20/07/2026
একটা জরিপের ফলাফল।
গত দু'দিন আগে একটি পোস্ট করা হয়েছিল পেজে এই বলে যে, মাসজিদ মাদ্রাসায় দান করার পক্ষে কারা? এবং কেন?
আরেকটি অপশন ছিলো এই দানের বিপক্ষে কারা এবং কেন?
ফলাফল আধিকাংশ-মত দিয়েছেন মাসজিদ মাদ্রাসায় দান করার পক্ষে।
তাদের যুক্তি মাসজিদ মাদ্রাসায় দান না করলে এসব চলবে কিভাবে?
এগুলো ইসলামের অংশ মাদ্রাসায় ইসলাম শিখতে হবে, আর মাসজিদে ইবাদত করতে হবে। মাসজিদ আবাদ করার আয়াতটি অনেকেই তুলে ধরে মাসজিদে দানের পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকেই হাদিসের সূত্রে বলেছেন, মাসজিদ গড়লে আল্লাহ তাকে জান্নাতে অনুরূপ মহল বানিয়ে দেবেন।
অনেকেই রাগে ক্ষোভে কষ্ট পেয়ে চমৎকার চমৎকার বাক্যে পোস্টকারীকে গালিগালাজ করে মনের রাগ ক্ষোভ মেটাতে চেষ্টা করেছে।
এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, এদের অধিকাংশই কুরআন বুঝে পড়ে না, শুধু মৌ-লোভীদের নানা রকমের সোয়াবের বয়ান শুনে এই দানের পক্ষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আবার অনেকেই বাপদাদাদের দেখা দেখি এবং সমাজের অধিকাংশ মানুষের দেখা দেখি এটার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কুরআনে আল্লাহ আসলেই কি বলেছেন এ ব্যাপারে তা নিজে পরখ বা যাচাই করা ব্যাতিরেকেই এর পক্ষ নিয়েছে।
অনেকেই আল্লাহর নির্দেশের তোয়াক্কা-ই করেনি। তাদের যুক্তি, এটা ভালো কাজ, মাসজিদে আল্লাহর ইবাদত হবে, মাদ্রাসায় ইলেম চর্চা হবে।
ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার আরেকটা পক্ষ যারা নগণ্য সামাণ্য তারা মত দিয়েছে এর বিপক্ষে। তারা কুরআন চর্চা করে, চিন্তা ভাবনা ও কুরআন নিয়ে গবেষণা করে। তাদের যুক্তি কুরআনে তো মাসজিদ মাদ্রাসা তৈরির-ই আদেশ নেই আল্লাহর পক্ষ থেকে। স্বাভাবিক ভাবেই দানের আদেশও নাই।
যেহেতু আদেশ নাই, বিধান নাই কেন মাসজিদ মাদ্রাসায় দান করবো? তারা জোর দিয়েছেন কুরআনে যে যে দানের খাত গুলো স্পষ্ট করে আল্লাহ তুলে ধরেছেন তার পক্ষে। সাদাকাত এর আদেশ সম্বলিত আয়াত গুলোর আলোকে। আর একটি খাত হলো, আনফাক বা ইউনফিকুন এদুটি আদেশ বিবেচনায় নিয়ে। কুরআনে এ দুটি খাত ই মূলত আল্লাহর বিধান ও নির্দেশনা। তারা আল্লাহর আদেশের বাইরে যেতে রাজী না। এরা সামান্যই আসলে।
ফিজিক্যাল ডেটায় আসা যাক:
পোস্টে মোট রিয়্যাক্ট দুদিনে ৪৪৪টি, মোট কমেন্টস বা মন্তব্য ১২০০ টি। (পক্ষে/বিপক্ষে মিলিয়ে)
মোট শেয়ার ৯০ টি।
৪১০ টি লাইক, ১৯ টি লাভ, ৮ টি হা হা হা (উপহাস মূলক)
২ টি কেয়ার, ২ টি বিষ্ময়কর, ২ টি রাগ বা ক্ষোভ আর ১ টি দুঃখিত।
৯০ টি শেয়ার তারা বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভেবে অন্যদের জানাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
৪১০ মোট রিয়্যাক্টে আসলে সব মিলিয়ে।
এর মধ্যে ১৯টি লাভ অত্যন্ত ইতিবাচক। এরা বোঝাই যায় কুরআনের পক্ষে।
৮ টি হা হা যারা দিয়েছেন এটাকে হাস্যকর, অবান্তর, এবং ফালতু মনে করেছে,
২ টা কেয়ার মানে এরা বিষয়টি নিয়ে খুবই কনসার্ণ! এদের আন্তরিক ধন্যবাদ না জানালে অন্যায় হবে। এ দু'জনকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। ❤️❤️❤️
২ টি বিষ্ময়কর রিয়্যাক্ট দাতা এরা হয় এর বিরোধিতা করেছে নয় তো এটা যে আলোচনায় আনা হয়েছে তাতেই বিস্মিত হয়েছে।
২ টি ক্ষুব্ধ রিয়্যেক্ট এরা কষ্ট পেয়ে রাগান্বিত হয়েছে। আর শেষের ১ জন খুব কষ্ট পেয়ে বেদনাবোধ করেছে।
ফলাফল : অধিকাংশের ব্যাপারে আল্লাহ কুরআনে আগেই বলে দিয়েছেন:
আল-আন‘আম ৬:১১৬
আর যদি তুমি যারা যমীনে আছে তাদের অধিকাংশের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানই করে।
ইউসুফ ১২:১০৩
তুমি কামনা করলেও অধিকাংশ মানুষ ঈমানদার হবে না।
ইউসুফ ১২:১০৬
তাদের অধিকাংশ শির্ক করা ব্যতীত আল্লাহকে বিশ্বাস করে না।
আল-আ‘রাফ ৭:৩
তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর।
মুমিনরা বরাবর সামান্যই ছিলো, সামান্যই থাকবে সব সময়। কারণ, এরা স্রোতের অনুকূলে গা ভাসিয়ে দেয় না। বরাবরই এরা স্রোতের বিপরীতে চলা আল্লাহর প্রিয় আব্দ।❤️❤️❤️
কিছু কি বুঝলেন?
বুঝলে বুঝ পাতা, না বুঝলে তেজপাতা🤣🤣🤣
সবার জন্য শান্তি কামনা করছি।
#ইসলাম #আল্লাহ #কুরআন
#ফলোয়ার #মুসলিম