Mahua Evergreen Foundation

Mahua Evergreen Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mahua Evergreen Foundation, Nonprofit Organization, Khatra.

প্রকৃতির মমতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসায় রাঢ় বাংলার মাটি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের কল্যাণে আমরা নিবেদিত। রাঢ়বঙ্গের ঐতিহ্যকে আগলে রেখে একটি সবুজ ও মানবিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। প্রকৃতির পাশে, মানুষের সেবায় আমাদের সাথে থাকুন—Mahua Evergreen Foundation

গতকাল ছিল সাম্য, দ্রোহ আর প্রেমের কবি  কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। বাঙালির আবেগ, অনুভূতি আর চেতনার এক অনন্য বাতিঘর তিনি।...
26/05/2026

গতকাল ছিল সাম্য, দ্রোহ আর প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। বাঙালির আবেগ, অনুভূতি আর চেতনার এক অনন্য বাতিঘর তিনি। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার জন্য তাঁর কলম যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধারালো তরবারি হয়ে গর্জে উঠেছে, ঠিক তেমনি বিরহ আর ভালোবাসার সুরে আমাদের ব্যাকুল হৃদয়কে করেছে আর্দ্র। এক হাতে বাঁশের বাঁশরী আর অন্য হাতে রণতূর্য নিয়ে বাংলা সাহিত্যে তাঁর মতো এমন কালজয়ী ধূমকেতুর আগমন আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি।

নজরুল মানেই এক চিরকালীন তারুণ্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক মূর্ত প্রতিবাদ। শোষিত, বঞ্চিত আর অবহেলিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি বারেবারে ব্রিটিশ রাজরোষে পড়েছেন, কারাবরণ করেছেন, রাজবন্দীর জবানবন্দী দিয়েছেন। কিন্তু কোনো শিকল, কোনো কারাগার তাঁর মেরুদণ্ড আর আপসহীন চেতনাকে দমাতে পারেনি। বরং কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেই তিনি গেয়ে উঠেছেন শিকল পরার গান। তাঁর সৃষ্টি শুধু সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এক জীবন্ত লড়াই।

একই সাথে নজরুল ছিলেন এক অনন্য সমন্বয়ের কারিগর। তাঁর সৃষ্টিশীলতার জগৎ ছিল সীমাহীন। একদিকে তিনি যেমন বাংলা ভাষায় চমৎকার সব ইসলামি গজল, হামদ ও নাত রচনা করে মুসলিম মানসে এক নতুন জাগরণ এনেছেন, ঠিক অন্যদিকে সমান দক্ষতায় বুনেছেন কালজয়ী শ্যামাসংগীত, কীর্তন ও ভজন। ধর্মের এই সুতীক্ষ্ণ বিভেদকে তুচ্ছ করে তিনি নিজেকে প্রকৃত অর্থেই এক অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর কাছে মানুষের চেয়ে বড় আর কিছু ছিল না, তাই তো তিনি উচ্চকণ্ঠে গাইতে পেরেছিলেন—"গাহি সাম্যের গান / মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।"

আজকের এই জটিল ও অস্থির সময়ে নজরুলের সাম্যবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আমাদের বড্ড বেশি প্রয়োজন। ক্ষমতার লোভ আর সামাজিক বৈষম্যের ভিড়ে তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়, কীভাবে সব ধর্মের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে হয়। গতকালের সেই বিশেষ দিনটিকে মনে রেখে কবির প্রতি জানাই আমাদের অন্তহীন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শত বছর পরেও তাঁর ভাঙনের গান আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে সাহস জোগায়, আর তাঁর প্রেমের গান আমাদের ভালোবাসতে শেখায়। তাঁর চেতনা বেঁচে থাকুক আমাদের প্রতিদিনের লড়াইয়ে, আমাদের মননে ও যাপনে। শ্রদ্ধাঞ্জলি, হে চিরবিদ্রোহী কবি!

আজ ২২ মে, ২০২৬। ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের ২৫৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৮ ...
22/05/2026

আজ ২২ মে, ২০২৬। ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের ২৫৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৮ শতকের শেষভাগে এবং ১৯ শতকের শুরুতে তিনি যে আধুনিক, যুক্তিবাদী ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ দুই শতাব্দী পেরিয়ে এসেও আমাদের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সেই চিন্তাভাবনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা যদি আজকের সমাজ ব্যবস্থার দিকে তাকাই, তবে দেখব যে রামমোহন যেসব কুসংস্কার ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তার রূপ বদলে গেলেও মূল সমস্যাগুলো আজও আমাদের সমাজে বিদ্যমান।

রামমোহন রায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় কীর্তি ছিল ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলোপ। তিনি শুধু আইনি সংস্কারের পক্ষে ছিলেন না, বরং নারীর জীবনের অধিকার এবং সমাজে তাদের সম্মানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি নারীর সম্পত্তির অধিকার এবং পুনর্বিবাহের পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন। আজকের সমাজে নারীরা মহাকাশে যাচ্ছেন, করপোরেট বোর্ডরুম সামলাচ্ছেন বা দেশ চালাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এর উল্টো পিঠেই আজও আমাদের সমাজে নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো ব্যাধি টিকে আছে। রামমোহন দেখিয়েছিলেন যে, আইনি সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন কতটা জরুরি। আজ যখন আমরা কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকার বা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করি, তখন রামমোহনের সেই ‘মানবিক ও সমতার’ দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদের মূল প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

ধর্মীয় সহনশীলতার ক্ষেত্রেও তাঁর দর্শন আজ অত্যন্ত জরুরি। রামমোহন রায় কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরোধী ছিলেন না; তিনি ছিলেন ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং বহুঈশ্বরবাদের বিরোধী। তিনি উপনিষদের মূল ভাবধারাকে সামনে এনে ‘একেশ্বরবাদ’ প্রচারের জন্য ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সব ধর্মের মূল সত্যগুলোকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় রাজনীতিতে যখন ধর্মীয় মেরুকরণ এবং অসহনশীলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন রামমোহনের 'সর্বধর্ম সমন্বয়' এবং যুক্তিবাদী ধর্মীয় চেতনা আমাদের পথ দেখাতে পারে। তিনি শিখিয়েছিলেন ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করার জন্য নয়, বরং নৈতিকভাবে উন্নত করার মাধ্যম।
শিক্ষার ক্ষেত্রে রামমোহন রায় বিশ্বাস করতেন যে শুধু ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা দিয়ে একটি সমাজ প্রগতির পথে হাঁটতে পারে না। তাই তিনি ইংরেজি শিক্ষা, গণিত এবং আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার ওপর জোর দিয়েছিলেন। আজ আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে বাস করলেও, শিক্ষার হার বাড়ার সাথে সাথে আমাদের সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতা বা যুক্তিবোধ আশানুরূপ বাড়েনি। আজও মানুষ ইন্টারনেটের যুগে এসেও ভুয়ো খবর, কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসে লিপ্ত হচ্ছে। রামমোহনের যুক্তিবাদ আমাদের শেখায় যে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং প্রশ্ন করার ক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।

একই সাথে, রামমোহন রায়কে ভারতের সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয়। 'সম্বাদ কৌমুদী' বা 'মিরত-উল-আখবার' পত্রিকার মাধ্যমে তিনি মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটিয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের সংবাদপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। বর্তমান বিশ্বে যখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রতিনিয়ত বিতর্ক চলছে, তখন রামমোহনের সেই নির্ভীক সাংবাদিকতার আদর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি সুস্থ সমাজের জন্য স্বাধীন মতপ্রকাশ কতটা অপরিহার্য।

পরিশেষে বলা যায়, আমরা বাহ্যিকভাবে আধুনিক হয়েছি এবং প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নত হয়েছি, কিন্তু মানসিক আধুনিকতা ও ভেতরের কুসংস্কারমুক্ত উদারতা আজও পুরোপুরি আসেনি। রামমোহন রায়ের মূল দর্শন ছিল—কোনো সমাজ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত প্রগতিশীল হতে পারে না, যতক্ষণ না তার অন্তরের কুসংস্কার দূর হচ্ছে এবং নারী সমাজ মুক্তি পাচ্ছে। আজকের ২০২৬ সালের দাঁড়িয়েও এই কথাটি এক চরম সত্য, এবং যেদিন আমাদের সমাজ পুরোপুরি বৈষম্যহীন ও যুক্তিবাদী হয়ে উঠবে, সেদিনই এই মহান মনীষীর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হবে।

রাঢ় বাংলার জল সংকট :বাংলার ভৌগোলিক মানচিত্রে ‘রাঢ়’ বাংলা তার লাল মাটি আর কঠিন পাথুরে ভূপ্রকৃতির জন্য পরিচিত। কিন্তু আজ...
16/05/2026

রাঢ় বাংলার জল সংকট :

বাংলার ভৌগোলিক মানচিত্রে ‘রাঢ়’ বাংলা তার লাল মাটি আর কঠিন পাথুরে ভূপ্রকৃতির জন্য পরিচিত। কিন্তু আজ সেই চেনা মাটির রূপ পাল্টে যাচ্ছে। একসময় যে অঞ্চলে কুয়ো খুঁড়লেই শীতল জল পাওয়া যেত, আজ সেখানে কয়েকশো ফুট গভীর নলকূপও জলহীন হয়ে থাকছে। বর্তমান খবর অনুযায়ী, রাঢ়বঙ্গের জেলাগুলোতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর প্রতি বছর গড়ে প্রায় ০.৫ মিটারের বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এখনই সচেতন না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চল এক ভয়াবহ ‘জল-শূন্য’ অবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে।

​রাঢ় অঞ্চলের মাটি মূলত ল্যাটেরাইট বা লাল মাটি, যা জল ধরে রাখার ক্ষমতা খুব কম রাখে। উপরন্তু, গত কয়েক বছরে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং তীব্র দাবদাহের কারণে এখানকার প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির নিচের জল অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে শুধু যে পানীয় জলের অভাব ঘটছে তা নয়, কৃষিকাজেও দেখা দিচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা। অনেক জায়গায় জলের গুণমান নষ্ট হচ্ছে এবং আর্সেনিক বা ফ্লোরাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রাও বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরুতে যখন নদী ও পুকুরগুলো শুকিয়ে যায়, তখন গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই হাহাকার পড়ে যায়।

এককালে রাঢ় বাংলার শাল-পিয়ালের জঙ্গল বৃষ্টির জলকে মাটিতে শুষে নিতে সাহায্য করত। আজ সেই বনভূমি কমে আসায় বৃষ্টির জল মাটির ভেতরে যেতে পারছে না, বরং ওপর দিয়ে বয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

চাষবাসের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির তলার জল অনিয়ন্ত্রিতভাবে তোলার ফলে জলস্তর আর পুনর্ভরণ (Recharge) হতে পারছে না।

পুকুর বুজিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি এবং চারপাশ সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়ার ফলে বৃষ্টির জল মাটির গভীরে প্রবেশ করার পথ হারিয়ে ফেলছে।

​জল সংকট মোকাবিলা করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের অস্তিত্বের লড়াই। সহজ কিছু পদক্ষেপ আমাদের এই সংকট থেকে বাঁচাতে পারে:

রাঢ় অঞ্চলে যেহেতু বৃষ্টির পরিমাণ কম নয়, তাই সেই জলকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুকুরে বা বিশেষ চৌবাচ্চায় ধরে রাখা জরুরি। বাড়ির ছাদের বৃষ্টির জলকে পাইপের মাধ্যমে মাটির গভীরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ধান চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। রাঢ় অঞ্চলের কৃষকদের ডালশস্য, তৈলবীজ বা মিলেট (বাজরা, জোয়ার)-এর মতো কম জল লাগে এমন চাষের দিকে ঝুঁকতে হবে। ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করলে জলের অপচয় অনেক কমানো সম্ভব।
গ্রাম বাংলার পুরনো পুকুর ও ডোবাগুলোকে পুনর্খনন করে সেগুলোর জল ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ‘জল ধরো জল ভরো’র মতো সরকারি প্রকল্পগুলোকে জনভাগীদারির মাধ্যমে আরও সফল করতে হবে।

লাল মাটিতে ঘাস ও গাছের আবরণ বাড়ানো প্রয়োজন। গাছ কেবল বৃষ্টিই আনে না, গাছের শিকড় মাটির জলস্তর ধরে রাখতে স্পঞ্জের মতো কাজ করে।

জলই জীবন— এই কথাটি এখন রাঢ় বাংলার জন্য আক্ষরিক অর্থেই ধ্রুব সত্য। আমরা যদি আজ জলের অপচয় না থামাই এবং প্রাকৃতিক উৎসগুলোকে রক্ষা না করি, তবে আগামী প্রজন্মকে এক মরুপ্রায় রাঢ় ভূমি উপহার দিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি ফোঁটা জলের সঠিক ব্যবহার এবং সংরক্ষণের মানসিকতাই পারে আমাদের এই তৃষ্ণার্ত মাটিকে আবার সজীব করে তুলতে। আসুন, সচেতন হই এবং জল বাঁচিয়ে আগামীকে রক্ষা করি।
#জলইজীবন #রাঢ়বাংলা #জলবাঁচাওজীবনবাঁচাও #জলধরোজলভোরো #বৃক্ষরোপণ #সচেতনতা

ওড়িশার সবুজ পাহাড় আর ঘন বনানী আজ এক গভীর সংকটের মুখে। যুগ যুগ ধরে যে আদিবাসী মানুষেরা এই প্রকৃতিকে রক্ষা করে এসেছেন, আজ ...
13/05/2026

ওড়িশার সবুজ পাহাড় আর ঘন বনানী আজ এক গভীর সংকটের মুখে। যুগ যুগ ধরে যে আদিবাসী মানুষেরা এই প্রকৃতিকে রক্ষা করে এসেছেন, আজ তাদেরই অস্তিত্ব বিপন্ন।

বড় বড় শিল্প প্রকল্প আর খনিজ উত্তোলনের নামে একের পর এক পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র। যে জঙ্গল ছিল বন্যপ্রাণী আর ওষধি উদ্ভিদের ভাণ্ডার, তা আজ কংক্রিটের গ্রাসে।

আদিবাসীদের কাছে নদী এবং পাহাড়ের ঝরনা হলো জীবনরেখা। নিয়ামগিরি থেকে শুরু করে বক্সাইটের খনি অঞ্চল—সবখানেই দেখা যাচ্ছে খননকার্যের ফলে জলের প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে কেবল আদিবাসীরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো রাজ্যের জলবায়ু।

আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্রে রয়েছে প্রকৃতি। তাদের দেব-দেবী মন্দির বা গির্জায় নয়, বাস করেন পাহাড়ের চুড়ায় আর গভীর অরণ্যে। এই পরিবেশ ধ্বংস করার অর্থ হলো একটি হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতিকে মুছে ফেলা ।

২০০৬ সালের বন অধিকার আইন (FRA) এবং গ্রামসভার ক্ষমতা (PESA) থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আদিবাসীদের চিরাচরিত অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে। তারা কেবল তাদের ভিটেমাটি নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই আজ রাজপথে।
​এটি কেবল ওড়িশার এক প্রান্তের লড়াই নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে ধরিত্রীকে বাঁচানোর লড়াই। উন্নয়নের সংজ্ঞা কী কেবলই যান্ত্রিক সমৃদ্ধি, নাকি সুস্থ পরিবেশে বেঁচে থাকা—এই প্রশ্নই আজ ওড়িশার আদিবাসী আন্দোলন আমাদের সামনে তুলে ধরছে।

গতকাল মহুয়া এভারগ্রীন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়   BMC Cricket Team-এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হলো একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ...
11/05/2026

গতকাল মহুয়া এভারগ্রীন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় BMC Cricket Team-এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হলো একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। পরিবেশের পরম বন্ধু হিসেবে দলের সদস্যরা দুটি বট ও একটি অশ্বত্থ গাছের চারা রোপণ করেছেন। শুধু চারা রোপণই নয়, সেগুলির দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে মজবুত বেড়ার মাধ্যমে সুরক্ষিতও করা হয়েছে। ক্রিকেটের স্পিরিটকে সঙ্গী করে প্রকৃতির প্রতি এই দায়বদ্ধতা আমাদের আগামীর পথকে আরও সুন্দর ও সবুজ করে তুলবে।
​আসুন, আমরা সবাই মিলে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তুলি।

সবুজে ঘেরা গ্রেট নিকোবর কি তবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে?প্রকৃতি এবং মানুষের নিবিড় মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা আমাদের এই পৃথিবীর কি...
10/05/2026

সবুজে ঘেরা গ্রেট নিকোবর কি তবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে?

প্রকৃতি এবং মানুষের নিবিড় মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা আমাদের এই পৃথিবীর কিছু সম্পদ সত্যিই অমূল্য। ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত নীল জলরাশি আর ঘন অরণ্যে ঘেরা 'গ্রেট নিকোবর' দ্বীপপুঞ্জ তেমনই এক স্বর্গীয় উদ্যান। এই দ্বীপকে ঘিরে সরকার একটি বড় উন্নয়নমূলক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই প্রকল্প ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং মালাক্কা প্রণালীর কাছে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক শিপিং টার্মিনাল তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন গতি আনবে। এছাড়া পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য এখানে একটি আধুনিক স্মার্ট সিটি বা 'ইন্টিগ্রেটেড টাউনশিপ' গড়ার কথাও বলা হয়েছে।

উন্নয়নের গুরুত্ব আমরা অস্বীকার করি না, তবে যে উন্নয়ন আমাদের হাজার বছরের পুরনো বনাঞ্চল আর বিরল জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করে তোলে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। পরিবেশবিদদের মতে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে আমাদের হয়তো এমন কিছু হারাতে হবে যা আর কোনোদিন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রায় ১৩০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে, যার ফলে কয়েক লক্ষ প্রাচীন গাছ কাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাবলে অবাক লাগে, গালাথিয়া উপসাগরের সেই শান্ত সৈকত—যা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম 'লেদারব্যাক' সমুদ্র কচ্ছপদের প্রজনন কেন্দ্র—তা হয়তো বন্দরের কংক্রিটের নিচে হারিয়ে যাবে।

সমুদ্রের নিচে থাকা বর্ণিল প্রবাল প্রাচীরগুলো, যা আমাদের সামুদ্রিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলকে বাঁচায়, সেগুলোও এই ড্রেজিং ও নির্মাণকাজের ফলে ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে। এই দ্বীপ কেবল কিছু গাছ বা পাথরের সমষ্টি নয়, এটি 'শম্পেন' উপজাতির মতো কিছু প্রাচীন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সরকার তাদের জন্য পুনর্বাসনের কথা বললেও, বাইরের আধুনিক জগতের সংস্পর্শ এবং বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়া তাদের মতো সংরক্ষিত উপজাতির অস্তিত্বের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রকৃতি বাঁচলে তবেই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা পাবে। আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও যেন এই পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া কোনো গল্পের মতো নয়, বরং সচক্ষে এই চিরহরিৎ বনভূমি আর নীল সমুদ্রের বিশালতা দেখার সুযোগ পায়। এই অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, কোনো ভেদাভেদ নয়, বরং কেবল পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমরা আমাদের সংহতি প্রকাশ করি।
গ্রেট নিকোবরের এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক পিটিশন চলছে। আপনার একটি ছোট পদক্ষেপ বা একটি স্বাক্ষর এই দ্বীপের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সাহায্য করতে পারে। নিচের লিঙ্কে গিয়ে আপনিও আপনার সমর্থন জানাতে পারেন:
👉 https://c.org/LCm4hwgCP6
প্রকৃতি এবং প্রাণের সুরক্ষায় এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। 🌏💚

Address

Khatra

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mahua Evergreen Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share