23/09/2024
আমরা সকলে অবগত যে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার কারনে কংসাবতী নদী তিরবর্তী পুর্ব মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার পাঁশকুড়া সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ব্লকের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় কবলিত। বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা প্রবাহ পরিবার দৃঢ় ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।গত পরশুদিন আমরা আপনাদের কাছে আহ্বান করেছিলাম। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বহু মানুষ।
সকলের সহযোগিতাকে পাথেয় করে আমরা গতকাল সকালে সামর্থ মত সামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম পাঁশকুড়ার উদ্দেশ্যে।বরদাবাড়-সিদ্ধা বাজার-মেচগ্রাম হয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম কনকপুর।সেখান থেকে কংসাবতী নদী তিরবর্তী গ্রামাঞ্চল লালচক-মঙ্গলদ্বোয়ারি হয়ে রাতুলিয়া।এখানকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও জলমগ্ন। এখনো গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় কোথাও কোমড় সমান জল, আবার কোথাও বা হাঁটুজল।সেইসাথে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। সেই জল পেরিয়েই আজ আমরা প্রায় পাঁচ'শ পরিবারের হাতে বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দিলাম। ছিল মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট, কেক, ফ্রুটি, মোমবাতি, ওয়ারেশ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।সাথে ছিল বিশুদ্ধ পানীয় জল।প্রয়োজনের নিরিখে হয়ত এগুলি নিতান্তই নগন্য, তবু এই পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব যে কতখানি তা চাক্ষুষ না করলে বোঝা যাবে না।লালচক-মঙ্গলদ্বোয়ারি গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় কোমড় সমান জল ঠেলে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আমাদের প্রবাহ পরিবারের পক্ষ থেকে চলে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান।আমাদের সাথে এদিন সামিল হয়েছিলেন "ভারত সেবাশ্রম সংঘ" (গঙ্গাধরপুর, পানিহিজলী, হাওড়া)।
অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই লড়াইকে সুষ্ঠু ভাবে আয়োজন করার জন্য সবরকমভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন।বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই ক্রীড়া জগতের সুনামধন্য রেফারী গোবিন্দ প্রামাণিক, শিক্ষক সমরেশ মাইতি, শিক্ষক দীপঙ্কর মাইতি, ভাতৃপ্রতিম সুবোধ জানা, দাদাভাই বিকাশ মন্ডল মহাশয়দের - তাঁদের সহযোগিতা ব্যতীত এই প্রত্যন্ত জলমগ্ন এলাকায় ঢুকে কাজ করা হয়ত সম্ভব হতনা।ধন্যবাদ জানাই আপনাদের—যাঁদের আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতনা৷ এভাবেই আগামী দিনেও প্রবাহ পরিবার মানুষের সাথে মানুষের পাশে থাকার জন্য বদ্ধপরিকর।।