19/04/2025
https://www.facebook.com/share/v/16RogLjN7U/
শামিম হায়দার কথা বলতে পারেন না, কানে শুনতে পান না। কিন্তু তাঁর অনেক প্রতিভা আছে। তিনি ঢাকায় অটিজম স্কুলে পড়েছিলেন। তাই বেশ কিছু কাজ শিখেছেন। এছাড়া তাঁর বুদ্ধিও অন্যদের চাইতে ভালো। তিনি সেলাই করতে পারেন, মেশিন চালাতে এবং সেট করতে পারেন, কোনও সমস্যা হলে ঠিক করতে পারেন। ছবি তোলা এবং ভিডিও করতে পারেন। কিন্তু কেবল বোবা হওয়ায় কোথাও কাজ করতে পারেন নি। দুঃখজনক হোল, তাঁর সরকার থেকে প্রাপ্য প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেতে অনেক সময় লেগেছিল। কারণ স্থানীয় সমাজসেবা অফিসের লোকেরা ঘুষের টাকার জন্য তাঁর সব তথ্য কম্পিউটার থেকে বেশ কয়েকবার মুছে ফেলেছিল। এর জন্য আমি সমাজসেবা অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাহায্য চেয়েছিলাম। অবশেষে শামিম হায়দার একটি সুবর্ণ কার্ড পেয়েছেন। আমাদের স্কুলের বেশ কয়েকজন বিশেষ শিশুসহ আরও কয়েকজনকে এই প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে সাহায্য করেছি।
শামিম হায়দারের প্রতিভার কথা জেনে আমি তাঁকে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম ২০১৫ সালে। তিনি বেশ কয়েকজন দরিদ্র নারীকে সেলাই শেখার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার আমার প্রতিষ্ঠা করা কলতাপাড়া আনন্দ পাঠশালার প্রধান শিক্ষক। মাত্র ২০ জন দরিদ্র শিশু আর একজন শিক্ষক নিয়ে স্কুলটি চালু করেছিলাম ২০১৪ সালে। কোনও ক্লাসরুম ছিল না, বারান্দায় ক্লাস নেয়া হতো। ধীরে ধীরে এক কক্ষের টিনের ঘর তৈরি করে ক্লাসের সংখ্যা বাড়াতে থাকি। গ্রামের মধ্যে আর কোনও স্কুল না থাকায় অভিভাবকেরা বেশি সংখ্যায় শিশুদের পড়াতে নিয়ে আসেন। এভাবে চাহিদা বাড়তে থাকায় ক্লাস এবং শিক্ষকের সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে বর্তমানে স্কুলটি প্রাইমারী পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। অনেক চেষ্টার পরে ২০২০ সালের শেষ দিকে শুরু করে ২০২১ সালে একটি বিল্ডিং নির্মাণ করতে সমর্থ হই। এ কাজে দুটি প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়, বন্ধু অনেকেই সহায়তা করেছেন। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
শামিম হায়দার এবং তাঁর স্ত্রী স্কুলের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। এছাড়া তাঁরা দুজনে মিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এতে তাঁদের যেমন উপকার হচ্ছে, তেমনি গ্রামের বহু দরিদ্র নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমি তাঁদের যে সহায়তা করেছি, তা ঋণ হিসেবে নয়। সেলাই মেশিন, প্রশিক্ষণ, অল্প পরিমাণ পুঁজি এসব নিঃস্বার্থভাবে দিয়ে এসেছি, কোনও ধরনের লাভ বা প্রতিদানের জন্য নয়, বরং তাঁদের উপকারের জন্য যেটুকু দরকার, তাই করে এসেছি। তাঁরা নিজেদের পরিশ্রমে সাফল্য অর্জন করেছেন, আর এখানেই আমার সার্থকতা। স্কুল আর ব্যবসার কাজে শামিম তাঁর স্ত্রীকে যথেষ্ট সাহায্য করেন। এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের এখন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একশ'র বেশি। শিক্ষক আছেন ৯ জন। কিন্তু আমাদের কোনও ফান্ড নেই। স্কুল চালাতে অনেক বেগ পেতে হয়। তারপরেও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।