04/04/2026
*⚖️ গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক:*
যখন সংবিধান রক্ষকই হন অধিকার হরণকারী!
ভারতের সংবিধান কোনো সাধারণ বই নয়; এটি কোটি কোটি মানুষের বেঁচে থাকার রসদ এবং সম্মানের অঙ্গীকার। কিন্তু আজ অত্যন্ত পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে, সেই পবিত্র সংবিধানের রক্ষকরাই যখন নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে অবজ্ঞা করেন, তখন গণতন্ত্রের ভিত নড়ে ওঠে।
সম্প্রতি বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্য—"২০২৬ নির্বাচনে একবার ভোট না দিলে কী আর এমন হবে?"—আমাদের স্তম্ভিত করেছে। পাশে বসে বাঙালি বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নীরব সমর্থন বাংলার ১ কোটি মানুষের জন্য কেবল অপমানজনক নয়, বরং এক চরম লজ্জার বিষয়। যে সংবিধানের শপথ নিয়ে তারা চেয়ারে বসেছেন, সেই সংবিধান ভারতের প্রতিটি নাগরিককে 'সার্বজনীন ভোটাধিকার' দিয়েছে। সেই অধিকার কি আজ বিচারপতির কলমের এক খোঁচায় আবর্জনায় পরিণত হবে?
*🔥 রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং নির্বাচন কমিশনের (EC) ভূমিকা!*
ফ্যাসিস্ট শক্তি আজ নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এক বিভীষিকা তৈরি করছে। এটি কেবল নথির লড়াই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস (State-sponsored Terrorism)।
বংশপরম্পরায় এই দেশে বাস করা নিরীহ মানুষকে আজ নিজের ঘরেই পরবাসী বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে।
নিয়ম-কানুন আর মানবিকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে 'ট্রাইব্যুনাল'-এর নামক এক নির্যাতন যন্ত্রের (Torture Machine) মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
*🚫 ট্রাইব্যুনাল: এক প্রহসনের বিচার-*
খবর পাওয়া যাচ্ছে, খোদ বিচারপতিরারই এখন এই ট্রাইব্যুনালের অংশ হতে চাইছেন না । তাদের বিবেক হয়তো শেষ মুহূর্তে বাধা দিচ্ছে। কারণ তারা জানেন, যেখানে অভিযোগকারীর কথা না শুনেই রায় দেওয়া হয়, তা বিচার নয়—তা হলো অন্যায়।
*আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আপোষহীন:*
কোনো বিচারপতি যেন এই অমানবিক ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব না নেন। বিচারব্যবস্থা যেন রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের হাতিয়ার না হয়।
ভোটার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সহজ করুন:
ভোটের দিন ভোটার শনাক্ত করতে প্রিসাইডিং অফিসার ( Pr O)-কে যে নথির তালিকা দেওয়া হয়, তার যেকোনো একটি থাকলেই নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
ব্লক স্তরেই হোক সমাধান:
আগে যেমন ব্লক স্তরে নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতো, এখনো সেই পদ্ধতিই বহাল রাখতে হবে। মানুষকে কোলকাতার চক্কর কাটাতে বাধ্য করা চলবে না।
*✊ বাংলার প্রতিরোধ:*
আসাম এনআরসি হয়তো অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু বাংলা এত সহজে হাল ছাড়বে না। মালদা থেকে কোচবিহার—মানুষ আজ রাজপথে, হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা। এই পতাকা আমাদের অধিকারের প্রতীক, এই পতাকা আমাদের লড়াইয়ের প্রেরণা। রাষ্ট্রের বন্দুকে কত বুলেট আছে আমরা দেখে নিতে চাই, কিন্তু আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আমরা ছিনিয়ে নেবই।
যাঁরা নিজেদের বিকিয়ে দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে পরিহাস করছেন, ইতিহাস তাঁদের ক্ষমা করবে না। মানুষের গর্জন যখন রাজপথে নামবে, তখন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি বা বিকিয়ে যাওয়া আমলাতন্ত্র ধোপে টিকবে না।