17/05/2026
কাশীর ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছিলেন!
ইংরেজ সরকারের পুলিশ এসে ব্রহ্মজ্ঞানী এক মহাপুরুষকে গ্ৰেফতার করল। মর্ণিকাঘাটে কখনও কখনও ভক্তমণ্ডলীর সাথে ত্রৈলঙ্গস্বামী ঈশ্বরীয় আলোচনায় মগ্ন থাকতেন। এইরকম একদিন তিনি গ্ৰেফতার হলেন। অভিযোগ তিনি কেন বস্ত্র পরিধান করেন না। আদালতে তোলা হল মহাযোগীকে। ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট জিজ্ঞেস করলেন কেন তিনি বিবস্ত্র হয়ে রাস্তাঘাটে চলাচল করেন। কিন্তু কোনও উত্তর পেলেন না। ম্যাজিস্ট্রেট ত্রৈলঙ্গস্বামীকে জেলে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। কিন্তু কোথায় সন্ন্যাসী! কাঠগড়ায় কেউ নেই।আবারও তাকিয়ে দেখলেন সাধুবাবা। ম্যাজিস্ট্রেট নিঃসন্দেহ এই সাধু সাধারণ কেউ নন। এই মহাপুরুষকে
শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের হাতে পায়েস খাওয়ান। শ্রীরামকৃষ্ণ ভাগ্নে হৃদয়কে, ত্রৈলঙ্গস্বামীকে দেখিয়ে বলেছিলেন একে ঠিক পরমহংস অবস্থা বলে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরে বলতেন কাশীতে গিয়ে সচল বিশ্বনাথ দেখেছিলুম।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস কাশীতে এসেছেন,সঙ্গে মথুরামোহন বিশ্বাস ও আরও অনেকে। মণিকর্ণিকাসহ পঞ্চতীর্থ দর্শনের জন্য ঠাকুর ব্যাকুল । গঙ্গায় নৌ- ভ্রমণের ব্যবস্থা হল। মণিকর্ণিকাঘাটে সামনে নৌকা এলে শ্মশানের ধোঁয়ায় পরিব্যপ্ত। একের পর এক শবদেহ দাহ হচ্ছে। শিবপুরীতে সাধুসঙ্গে সময় অতিবাহিত হয় শ্রীরামকৃষ্ণের। কাশী বিশ্বনাথের দর্শন - পূজন করেছেন। এবার তিনি ত্রৈলঙ্গস্বামীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য কাতর হয়ে পড়লেন। একদিন ভাগ্নে হৃদয়কে নিয়ে মণিকর্ণিকা ঘাটে এসে উপস্থিত হলেন ঠাকুর। ত্রৈলঙ্গস্বামী তখন মৌনব্রত অবলম্বন করছেন। অসীম যোগবলের অধিকারী মহাসাধক জানতেন তাঁর সাক্ষাৎলাভে আজ এমন এক মহাপুরুষ আসবেন যিনি মানুষকে লোকশিক্ষার আধারে প্রকৃত ধর্মের সঠিক দিশা দেখানোর জন্য অবতাররূপে এই ধরণীতে অবতীর্ণ হয়েছেন।
তপ্ত বালিতে চিত হয়ে শুয়ে ছিলেন ত্রৈলঙ্গস্বামী রোদের তেজ ভয়াবহ, অথচ এই মহাযোগীর মুখে কষ্টের লেশমাত্র নেই। শ্রীরামকৃষ্ণকে দেখে উঠে বসলেন। ইশারায় তাঁকে বসতে বললেন।দুই অবতার মুখোমুখি।সে এক মাহেন্দ্রক্ষণ। দুজনের কথা হল ইশারায়। শ্রীরামকৃষ্ণ ত্রৈলঙ্গস্বামীর কাছে জানতে চাইলেন ঈশ্বর এক না অনেক। ত্রৈলঙ্গস্বামী ইশারায় তাঁকে বললেন ' এক'।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে
শ্রীরামকৃষ্ণের ইচ্ছে হল তিনি মণিকার্ণিকা ঘাটে ত্রৈলঙ্গস্বামীকে নিজের হাতে পায়েস খাওয়াবেন। মথুরকে বলা হল মথুরবাবু ভেবেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ বোধহয় নিজে খেতে চান। ঠাকুর বলেছিলেন না গো মথুরবাবু আমার নিজের জন্য নয় মণিকর্ণিকা ঘাটে একজন মহাপুরুষ বাস করেন তাঁকে খাওয়ানো।মথুর পায়েসের ব্যবস্থা করেন শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের হাতে ত্রৈলঙ্গস্বামীকে পায়েস খাওয়ান। শ্রীরামকৃষ্ণ হৃদয়কে ত্রৈলঙ্গস্বামীকে দেখিয়ে বলেছিলেন একে ঠিক পরমহংস অবস্থা বলে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরে বলতেন কাশীতে গিয়ে সচল বিশ্বনাথ দেখেছিলুম।
বলাবাহুল্য দেবাদিদেবের জ্যোতিলির্ঙ্গগুলোর মধ্যে কাশী বিশ্বনাথের স্থান সর্বাগ্ৰে। তাই এই অনাদিলিঙ্গের উপস্থিতি বারাণসীর আধ্যাত্মিক মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়েছে। অনাদিকাল থেকে কাশীক্ষেত্র শৈবতীর্থ। বারানসীকে কেন্দ্র করে জনমানসে বরাবর গভীর শ্রদ্ধার আসন। যুগ যুগ ধরে বারাণসী হিন্দুদের প্রধান ও পবিত্র তীর্থস্থান।অভিনব গুপ্তর তন্ত্রালোকে ব্রহ্মা,বিষ্ণু ,রুদ্র এবং সদাশিবের উপরে পরমশিবের স্থান । এই পরমশিবই হলেন অবিমুক্তেশ্বর। তিনি বিশ্বেস্বর। কাশী বিশ্বেশ্বর। তাঁর মত শ্রেষ্ঠ শিবলিঙ্গ আর কোথাও নেই। যার উল্লেখ আছে কাশীখণ্ডে।
বিশ্বেশ্বরের নগরী বারাণসীতে গঙ্গার মাহাত্ম্য সর্বাধিক। আর পূণ্যসলিলা গঙ্গার পশ্চিম তীরে সারিবদ্ধভাবে ঘাটগুলো যেন এক বিশেষ বার্তা দেয়। বারাণসী যেন ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরা বহন করে। অসি থেকে আদিকেশব ঘাট পর্যন্ত প্রায় চার কিমি দৈর্ঘ্য গঙ্গাতীরের এক নয়নাভিরাম অর্ধচন্দ্রাকার ভূমি। এর মধ্যে ৭৯টি ঘাট নিজ নিজ বৈভবে আর বৈচিত্র্যে অনিন্দ্যসুন্দর।কাশীখণ্ডে অসি থেকে আদিকেশব ঘাট পর্যন্ত ৯৮টি ঘাটের উল্লেখ আছে।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে
পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার বারাণসীর ঘাট, মাহাত্ম্যের মহাভূমি, সুমন গুপ্ত, শারদীয়া বর্তমান ১৪৩১