13/10/2026
🚆 ট্রেন বাড়ল, পরিষেবা বাড়ল তো? নাকি নম্বরের জাদুতে যাত্রীদের সুবিধা উধাও!**
কৃষ্ণনগর লাইনের রেল পরিষেবায় নতুন সংযোজন—এক জোড়া কৃষ্ণনগর–শান্তিপুর লোকাল! শুনতে বেশ চমৎকার, তাই না? যাত্রীরা ভাবতেই পারেন, বাহ! এবার বুঝি রেল পরিষেবার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে গেল! কিন্তু একটু গভীরে গিয়ে সময়সূচির অঙ্কটা মেলালেই দেখা যাবে, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর আনন্দে যাত্রীদের পুরনো সুবিধার হিসাবটাই যেন গায়েব!
এতদিন ৩১৫৮৬ নম্বর কৃষ্ণনগর–শান্তিপুর লোকাল শান্তিপুরে পৌঁছে ৩১৫২২ নম্বরে শিয়ালদহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত। ফলে কৃষ্ণনগর, দিগনগর-সহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরা শুধু শান্তিপুর, ফুলিয়া, হবিবপুরের মতো অঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধাই পেতেন না, একই পরিষেবার ধারাবাহিকতায় শিয়ালদহ যাওয়ার সংযোগও পেতেন।
কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সেই সংযোগের কী হলো?
সকাল ৮:৪৭-এ কৃষ্ণনগর থেকে ছেড়ে ৯:২৪-এ শান্তিপুর পৌঁছনো ট্রেনটির পর শিয়ালদহ যাওয়ার সরাসরি সংযোগ আর না থাকলে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হতে পারে ৪০ মিনিটেরও বেশি। অর্থাৎ, ট্রেন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছলেও যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছনোর সময়টা আরও পিছিয়ে যেতে পারে!
অন্যদিকে, সকাল ১০:২০-এর ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে ছেড়ে শান্তিপুর এসে আবার নম্বর পাল্টে ৩১৭৮৪ নম্বর নিয়ে রানাঘাটের দিকে যাবে, শান্তিপুর থেকে বর্তমান সময় সকাল ১১ টা। ট্রেন চলবে, চাকা ঘুরবে, নম্বর বদলাবে—কিন্তু যাত্রীর সুবিধার চাকা কোন দিকে ঘুরছে, সেই প্রশ্নটাই থেকে যাবে।
রেলের কাছে প্রশ্ন—নতুন ট্রেন চালু করাই কি পরিষেবা উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি? নাকি যাত্রীরা কোথায় নামবেন, কোথায় ট্রেন বদলাবেন এবং কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন, সেসব বিষয়ও বিবেচনার মধ্যে পড়ে?
আমাদের তো মনে হয়, যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য রেল পরিষেবা। রেল পরিষেবার খাতায় নতুন ট্রেনের নাম লেখানোর জন্য যাত্রীদের বাড়তি অপেক্ষা ও ভোগান্তি মেনে নেওয়ার কথা নয়!
আরও একটি বিষয় বারবার সামনে আসছে—একই রেককে বিভিন্ন নম্বরে চালিয়ে একাধিক পরিষেবার চেহারা দেওয়ার এই ব্যবস্থা আসলে যাত্রীদের কতটা উপকার করছে? **খাতায়-কলমে ট্রেনের পরিচয় বাড়লেই কি বাস্তবে যাত্রীদের যাতায়াতের সুযোগ বাড়ে?**
আমরা নতুন ট্রেনের বিরোধী নই। বরং আরও ট্রেন চাই, আরও উন্নত পরিষেবা চাই, আরও বেশি সংযোগ চাই। কিন্তু নতুন সুবিধা দিতে গিয়ে পুরনো কার্যকর সংযোগ কেড়ে নেওয়াকে উন্নয়ন বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না।
**রেলের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি:**
🔹 কৃষ্ণনগর–শান্তিপুর–শিয়ালদহ সরাসরি সংযোগ পুনর্বহাল করতে হবে।
🔹 নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান পরিষেবার ধারাবাহিকতা ও যাত্রীস্বার্থ সুনিশ্চিত করতে হবে।
🔹 একই রেকের নম্বর পরিবর্তন করে পরিষেবার সংখ্যা বাড়ানোর হিসাব নয়, যাত্রীদের প্রকৃত সুবিধা ও সময় সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
🔹 নতুন সময়সূচি প্রণয়নের আগে নিত্যযাত্রীদের বাস্তব সমস্যা ও সংযোগের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে।
**সবশেষে একটি সহজ প্রশ্ন:**
যাত্রীদের যদি আগের মতো সরাসরি সংযোগ না দিয়ে আরও অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে এই নতুন ব্যবস্থায় উন্নয়নটা ঠিক কার হলো—রেলের সময়সূচির, নাকি যাত্রীদের দুর্ভোগের?
🚩 **ট্রেন বাড়ুক, পরিষেবা বাড়ুক, সংযোগ বাড়ুক—কিন্তু যাত্রীদের সুবিধা কমিয়ে ভোগান্তি বাড়িয়ে নয়!**
যাত্রীস্বার্থে এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চাই।
✊ **যাত্রীস্বার্থে প্রতিবাদ জারি থাকবে।**