17/04/2026
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ আমজনতার কাছে প্রকৃতিবাঁচাও ও আদিবাসীবাঁচাও মঞ্চের আহ্বান
সাথী-বন্ধু,
বিধানসভা ভোটের একদম সামনে দাঁড়িয়ে আমরা। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা এলাকা হয়ে উঠেছে রণক্ষেত্র। এই রণক্ষেত্রে আমরা কোন অবস্থানে আছি সেটা খুঁজে দেখা দরকার। আমরা জানি দেশ এবং রাজ্য জোড়া অপশাসন, কর্পোরেট লুঠ, বাহুবলী ও ক্ষমতাশালীদের অন্যায় অত্যাচারে আমরা বিপর্যস্ত। স্রেফ প্রতিদিনের মাথা উচু করে সসম্মানে বেঁচে থাকাই ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিরাট সংখ্যক মানুষ আদিবাসী এবং তপশিলী জাতিভুক্ত। জাতিগত ভাগ-এ আদিবাসী ও তপশিলী জাতির মানুষই সংখ্যা গরিষ্ঠ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবিকা সরাসরি মাঠ-ফসল, জল-ফসল এবং বন-ফসল উৎপাদন ও আহরনের উপর নির্ভরকরে। আর তাই জল জঙ্গল জমির উপর অধিকারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়।
আমাদের জীবিকা কেবল পুরুষের শ্রমে চলে না। নারীরা জীবিকার অর্ধেক-ত বটেই, এমন বেশকিছু দায়িত্ব নেন যা পুরুষের আয়ত্বেই নয়। দেখা যাবে ক্রমাগত আমাদের স্বাধীন জীবিকার উপায় সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। স্বাভাবিক জীবন-জীবিকার উপায় ও সম্বলগুলি ক্রমাগত পরিকল্পিত ভাবে সঙ্কুচিত করা হোচ্ছে। প্রচারনার মাধ্যমে পুঁজিপতিদের মসিহা বানিয়ে, তাদের তৈরী পেষাই কল – খনি, রিফাইনারি, স্পঞ্জ আয়রণ বা অন্য কলকারখানাকে একমাত্র কর্মসংস্থানের উপায় আকারে দেখানোর মধ্যদিয়ে, আমাদের জীবনকে অনিশ্চিত ও ভয়ার্ত করে তুলেছে। আমাদের কারুরই কোন সুরক্ষাই নেই। আমরা যেন উড়তে না জানা বালিহাঁসের দল, যাদের রক্ত-মাংসের লোভে যেকোন মুহুর্তে জবাই করে ফেলা যায়। এই পরিস্থিতিতে আমরা জীবনযাপন করছি।
এরই মধ্যে ভোটের চোঙ্গা ফোঁকা চলছে। কোন চোঙ্গাই আমাদের পক্ষের কথা বলছে না। কেউ বললেও তার আওয়াজ, বিজেপি-তৃণমূল-বামদলগুলির চোঙ্গার আওয়াজে চাপা পড়ে যাচ্ছে। কারণ ভোট একটি বিরাট খরুচে কারবার। পার্টিগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে। নানা রকম কোম্পানিদের কাজে লাগায় প্রচারে। নিউজ চ্যানেল, খবরের কাগজ সোশ্যাল মিডিয়া এসবই মুলত দুটি দৈত্যের দখলে। এক আদানি আরেক আম্বানি। পার্টিগুলো কোম্পানিদের থেকে লক্ষ কোটি টাকা চাঁদা নিয়ে, সেই চাঁদার একটা অংশ ব্যবহার করে পাড়ায় পাড়ায় নারদ তৈরী করতে।
পশ্চিমবঙ্গবাসী তৃণমূলকে দেখেছে ১৫ বছর। তার আগে বামেদের দেখেছি ৩৪ বছর। এ দুইয়ের তুল্যমূল্য বিচার আমরা করতে পারি। তৃণমূলের সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের সকলেরই আছে। আর যারা অন্তত ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, তাদের বামফ্রন্টের শাসনের অভিজ্ঞতা থাকবে। এই দুই অভিজ্ঞতাই অপ-শাসনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু বিজেপিকে বাংলা দেখেনি রাজ্যশাসনে। বিজেপি বহু রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে গত ১২ বছর। আসুন দেখাযাক যে বিজেপিকে আমরা সবচেয়ে কম দেখেছি আমাদের এ মাটিতে, তার অন্য রাজ্যের রিপোর্ট কেমন?
আদিবাসী-তপশিলি জাতির নারীরা কেমন আছেন?
এনসিআরবি-র তথ্য বলছে কেবল ২০২৩ এ ২,৮৩৫টি এসসি নারীর ধর্ষণ এবং ১,৩৭৯টি এসসি শিশুর ধর্ষণ-এর ঘটনা ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয়। এর মধ্যে ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে ২০২২-২০২৪ এর মধ্যে ৭,৪১৮টি এসসি/এসটি নারীর ধর্ষণের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রদেশে দৈনিক ৭ জন আদিবাসী ও তপশিলী নারীরা মধ্যপ্রদেশে ধর্ষিত হয়েছেন।
২০২৩ এর জানুয়ারী থেকে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তিন বছরে ছত্তিশগড়ের ডবল ইঞ্জিনে ২,৮৫৫ টি এসসি/এসটি অত্যাচারের অপরাধ নথিবিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১,০১৩ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ ছত্তিশগড়ে গড়ে দৈনিক একজন আদিবাসী ও তপশিলি জাতিভুক্ত নারী ধর্ষিত হয়েছেন। এই ঘটনাগুলির বেশিরভাগ ঘটেছে বনাঞ্চল, খনি ও শিল্পতালুক সংলগ্ন এলাকায়। বনাঞ্চলে বনদফতর-মাফিয়া স্যাঙ্গাৎ, শিল্পাঞ্চল-খনি এলাকায় প্রশাসন-কোম্পানি পোষিত বাহুবলী স্যাঙ্গাৎ ও জাতিগত বিদ্বেষ প্রধান কারন হয়ে থেকেছে। এগুলি কেবল অভিযোগ দায়ের হওয়া ঘটনার সংখ্যা। অসংখ্য ঘটনা অভিযোগ দায়ের করা অবধি যেতে পারেননি প্রশাসনে জাতিগত বিদ্বেষী মনোভাবের কারনে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খন্ডে মাওবাদী দমনের নাম-এ দশকের পর দশক আদিবাসী নারীরা যৌন শোষণের শিকার হয়েছেন ব্রাহ্মন্যবাদী শক্তির হাতে।
উন্নয়নী প্রকল্প আর তার জন্য উচ্ছেদের বিষয়টা কেমন?
ছত্তিশগড়ের হাসদেও আরন্দ অরন্য ভারতের অন্যতম প্রাচীন অরণ্য। সেখানে মাটির তলায় রয়েছে কয়লা। মাটির উপর অরণ্যঘেরা গ্রাম, নদী। সেই সবকিছুকে তিব্র প্রতিবাদকে পুলিশ -আধাসেনার ভারি বুটের তলায় পিষে দেওয়া হয়েছে। অসিংখ্য বে-আইনি গ্রেফতার হয়েছে। পেসা ও অরণ্যের অধিকার সেখানে বাস্তবত শুণ্য করে দেওয়া হয়েছে। একই পরিস্থিতি ওডিশার সিজিমালিতে, সিমলিপাল-এ। একই পরিস্থিতি মধ্যপ্রদেশের মহান ও সিংগ্রাউলির ধিরাউলিতে, পান্নায়। এসব-ই রাজ্য কেন্দ্রে ডবল বিজেপি সরকারের দেখরেখে ঘটছে। পেসা ও বনাধিকার পায়ের তলায় পিষছে। পুলিশি অত্যাচার, অপহরণ, গুমখুন এসবই সাধারনের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দশ বছরে দেশজোড়া অরন্য ধ্বংসের হার সর্বাধিক। সেখানেও , মধ্যপ্রদেশ প্রথম স্থানে রয়েছে দেশে।
চাকুরিক্ষেত্রে অবস্থাটা কেমন?
আমাদের জল জঙ্গল জমি লুঠ করে, প্রতিরোধে বুলডোজার চালিয়ে যে কর্মংস্থানের গল্প দেখান পার্টিগুলো, সেখানে আমাদের অবস্থা কেমন? একই রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা থাকার পরেও আদিবাসী ও তপশিলি জাতির চাকুরিপ্রার্থীরা ডাক পান না চাকুরির জন্য একথা জানাচ্ছে এনএসএসও।
আর সরকারি চাকরিতে? ২০২০-২০২৪ এর মধ্যে দেশের মোট আইএএস, আইএফএস ও আইপিএস দের মধ্যে আদিবাসী এবং তপশিলি জাতির মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত কম। আর এই নিয়োগের প্রক্রিয়া থাকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন পার্টির হাতে। যেকোন চাকরির পরীক্ষায় ইন্টার্ভিউ বোর্ডে আদিবাসী ও তপশিলী জাতির মানুষ থাকেন না। এমন উদাহরন ভুরিভুরি পাওয়া যায় যেখানে জাতিগত বৈষম্যের শিকার হন চাকরিপ্রার্থীরা। সরকারি ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে এমন পদগুলির ব্রহ্মনিকরণের নীতি প্রকাশ্যে ঘোষিত না হলেও বাস্তব।
আর অন্যদিকে, দেশের বড়োলোক পুজিপতিদের কারখানা, অফিস কিংবা শপিংমল - এটিএম এর সামনে দিনে ১২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা সিকিউরিটি গার্ডদের ৭০%-ই আদিবাসী কিংবা তপশিলী জাতিভুক্ত। শহরেরে নর্দমা সাফ করার আর নর্দমায় দম আটকে যারা মরেন তাদের ৯০%ই আদিবাসী আর তপশীলী জাতিভুক্ত, বাকি অংশ মুসলমান। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বান্ধোয়া পেটভাতের মজুরদের সংখ্যা সর্বাধিক, আর তাদের ৮০%-ই আদিবাসী নয় তপশিলী জাতিভুক্ত।
অথচ বুকের উপরদিয়ে উন্নয়নের বুলডজার চলে, যারা পচে মরে তাদের প্রায় প্রত্যেকেই আদিবাসী কিংবা তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষ।
কৃষকদের অবস্থাটা কেমন?
আমরা বেশিরভাগই নিজের জমিতে কিংবা অন্যের জমিতে চাষকরি। মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ দুই ডবল ইঞ্জিন রাজ্য কৃষক আত্মহত্যায় প্রথম। মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সারাদেশের মোট কৃষক আত্মহত্যার ৩৯%-ই ঘটে সেখানে। চুক্তি চাষ, উন্নয়নি প্রকল্পের জন্য জমি – অরণ্য – নদী হারানো আদিবাসী এবং তপশিলী জাতিভুক্ত কৃষকের আত্মহত্যার প্রধানতম কারণ।
মধ্যপ্রদেশ রয়েছে কৃষক আত্মহত্যায় দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৩-এ সারা দেশে নিথিবদ্ধ কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১০,৭৮৬ টি। তার অর্ধেকের বেশি ঘটেছে মহারাষ্ট্র মধ্যপ্রদেশ এবং কর্ণাটকে। জাতিগত বিভেদ ও শোষন আত্মহত্যার কারনগুলির মধ্যে অন্যতম। এই রাজ্যগুলিতে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতই উচুজাতের হাতে বিরাট বিরাট জোত থাকে। তবে এই রাজ্যগুলিতে আদিবাসী ও তপশিলী জাতির মানুষের হাতে জমির পরিমান সর্বাধিক কম। তাই আত্ম্যহত্যাও অনেক বেশি ।
তিনটি নয়া কৃষি আইন এনে চাষের যেটুকু যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তাও আদানিদের কাছে বন্ধক রাখার পরিকল্পনা করেছিলো কেন্দ্রের সরকার। যার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দুই বছর তীব্র কৃষক আন্দোলন এবং অন্তত ৭০০ জন কৃষকের বলিদানের বিনিময়ে বাতিল করাতে পেরেছে।
আমরা এখানে মাত্র চারটি ক্ষেত্রের তথ্য তুলে ধরলাম। এভাবেই আরও নানা ক্ষেত্রের তথ্য তুলে ধরা যায়। কিন্তু এই চারটি ক্ষেত্রকে দেখলে সুরক্ষা-জীবিকা-জীবনের একটি মুল ধারাকে আন্দাজ করা যায়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিস্থিতি অতি-শোচনীয়। মনে রাখতেই হবে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও ভালো নয়।
যেমন ধরুন, পশিমবঙ্গ গত ১০ বছরে, দেশের মধ্যে নারী ও শিশু পাচার-এ সামনের সারিতে রয়েছে। আর শিশু নারীদের পাচার হয়ে পৌঁছনোর যায়গায় প্রথমে রয়েছে হরিয়ানা, দ্বিতীয়তে গুজরাত। সম্পর্কটি আসলেই এরকম। সবক্ষেত্রেই সম্পর্কটি জড়িয়ে পেঁচিয়ে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গে ২০০৮ থেকে ২০২৬, ১৮ বছর কেটে গেলেও একটিও সমষ্টিগত বনসম্পদ অধিকার ক্ষেত্র খতিয়ানভুক্ত হয়নি। যতজন আদিবাসী মানুষ আছেন তার চেয়ে বেশি সংখ্যার এসটি সংশাপত্র রয়েছে। আদিবাসী নন, এমন অসাধু মানুষ সংরক্ষণের আওতায় আসছেন। ফেক-এসটি সার্টিফিকেটধারীরা প্রকৃত আদিবাসীদের জমি অ-আদিবাসী, রিসর্ট সহ নানা অসাধু ব্যবসায়ীদের হয়ে দখল করছে। রাজ্যে যেসকল ভাষার লিপি রয়েছে, সেই সব ভাষায় বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে লেখাপড়ার নামমাত্র কাঠামো থাকলেও বাস্তবে ছেলেমেয়েরা মাতৃভাষায় শিক্ষালাভে বঞ্চিত হওয়ায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। আদিবাসী ও তপশিলী আবাসিক বিদ্যালয়গুলি বন্ধ। এমন নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যদিয়ে আমরা চলছি। আমাদের রাজ্যের বিরাট অঞ্চল সকলের ব্যবহারের সমষ্টিগত জমি রয়েছে। যার পরিমান বহু হাজার হেক্টর , সেই সকল সমষ্টি মালিকাকানার ভুমি পূঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নির্বিচারে। অয্যোধ্যা পাহাড়, দেউচাপাঁচামী সহ রাজ্যের সকল প্রান্তে জল জঙ্গল জমি রক্ষার আন্দলনও জারি আছে।
আমাদের নদী, বন, পাহাড়, কৃষি, এই সবকে রক্ষা করে প্রাণ প্রকৃতির আদর্শকে পাথেয় করে আগামী দিনে নতুন ভোর আনার কথা বারে বারে স্লোগানে মিছিলে বলেছি আমরা।
তার একটি পথ হতেই পারে সংসদে সদস্য আকারে প্রবেশ করা। সংসদে আন্দোলনের কথা জোরের সঙ্গে তোলা। কিন্তু, এই মুহুর্তে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রধান দলগুলি এক একটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৪ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করে। গণআন্দোলনের অতো টাকা কোনদিনই থাকবে না। আমাদের আন্দোলন, খেটে খাওয়া মানুষের আন্দোলন। আমাদের জোর হতে হবে আন্দোলনই। আন্দোলনে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের আদর্শগত দৃড়তা, নাছোড় লড়াকু আপোষহীন নির্ভিক মনোভাব হতে হবে মূলশক্তি। এমন পরিস্থিতি এখন-ই তৈরী নয়। তবে সেই লক্ষ্যে আমাদের এগোতে হবে। এটাই জনগণের মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার।
প্রকৃতি পণ্য নয়, মানুষ পণ্য নয়। মুনাফা নয় কিংবা বিলাস নয়, প্রয়োজনটুকু আহরণ ও ব্যবহার করার মতন একটি ব্যবস্থা ছিনিয়ে আনতে হবে বাস্তবে, রাস্তায় গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। সেই আন্দোলনের সহযোগী একটি কর্মসূচী আকারে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতেই পারি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া আন্দলনকে শক্তিশালী করবে, এমন মনে করলে তবেই অংশ নিন। স্রেফ ভোট দেওয়াও নির্বাচনে অংশ নেওয়া। ভোট চেয়ে প্রার্থী হওয়াও তাই। আন্দোলনের প্রার্থী আগামী নির্বাচনে আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করবেন ও আন্দোলনকে শক্তিশালী করবেন এবং আন্দোলনের অধীনে থাকবেন, আন্দোলনই হবে চালিকা, এমন পরিস্থিতি নির্মাণে আজ থেকেই কাজ শুরু করুন।
কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি চলে তার মাতৃ সংগঠন আরএসএস এর নির্দেশে। আরএসএস আদিবাসী-তপশিলী জাতি ও আপামরজনসাধারণের প্রানের প্রিয় দেশটার মূলভিত্তিটাকেই অস্বীকার করে। আরেসেসের উপস্থিতি বাকি দলগু লির থেকে বিজেপিক বিশেষভাবে আলাদা করে। এরা আমাদের সংস্কৃতিটাকেই গিলে খেতে চায়। বাকি পার্টিগুলির থেকে তাই বিজপি আলাদা এটা মাথায় রাখুন।
এও মাথায় রাখুন কোন রাজনৈতিক দল এমন নেই পশ্চিমবঙ্গে, যারা বন পাহাড় নদী জীবন জীবিকা সংকৃতি ভাষা রক্ষাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছে বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে। সকলেই পুঁজিপতিদের পক্ষে প্রাণ প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিগত ২৬ বছরে। একটি এমন পার্টি নেই যে নদীকে বেঁধে ফেলে উন্নয়ন, মাটিকে-ফসলকে বিষিয়ে দিয়ে উন্নয়ন, বাতাসকে দুষিত করে উন্নয়ন, বনকাটাই করে বিদেশি গাছের চাষ করে উন্নয়ন, আরও আরও কয়লা, বক্সাইট, লৌহ আকরিক, আরও ডোলোমাইট আরও ইউরেনিয়ামের খনি খুঁড়ে, পারমানবিক বোমা বানিয়ে সুরক্ষা, উন্নয়নের মিথ্যাচারের বিরোধিতা করেছে। প্রাণ-প্রকৃতি-ভাষা-সংস্কৃতি-জীবিকা-জীবন রক্ষা করে জীবনের বাস্তব মানোন্নয়নকে মূলমন্ত্র করতে হলে রাজনীতি সচেতন গণ আন্দোলন নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন ঘটাবার পরিস্থিতি তৈরী করতে হবে।
তাই পার্টিদের ঢাক্কানিনাদে না ভুলে, নিজের পাড়া, গ্রাম, মহকুমা, জেলা, রাজ্যের মানুষকে সাথে নিয়ে জোরদার গণ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আমাদের, সন্তানেদের বেঁচে থাকবার জন্য যোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে আজ এখন থেকেই কাজে নামুন। গণআন্দোলনের জোয়ারে সব অসভ্য ধান্দাবাজেদের ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়ার অঙ্গীকার করি আসুন।
হুল উলগুলান জহার
রাজেন টুডু
পুরুলিয়া, ১৭-ই এপ্রিল ২০২৬