29/09/2024
সন্তানহারা এক বাবা, মায়ের উৎসবে ফেরা
এক বাবা-মায়ের দুটি কন্যা সন্তান একটি মেয়ের নাম উমা, আরেকটির নাম তিলোত্তমা। উমা ত্রিলোত্তমার থেকে বয়সে অনেকটাই বড়, উমার বাবা অনেক কষ্টে, সেই কবে যেন উমার বিয়ে দিয়েছিল, উমা স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়িতে ছেলে মেয়ে নিয়ে বেশ ভালোই আছে। উমার স্বামীর আবার সাব কথা ঘন ঘন বাপের বাড়িতে যাওয়া চলবে না। বছরে একবার যেতে দিতে পারি, সেটা চার দিনের জন্য, তার বেশি নয়। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তিলোত্তমার বাবার মাথাতেই ছিল না, এইতো কদিন আগেই উমার শ্বশুর বাড়ি থেকে খবর দিল। উমা তো দশ তারিখেই এসে পৌঁছবে, এখন কি করি, আর তো মাত্র কটা দিন। তিলোত্তমার বিষয়টাও তো ওকে কিছুই জানানো হয়নি। এই যে শোনো উমার মা তিলোত্তমার বিষয়ে উমাকে যেন কিছু বলো না। মেয়েটি আমার চার দিনের জন্য বাপের বাড়িতে আসছে। খেয়াল রেখো কিন্তু। যথা সময় উমা তার বাপের বাড়িতে এলো, এ ঘর ও ঘর কই তিলোত্তমাকে তো দেখছি না উমা তার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসা করল তিলোত্তমা কোথায়? উমার বাবা-মা একসাথে বলে উঠলো, এই তো তোর ছোট বোন তিলোত্তমা কদিন আগে একটা চাকরি পেয়েছে, ওর প্রচন্ড কাজের চাপ। ঠিকমতো বাড়িতে আসতেই পারে না। তবে তুই এসেছিস তো? ঠিক দেখবি সময় করে বাড়ি ফিরে আসবে, আমরা সবাই মিলে একসাথে জমিয়ে আড্ডা দেবো খাওয়া-দাওয়া করব কতইনা আনন্দ হবে, উমা বললো ঠিক বলেছ বাবা কতদিন তিলোত্তমাকে দেখিনা। বাবা চল মা অনেক দূর থেকে এসেছিস এখন একটু খেয়ে দেয়ে বিশ্রাম করে নে। বাবা পরের দিন সকালে উঠেই বাবা বাজারে গেলেন বাজার থেকে এসে ও
উমার মাকে বললেন,ভালো করে রান্না বান্না কর মেয়েটা আমার শ্বশুর বাড়িতে কি খায় তা তো আর চোখে দেখি না, আজ আমরা সবাই মিলে একসাথে একটু ভালো-মন্দ খাব। উমা বলল ঠিক বলেছ বাবা কিন্তু তিলোত্তমা যে এখনো এলো না। আসবে আসবে, আজ বিকেলেই চলে আসবে। তুই অতো উতলা হোস না তো। উমা বললো বাবা তিলোত্তমা এলে আজ সবাই মিলে বেড়াতে যাব। বাবা বলল যাবো বৈকি নিশ্চয়ই যাবো। দুপুর পেরোলো বিকেল গেল সন্ধ্যা হল উমা আবার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল কই বাবা তিলোত্তমা তো এলো না। বাবা বলল হ্যাঁ রে মা মেয়েটা যে আমার কাজ পাগল কাজ ছাড়া কিছুই বোঝেনা। আজকেও বোধ হয় কাজে আটকে গিয়েছে। দেখবি মা আমার তিলোত্তমা কাল সকালে নিশ্চয়ই আসবে। উমার বাবা কিন্তু তাদের মেয়ের যত্নের কোন ত্রুটি রাখলো না ঠিক যেমন বিগত বছরের মত ।উমাকে বুঝতেই দিল না যে তিলোত্তমা আর এই পৃথিবীতে নেই। এইভাবেই পরের দিনটিও কেটে গেল। আজ তো উমার ফেরার পালা। উমা বার বার বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো, তিলোত্তমা যে এলোনা বাবা ওর সাথে কি আর দেখা হবে না? বাবা বলে উঠলো, আজ তো তুই চলে যাবি, দেখবি ঠিক তিলোত্তমা আসবেই তোর সাথে দেখা করবে। সকাল গেল দুপুর গড়ালো বিকেল হল, উমার চোখে জল। বাবা এবার তো আমাকে যেতে হবে। আমি জানি তিলোত্তমার সাথে আর আমার দেখা হবে না। বাবা বলে উঠল তুই কি জানিস? উমা কাঁদতে কাঁদতে যাবার সময় বলে উঠলো যে কথাটা তোমরা আমাকে বলতে পারলে না যে তিলোত্তমা কোনদিনই আর এই পৃথিবীতে ফিরবে না।এই খবরটা তোমরা শত যন্ত্রণা সত্বেও বুকের মধ্যেই চেপে রাখলে? আমি এই খবরটা আরো একমাস আগেই জেনেছি তোমার জামাই আমাকে সমস্ত কিছু বলেছেন। উমা কাঁদতে কাঁদতে তার শ্বশুরবাড়ি ফিরলেন।
তিলোত্তমার বাবা-মা কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ফিরে গেলেন।
যারা আমার এই লেখাটি পড়বেন আমি জানি না আমি কতটা ঠিক কতটা ভুল। তবে যেটা বলার চেষ্টা করেছি, যে সন্তান যেমনই হোক হোক না কেন বাবা-মা তাদের শেষ রক্ত বৃন্দ দিয়ে সন্তানকে
আগলে রাখে একমাত্র বাবা-মাই অনুভব করতে পারে সন্তান বিয়োগের জ্বালা। তাই সহজেই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের মধ্যে অনেক কষ্ট অনেক দুঃখ থাকে সেই সমস্তকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলতে হয়। এরই নাম জীবন, যেমন পৃথিবী থেমে থাকে না। জীবনও থেমে থাকবে না। নমস্কার
গোপাল বিশ্বাস।