28/06/2026
মমতার দালাল, দুর্নীতিগ্রস্ত ও তীব্র মোদী বিরোধী পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালকে এখনো পদত্যাগ পত্র ধরানো হল না কেন।
কে এই গৌতম পাল এক নজরে দেখে নিন
১) তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠনের সংগঠন ওয়েব কুপার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ লাগিয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে রিডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়ে থাকলেও পরে তাকে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। রিডার হিসেবে ও ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে দুটো নীয়োগ গৌতম পালের বিরুদ্ধে সজন-পোষণ ও যোগ্যতা না থাকার অভিযোগ ওঠে, এর ফলে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী প্রলয় চক্রবর্তী কোলকাতা হাইকোর্টে কেস করে, বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসের সেটি গৃহীত হয়।
কিন্তু রাজ্য সরকারের হাত মাথায় থাকার জন্য সেই কেসের অগ্রগতি বিশেষ কিছু হয়নি আজও।
(সূত্র:- আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৬ শে আগস্ট ২০২২)
২) ২০১৮ সাল থেকে তৃণমূলের দাক্ষিণ্যে অবৈধভাবে সহ উপচার্য হিসাবে নীয়োগ হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃণমূলের সাহায্যে সামন্তরাল প্রশাসন চালাতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষমতা নিজের কুক্ষিগত করার নেশায় ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু করে লুম্পেন সংস্কৃতি।
বহিরাগত তৃণমূলী গুন্ডাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের অপসারণের দাবিতে উপচার্যের সেক্রেটারিয়েট এর ঘর দখল করতে যায়। সেখানে নিরাপত্তা রক্ষীদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে উপাচার্য শংকর কুমার ঘোষের সামনে গিয়ে চরম অপশব্দ ব্যবহার করতে থাকে ও উপচার্যের ঘরের সামনে ওয়েবকুপার সদস্য ও বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। কল্যানি ইউনিভার্সিটি ওয়েবকুপা ইউনিটের সম্পাদক সুজয় মণ্ডলকে সাথে নিয়ে এই অপকর্মগুলো চালাতে থাকে।
(সূত্র:- সংবাদ প্রতিদিন, ২৪ শে জানুয়ারি ২০২০)
৩) ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্টে বিরুদ্ধে নিজের নীয়োগ সংক্রান্ত মামলা হওয়ার পরে নিজের ভবিষ্যৎ সংকটের কথা ভেবে আরো বৃহত্তর পরিকল্পনা করতে থাকে। কল্যাণী ইউনিভার্সিটি সহ-উপাচার্যের পদ যেকোনো মুহূর্তে খারিজ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তড়িঘড়ি করে তৃনমূলের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতির পদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ কল্যাণী বিশ্বটির ভাইস চ্যান্সেলর ও পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের সভাপতি একসাথে দুটো পদের দায়িত্বে দেওয়া হয়।
৪)২০১৪ সালে প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় OMR এর মিরর ইমেজ বা স্ক্যান কপি নষ্ট করার ফলে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী সিবিআই তদন্তি নির্দেশ দেয়। তার সাথে এটাও নির্দেশ দেওয়া হয় প্রয়োজনে নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই। এই গৌতম পাল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই দূর্নীতি চাপা দিতে নেমে পড়ে। Cbi কে অরিজিনাল OMR বা তার স্ক্যান কপি না দিয়ে ট্যালি মার্কের ফরম্যাটে এডিটেবল ডেটা চার্ট দিয়ে দূর্নীতি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে একটা মজার ঘটনা দেখুন, সিবিআইকে এরকম ভাবে এডিটেবল ডেটা চার্ট দিয়ে নিজেই বুঝতে পারে সে ভুল কাজ করছে তাই গ্রেফতারি ভয়ে নিজেই সুপ্রিম কোর্টে ছুটেছে আগাম জামিন করানোর জন্য। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারক অনিরুদ্ধ বসু ও বেলা.এম.ত্রিবেদীর বেঞ্চে গিয়ে জামিন করিয়ে আসে।
(সূত্র:-আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩ ই নভেম্বর ২০২৩)
৫) এতকিছুর পরেও কোলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে ২০১৪ এর প্যানেলে ৩২ হাজার চাকরি চলে যায়। সেই রায় ডিভিশন বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ করা হয়, পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের পক্ষ থেকে খুব চালাকি করে কেসের গ্রাউন্ড তৈরি করে সুপার সিনিয়র অ্যাডভকেট নামিয়ে দীর্ঘ হেয়ারিং এর পর হিউম্যানিটেরিয়ান গ্রাউন্ডে ৩২ হাজার চাকরি বাঁচিয়ে নেয় ৩ রা ডিসেম্বর ২০২৫ জাস্টিস তপোব্রত চক্রবর্তী ও জাস্টিস ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। ফলে তৃণমূল সরকারের প্রায় ৩০০ কোটির শিক্ষা দূর্নীতি চাপা দেওয়া ও কমপক্ষে ২০-৩০ জন নেতা মন্ত্রীর সুপারিশে চাকরি বিক্রির অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয় এই গৌতম পালের প্রচেষ্টায়। ফলে মমতার তরফ থেকে গৌতম পালের সারপ্রাইজ গিফট দেওয়া হয় ২৩ শে ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এ তাকে রাজ্যের জয়েন ইন্টার্নস বোর্ডের সভাপতি করা হয়। অর্থাৎ একসাথে তিনটি পদে বহাল করা হয়, পদগুলো হলো কল্যাণী ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর, পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ জয়েন এন্টান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান। ভাবুন শুধু একবার একটা মানুষ মুখমন্ত্রীর কত কাছের হলে একসঙ্গে তিনটে পদ পেতে পারে।
🔴 কেন্দ্র সরকার ও মোদি বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা, মোদির নামে কুৎসা ও অপপ্রচার চালানো।
👉RT Act 2009 অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মোদী সরকার 2017 সালে সকল প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি D.el.ed প্রোগ্রাম চালু করা হয়। সমগ্র ভারত থেকে মোট 14 লক্ষ শিক্ষকরা এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও প্রায় ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার শিক্ষক নিয়ে অংশগ্রহণ করে, দীর্ঘ ২ বছর পড়াশোনা করার পরে ২০১৯ সালে এই কোর্সটি শেষ করে তারা সার্টিফিকেট পায়। ভারতের সকল রাজ্য এই কোর্সটা মেনে নিলেও কিন্তু আমাদের রাজ্য সরকার ২০২৫ সালে এসে এই কোর্সটা মানতে অস্বীকার করে শুধুমাত্র মোদি সরকারের একটা ড্রিম প্রোজেক্ট বলে, Nios d.el.ed দের গায়ে মোদির ট্যাগ থাকার জন্য মমতার পশ্চিম বঙ্গ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই কোর্সটা মেনে নেয়নি। পরিশেষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে 1233 জন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়, সেখানে তারা জয় লাভ করে। ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ দিতে বলেছিল। কিন্তু অসভ্য বেহায়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার ছলেবলে কুট কৌশলে, সময় চুরি করে নেওয়ার জন্য অন্যান্য হাস্যকর পয়েন্ট বের করে আজও নিয়োগ দেয়নি।
👉গৌতম পাল চেয়ারে বসেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারের নামে তীব্র কুৎসা ও অপপ্রচার করে প্রবন্ধ লিখতে শুরু করে। নীচে তার একটা তালিকা দেওয়া হল।
১)কেন্দ্রীয় সরকার তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এড়াতে পারে না। (পুবের কলম পত্রিকা, 09.07.2021)
2) ত্রুটিপূর্ণ জাতীয় শিক্ষানীতি (জাগো বাংলা পত্রিকা,
25.08.2021)
3)নয়া জাতীয় শিক্ষানীতির সংশোধন প্রয়োজন (পুবের কলম পত্রিকা, 29.08.2021)
4)জলবায়ু পরিবর্তনে বিপদ উদ্বেগ নেয়নি এনডিএ সরকার -(দৈনিক স্টেটসম্যান, 30.03.2020)
5) মোদি সরকার জলবায়ু প্রশমনে উদাসীন -বিপন্ন কৃষি
(দৈনিক স্টেটসম্যান, 23.03.2019)
6)দেশের প্রাদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধ্বংসের চেষ্টা করছে মোদি সরকার (দৈনিক স্টেটসম্যান, 09.02.2019)
7)রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক বরাদ্দ ছাটা এর অপকৌশল নিয়েছে কেন্দ্র (দৈনিক স্টেটসম্যান, 29.04.2018)
8) রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৈষম্য মূলক আচরণ করছে কেন্দ্র (দৈনিক স্টেটসম্যান,07.03.2018)
9)রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মুসলিম বিদ্বেষী নীতি পরিচয় দিচ্ছে মোদি সরকার (দৈনিক স্টেটসম্যান, 20.10.2017)
10)ইউজিসির মুক্ত ও দূর শিক্ষা বিধিটি রাজ্যের বিষয় রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর স্বাধিকার খর্ব করছে ( বর্তমান পত্রিকা, 05.10.17)
11)কেন্দ্রের দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণই মেডিকেল ভর্তিতে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের বন্ধনা শিকার (বর্তমান পত্রিকা,
17.08.2017)
12)রাজ্যের প্রতি ইউজিসির আচরণ পক্ষপাত মূলক (বার্তমান পত্রিকা, 29.06.2017)
13)উচ্চমূল্যের কাগজি মুদ্রা বাতিল করে মৌলিক অধিকার খর্ব করছে মোদি সরকার (দৈনিক স্টেটসম্যান, 18.12.2017)
14)মোদি সরকার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উৎকর্ষ খর্ব করছে (বর্তমান পত্রিকা, 03.12.2016)