14/09/2026
পাড়ার মোড়ে ছোট্ট প্যান্ডেলে মাইক বাজছে, আর চেনা মুদির দোকানের লাল রঙের নতুন হালখাতায় খুব সন্তর্পণে সিঁদুরের স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা হচ্ছে। আমরা ভাবি, একটা আনকোরা নতুন খাতা খুললেই বোধহয় বিগত জীবনের যাবতীয় দেনা আর জমে থাকা ক্লান্তি নিমেষে মুছে যায়। সিদ্ধিদাতার মূর্তির সামনে চোখ বুজে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখের রেখায় এক অদ্ভুত অসহায়তা আর আশার মিশেল। ধূপের ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া এই অতি-সাধারণ সকালটা আসলে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি নতুন শুরুর পেছনে লুকিয়ে থাকে পুরোনো ব্যর্থতাগুলোকে সযত্নে ঢেকে রাখার এক ভীষণ মরিয়া চেষ্টা।
অথচ যে দেবতা মানুষের যাবতীয় বিঘ্ন নাশ করেন, তিনি হয়তো জানেনই না আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বাধাগুলো বাইরের কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং বুকের খুব গভীরে জমে থাকা নিরুচ্চার দীর্ঘশ্বাসগুলো। আমরা প্রতি বছর ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নতুন করে শুরু করার এক নিখুঁত অভিনয় করি, প্রসাদের মিষ্টিমুখ আর মন্ত্রোচ্চারণের আড়ালে নিজেদের মিথ্যে সান্ত্বনা দিই যে এবার সত্যিই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দিন শেষে যখন মণ্ডপের নিয়ন আলো নিভে আসে, তখন সেই পুরোনো ছকের আটপৌরে জীবনে ফিরে যেতে যেতে আমরা টের পাই, আসল সিদ্ধি কোনো বৈষয়িক প্রাপ্তিতে নেই, বরং আজীবন না-পাওয়ার সাথে নিঃশব্দে আপোস করে বেঁচে থাকার অভ্যাসের মধ্যেই তা লুকিয়ে আছে।
~শুভদীপ ©