04/12/2022
সময়টা ২০০০ সাল । কোন্নগর শ্রীদূর্গা কটন মিল বন্ধের নোটিশ পড়ল। কর্মহারা হলেন স্হানীয় বহূ শ্রমিক। রুটি রোজগার হারানো মানুষের হাহাকার ভীষন ভাবে স্পর্শ করলো এক বিরল মানব দরদী হৃদয়কে। মানুষটির বাস কিন্তু অন্যত্র। চিত্তরঞ্জন group of hospital এর কর্মী তখন বেহালা বাসী। নাম শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অকৃতদার ভদ্রলোকের নেশা ছিল সমাজ সেবা। কর্মক্ষেত্রেই Public health এর কর্মী কোন্নগরের শ্যামল সামন্তের সাথে আলাপ।। ঐ মিল বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে শ্যামলকে একদিন বললেন - কি করছিস তোরা ? এতগুলো লোকের চাকরি গেল, তাদের পাশে দাঁড়াতে পারছিস না? চল, আমি যাব, কিছু একটা করতেই হবে। পরবর্তী তে রাজরাজেশ্বরী তলার ১৪৯, এস সি চ্যাটার্জী ষ্ট্রীটস্থ সামন্ত বাড়ীতে ঐ পরিবারের ৫ ভাই ( প্রদীপ, শ্যামল, চন্দ্রনাথ, গৌতম , প্রবীর) ও পাড়ার আরও ৫ জন ( সুশান্ত ঘোষাল, কনক চ্যাটার্জী, জয়ন্ত ঘোষাল, স্বপন গুছাইত ও জিতেন্দ্রনাথ দাস ) সমমনস্ক সুধীজন কে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হল কোন্নগর সেবা প্রতিষ্ঠান। শুরু হল পথ চলা। প্রতিষ্ঠাতার মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পুন্য কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়লো এই প্রতিষ্ঠান। সমাজ সেবা মূলক নির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে কোন্নগরের জনজীবনে একটু একটু করে ছাপ ফেলতে লাগলো এই সমাজসেবী মঞ্চ। সময়ের সাথে সাথে পরিসর বাড়তে লাগলো ক্রমশই। বর্তমানে, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি শহর কোন্নগরের বুকে এক অতি পরিচিত নাম। খেলাধুলা, শিক্ষা, সমাজ সেবা বিভিন্ন জগতের পরিচিত মানুষ জন আজ সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানের সাথে। এছাড়াও আছেন আরও কিছু পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ। মূলতঃ মেধাবী অথচ অভাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো, দুঃস্থ ও অসহায়দের নিয়মিত সাহায্য, ক্রীড়া ক্ষেত্রে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ও অভাবী কন্যার বিবাহে যৎসামান্য সহায়তা প্রদান - এই ধরনের কল্যাণকর কর্মকান্ডে ব্রতী আমরা।
আমাদের স্বর্গীয় প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্বামীজির আদর্শে দীক্ষিত। আমরাও আমাদের সাধ্যমত সেই পথেরই অনুসারী। আমাদের সাধ অনেক, কিন্তু সাধ্য সীমিত। তাই আমাদের এই নিঃস্বার্থ যাত্রাপথে কোন্নগরবাসী হিসাবে এই প্রতিষ্ঠান কামনা করে আপনাদের অকুণ্ঠ সাহায্য ও সহযোগিতা।