোথায় আল্লাহকে স্মরণ করেছি-এই আত্মপর্যালোচনা হৃদয়কে জাগিয়ে রাখে।

09. একটি ভালো কাজ গোপনে করুন
চুপিচুপি সদকা করুন, কারো উপকার করুন, কারো জন্য দুআ করুন- গোপন আমল বান্দা ও রবের সম্পর্ককে খুব সুন্দর করে।

10. নতুন করে শুরু করার নিয়ত করুন:-
গতকাল যেমনই হোক, আজকেই আপনি আবার ফিরতে পারেন।

আল্লাহর দরজা এখনো খোলা যতক্ষণ না তাওবার দরজা বন্ধ হচ্ছে, এই বিশ্বাস নিয়েই নতুন শুরু করুন।

আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য বড় কিছু দিয়ে শুরু করতে হয় না।

বরং এই ছোট ছোট ধারাবাহিক আমলই একসময় হৃদয়কে আবার জীবন্ত করে তোলে।

ইকামতের সময় মুসল্লিগণ কখন দাঁড়াবেন:- ?মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন:- حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ و...
24/04/2026

ইকামতের সময় মুসল্লিগণ কখন দাঁড়াবেন:- ?

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন:-
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
অর্থাৎ, সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।
(সূরা বাকারাঃ ২৩৮)।
রাসূলাল্লাহ [ﷺ] কে দেখার পূর্বে দাঁড়াতে নিষেধ হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম [ﷺ] ইরশাদ ফরমায়েছেনঃ
وَعَنْ اَبِى قَتَادَة قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتّى تَرَوْنِي قَدْ خَرَجْتُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন সলাতের জন্য ইক্বামাত দেয়া হবে, তোমরা আমাকে বের হয়ে আসতে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।

📚 ১) সহীহ বুখারী
📖 كِتَابُ الْأَذَانِ
📌 بَابُ مَتَى يَقُومُ النَّاسُ إِلَى الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস নং: ৬৩৫ / ৬৪২ (সংস্করণভেদে ভিন্ন)
📚 ২) সহীহ মুসলিম
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ مَتَى يَقُومُ النَّاسُ إِلَى الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস নং: ৬০৫ (বা ৬০৭)
📚 ৩) সুনানে আবূ দাউদ
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ فِي الْقِيَامِ إِلَى الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস নং: ৫৩৯ / ৫৪০
📚 ৪) সুনানে তিরমিজি
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ مَا جَاءَ فِي الْقِيَامِ إِلَى الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস নং: ৪০২
📚 ৫) সুনানে নাসাঈ
📖 كِتَابُ الْإِمَامَةِ
📌 بَابُ مَتَى يَقُومُ النَّاسُ إِلَى الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস নং: ৮৭০
📚 ৬) মুসনাদ আহমদ
📖 مَسْنَدُ أَبِي قَتَادَة
📌 হাদীস: ২২৭৬০ (আনুমানিক নম্বর)
📚 ৭) সহীহ ইবন হিব্বান
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ الْقِيَامِ إِلَى الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস নং: ২০১৫ (বা নিকটবর্তী সংস্করণ)

সহীহ:
সহীহ বুখারী — হাদীস নং ৬৩৭
সহীহ মুসলিম — হাদীস নং ৬০৪
✔ সুনান গ্রন্থসমূহ:
সুনানে আবূ দাউদ — হাদীস নং ৫৩৯
সুনানে নাসাঈ — হাদীস নং ৬৮৭
সুনানে তিরমিজি — হাদীস নং ৫৯২
মুসনাদ আহমদ — হাদীস নং ২২৫৩৩
সুনানে দারেমী — হাদীস নং ১২৯৬
✔ অন্যান্য উৎস:
সহীহ আল-জামি‘ — হাদীস নং ৩৭০
মিশকাতুল মাসাবীহ — হাদীস নং ৬৮৭


হাদিস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতিয়মান হয়ঃ
(১) প্রিয় নবীজী [ﷺ] ইকামত শুরু হওয়ার পর হুজরা মোবারক থেকে বের হতেন।
(২) হুজুর [ﷺ] বেরিয়ে আসার পূর্বে মুসল্লিদের দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন।
(৩) ইকামতে দাঁড়ানোর বিষয়টি ইমামের সাথে সম্পৃক্ত।
প্রকাশ থাকে যে, প্রিয় নবীজী [ﷺ]'র হুজরা মোবারক মসজিদে নববী'র মেহরাবের অতি নিকটবর্তী ছিল। অতি সামান্য ব্যবধানেই তিনি মেহরাবে তাশরীফ নিতেন।
[(ক) আবূ দাউদ; খন্ড-০১, পৃ.১৪৮, হাদীস: ৫৩৯, ৫৪০;(খ) তিরমিযী; খন্ড-০২, পৃ.৪৮৭, হাদীস: ৫৯২;
(গ) নাসাঈ; খন্ড-২, হাদীস: ৬৮৭;(ঘ) সহীহ ইবনু হিব্বান; খন্ড-৫, পৃ.৬০১, হাদীস:২২২৩
(ঙ) শুয়াবুল ঈমান; খন্ড-২, পৃ.২০, হাদীস: ২১২০;(চ) সহীহ মুসলিম; খন্ড-০১, পৃ.৪২২, হাদীস: ৬০৪]
।রাসূলাল্লাহ [ﷺ] হুজরা শরীফ থেকে ইকামতের কোন মুহূর্তে মেহরাবে আসতেনঃ
__________________এ ব্যাপারে মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) "মিরকাতুল মাফাতীহ" গ্রন্থে লিখেনঃ
لَعَلَّه عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كَانَ يَخْرُجُ مِنَّا الْحُجْرَة بَعْد شُرُوعٌ المؤزن فِي الْإِقَامَةِ وَيَدْخُلُ فِي محرب الْمَسْجِدِ عِنْدَ قَوْلِهِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ .
"আর সম্ভবত নবী করিম [ﷺ] হুজরা শরীফ থেকে বের হতেন মুয়াজ্জিন ইকামত শুরু করার পর এবং 'হাইয়্যা আলাছ ছালাহ' বলার সময় তিঁনি মেহরাবে প্রবেশ করতেন।" [মিরকাতুল মাফাতীহ লিল মোল্লা আলী ক্বারী]নবী করিম [ﷺ] ইকামত বলা শুরু করার পরই হুজরা শরীফ থেকে বের হতেন এবং তাঁকে দেখার পূর্বে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং হাদীসের মাধ্যমে বুঝা গেল ইকামতের পূর্বে দাঁড়ানো নিষেধ।
২। ইকামতের পূর্বে না পরে কাতার সোজা করবেনঃ
وَعَن أنس قَالَ: أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. وَفِي الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ قَالَ: «أَتِمُّوا الصُّفُوف فَإِنِّي أَرَاكُم من وَرَاء ظَهْري»

অর্থাৎঃ খাদেমে রাসূল হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নামাযের ইকামত হয়ে গেছে। অতঃপর প্রিয় রাসূল [ﷺ] আমাদের দিকে সামনা-সামনি হয়ে ফিরে গেলেন এবং বললেনঃ তোমাদের কাতার বা লাইনসমূহ সোজা কর এবং একে অন্যের সাথে লাগিয়ে মিলিয়ে দাঁড়াও। কেননা নিশ্চয়ই আমি আমার পিছনের দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই।" [বুখারী শরীফ; ১ম খন্ড, পৃ.১০০, হাদীস: ৭১৯]
[1] সহীহ : বুখারী ৭১৮, ৭১৯, মুসলিম ৪৩৪।মিশকাতুল মাসাবিহ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ১০৮৬

📚 ১) সহীহ বুখারী
📖 كِتَابُ الْأَذَانِ
📌 بَابُ اسْتِقْبَالِ الْإِمَامِ الْقَوْمَ وَتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস নং: ৭১৯ / ৭৪১ (সংস্করণভেদে)
✔ অংশ:
«أقيموا صفوفكم وتراصوا فإني أراكم من وراء ظهري»
📚 ২) সহীহ মুসলিম (মুতাফাক্ব আলাইহি)
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ وَإِقَامَتِهَا
🔢 হাদীস নং: ৪৩৫ / ৪৩৬
✔ অংশ:
«أتموا الصفوف فإني أراكم من وراء ظهري»
📚 ৩) সুনানে আবূ দাউদ
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস নং: ৬৬১–৬৬৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ‏ "‏ أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي ‏"‏‏.‏ وَكَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ‏.‏
৩।আনাস (রাঃ)নবী (ﷺলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে নাও। কেননা, আমি আমার পিছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই। আনাস (রাঃ) বলেন আমাদের মধ্যে একজন তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ মিলাচ্ছেন এবং পায়ের সাথে পা মিলাচ্ছেন।।সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২৫ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

বর্ণিত হাদিস থেকে বুঝা গেল, ইকামত বলার পূর্বে না দাঁড়ানো, তাকবীরে তাহরীমা'র পূর্বে (ইকামতের পূর্বে নয়) কাতার সোজা করা, এবং পিছনের দিক থেকেও অদৃশ্যে জ্ঞানের বদৌলতে মুসল্লিগণের রুকু, সিজদা এমনকি অন্তরের অবস্থা পর্যন্ত প্রিয় নবী [ﷺ] দেখতেন। আমরা কিন্তু দেখিনা তাহলে বুঝা গেল নবী আমাদের মত না। [বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড, ২৬৩ পৃষ্ঠার ৮টি হাদিস, মিশকাত শরীফ, ১১১ পৃ. এবং ১৭৯ পৃ.]

সুতরাং প্রমাণিত হয়ে গেল, ইকামত শুরু করার পূর্বে কাতার সোজা করার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে যাওয়া খেলাফে সুন্নাত। বরং ইকামত দেওয়ার পর কাতার সোজা করার কথা বলা হয়েছে।
إذا اقيمتِ الصَّلَاةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ بِوَجْهِه فَقَالَ: «أَقِيْمُوْا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوْا فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِيْ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. وَفِي الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ قَالَ: أَتِمُّوا الصُّفُوْفَ فَإِنِّي أَرَاكُم مِنْ وَرَاء ظَهْرِيْ
৪।আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, একদা সলাতের ইক্বামাত দেয়া হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দিকে চেহারা ফিরালেন এবং বললেন, নিজ নিজ কাতার সোজা করো এবং পরস্পর গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়াও! নিশ্চয় আমি আমার পেছনের দিক হতেও তোমাদেরকে দেখতে পাই।
(বুখারী; বুখারী ও মুসলিমের মিলিত বর্ণনা হলো, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের কাতারগুলোকে পূর্ণ করো। আমি আমার পেছনের দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই।) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭১৮, ৭১৯, মুসলিম ৪৩৪।হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
কিতাব ও পরিচ্ছেদসহ দেওয়া হলো—
📚 ১) সহীহ বুখারী
📖 كِتَابُ الْأَذَانِ
📌 بَابُ اسْتِقْبَالِ الْإِمَامِ الْقَوْمَ إِذَا أَقَامَ الصَّلَاةَ وَأَمْرِهِ بِتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস: ৭১৯ (বা ৭২৩)
📚 ২) সহীহ মুসলিম
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ وَإِقَامَتِهَا
🔢 হাদীস: ৪৩৬ / ৪৪৩ (সংস্করণভেদে পার্থক্য আছে)
📚 ৩) সহীহ বুখারী (অন্য রেওয়ায়েত)
📖 كِتَابُ الْأَذَانِ
📌 بَابُ رُؤْيَةِ النَّبِيِّ ﷺ مَنْ خَلْفِهِ فِي الصَّلَاةِ
🔢 হাদীস: ৭৪১
📚 ৪) সহীহ মুসলিম (মুতাফাক্ব আলাইহি অংশ)
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ أَمْرِهِ ﷺ بِتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস: ৪৩৫
📚 ৫) সুনানে আবূ দাউদ
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস: ৬৬১–৬৬৫ (সংস্করণভেদে)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَقُولُ عَنْ يَمِيْنِه: «اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ» . وَعَنْ يَسَارِه : «اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
৫।আনাস (রাঃ)তিনি বলেন, (সলাত শুরু করার পূর্বে) রসূলুল্লাহﷺপ্রথমে তাঁর ডানপাশে ফিরে বলতেন, ‘ঠিক হয়ে দাঁড়াও, কাতারগুলোকে সোজা করো’। তারপর তাঁর বামপাশে ফিরেও বলতেন, ঠিক হয়ে দাঁড়াও, কাতারগুলোকে সোজা করো। (আবূ দাঊদ) [১]মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১০৯৮
সুনানে আবূ দাউদ
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস নং: ৬৬২ (কিছু সংস্করণে ৬৬০–৬৬৪ এর মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُوْلُ: اسْتَوُوا اسْتَوُوا اسْتَوُوا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِه إِنِّي لَأَرَاكُمْ من خَلْفي كَمَا أَرَاكُم مِنْ بَين يَدَيَّ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
৬।আনাস (রাঃ)তিনি বলেন, রসূলূল্লাহﷺ (ইরশাদ করতেন : তোমরা সলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তোমরা সলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তোমরা সলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। আমার জীবন যার হাতে নিহিত তাঁর কসম করে বলছি, আমি তোমাদেরকে সামনে যেমন দেখতে পাই পেছনেও তদ্রূপ দেখতে পাই। (আবূ দাঊদ) [মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১১০০হাদিসের মান: সহিহ হাদি
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَين المنكاكب وَسُدُّوا الْخَلَلَ وَلِينُوا بِأَيْدِي إِخْوَانِكُمْ وَلَا تَذَرُوا فرجات للشَّيْطَان وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللّهُ وَمَنْ قَطَعَهُ قطعه الله-رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ مِنْهُ قَوْلَه:وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا» . إِلى آخِرِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)তিনি বলেন, রসূলুল্লাহﷺ (ইরশাদ করেছেন : তোমরা সলাতের কাতার সোজা রাখবে। কাঁধকে সমান করো। কাতারের খালি স্থান পুরা করো। নিজেদের ভাইদের হাতে নরম থাকবে। কাতারের মধ্যে শয়তান দাঁড়াবার কোন খালি স্থান ছেড়ে দেবে না। যে লোক কাতার মিশিয়ে রাখবে আল্লাহ তা‘আলা (তাঁর রহ্‌মাতের সাথে) তাকে মিলিয়ে রাখবেন। আর যে লোক কাতার ভেঙ্গে দাঁড়াবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার রহ্‌মাত থেকে কেটে দেন। (আবূ দাঊদ; নাসায়ী এ হাদীসকে, ‘ওয়ামান ওয়াসালা সাফ্‌ফান’ হতে শেষ পর্যন্ত নকল করেছেন) [১]মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১১০২হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُوْلُ: اسْتَوُوا اسْتَوُوا اسْتَوُوا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِه إِنِّي لَأَرَاكُمْ من خَلْفي كَمَا أَرَاكُم مِنْ بَين يَدَيَّ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
৭।আনাস (রাঃ)তিনি বলেন, রসূলূল্লাহﷺ (ইরশাদ করতেন : তোমরা সলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তোমরা সলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তোমরা সলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। আমার জীবন যার হাতে নিহিত তাঁর কসম করে বলছি, আমি তোমাদেরকে সামনে যেমন দেখতে পাই পেছনেও তদ্রূপ দেখতে পাই। (আবূ দাঊদ) [১]মিশকাতুল মাসাবিহ, ৯৮পৃষ্টা হাদিস নং ১১০০ আবূ দাউদ শরীফের ১ম খন্ড ৯৭ পৃষ্ঠায় হাদীসঃ৬৬৫
উল্লেখ আছেঃ

وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُسَوِّي صُفُوفَنَا إِذَا قُمْنَا إِلَى الصَّلَاةِ فَإِذَا اسَتْوَيْنَا كَبَّرَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
৮।অর্থাৎঃ হযরত নু'মান বিন বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম, তখন প্রিয় রাসূল [ﷺ] আমাদের (নামাযের) কাতার সোজা করতেন। কাতার যখন সম্পূর্ণ সোজা হয়ে যেত তখন তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলতেন। [মিশকাত শরীফ; পৃ. ৯৮, হাদীসঃ ১০৯৭]হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
🔢 হাদীস নং: ৬৬৫ (কিছু সংস্করণে ৬৬১–৬৬৬ পর্যন্ত ভিন্নতা আছে)

[1] সহীহ : আবূ আবূ দাউদ শরীফের ১ম খন্ড ৯৭ পৃষ্ঠায় ৬৬৫।
উক্ত হাদীস শরীফ থেকে বুঝা যায়, প্রিয় নবীজী [ﷺ] কাতার সোজা করতেন ইকামতের পরে। দেখুন! রাসূলে করীম [ﷺ] মুসল্লিদের কাতার সোজা করার পরপরই তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলে নিয়ত করতেন কারণ পূর্বেই ইকামত দেওয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে।
عَن النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَوِّي صُفُوفَنَا حَتَّى كَأَنَّمَا يُسَوِّي بِهَا الْقِدَاحَ حَتَّى رَأَى أَنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ ثُمَّ خَرَجَ يَوْمًا فَقَامَ حَتَّى كَادَ أَنْ يُكَبِّرَ فَرَأَى رَجُلًا بَادِيًا صَدْرُهُ مِنَ الصَّفِّ فَقَالَ: «عِبَادَ اللَّهِ لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ» . رَوَاهُ مُسلم

মিশকাতুল মাসাবিহ শরীফ; পৃ. ৯৮, হাদীসঃ১০৮৫-[১] নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনুকে তীর সোজা করার ন্যায় আমাদের কাতার সোজা করতেন। এমনকি আমরা তাঁর হতে কাতার সোজা করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘর থেকে) বের হয়ে এসে সালাতের জন্যে দাঁড়ালেন। তাকবীরে তাহরীমা বাঁধতে যাবেন ঠিক এ মুহূর্তে এক ব্যক্তির বুক সালাতের কাতার থেকে একটু বেরিয়ে আছে দেখতে পেয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দা! তোমাদের কাতার সোজা করো। নতুবা আল্লাহ তোমাদের চেহারায় বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। (মুসলিম)[1]-৪৩৬

ক) সহীহ বুখারী
📖 كِتَابُ الْأَذَانِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ عِنْدَ الْإِقَامَةِ
হাদীস নং: ৭১৯ (অথবা ৭২৩, সংস্করণভেদে পার্থক্য আছে)
খ) সহীহ মুসলিম
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ
📌 بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ وَإِقَامَتِهَا
হাদীস নং: ৪৩৬ (কিছু সংস্করণে ৪৩৯/৪৪৩)

وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلَاةِ وَيَقُولُ: «اسْتَوُوا وَلَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبكُمْ ليليني مِنْكُم أولُوا الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» . قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ: فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ أَشَدُّ اخْتِلَافا. رَوَاهُ مُسلم

মিশকাতুল মাসাবিহ শরীফ; পৃ. ৯৮, হাদীসঃ১০৮৮-[৪] আবূ মাস্‘ঊদ আল আনসারী (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় আমাদের কাঁধে হাত রেখে বলতেনঃ সোজা হয়ে দাঁড়াও, সামনে পিছনে হয়ে দাঁড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে। আর তোমাদের যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী, তারা আমার নিকট দাঁড়াবে। তারপর সমস্ত লোক যারা তাদের নিকটবর্তী (মানের), তারপর ঐসব লোক যারা তাদের নিকটবর্তী হবে। আবূ মাস্‘ঊদ (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, আজকাল তোমাদের মাঝে বড় মতভেদ। (মুসলিম৪৩২

পূর্ণ হাদীসের রেফারেন্স:
ক) সহীহ মুসলিম
📖 كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ وَإِقَامَتِهَا
হাদীস নং: ৪৩২ (কিছু সংস্করণে ৪৩৬/৪৩৭)
খ) সহীহ বুখারী
📖 كِتَابُ الْأَذَانِ، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ
হাদীস নং: ৭১৭–৭১৯ (সংস্করণভেদে পরিবর্তিত)

عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ . إِلَّا أَنَّ عِنْدَ مُسْلِمٍ: مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
৯।মিশকাতুল মাসাবিহ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ১০৮৭-[৩] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সলাতের কাতার ঠিক করে নাও। কারণ সলাতের কাতার সোজা করা নামাজ) ক্বায়িম করার অন্তর্ভুক্ত। সহীহ : বুখারী ৭২৩, মুসলিম ৪৩৩।

রেফারেন্স:
ক) সহীহ বুখারী, كِتَابُ الْأَذَانِ، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، হাদীস নং ৭২৩।
খ) সহীহ মুসলিম, كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، হাদীস নং ৪৩৩।
বর্ণনার পার্থক্য:
বুখারীতে এসেছে:
«فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ»
আর মুসলিমে এসেছে:
«مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ»

হাদীস শরীফে কাতার সোজা করার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এছাড়া অন্য হাদীস শরীফে আরো বিভিন্ন ভাবে কাতার সোজা করার ব্যাপারে জোর তাগিদ এসেছে সবগুলো হাদিসের সমন্বয় সাধন করে ফুকাহায়ে কেরাম কাতার সোজা করা কে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলেছেন। বর্তমানে কেউ এটাকে ওয়াজিব মনে করেন এটা ভুল ধারণা। ফাতহুল বারী দ্বিতীয় খন্ড ৭২৪ নং এর হাদিসের ব্যাখ্যা ৩৪৫ পৃষ্ঠা
তাকবীরে তাহরীমা বলার পূর্বে কাতার সোজা করতে হয় কাতার সোজা করার জন্য মুক্তাদি ইমাম কখন দাঁড়াবে ইকামত শুরুর পূর্বে না পড়ে এ বিষয়ে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে নবী ﷺ কোন সাহাবী ও তাঁর দাবি বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَنْ يَمِينِهِ: «اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ» . وَعَنْ يَسَارِهِ: «اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُ
১০৯৮-[১৪] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (সালাত শুরু করার পূর্বে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে তাঁর ডানপাশে ফিরে বলতেন, ‘ঠিক হয়ে দাঁড়াও, কাতারগুলোকে সোজা করো’। তারপর তাঁর বামপাশে ফিরেও বলতেন, ঠিক হয়ে দাঁড়াও, কাতারগুলোকে সোজা করো। (আবূ দাঊদ ৬৭০, ইবনু হিব্বান ২১৬৮।

ك) صَحِيحُ مُسْلِمٍ، كِتَابُ الصَّلَاةِ (كِتَابُ الصَّلَاةِ)، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، حَدِيثُ رَقْمٍ ٤٣٦۔
خ) سُنَنُ أَبِي دَاوُدَ، كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، حَدِيثُ رَقْمٍ ٦٦٢۔
ج) سُنَنُ النَّسَائِيِّ، كِتَابُ الْإِمَامَةِ، بَابُ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، حَدِيثُ رَقْمٍ ٨٠٩۔

নবীজি ﷺ স্বয়ং যে আমল করতেন۔
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي رَجَاءٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ حَدَّثَنَا أَنَسٌ قَالَ:"أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ -ﷺ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي".بَابُ تَسْوِيَةِ الصَّفِّ
১০।অর্থাৎঃ- খাদেমে রাসূল হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নামাযের ইকামত হয়ে গেছে। অতঃপর প্রিয় রাসূল [ﷺ] আমাদের দিকে সামনা-সামনি হয়ে ফিরে গেলেন এবং বললেনঃ- তোমাদের কাতার বা লাইনসমূহ সোজা কর এবং একে অন্যের সাথে লাগিয়ে মিলিয়ে দাঁড়াও। কেননা নিশ্চয়ই আমি আমার পিছনের দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই।" [বুখারী শরীফ; ১ম খন্ড, পৃ.১০০, হাদীস: ৭১৯]→[1] সহীহ : বুখারী ৭১৮, ৭১৯, মুসলিম ৪৩৪।
٧٢ - باب إِقْبَالِ الإِمَامِ عَلَى النَّاسِ عِنْدَ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ-. طرفاه ٧١٨، ٧٢٥ - تحفة ٦٥٨
হাদীস নং ৬৮৭ প্রথম খন্ড হাদিস ,১০০ পৃষ্ঠা হতে প্রমাণিত হয় ইকামত হওয়ার পর কাতার সোজা করা সুন্নাতে রাসূল ﷺ
এ হাদীসে পাকেও প্রমাণিত হয় ইকামতের পরে কাতার সোজা করার সুন্নাতে নববী।
১১।হযরত উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন
أَبُو الشَّيْخِ فِي الأذان) . ٢٣٢٧٣ يُو أيضاً هُوَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ ِﷺ كَانَ فِي بَيْتِهَا فَسَمِع الْمُؤَذِّن فَقَالَ كَمَا يَقُولُ فَلَمَّا قَالَ
حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ إِلَيَّ الصَّلَاة كَنْزِ الْعُمَّالِ - ج 8 الْمُصَنِّف لِعَبْد الرَّزَّاق - ج 1 - 1 - 2244 . . أُمَّ حَبِيبَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ فِي بَيْتِهَا فَسَمِع المؤذّن فَقَالَ كَمَا يَقُولُ ، فَلَمَّا قَالَ : حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ ، نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ [ إلَى الصَّلَاةِ ]
নিশ্চয়ই রাসূল ﷺ তাঁর হুজরা শরীফে ছিলেন তিনি মুয়াজ্জিনের একামত শুনে তার জবাব দিলেন ।অতঃপর যখন বললেন ____-----حي علي الصلاة--তখন রাসূল ﷺ নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ালেন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ১৮৫১ইমাম আব্দুর রাজ্জাক উক্ত হাদীস দ্বারা ইকামতের সময় দাঁড়ানোর অর্থ গ্রহণ করেছেন তাছাড়া মোয়াজ্জিনের আওয়াজ শুনে নামাজের জন্য দাঁড়ানো হয় ইকামতের সময় আজানের সময় নয় তাই এখানে অন্য কোন আপত্তি চলবেনা। হাদিসে প্রমাণিত হয় যে নবীজী ﷺবলার সময় নামাজের জন্য দাঁড়াতেন।

সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম গণ এর আমল--
وَعَنْ أَنَس أَنَّهُ كَانَ يَقُوم إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّن " قَدْ قَامَتْ الصَّلَاة " رَوَاهُ اِبْن الْمُنْذِرِ وَغَيْره ، وَكَذَا رَوَاهُ سَعِيد بْن مَنْصُور مِنْ طَرِيق أَبِي إِسْحَاق عَنْ أَصْحَاب عَبْد اللَّه" انتهى----فتح الباري لابن حجر - (2 / 451)
১২।হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত বর্ণনা করেন হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মোয়াজ্জেন যখন বলতেন __--قد قامت الصلاة তখন তিনি দাঁড়াতেন।
১৩।এবং অনুরূপ বর্ণনা ইমাম আবু ইসহাক হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা করেছেন হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন সুনানুল কুবরা হাদীস নং ২১২০
الْكُتُب - الْمُصَنِّف - كِتَابِ الصَّلَاةِ - بَابُ قِيَامِ النَّاسِ عِنْدَ الإقامة- الْجُزْء رقم1
1937 عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ حُسَيْنِ بْنُ عَلِيٍّ بْنُ . . . يَوْمَئِذٍ بَيْنَ الرُّكْنِ وَزَمْزَم فَأَقَامَ الْمُؤَذِّنُ بِالصَّلاةِ ، فَلَمَّا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ ، قَام حُسَيْن
১৪।হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবি ইয়াজিদ হযরত হুসাইন বিন আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন ,তিনি বলেন আমি ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জমজমের হাউসে দেখেছি। যেখানে হাজীগণ পানি পান করেন তখন ও জমজমের মাঝামাঝি। মুয়াজ্জিন নামাজের ইকামত শুরু করলেন। যখন তিনি কামাতিস সালাহ বললেন তখন ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর দাড়ালেন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ১৯৩৭ সুনানে বায়হাকী হাদিস নং ২৩৮০
مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَطِيَّةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَلَمَّا أَخَذَ المؤذّن فِى الْإِقَامَة قُمنا ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : اجْلِسُوا فَإِذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ « الصَّلَاة فَقُومُوا )" .
الْكُتُب - مُصَنَّفِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ - كِتَابُ الصَّلاةِ - بَابُ قِيَامِ النَّاسِ عِنْدَ الْإِقَامَةِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنُ عُبَيْدِ الله" عَنْ عَطِيَّةَ قَالَ : إذَا أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ فِي الْإِقَامَةِ , أَن . . . قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ , فَلَمَّا أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ فِي الإِقَامَةِ قُمْنَا ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : " اجْلِسُوا , فَإِذَا . . . قَال : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فَقُومُوا ---جَمْعِ الْجَوَامِعِ 1-15 الْجَامِعِ الْكَبِيرِ فِي الْحَدِيثِ وَالْجَامِعِ الصَّغِيرِ وَزَوَائِدِه ج15
جَلَالُ الدِّينِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بكر/السيوطي ·· الْمُصَنِّف لِعَبْد الرَّزَّاق - ج 1 - 1 - 2244
১৫।হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত হাতিয়াহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন আমরা হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর এর নিকটে বসা ছিলাম ।অতঃপর যখন মোয়াজ্জিনের শুরু করলেন। তখন আমরা দাঁড়ালাম যখন ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন তোমরা বস ।যখন তিনি____قد قامت الصلاة
বলবেনঃ তোমরা দাঁড়াও। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং হা ১৯৪০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُسَوِّي صُفُوفَنَا، فَخَرَجَ يَوْمًا فَرَأَى رَجُلاً خَارِجًا صَدْرُهُ عَنِ القَوْمِ، فَقَالَ: لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ.
وَفِي البَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، وَالبَرَاءِ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، وَأَنَسٍ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَائِشَةَ.حَدِيثُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ إِقَامَةُ الصَّفِّ.وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ: أَنَّهُ كَانَ يُوَكِّلُ رِجَالاً بِإِقَامَةِ الصُّفُوفِ، وَلاَ يُكَبِّرُ حَتَّى يُخْبَرَ أَنَّ الصُّفُوفَ قَدِ اسْتَوَتْ.وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ، وَعُثْمَانَ، أَنَّهُمَا كَانَا يَتَعَاهَدَانِ ذَلِكَ، وَيَقُولاَنِ: اسْتَوُوا.وَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ: تَقَدَّمْ يَا فُلاَنُ، تَأَخَّرْ يَا فُلاَنُ.١٦٧ - بَابُ مَا جَاءَ فِي إِقَامَةِ الصُّفُوف
১৬।অর্থ: হযরত উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) (কিছু লোককে) কাতার সোজা করার আদেশ দিতেন। যখন তারা এসে সংবাদ দিত কাতার সোজ হয়ে গিয়েছে তিনি তাকবীর দিতেন। – বাইহাক্বী, সুনানে কুবরা, হাদীস নং ২৩৮৫; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ২২৭
অনুরূপভাবে তিরমিজী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন হযরত উসমান এবং আলী (রাঃ) কাতার দুরস্ত করার প্রতি খুব গুরুত্ব দিতেন এবং তারা বলতেন হে অমুক সামনে আস অমুক পিছনে যাও।আর রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়ে কেরামের কাতার সোজা না হওয়া পর্যন্ত তাকবীর বলতেন না।
হযরত আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান রা: হতে বর্ণিত-
٨٠٩ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَقُمْنَا، فَعُدِّلَتِ الصُّفُوفُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، فَأَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مُصَلَّاهُ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَانْصَرَفَ فَقَالَ لَنَا: «مَكَانَكُمْ». فَلَمْ نَزَلْ قِيَامًا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى خَرَجَ إِلَيْنَا قَدِ اغْتَسَلَ يَنْطُفُ رَأْسُهُ مَاءً، فَكَبَّرَ وَصَلَّى[حكم الألباني] صحيح
১৭।মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সালাতের ইকামত বলা হলে আমরা দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিকট বের হয়ে আসার পূর্বেই কাতার ঠিক করা হলো। তারপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিকট এসে মুসাল্লায় দাঁড়ালেন। তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের নিজ নিজ স্থানে স্থির থাক। আমরা তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম, তিনি গোসল করে আমাদের নিকট আসছিলেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল। তখন তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাত আদায় করলেন।

সহিহ, বুখারি ও মুসলিম।তিনি আবু হুরায়রা রা: কে বলতে শুনেছেন, যখন ইকামত বলা হয়েছে।সাথে সাথে আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম। সুত্র:-সুনান নাসায়ী- ﺑﺎﺏ ﺍﻗﺎﻣﺔ ﺍﻟﺼﻔﻮﻑ ﻗﺒﻞ ﺧﺮﻭﺝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ১/৪৩০; সহীহ মুসলিম ২১০;সুনান নাসায়ী ২য় খন্ড,৮৯০ পৃ:।
১৮।সুনানে বায়হাকীতে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ : إذَا قِيلَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَثَب فَقَام » كِتَابِ السُّنَنِ الْكُبْرَى 1-11 مَع الفهارس ج 2
مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ عَطا , أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنُ علي/البيهقي
অর্থাৎ , যখন ' ক্বাদক্বামাতিস সালাহ ' বলা হত , তখন তিনি লাফদিয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। { সুনানে বায়হাকী ,
ইবন মুনজির ; আল আওসাত)
১৯।তাবিয়ীগণের রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আমল---
الْكُتُب - الْمُصَنِّف - كِتَابِ الصَّلَاةِ - الْإِمَامَ مَتَى يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصلاة- الْجُزْء . . . ( 6 ) حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ هِشَامِ عَنْ الْحَسَنِ كَرِهَ أَنْ يَقُومَ الْإِمَامُ حَتَّى يَقُولَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَكَرِهَ أَنْ يُكَبِّرَ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ إقَامَتِهِ
।হযরত হাসান বসরী রহ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি হতে বর্ণিত নিশ্চয়ই তিনি মোয়াজ্জিনের একামত বলার পূর্বে ইমামের দাঁড়ানোর কে মাকরূহ মনে করতেন আর মোয়াজ্জিনের একামত শেষ হওয়ার পূর্বে ইমামের তাকবিরে তাহরিমা বলা কেউ মনে করতেন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং ৪০৯০
الْمُصَنِّف لِابْنِ أَبِي شَيْبَةَ - ج 2
٢٢٩ – مَنْ قَالَ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُقِمْ ٤١١٧ – حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيينة عَن . . . عُمَرَ بْنِ عَبْدالعَزِيز بخناصرة" يَقُولُ حِينَ يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ : قُومُوا ، قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ
২০।হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি হযরত আজলান হতে বর্ণিত তিনি আবু ওবায়েদ হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন আমি তাকে বলতে শুনেছি তিনি ওমর বিন আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহ আলাইহি খানাছারা নামকস্থানে বলতে শুনেছেন তিনি বলেন যখন মুয়াজ্জিন বলবেন তখন তোমরা তখন দাঁড়াবে কারণ প্রকৃত নামাজ আরম্ভ হল।মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং ৪৮৯৮
عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ بْن جُرَيْجٍ قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَنَّهُ يُقَالُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُقِمْ النَّاسَ حِينَئِذٍ قَالَ نَعَمْ . وكرههذا الْفِعْل أَصْحَاب .
২১।হযরত আতা রহমাতুল্লাহ আলাইহি হযরত ইবনে জুরাইজ হতে বর্ণিত তিনি বলেন আমি হযরত আতা রাহমাতুল্লাহি কে বললাম বলা হচ্ছে মুয়াজ্জিন যখন কাদ কামাতিস সালাহ বলবেন মুক্তাদির তখন দাঁড়াবেন তিনি বললেন হ্যাঁ।
الِاخْتِلَاف الْفِقْهِيّ بَيْنَ مَالِكٍ وَمُحَمَّدٍ بْنُ حَسَنٍ الشَّيْبَانِيّ مِنْ خِلَالِ رِوَايَتِه . قَالَ مُحَمَّدٌ : يَنْبَغِي لِلْقَوْمِ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ ، أَنْ يَقُومُوا فيصفوا وَيُسَوُّوا الصُّفُوف ، ويحاذوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ ، وَإِذ أَقَامَ الْمُؤَذِّنُ الصَّلَاةُ كَبَّرَ الْإِمَامُ
২২।হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লা আলাইহি হযরত ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন মুক্তাদীর জন্য মুক্তাদীদের জন্য করণীয় হলো যখন মোয়াজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলবেন তখন তারা দাঁড়িয়ে নামাজের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করবে আরে এটা ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি এর মুয়াত্তায়ে মোহাম্মদ হাদিস নং ৯৮
تَمَام الْمِنَّةِ فِي التَّعْلِيقِ عَلَى فِقْهِ السُّنَّةِ - 2
فَمَا جَاءَ فِي « الْآثَار » لِلْإِمَامِ مُحَمَّدٍ (ص١٣) : « عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : (حي عَلَى الفلاح) فَإِنَّهُ يَنْبَغِي لِلْقَوْمِ أَنْ يَقُومُوا فيصفوا ، فَإِذَا قَالَ : (قد قَامَتْ الصَّلَاةُ . . .
فَتْح المغطا شَرْحِ الْمُوَطَّأِ بِرِوَايَة الشَّيْبَانِيّ 1-3 ج1
نُورُ الدِّينِ عَلِيٌّ بْنُ مُحَمَّدٍ الهروي/الملا عَلِيٌّ الْقَارِيّ , تَسْلِيم الدِّين · نُورُ الدِّينِ عَلِيٌّ بْنُ مُحَمَّدٍ الهروي/الملا عَلِيٌّ الْقَارِيّ تَسْلِيم الدِّين . . . قَال مُحَمّد : يَنْبَغِي لِلْقَوْمِ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ أَنْ يَقُومُوا إلَى الصَّلَاةِ فيصفّوا
২৩।মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় ইবরাহীম নাখায়ী রহ. এর আমল বর্ণিত হয়েছেঃ
كَانَ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَامَ ، فَإِذَا قَالَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ كَبَّرَ » الْمُصَنِّف لِابْنِ أَبِي شَيْبَةَ - ج 2 -المصنف لِابْنِ أَبِي شَيْبَةَ - ج 3 - تَابِعٌ 3الصلاة - 2999 - 5025
অর্থাৎ, যখন মুয়াজ্জিন حي على الصلاة বলত তখন তিনি (ইবরাহীম নাখায়ী রহ.) দাঁড়াতেন। আর যখন قد قامت الصلاة বলত তখন তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)সম্মানিত ইমাম সাহেবান মুসল্লীবৃন্দ উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা হতে প্রমাণিত হলো যে নবীজী সাঃ সাহাবী কেউ ইকামত শুরুর পূর্বে কাতার সোজা করার জন্য নির্দেশ দেননি কিংবা নিজেরাও করেননি বরং যারা ইকামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে তারা নিষেধ করেছেন তাই কাতার সোজা করার দোহাই দিয়ে ইকামতের পূর্বে মুক্তাদির দাঁড় করানো সম্পূর্ণরূপে হাদিস শরীফের বিপরীত সুন্নতে সাহাবা ও সুন্নত ইসলামী শরীয়তের সাথে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ।

তাই আমরা সকলে উক্ত সুন্নতের প্রতি আমল করে একটি মৃতপ্রায় বা বিলুপ্ত সুন্নতকে জিন্দা করে অশেষ সোয়াবের ভাগী হই।

كَنْزِ الْعُمَّالِ - ج 8
( ش أَبُو الشَّيْخِ فِي الأذان) . ٢٣٢٧٣ يُو أيضاً هُوَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ ِ كَانَ فِي بَيْتِهَا فَسَمِع الْمُؤَذِّن فَقَالَ كَمَا يَقُولُ فَلَمَّا قَالَ
حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ إِلَيَّ الصَّلَاة

فِي فَتْحِ الْبَارِي لِابْنِ حَجَرٍ - (2 / 451)
وَعَنْ أَنَس أَنَّهُ كَانَ يَقُوم إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّن " قَدْ قَامَتْ الصَّلَاة " رَوَاهُ اِبْن الْمُنْذِرِ وَغَيْره ، وَكَذَا رَوَاهُ سَعِيد بْن مَنْصُور مِنْ طَرِيق أَبِي إِسْحَاق عَنْ أَصْحَاب عَبْد اللَّه" انْتَهَى
عَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ كرِه أَن يقومَ الإمامُ حَتَّى يقولَ المؤذِّنُ : قَد قامتِ الصلاةُ • •
مصنّف ابْنُ أَبِي شيبة(443/1) دَار الْفِكْر { 1414هـ1994م

420 ( 184 ) فِي الْإِمَامِ مَتَى يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ

( 1 ) حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ : كَانَ سُوَيْدُ بْنُ غَفَلَةَ يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ .

( 2 ) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ يَعْنِي فِي الْأُولَى .

( 3 ) حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : إنْ كُنْت لأَسْمَع الْمُؤَذِّن يُصَوِّت بَعْدَمَا يُكَبَّرُ إِبْرَاهِيم لِلصَّلَاة .

( 4 ) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : إنْ شَاءَ كَبَّرَ إذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَإِنْ شَاءَ انْتَظَرَ حَتَّى يَفْرُغَ .

( 5 ) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مَحَلِّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : كَانَ يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فِي الثَّانِيَةِ .

( 6 ) حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ هِشَامِ عَنْ الْحَسَنِ كَرِهَ أَنْ يَقُومَ الْإِمَامُ حَتَّى يَقُولَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَكَرِهَ أَنْ يُكَبِّرَ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ إقَامَتِهِ .

( 7 ) حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ خَالِدِ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : كَانَ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَامَ فَإِذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ كَبَّرَ .

( 8 ) حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ هِشَامِ قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ يَحْيَى بْنُ وَثَّابٍ قَال : كَانَ يَسْكُتُ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُؤَذِّنُ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَكَانَ إبْرَاهِيمُ يَقُولُ إذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ كَبَّرَ .

।জামাআতের সময় ইমাম ও মুসল্লীগণ কখন দাঁড়াবেন?____________________বাংলাদেশের কোন কোন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে ইকামতের পূর্বে এই ঘোষণা দিতে শুনা যায়- আপনারা দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করুন। মুক্তাদীগণকে দাঁড় করিয়ে তারপর ইকামত শুরু করা হয়। হানাফী মাযহাব মতে কখন দাঁড়াতে হবে তা অনেক ইমাম এবং মুয়াজ্জিন জানেন না। শুধু দেখাদেখি আমল করেন। এটা ঠিক নয়। ইকামতের সময় কখন ইমাম ও মুসল্লীগণের দাঁড়ানো সুন্নত- সে সম্পর্কে নিন্মে হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফিকাহ ও ফতোয়ার ইবারত পেশ করা হলো। আল্লা

Address

Abudhabi 41
Abu Dhabi
00000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Zakir Hossain Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share