স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে ১৯৩৬ সালে অসমের গুয়াহাটিতে জন্ম নেয় ঐতিহাসিক বেঙ্গলি হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল। দীর্ঘ ৮৯ বছরের যাত্রা এই বাঙালি বিদ্যালয়ের। এক সময়, অর্থাৎ স্বাধীনতা-পূর্ব ও স্বাধীনতা-পরবর্তী কালেও সুনামের সঙ্গে এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত।
অবশ্য শুরুতে এই বিদ্যালয় ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা ছিল। নাম ছিল বেঙ্গলি বয়েজ হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং বেঙ্গলি গার্লস
হাই স্কুল। দীর্ঘদিন এই দু’টি নামেই রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এই বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয় পরিচালিত হয়েছে। পরে অবশ্য ২০২২ সালে দুই বিদ্যালয়ের একত্রীকরণের মাধ্যমে নতুন নামকরণ হয় বেঙ্গলি হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল। তখন থেকেই অব্যাহত রয়েছে বিদ্যালয়ের এই যাত্রা।
তবে একটা সময় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের অবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে। মূলত ইংরেজি মাধ্যমের দাপটে একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে এই বিদ্যালয়। কিন্তু যে বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে আজ যারা প্রতিষ্ঠিত, তাঁরা তা মেনে নিতে পারেননি। ফলে বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরাই উদ্যোগ নেন স্কুলকে ফের চাঙ্গা করে তোলার। ২০২২ সালে গঠন হয় ‘এলুমনি অ্যাসোসিয়েশন, বেঙ্গলি হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল’। আর এর পর থেকেই শুরু হয় সংস্কার কাজ।
স্কুলটিকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগ নেন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। গঠন করা হয় নতুন পরিচালন কমিটিও। সরকার তথা অনেক রাজনৈতিক নেতাও এগিয়ে আসেন এই স্কুলের শ্রীবৃদ্ধির কাজে। এর ফলে স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি স্কুলের চারপাশের সীমানা দেওয়াল নতুন করে নির্মাণ করা হয়। তৈরি হয় নতুন প্রেক্ষাগৃহ। পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয় একাধিক উদ্যোগ। সরকারি বিদ্যালয় হয়েও শুরু হয় স্কুল বাস পরিষেবা, যা সাফল্যও এনে দেয়।
এর ফলস্বরূপ, আজ আবার ধীরে ধীরে পুরনো জৌলুস ফিরে পাচ্ছে ঐতিহাসিক বেঙ্গলি হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল। আর থেমে নেই উদ্যোমী প্রাক্তনীরাও। বিদ্যালয়কে নতুন করে সাজিয়ে তোলার ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই উন্নয়নমূলক কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে সরকারের কাছ থেকেও। এমনকি খোদ শিক্ষামন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে প্রাক্তনীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
এই ‘এলুমনি অ্যাসোসিয়েশন’ পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় একটি অ্যাডহক কমিটি। শ্রীমতি অরুণিমা করকে আহ্বায়ক করে এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। যদিও পরে ব্যক্তিগত কারণে অরুণিমা দেবী এই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর আহ্বায়কের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় শ্রীমতি সুতপা পালকে। এই কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন শ্রী অমিতাভ দে।
এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন শ্রী দেবব্রত সাহা, শ্রী কাজল পালচৌধুরী, শ্রী পার্থপ্রতিম দাস, শ্রী শিবশঙ্কর দাসগুপ্ত, শ্রী প্রবীরকুমার মজুমদার, শ্রী দেবাশিস সান্যাল, শ্রীমতি তপতি সেনগুপ্ত, শ্রী সুনন্দ চক্রবর্তী, শ্রী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, শ্রী সঞ্জয় গুপ্ত, শ্রী মানস নন্দী, শ্রীমতি বুলু মহন্ত এবং শ্রীমতি অনিন্দিতা চক্রবর্তী।
এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন শ্রী প্রাণতোষ রায়, শ্রী অলোক দে সরকার এবং শ্রীমতি শ্রাবণী মজুমদার।