12/05/2026
**কৃষ্ণনগর লোকাল নিয়ে রেলের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হোন!**
আগামী ১৩ই মে থেকে কৃষ্ণনগর ও আমঘাটার মধ্যে দুই জোড়া নতুন ট্রেন পরিষেবা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খবরটি শুনতে ইতিবাচক মনে হলেও, এর নেপথ্যে যে পরিকল্পনাহীনতা রয়েছে, তা আমাদের মতো নিয়মিত যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রেল নতুন কোনো ট্রেন দিচ্ছে না, বরং বর্তমানের **কৃষ্ণনগর লোকালগুলোকেই** নামমাত্র নম্বর বদলে আমঘাটা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
**আমাদের উদ্বেগের মূল কারণসমূহ:**
* **অসহনীয় ভিড়:** বর্তমানের ৬:০৭(৩১৮১৬) মিনিটের কৃষ্ণনগর লোকাল কৃষ্ণনগর থেকেই ভর্তি হয়ে যায়, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব যে বাংকারে ব্যাগ রাখার জায়গা পর্যন্ত থাকে না। এই ট্রেনটি আমঘাটা থেকে শুরু হলে কৃষ্ণনগর ও কৃষ্ণনগর সেকশনের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা যে ২০২৫ সাল থেকে তিনটি ডাউন কৃষ্ণনগর লোকালকে আমঘাটা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দুপুর ২:১৫ মিনিটের (৩১৮২৮ ডাউন) ট্রেনের অবস্থা এখন শোচনীয়। কৃষ্ণনগরের যাত্রীরা এখন বসার জায়গা পাওয়ার আশাও করতে পারেন না, কৃষ্ণনগর স্টেশনের পরবর্তী স্টেশনগুলোর যাত্রীরা ওই ট্রেনে উঠে কেমন অবস্থার সম্মুখীন হন তা সহজেই অনুমেয়।
বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত:কোনো নৈহাটি লোকালকে ব্যান্ডেল পর্যন্ত বা শান্তিপুর লোকালকে তো কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় না। অথচ যত 'পরীক্ষা-নিরীক্ষা' সব কৃষ্ণনগর লোকাল নিয়েই কেন?
* **যৌক্তিক দাবির অবজ্ঞা:** রাত ৯টার পর শিয়ালদহ থেকে কোনো কৃষ্ণনগর লোকাল নেই। নতুন ট্রেন দেওয়া যদি নিতান্তই সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে আসা রাত্রি ১০:০৮ মিনিটের রানাঘাট লোকালটিকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করলে এই সমস্যার আশু সমাধান হতে পারে।১০:০৮ মিনিটের রানাঘাট লোকালটিকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের দাবি রেল নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ সন্ধ্যা ৭:৩৫-এর কৃষ্ণনগর লোকালটিকে (৩১৮৪১) অনায়াসে আমঘাটা পর্যন্ত পাঠিয়ে দেওয়া হলো!
*** রাজস্ব বাড়ছে, পরিষেবা নয়:২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কৃষ্ণনগর স্টেশনেরঅসংরক্ষিত টিকিট বিক্রির মাধ্যমে আয় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ আয়ের পরিমাণই বলে দেয় কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে কি পরিমাণ যাত্রী যাওয়া আসা করেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি কৃষ্ণনগর লোকাল কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকেই অসম্ভব ভীড়ে পরিপূর্ণ হয়, সহজেই অনুমেয় যে কৃষ্ণনগর পরবর্তী স্টেশনগুলোতে ট্রেনগুলো পৌঁছলে তখন কি অবস্থার সৃষ্টি হয়।অথচ আয়ের আনুপাতিক হারে ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি, বরং বিদ্যমান পরিষেবা সংকুচিত করা হচ্ছে।
* **বিশাল জনপদের স্বার্থ বিঘ্নিত:** কৃষ্ণনগর স্টেশন শুধুমাত্র শহরের মানুষের জন্য নয়, বরং চাপড়া, তেহট্ট, করিমপুর, বেতাই, নাজিরপুর, শিকারপুর, সাগরপাড়া এবং পূর্ব বর্ধমানের একটি বিশাল অংশের মানুষের লাইফলাইন। ট্রেনের সংখ্যা না বাড়িয়ে যাত্রাপথ দীর্ঘ করায় এই বিশাল অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছাবে। বয়স্ক অসুস্থ যাত্রী অন্যান্য সেকশনের মত আমাদের সেকশনেও রয়েছে।
*** পরিকাঠামোগত অভাব : আমঘাটা পর্যন্ত ট্রেন চালানো মানে কৃষ্ণনগর থেকে ৪ নম্বর প্লাটফর্মটিকে ব্যবহার করা। যে যাত্রীরা কৃষ্ণনগর স্টেশন দিয়ে যাওয়া আসা করেন তারা সকলেই জানেন কৃষ্ণনগর স্টেশনের 4 নম্বর প্লাটফর্মটির পরিকাঠামোগতভাবে কতটা শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বার থেকে চার নম্বর প্লাটফর্মে যাওয়ার জন্য রয়েছে এইমাত্র অতি সংকীর্ণ ফুটওভার ব্রিজ। এর ফলে ওই সংকীর্ণ ফুট ওভারব্রিজের মাধ্যমে যাত্রীদের চার নম্বর প্লাটফর্মে যেতে আসতে অসহনীয় দুর্দশার শিকার হতে হচ্ছে।
**রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি:**
১. **স্বতন্ত্র ট্রেন:** আমঘাটা বা নবদ্বীপ পর্যন্ত পরিষেবার জন্য নতুন ট্রেন বরাদ্দ করতে হবে।
২. রাত্রি ন'টার পর শিয়ালদহ যদি নতুন কৃষ্ণনগর লোকাল দেওয়া নিতান্তই যদি সম্ভব না হয়ে থাকে তবে রাত ১০:০৮ মিনিটের রানাঘাট লোকালকে(৩১৬২৯) অভিলম্বে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে হবে।
৩. **এসি লোকাল ও স্টপেজ:** সকালে অফিস টাইমে কৃষ্ণনগর-শিয়ালদহ এসি লোকাল চালু করতে হবে এবং এসি লোকাল সহ সমস্ত লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনের স্টপেজ রানাঘাট কৃষ্ণনগরের মধ্যবর্তী সব স্টেশনে দিতে হবে।
৪. **যাত্রী স্বার্থ রক্ষা:** কৃষ্ণনগর লোকালের ওপর ভিত্তিহীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করে যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৫. কৃষ্ণনগর থেকে সকাল ৯ঃ৫০ (৩১৮২২)এর পর পরবর্তী শিয়ালদহ যাবার কৃষ্ণনগর লোকাল দুপুর ১২:১২(৩১৮২৪) মিনিটে। কৃষ্ণনগর থেকে এর মাঝে আরেকটি শিয়ালদহগামী নতুন কৃষ্ণনগর লোকাল চালু করতে হবে, অথবা বেলা ১১:৪৫ মিনিটে কৃষ্ণনগর থেকে ছেড়ে যাওয়া কৃষ্ণনগর রানাঘাট লোকালটিকে (৩১৭২৮)শিয়ালদহ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে।
৬. শিয়ালদহ থেকে দুপুর ১ টা ১৫(৩১৮২৯) মিনিটের পর পরবর্তী কৃষ্ণনগর লোকাল বিকেল তিনটে পঁচিশ মিনিটে(৩১৮৩১), এর মধ্যবর্তী সুবিধাজনক কোন সময়ে কৃষ্ণনগর লোকাল চালু করতে হবে শিয়ালদহ থেকে, এবং সেই ট্রেনটিকেই ডাউনে কৃষ্ণনগর থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত চালাতে হবে।
পরিশেষে:
আজ আমঘাটা, কাল নবদ্বীপ—এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষ্ণনগর সেকশনের যাত্রীদের ট্রেনে পা রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। রেলের এই অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে। আমরা শীঘ্রই যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠাচ্ছি।
**আপনারাও নিজ নিজ জায়গা থেকে সরব হোন, প্রতিবাদ করুন এবং অন্যকে সচেতন করুন। যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় আপস নয়!**