Guptipara Sri Sri Sarada Sevashrama

Guptipara Sri Sri Sarada Sevashrama The Organisation is solely based on the ideals and doctrines led by Sri Ramakrishna and Sw. Vivekanan

৫) স্কন্দমাতাসিংহাসনগতা নিত্যং পদ্মাশ্রিতকরদ্বয়া।শুভদাস্তু সদা দেবী স্কন্দমাতা যশস্বিনী।।নবদুর্গার পঞ্চম রূপ স্কন্দমাতা...
27/09/2025

৫) স্কন্দমাতা
সিংহাসনগতা নিত্যং পদ্মাশ্রিতকরদ্বয়া।
শুভদাস্তু সদা দেবী স্কন্দমাতা যশস্বিনী।।
নবদুর্গার পঞ্চম রূপ স্কন্দমাতা। নবরাত্রি উৎসবের পঞ্চম দিনে তাঁর পূজা করা হয়। দেবসেনাপতি কার্তিকের অপর নাম স্কন্দ। স্কন্দের বাহন ময়ূর, তাই এঁকে ময়ূরবাহনও বলা হয়। দেবী দুর্গা কার্তিকের মা। তাই তিনি পরিচিতা ‘স্কন্দমাতা’ নামে।
কার্তিক-জননী বেশে দুর্গার রূপটি একটু আলাদা। এই রূপে তিনি চতুর্ভুজা; উপরের দুই হাতে দুটি পদ্মফুল; নিচের এক হাতে ধরে থাকেন স্কন্দ অর্থাৎ কার্তিককে, অপর হাতে দেখান বরমুদ্রা। দেবী পদ্মাসনা, তবে দেবীর বাহন সিংহ। দেবীর কোলে স্কন্দের যে মূর্তিটি দেখা যায়, সেটি আমাদের বাংলায় সচরাচর দেখা কার্তিক মূর্তির চেয়ে একটু আলাদা। ইনি হাতে তীর-ধনুক থাকে বটে, কিন্তু এঁর ছয়টি মস্তক। ষড়ানন কার্তিকের এই শিশুমূর্তিটিই শোভা পায় দেবী স্কন্দমাতার কোলে।
দেবী স্কন্দমাতার কথা জানা যায় স্কন্দ পুরাণ থেকে। অসুররাজ তারক বরলাভ করেছিল, কেবল শিব ও দুর্গার পুত্রই তার প্রাণবধে সক্ষম হবে। তাই দেবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সে সহজেই দেবতাদের কাছ থেকে স্বর্গরাজ্য কেড়ে নিতে পেরেছিল। এই ঘটনার ঠিক আগেই সতী দেহত্যাগ করেছিলেন, শিবও হয়েছিলেন ধ্যানমগ্ন। তাই দেবতারা দুর্গাকে পুনরায় জন্মগ্রহণ করার অনুরোধ করলেন। দুর্গা শৈলপুত্রী রূপে গিরিরাজ হিমালয়ের গৃহে জন্ম নিলেন। তারপর ব্রহ্মচারিণী রূপে শিবকে পতিরূপে পাওয়ার জন্য করলেন কঠোর তপস্যা। শেষে শিবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হল। তারপর যথাসময়ে জন্ম হল শিব ও দুর্গার পুত্র কার্তিকের। কার্তিকের জন্মের বিবরণ নানা পুরাণে নানাভাবে বর্ণিত হয়েছে। সে সবের উল্লেখ এখানে না করলেও চলবে–শুধু এটুকু বলে রাখি, কার্তিকের ছিল ছয়টি মাথা। তাই তিনি পরিচিত হয়েছিলেন ষড়ানন নামে। এই ষড়ানন স্কন্দই তারককে যুদ্ধে পরাজিত করে দেবতাদের স্বর্গরাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। স্কন্দ ও স্কন্দমাতা উভয়েই তারকাসুর বধে দেবতাদের সাহায্য করেছিলেন বলে, মাতাপুত্রের পূজা একসঙ্গে করাই নিয়ম।
দেবী স্কন্দমাতার পূজা করলে ভক্তের সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়; তাঁর জীবন সুখ ও শান্তিময় হয়ে ওঠে এবং তাঁর মোক্ষের পথ সহজতর হয়। এছাড়া স্কন্দমাতার পূজা করলে, সেই সঙ্গে কার্তিকের পূজাও হয়ে যায়।
কাশীর নাগকুরার কাছে দেবী স্কন্দমাতা ও বাগেশ্বরীর মন্দির অবস্থিত। মন্দিরটি দোতলা, গর্ভমন্দিরটি ছোটো। সেখানে প্রমাণ আকারের স্কন্দমাতার মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত। বাগেশ্বরী সরস্বতীর মন্দিরটি স্কন্দমাতার মন্দিরের ঠিক পাশেই অবস্থিত। শারদীয়া ও বাসন্তী নবরাত্রি উৎসবের পঞ্চমীর দিন এই মন্দিরে প্রচুর জনসমাগম হয়।

২) ব্রহ্মচারিণীদধানা করপদ্মাভ্যামক্ষমালাকমণ্ডলু। দেবী প্রসীদতু ময়ি ব্রহ্মচারিণ্যনুত্তমা।।নবদুর্গার দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচ...
23/09/2025

২) ব্রহ্মচারিণী
দধানা করপদ্মাভ্যামক্ষমালাকমণ্ডলু। দেবী প্রসীদতু ময়ি ব্রহ্মচারিণ্যনুত্তমা।।

নবদুর্গার দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচারিণী। নবরাত্রি উৎসবের দ্বিতীয় দিনে তাঁর পূজা করা হয়। ‘ব্রহ্মচারিণী’ নামের অর্থ ‘ব্রহ্মচর্য ব্রত অবলম্বনকারিণী’। তিনিই উমা।

দেবী ব্রহ্মচারিণী দ্বিভুজা; একহাতে তাঁর জপমালা, অপর হাতে কমণ্ডলু। দেবী জ্যোতির্ময়ী মূর্তিতে আবির্ভূতা; তাঁর ভৈরব চন্দ্রমৌলীশ্বর।

দেবী ব্রহ্মচারিণীর সম্পর্কে যে পৌরাণিক উপাখ্যানটি প্রচলিত, সেটি গিরিরাজ হিমালয়ের গৃহে জাত দেবী পার্বতীর শিবকে পতিরূপে লাভ করার নেপথ্য-কাহিনি। সতীর দেহত্যাগের পর শিব ধ্যানমগ্ন হয়েছিলেন। তাই সতী যে পুনরায় পার্বতীরূপে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেদিকে খেয়াল ছিল না তাঁর। এদিকে তারকাসুরের অত্যাচারে দেবতারা জর্জরিত। সে বর পেয়েছিল, শিবের পুত্র ভিন্ন অপর কেউই তাকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে পারবে। কিন্তু শিব বিবাহের নামটি করছিলেন না। তখন উপায়? অগত্যা নারদ পার্বতীকে তপস্যা করার পরামর্শ দিলেন। নারদের উপদেশ মতো প্রথমে এক হাজার বছর শুধুমাত্র ফলমূল খেয়ে, তারপর একশো বছর শুধু শাক খেয়ে, তারপর কিছুকাল উপবাস করে, তারপর তিন হাজার বছর শুধুমাত্র একটি করে বেলপাতা খেয়ে এবং শেষে কয়েক হাজার বছর নির্জলা উপবাস করে পার্বতী করলেন কঠোর তপস্যা। মা মেনকা দুর্গার তপস্যাক্লিষ্ট শরীর দেখে দুঃখিত হয়ে কন্যাকে নিরস্ত করার জন্য বললেন, “উ মা” (আর না!) সেই থেকে দেবী ব্রহ্মচারিণীর অপর নাম হল ‘উমা’। তাঁর কঠোর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা এসে তাঁকে বর দিলেন, “যাঁকে তুমি কামনা করো, সেই শিবকেই পতিরূপে পাবে।“ মহামায়া দুর্গার সেই তপস্বিনী রূপই দেবী ব্রহ্মচারিণী। দেবীপুরাণ মতে, সর্ববেদে বিচরণ করেন বলে দেবী পার্বতীর অপর নাম ‘ব্রহ্মচারিণী’। কাশীতে তাঁকে ‘ছোটি দুর্গাজি’ও (ছোটো দুর্গা) বলা হয়।

রামায়ণ অনুসারে, উমা পর্বতরাজ হিমালয়ের দ্বিতীয়া কন্যা (প্রথমা কন্যা হলেন গঙ্গা)। তিনি তপস্বিনীর জীবন যাপন করতেন। হরিবংশ মতে, হিমালয়ের ঔরসে মেনকার গর্ভে তিন কন্যার জন্ম হয়–অপর্ণা, একপর্ণা ও একপাটলা। এঁরা তিন জনই কঠোর তপস্যা করেছিলেন। একপাটলা একটি মাত্র নাগকেশর ফুল খেয়ে, একপর্ণা একটি মাত্র পাতা খেয়ে এবং অপর্ণা কিছু না খেয়ে তপস্যা করেন। অপর্ণার এহেন কঠোর তপস্যায় বিচলিত হয়ে তাঁর মা মেনকা তাঁকে বলে বসেন, ‘উ মা!’ (আর না!) সেই থেকে দেবী অপর্ণার পরিচিতা হন ‘উমা’ নামে। তিন বোনের মধ্যে উমাই ছিলেন শ্রেষ্ঠা; তিনি পতিরূপে লাভ করেন মহাদেবকে। তবে মনে হয়, তিন বোনের তপস্যার এই কাহিনি থেকেই বাংলা লৌকিক ছড়ায় শিব ঠাকুরের বিয়েতে তিন কন্যা দানের প্রসঙ্গটি এসেছে। আবার, তন্ত্রমতে, যে দেবী ব্রহ্মের প্রতিনিধিস্বরূপ দেবতাদের দর্পচূর্ণ করতে গিয়েছিলেন, তাঁরও নাম উমা হৈমবতী।

কাশীর (বারাণসী) দুর্গাঘাটের কাছে রয়েছে দেবী ব্রহ্মচারিণীর মন্দির। মন্দিরটি বেশ ছোটো। দেবীপ্রতিমার উচ্চতাও হাত খানেক। তবে পূর্বমুখী এই মূর্তির মুখে সোনার মুখোশ লাগানো থাকে। শারদীয়া ও বাসন্তী নবরাত্রি উৎসবে দ্বিতীয় দিনে এই মন্দিরে প্রচুর ভক্তসমাগম হয়।

দেবী ব্রহ্মচারিণী ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেন। তাঁর পূজা করলে শুধু সংযম ও মানসিক শক্তিই বৃদ্ধি পায় না, সাধক অনন্ত পুণ্যফলও লাভ করেন এবং তিনি সর্বদা সিদ্ধি ও বিজয়ও লাভ করেন। নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে সাধক নিজের মনকে স্বাধিষ্ঠান চক্রে স্থিত করে ব্রহ্মচারিণীর পূজা করেন।

পূজো কি?  শ্রীশ্রী ঠাকুর বলতেন - পূজো কি জানিস?       তাঁকে কি দেব? সবই তো তাঁর! ভালো ভালো জিনিস যা দিবি তাঁর ছাড়া তো ক...
18/09/2025

পূজো কি?

শ্রীশ্রী ঠাকুর বলতেন - পূজো কি জানিস?

তাঁকে কি দেব? সবই তো তাঁর! ভালো ভালো জিনিস যা দিবি তাঁর ছাড়া তো কারুর নয়?

শ্রীশ্রী ঠাকুর বললেন, শোন্, একজন বড়লোক তাঁর নিজের বাগানে গিয়ে বৈঠকখানায় বসে আছেন। বাগানের মালী-টালী সব বাগানের কাজে ব্যস্ত আছে। এমন সময় দারোয়ান এসে বললে, ''বাবু, আপনার জন্য কাল থেকে একটা গাছপাকা পেঁপে তুলে রেখে দিয়েছি, আপনি নিন এটা বাবু।"
বাবু জানেন বাগান তাঁর, গাছ তাঁর, পেঁপেও তাঁর। কিন্তু ওই যে দারোয়ানটি কত শ্রদ্ধা করে মনে করে পেঁপেটা বাবুর জন্য রেখে তাঁকে দিল এটাকি বাবু দেখবেন না? দারোয়ানের শ্রদ্ধা কি বাবুর মনকে বিগলিত করবে না?
পূজো করাও ঠিক সেই রকম।

শ্রী ঠাকুর বলেছেন --- কিছু খেয়েদেয়ে পূজো করলে কোনো দোষ নেই। পেট খিদেয় চুঁই চুঁই করলে পূজো করবে কেমন করে? কেবল খাবারের দিকেই তো মন পড়ে থাকবে। কিছু খেয়েদেয়ে তারপর পূজোয় বসলে মন স্থির হয়।

ঠাকুর বলেছেন -- বাইরে ভক্তি আর ভিতরে কপটতা - এ ভারী খারাপ গা। ওখান থেকে ভগবান অনেক দূরে। যারা কোনো না কোনো স্বার্থ নিয়ে ভক্তি করে তাদের কিছু হয় না।

এজন্য ঠাকুর বলেছেন, মন-মুখ এক করে ভক্তি করতে হয়। লোক দেখানো ভক্তিতে কোনো ফল হয় না ওসব পাটোয়ারী বুদ্ধি। লোকদেখানো ভক্তিভাব বেশীদিন থাকে না। সময়মত স্বরূপ বেরিয়ে পড়ে। তাই যা করবে প্রীতি এবং শ্রদ্ধার সহিত করবে। যে অমনি করবে সেই আসল ভক্ত।
একদিন শ্রীশ্রী ঠাকুর প্রাতে শৌচে যাচ্ছিলেন পঞ্চবটীর কাছ দিয়ে। দেখলেন, হরিশ ধ্যান কচ্চে। ঠাকুর যেতে যেতে আপনার মনে গুন্ গুন্ করে বললেন, "হরিশ, যার ধ্যান কচ্চো, সে এক গাড়ু জলও পায় না। সংসারেই বলো আর ধর্মেই বলো প্রীতি শ্রদ্ধা না থাকলে কিছু হয় না।"
শুধু উপরোধে কি কোনো কাজ হয়?'আমি আছি আর আমার ইষ্ট আছে' এই ভাব হলে চিত্তশুদ্ধি হয়। যেজন হরষিত হয়ে তাঁর জিনিস তাঁকে দেন, ভগবান তা গ্রহণ করেন।'প্রীতিসে' না দিলে তিনি গ্রহণ করেন না। মলিন মনে পূজো তিনি গ্রহন করেন না।ঈশ্বর লাভ করতে হলে ঠিক ঠিক ত্যাগ চাই।।
-স্বামী অদ্ভুতানন্দ

।। কাজই পূজা ।। ১৯৫৭ সালে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক স্বামী মাধবানন্দজী, নতুন মন্দির উদ্বোধনের জন্য দিল্লি কেন্দ্রে এসেছিলে...
04/09/2025

।। কাজই পূজা ।।

১৯৫৭ সালে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক স্বামী মাধবানন্দজী, নতুন মন্দির উদ্বোধনের জন্য দিল্লি কেন্দ্রে এসেছিলেন। আমি তখন সেই আশ্রমে একজন ব্রহ্মচারী ছিলাম। স্বামী রঙ্গনাথানন্দজী ছিলেন কেন্দ্রের প্রধান। মন্দির উদ্বোধনের পর, স্বামী জিতানন্দ (দীনবন্ধু), যিনি আগের বছর সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন, তিনি মাধবানন্দজীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন, "আমি গত নয় বছর ধরে আশ্রমের নির্মাণ কাজ দেখাশোনা করছি, কোনও অবকাশ ছাড়াই। এখন আবার একই কাজের জন্য আমাকে বৃন্দাবন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে। গত নয় বছরে প্রতিদিন সকালে আমি কেবল ন্যূনতম জপ করতে পারতাম এবং পুরো দিন নির্মাণ কাজে জড়িত ছিলাম। এইভাবে, আমি আমার জীবনের নয় বছর নষ্ট করেছি। অতএব, দয়া করে আমাকে দুই বছরের ছুটি দিন যাতে আমি তপস্যায় যেতে পারি।" স্বামী মাধবানন্দজী তৎক্ষণাৎ বললেন, “তোমার অনুরোধ মঞ্জুর করেছি। কিন্তু তাহলে তোমার এই ধারণা যে তুমি নয় বছর সন্ন্যাস জীবন নষ্ট করেছ, তা ঠিক নয়। তুমি সংঘের জন্য কাজ করেছ। অতএব, তুমি শ্রীরামকৃষ্ণ এবং স্বামীজীর সেবা করেছ। তাই তোমার কঠোর পরিশ্রমের বছরগুলি নষ্ট হয়নি বরং শ্রীরামকৃষ্ণের পূজা হয়ে গেছে।” অভিযোগকারী স্বামী বুঝতে পেরেছিলেন যে আমাদের সংঘের কাজ হল শ্রীরামকৃষ্ণের পূজা।

— স্বামী গৌতমানন্দ

উদ্বোধনে একদিন পুজোয় বসে বাণেশ্বর শিবকে স্নান করাবার সময় আমার হাত পিছলে পড়ে গিয়ে গড়গড় করে গড়িয়ে গেলেন। আমি আতঙ্ক...
03/09/2025

উদ্বোধনে একদিন পুজোয় বসে বাণেশ্বর শিবকে স্নান করাবার সময় আমার হাত পিছলে পড়ে গিয়ে গড়গড় করে গড়িয়ে গেলেন। আমি আতঙ্কিত হয়ে উঠে দৌড়ে গিয়ে তাঁকে তুলে এনে যথাস্থানে গৌরীপট্টে স্থাপন করলাম। পরদিন সকালে রামকৃষ্ণপুর থেকে নীরদ মহারাজের (স্বামী অম্বিকানন্দ) মা এসে বললেন, “বাবা, কাল তুমি মহাদেবকে স্নান করাবার সময় হাত থেকে ফেলে দিয়েছ?” আমি লজ্জিত হয়ে বললাম, “মা, আপনি জানলেন কেমন করে?” তিনি বললেন, “কাল স্বপ্নে দেখি, একটি পাঁচ বছরের ধবধবে ছেলে, মাথায় ছােট ছােট জটা, ন্যাংটো, নাচতে নাচতে এসে বলছে, ‘আমায় ফেলে দিয়েছে।’ ”
- স্বামী বাসুদেবানন্দ (শ্রীশ্রীমায়ের পদপ্রান্তে - ৩, পৃ. ৫৩৩)

(*কালীঘাটের মা রূপে শ্রীশ্রীমা সারদা*)    _শ্রীশ্রীমা আচার্য রূপে কৃপা করেছেন অগণিত মানুষকে। তাঁর সেই কৃপা বিতরণের ইতিহা...
02/09/2025

(*কালীঘাটের মা রূপে শ্রীশ্রীমা সারদা*)


_শ্রীশ্রীমা আচার্য রূপে কৃপা করেছেন অগণিত মানুষকে। তাঁর সেই কৃপা বিতরণের ইতিহাস বিচিত্র বিস্ময়কর এবং অপার্থিব সুষময় মন্ডিত।_

_রাঁচি-নিবাসী জনৈক যুবক ভক্ত দীক্ষার জন্য ব্যাকুল হয়ে স্বামী ব্রহ্মানন্দকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু তার উত্তর আসতে দেরি হওয়ায় তিনি পাগলের মত অস্থির হয়ে ওঠেন। সেই অবস্থায় এক রাতে *তিনি স্বপ্ন দেখেন কালীঘাটের মা কালী তাকে কোলে তুলে নিয়ে বলছেনঃ 'ভয় কি বাবা, আমি তো রয়েছি।' এ কথা বলেই সেই চতুর্ভুজামূর্তি দ্বিভূজা নারীমূর্তিতে রূপান্তরিত হলেন - তাঁর পরনে লাল পেড়ে কাপড়, হাতে বালা। সেই মাতৃমূর্তি সেই যুবককে বীজ সহ একটি নাম দিয়ে রোজ একশ আট বার জপ করতে নির্দেশ দিলেন ও বললেনঃ 'তুমি এটি করে যাও, আর যা করতে হয় আমি করব।'*_

যুবকটি এই স্বপ্নের কথা কারো কাছে প্রকাশ না করে ওই মাতৃমূর্তির দর্শন কোথায় পাবেন তাই চিন্তা করতে লাগলেন। এর কিছুদিন পরে মায়ের আশ্রিত জনৈক ভক্তের কাছ থেকে শ্রীমার কথা প্রথম শুনে যুবকটির মনে হলো, এই মাই কি আমার স্বপ্নদৃষ্ট সেই মা? তিনি আর দেরি না করে ওই ভক্তদের কাছ থেকে পথ জেনে নিয়ে জয়রামবাটী রওনা হলেন।

_জয়রামবাটীতে পৌঁছে নির্ধারিত সময়ে মায়ের দর্শনের জন্য মায়ের বাড়ির উঠোনে প্রবেশ করেই যুবকটি দেখলেনঃ বারান্দায় কয়েকটি স্ত্রীলোক বসে আছেন, এবং তাঁদের একজন বঁটিতে তরকারি কুটছিলেন। যুবকটিকে দেখেই অন্য স্ত্রী লোকেরা উঠে গেলেন কিন্তু যিনি তরকারি কুটছিলেন তিনি বসে রইলেন । তাঁর দিকে চেয়ে যুবকটি হতবাক - তার স্বপ্নে দেখা মা! সেই চোখ, সেই মুখ সেই ভাব। *তাঁর অন্তর থেকে কে যেন বলে উঠলঃ 'ইনিই_জগজ্জননী, বিশ্বপ্রসবিনী, বিশ্বেশ্বরী মা।'* যুবকটি এরকম আবিষ্ট অবস্থায় নির্বাক নিস্পন্দ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। শ্রীমা তখন বঁটিখানা কাত করে রেখে ঘরের ভিতরে গিয়ে হাতছানি দিয়ে যুবককে ডাকলেন।_

_যুবক ঘরের ভিতরে গিয়েও নীরবে মায়ের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। মা-ও রয়েছেন তাঁর দিকে চেয়ে। *কিছুক্ষণ পর মা-ই নীরবতা ভঙ্গ করে বললেনঃ 'হ্যাঁগা, আমায় কি করে চিনলে?'* যুবকের চোখে জল, বাষ্পরূদ্ধ অস্ফুষ্টস্বরে কি যেন বললেন। শুনে মা হাসলেন। সেই হাসি দেখে যুবক সম্বিৎ ফিরে পেলেন, মায়ের চরণে লুটিয়ে পড়লেন। দুদিন পরে যুবকের দীক্ষা হল। যুবকের বিস্ময় ও আনন্দের সীমা রইল না যখন দেখলেন মা তাকে সেই মন্ত্র দিয়েছেন যে মন্ত্রে তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন।_

অনেক ক্ষেত্রে শ্রীমা স্বপ্ন প্রাপ্ত মন্ত্রের সঙ্গে আরও একটি অংশ বা বীজ যুক্ত করে মন্ত্রটি পূর্ণাঙ্গ করে দিয়ে দীক্ষার্থীকে কৃপা করতেন।

(গ্রন্থ সূত্র - *শতরূপে সারদা*)

🍁🪷অ   মৃ   ত   ক   থা🪷🍁**===========🕉️==========**প্রশ্নঃ স্মরণ-মনন আর জপের মধ্যে কি সম্বন্ধ?*_*উত্তরঃ স্মরণ-মনন আরও নিব...
02/09/2025

🍁🪷অ মৃ ত ক থা🪷🍁*
*===========🕉️==========*
*প্রশ্নঃ স্মরণ-মনন আর জপের মধ্যে কি সম্বন্ধ?*

_*উত্তরঃ স্মরণ-মনন আরও নিবিড়ভাবে করার নামই জপ।* নাম আর নামীকে অভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে হয়; *যখন তাঁর নাম করছি, তখন যেন বোধ হয় যে আমি তাঁর সঙ্গ করছি। খুব গভীর ভাবে জপ করলে এই ফল হয়, মনের এই পরিণতি হয়।*_

*প্রশ্ন:জপ করলে কি মনের একাগ্রতা (concentration) এবং ইচ্ছাশক্তি (will-power) বাড়ে?*

_*উত্তর:* একজন বৈজ্ঞানিক যখন গবেষণা করছেন, মনকে concentrate করছেন, তখন জপ করছেন কি? যখন প্রবল বাসনা থাকে তখন ইচ্ছাশক্তি (will-power) থাকে। জপ যে করছে সে কি will-power বাড়াবার চেষ্টা করছে, না ভগবান লাভের চেষ্টা করছে? যে ভগবানকে সব সমর্পণ করে তার ইচ্ছাশক্তি থাকে কি?_

*প্রশ্ন:এটি কি একেবারে শেষের কথা?*

_*উত্তর:* একেবারে শেষের কথা কেন হবে? তবে গোড়ায় কি? ভগবানকে লাভ করতে গেলে সমস্ত ইচ্ছাশক্তি সমর্পণ করতে হবে। Beginner-রা এইভাবে পৌঁছতে চেষ্টা করবে। *ইচ্ছাশক্তি দিয়ে কি, ভগবান লাভ হয়? তা কখনও হয় না। টাকা রোজগারের ইচ্ছা থাকলে ইচ্ছাশক্তির প্রয়োগে টাকা হবে।*_

*প্রশ্ন:জপের সাহায্যে ইচ্ছাশক্তি বাড়ানো যায় কি?*

_*উত্তর:* আবার একই প্রশ্ন! যেতেও পারে আবার নাও পারে। মানে জপ করে যা চাইছ, জোরের সঙ্গে তা চাইলে তা হতে পারে। অনেকে আবার জপ করে অপরের ক্ষতি পর্যন্ত করতে চায়।_

*প্রশ্নঃ জপের দ্বারা কিভাবে সিদ্ধিলাভ আসবে?*

_*উত্তর:* *সিদ্ধি মানে ভগবান লাভ।* জপ করেও সিদ্ধিলাভ হতে পারে। আমরা আধ্যাত্মিক জীবনে যত এগোতে থাকব আমাদের জাগতিক অনুভূতিগুলি সম্বন্ধে ভ্রান্তি তত দূর হতে থাকে। *যে ভক্ত, সে জপ করে পণ্ডিত হবার জন্য নয়, ভগবানলাভের জন্য সে জপ করে। সত্যিকারের ভক্ত সুখে-দুঃখে কখনও বিচলিত হয় না। সে আর কিছু চায় না, শুধু ভগবানকেই চায়।*_

*তথ্যসূত্রঃ* অমৃতকথা, পৃঃ ১৮-১৯

হিন্দুমতে সন্ন্যাসীর বাপ-মায়ের শ্রাদ্ধ করার অধিকার থাকে না। ঠাকুর ছিলেন সন্ন্যাসী, তাই ভাইপো রামলাল চন্দ্রমণিদেবীর শ্রাদ...
26/08/2025

হিন্দুমতে সন্ন্যাসীর বাপ-মায়ের শ্রাদ্ধ করার অধিকার থাকে না। ঠাকুর ছিলেন সন্ন্যাসী, তাই ভাইপো রামলাল চন্দ্রমণিদেবীর শ্রাদ্ধ করেন। মায়ের মৃত্যুতে ঠাকুরকে কাঁদতে দেখে হৃদয় বলল, "মামা, তুমি না সাধু হয়েছ, তবে কাঁদছ কেন?” ঠাকুর উত্তরে বললেন, "শালা, সাধু হয়েছি বলে কি জানোয়ার হয়েছি?” অর্থাৎ আমি মানুষ, হৃদয়হীন পশু নই। যাহোক, মায়ের দেহান্তের কয়েক দিন পরে শ্রীমা একদিন ঠাকুরের দুপুরের খাবার থালায় সাজিয়ে তাঁর ঘরে নিয়ে যান। ঠাকুর তখন শ্রীমাকে বলেন, "দাঁড়াও, আমি মা-র জন্য পঞ্চবটীতে একটু কেঁদে আসি।” মায়ের ঋণ কোনো সন্তান পরিশোধ করতে পারে না। ঠাকুর মায়ের শ্রাদ্ধ করতে পারেননি, তাই চোখের জল দিয়ে মাতৃতর্পণ করলেন।
___ধ্যানলোকে শ্রীরামকৃষ্ণ
পৃষ্ঠা ___ ৯৩

#জয় #ঠাকুর । 🌹

Address

Guptipara Sri Sri Sarada Sevashrama Saradanagar, Bandhagachhi, Guptipara Https://goo. Gl/maps/XQH8HUxaPvDGgzhr 9
Guptipara
712512

Telephone

+917003901299

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Guptipara Sri Sri Sarada Sevashrama posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Guptipara Sri Sri Sarada Sevashrama:

Share