23/10/2026
আজ দুপুরে ক্যান্টিনে খেতে বসলাম। এক অন্ধ ছেলেও বসল আমার পাশে। প্লেট নিলাম, টেবিলের ঐ প্রান্ত থেকে জগ নিলাম, পানি দিয়ে প্লেট ধুলাম, এরপর প্লেটে ভাত নিতে নিতে হঠাৎ খেয়াল হল আরে আমার পাশের অন্ধ ছেলেটা তো এসব কিছুই করতে পারবে না। সে এই ভরা জনারণ্যে খাবে কি করে? ঠিক তাই, সে বসেই আছে। কারণ সে টেবিলের অন্য প্রান্ত থেকে পানির জগ টেনে আনতে পারে না, প্লেটে ভাত নিতে পারে না।
সে খেতে বসেছিল মুড়িঘণ্ট বলে একটা আইটেম নিয়ে যেটা রান্না হয় মাছের মাথা, লেজ, কাটাকুটি আর ডাল দিয়ে। এখানে অনেক কাঁটা থাকে। তাকে বললাম, দেখেশুনে খাও, এখানে অনেক কাঁটা। বলে কেন জানি লজ্জা পেয়ে গেলাম। খেতে খেতে ঐ ছেলের দিকে মাঝে মাঝেই তাকাচ্ছিলাম, সে কিভাবে খায়, কিভাবে কাঁটা বাছে। দেখলাম কিছু মাছের টুকরো প্লেটের পাশে ফেলে দেওয়া, বেচারা হয়ত মাছের টুকরোগুলোকে কাঁটা মনে করে ফেলে দিয়েছে।
এটা কোটি কোটি অন্ধ মানুষের মাঝে শুধু একজন ছেলের শুধু এক বেলা খাওয়ার ঘটনা। এই ছেলেটা প্রতিটা দিন, প্রতি বেলা খাওয়ার সময় এভাবেই কষ্ট করে, এভাবেই কাঁটা মনে করে মাছের টুকরো ফেলে দেয়, এভাবেই প্রতিদিন খেতে গিয়ে অসহায়ের মত বসে থাকে, কখন কেউ তার প্লেটটা ধুয়ে দিবে, কখন তার প্লেটে ভাত তুলে দিবে।
সুতরাং হে অহংকারী সত্ত্বা, তুমি তোমার রবের কৃতজ্ঞতায় সিজদায় লুটিয়ে পড়, চোখের পানি ছেড়ে দাও। তোমার রব তোমাকে দুইটা সুস্থ সবল চক্ষু দান করেছেন। হাজারটা জীবন পেলেও এই নেয়ামতের শুকরিয়া শেষ করতে পারবে না
_________
লেখা - Bujhtesina Bishoyta