The Bong Satellite

The Bong Satellite লিখতে ভালোবাসি! ✍🏻

14/09/2026

পাড়ার মোড়ে ছোট্ট প্যান্ডেলে মাইক বাজছে, আর চেনা মুদির দোকানের লাল রঙের নতুন হালখাতায় খুব সন্তর্পণে সিঁদুরের স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা হচ্ছে। আমরা ভাবি, একটা আনকোরা নতুন খাতা খুললেই বোধহয় বিগত জীবনের যাবতীয় দেনা আর জমে থাকা ক্লান্তি নিমেষে মুছে যায়। সিদ্ধিদাতার মূর্তির সামনে চোখ বুজে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখের রেখায় এক অদ্ভুত অসহায়তা আর আশার মিশেল। ধূপের ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া এই অতি-সাধারণ সকালটা আসলে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি নতুন শুরুর পেছনে লুকিয়ে থাকে পুরোনো ব্যর্থতাগুলোকে সযত্নে ঢেকে রাখার এক ভীষণ মরিয়া চেষ্টা।

​অথচ যে দেবতা মানুষের যাবতীয় বিঘ্ন নাশ করেন, তিনি হয়তো জানেনই না আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বাধাগুলো বাইরের কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং বুকের খুব গভীরে জমে থাকা নিরুচ্চার দীর্ঘশ্বাসগুলো। আমরা প্রতি বছর ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নতুন করে শুরু করার এক নিখুঁত অভিনয় করি, প্রসাদের মিষ্টিমুখ আর মন্ত্রোচ্চারণের আড়ালে নিজেদের মিথ্যে সান্ত্বনা দিই যে এবার সত্যিই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দিন শেষে যখন মণ্ডপের নিয়ন আলো নিভে আসে, তখন সেই পুরোনো ছকের আটপৌরে জীবনে ফিরে যেতে যেতে আমরা টের পাই, আসল সিদ্ধি কোনো বৈষয়িক প্রাপ্তিতে নেই, বরং আজীবন না-পাওয়ার সাথে নিঃশব্দে আপোস করে বেঁচে থাকার অভ্যাসের মধ্যেই তা লুকিয়ে আছে।

~শুভদীপ ©

চোখ বুজলেই যে সমস্ত ক্লান্তি মুছে যায়, তা তো নয়; বরং সারাদিনের জমে থাকা অব্যক্ত হিসেবগুলো তখন ছায়ার মতো ঘরের কোণে এসে জম...
11/09/2026

চোখ বুজলেই যে সমস্ত ক্লান্তি মুছে যায়, তা তো নয়; বরং সারাদিনের জমে থাকা অব্যক্ত হিসেবগুলো তখন ছায়ার মতো ঘরের কোণে এসে জমা হয়। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা আধ-খাওয়া চায়ের কাপ বা বিছানার চাদরের ভাঁজে লেগে থাকা ঘাম যেন মনে করিয়ে দেয় জীবন কতটা নিঃশব্দে ফুরিয়ে যাচ্ছে।

আসলে ঘুম কোনো পরম শান্তি নয়, এ হলো এক ধরণের দীর্ঘ বিরতি, যেখানে মানুষ তার ভাঙা অহংকার আর না-পাওয়ার বেদনাগুলো সাময়িকভাবে জমা রাখে। ঘুম ভেঙে সকালে যখন আবার রোদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়, তখন মনে হয় জীবনটা ঠিক আগের মতোই কঠিন, কেবল রাতের ওই কটা ঘণ্টা নিজের সঙ্গে নিজের এক মিথ্যে আপস মাত্র।

~শুভদীপ ©

বাসস্ট্যান্ডের টিনের চালার ফাঁক দিয়ে হঠাৎ চোখে পড়া শরতের ওই তুলোর মতো সাদা মেঘগুলো আজকাল বড্ড অচেনা লাগে। মনে হয়, এই তো ...
10/09/2026

বাসস্ট্যান্ডের টিনের চালার ফাঁক দিয়ে হঠাৎ চোখে পড়া শরতের ওই তুলোর মতো সাদা মেঘগুলো আজকাল বড্ড অচেনা লাগে। মনে হয়, এই তো সেদিনও পুজোর ছুটির গন্ধ মাখা ওই মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে আমরা কত অনায়াসে বিশ্বাস করতাম যে সব কিছু একদিন ঠিক হয়ে যাবে। পুরনো বাড়ির স্যাঁতসেঁতে বারান্দায় রোদে দেওয়া আধময়লা কাঁথা আর উঠোনে ঝরে পড়া শিউলির সাথে এই মেঘগুলোর একটা অদ্ভুত নিঃশব্দ বন্ধুত্ব ছিল। অথচ আজ, মাসের শেষের হিসেব আর প্রাত্যহিক ক্লান্তির চাপে পিঠ যখন ক্রমশ ঝুঁকে আসে, তখন ওই উদাসীন আকাশের দিকে দীর্ঘশ্বাস ফেলার ফুরসতটুকুও আমাদের আর থাকে না।

আসলে শরতের ওই ভাসমান মেঘেরা প্রতিদিন আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে যায় যে কোনো কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়, না আমাদের এই নিরন্তর ইঁদুর দৌড়, না আমাদের সযত্নে বুকে জমিয়ে রাখা নীরব অভিমানগুলো। ওরা যেমন কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা না খুঁজেই নীরবে দিগন্ত পেরিয়ে যায়, ঠিক তেমনই আমাদের জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পর্ক আর সময়গুলো কখন যেন আঙুলের ফাঁক গলে নিঃশব্দে হারিয়ে যায়। একদিন হয়তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত মানুষটা হঠাৎ বুঝতে পারে, গোটা জীবনটাই আসলে ওই সাদা মেঘের খণ্ডের মতো একটা ভাসমান শূন্যতা ছিল, যাকে আমরা মিথ্যেই মাটি আঁকড়ে ধরে চিরকালের জন্য নিজের করে রাখতে চেয়েছিলাম।

~শুভদীপ ©

ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার মরচে পড়া গ্রিল গলে আমাদের ঠান্ডা, ফাটল-ধরা মোজাইক মেঝেতে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো উল্লাস থা...
10/09/2026

ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার মরচে পড়া গ্রিল গলে আমাদের ঠান্ডা, ফাটল-ধরা মোজাইক মেঝেতে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো উল্লাস থাকে না, থাকে কেবল এক নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস। মায়ের রান্নাঘর থেকে আসা প্রেশার কুকারের প্রথম সিটি আর বাবার কালকের পড়ে থাকা পুরোনো খবরের কাগজটার ওপর বিছিয়ে পড়া এই হলদেটে আলো যেন এক আশ্চর্য নিয়মের কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে হয়, এই আলো কোনো নতুন দিনের শুরু নয়, বরং একটা দীর্ঘ, পুনরাবৃত্ত ক্লান্তির আরও একবার জন্ম নেওয়া।

আমরা আসলে আলোর অপেক্ষায় থাকি না, আমরা শুধু অন্ধকার পার হওয়ার একটা অজুহাত খুঁজি। সূর্য প্রতিদিন ওঠে ঠিকই, কিন্তু তা আমাদের ভেতরের জমানো কোনো নিজস্ব অন্ধকারকে আর ঘোচাতে পারে না, শুধু প্রবলভাবে স্পষ্ট করে দেয় আমাদের বয়স বেড়ে যাওয়া আর ক্রমশ হারিয়ে যাওয়া কিছু অগোছালো স্বপ্নকে। জানালার পাশে একা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি হঠাৎ টের পায়, দিনের আলো যত তীব্র হয়, নিজের তৈরি করা ছায়াগুলো তত বেশি দীর্ঘ আর তত বেশি অচেনা হতে থাকে।

~শুভদীপ ©

আমাদের মধ্যবিত্ত ঘরের ডাইনিং টেবিলগুলোর নিচে রোজ একটা করে অদ্ভুত শান্ত আগ্নেয়গিরি ঘুমিয়ে থাকে। সারাদিনের ক্লান্তির পর ব...
08/09/2026

আমাদের মধ্যবিত্ত ঘরের ডাইনিং টেবিলগুলোর নিচে রোজ একটা করে অদ্ভুত শান্ত আগ্নেয়গিরি ঘুমিয়ে থাকে। সারাদিনের ক্লান্তির পর বাবা যখন নিঃশব্দে ঠান্ডা ভাত মাখেন, কিংবা মা যখন পুরনো শাড়ির আঁচলে দীর্ঘদিনের কোনো জমাট অভিযোগ লুকিয়ে রাখেন, তখন ওপরের পৃথিবীটা ভীষণ স্বাভাবিক আর শান্ত মনে হয়।

পুরনো দেওয়াল ঘড়ির একঘেয়ে টিকটিক শব্দ আর ধুলোমাখা সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় আমরা ভুলেই থাকি যে, মাটির ঠিক নিচেই ফুটছে বছরের পর বছর ধরে গিলে ফেলা না-বলা কথাগুলোর উত্তাপ।

আমরা মেনে নিই যে জীবন তো এমনই, এখানে কোনো অভিযোগের শব্দ হয় না, কেবল রোজকার ঘাম আর মানিয়ে নেওয়ার একটা চেনা গন্ধ থাকে।
অথচ একটা সামান্য চায়ের কাপ হাত ফসকে ভাঙলে বা খবরের কাগজটা ঠিক জায়গায় না পেলে যেদিন হঠাৎ একটা তীব্র অভিমান ফেটে পড়ে, আমরা অবাক হয়ে যাই। আমরা বুঝতে পারি না যে ওই আকস্মিক ক্ষোভ আসলে কোনো ভাঙা কাপের নয়; ওটা হাজারো নীরব আত্মত্যাগ, পিষে ফেলা স্বপ্ন আর আজীবন কেবল মেনে নেওয়ার এক পুঞ্জীভূত প্রকাশ।

পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর আগ্নেয়গিরিগুলো কোনো পাথরের পর্বতচূড়ায় থাকে না, তারা বাস করে সাধারণ মানুষের বুকের খুব গভীরে। সেখানে কোনো শব্দ হয় না, ধোঁয়া ওঠে না, শুধু মানুষটা ভেতর থেকে গলতে গলতে একদিন নিঃশব্দে ফুরিয়ে যায়, আর আমরা বাইরে থেকে দেখি সে দিব্যি হাসছে।

~শুভদীপ ©

01/09/2026

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Bong Satellite posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share