01/10/2026
লিখি না। পড়ি না। অদ্ভুত একটা ফেজ চলছে আমার। মাঝেমাঝেই চলে। কিছুই মাথায় রেজিস্টার করে না বেশিরভাগ সময়। কাল অন্তত পাঁচবার এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ৪x৪০০ মিটার সোনা জেতার ভিডিওটা দেখলাম। ভাবলাম লিখি, বিদ্যা রামরাজ, যে মেয়েটি লাস্ট ল্যাপে অসাধারণ দৌড়ল, সে কোয়েম্বাটোরের এক ট্রাক চালকের মেয়ে। পরিবারের তিন মেয়ের একজন। ইরোড, যে ছোট্ট টাউনের একমাত্র পরিচয় যে সে দক্ষিণ ভারতের বিশেষ ধরণের হলুদের সাপ্লাই দেয় ভারতে, সেখানের স্কুলের পিটির শিক্ষক তাঁকে তৈরি করেছেন। তারপর ভাবলাম, থাক, কী হবে লিখে!
কিন্তু এইটা টাইমলাইনে থাক। এইটা থাকা জরুরি। এই গল্পটা। ধরুন, আপনি চাকরিতে গেছেন অন্যান্য দিনের মত। আপনার চাকরিটা খানিকটা অন্যরকম বটে। আকাশে, তিরিশ হাজার ফুট ওপরে একশো চুয়াত্তর জন মানুষের জানমালের দায়িত্ব আপনার কাঁধে তিন ঘন্টার জন্য। সেইটাই চাকরি। আপনি ছাপোষা মানুষ, ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা, বউ বাচ্চা আছে। আপনি আর্মির কেউ নন, আপনি জীবনে কোন কমব্যাট ট্রেনিং নেন নি। আকাশে তিরিশ হাজার ফুট ওপরে কিভাবে একটা বিশাল মেশিন চালাতে হয় জটিল প্যানেলে সুইচ টিপে, সেইটুকুই জানেন আপনি। হঠাৎ আপনার সহকর্মী আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পরপর সাতবার আপনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করল। প্রবল রক্তক্ষরণ আর চেতনা হারানোর মধ্যেও আপনি বুঝতে পারছেন যে এয়ারপ্লেন তিরিশ হাজার থেকে চোদ্দ হাজার ফিটে নেমে এসেছে নিমেষে, কারণ এই কাজটা আপনি জানেন। আপনি শিখেছেন। আপনি জানেন, এর অর্থ প্লেন ক্র্যাশ হতে চলেছে। আপনি তো বটেই, আপনার হাতে যাদের জানমালের দায়িত্ব, সেই একশো চুয়াত্তর জনও কয়েক মিনিটের মধ্যে ছাই হয়ে যাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
আপনি কী করবেন?
ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মুচ্ছার চূড়ান্ত আহত অবস্থাতেও তাঁর ডিউটি ভোলেন নি। তিনি খালি হাতে তাঁর ওমানি ইসলামিক টেররিস্ট সহকর্মীর মোকাবিলা করে ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং জ্ঞান হারানোর আগে হাইজ্যাকিং সিগন্যাল পাঠাতে সক্ষম হন।
ইসরায়েল এমন একটি দেশ, যারা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ইসলামিক টেরর রেডি থাকে সর্বদা। তাদের প্রত্যেক নাগরিক মিলিটারি সার্ভিস ও বেসিক ফিজিক্যাল ট্রেনিং পায় আঠেরো বছর বয়স হলেই। ফলে ককপিটের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে এসে ওমানের টেররিস্ট কো-পাইলটকে কাবু করতে তাদের বেশি বেগ পেতে হয় নি। সৌভাগ্যক্রমে, প্লেনে অন্তত দু'জন পাইলট ছিলেন, যারা অফ-ডিউটি বেসে ফিরছিলেন। প্লেনটি সুররক্ষিতভাবে সৌদিতে ল্যান্ড করানো হয়, এবং পরে সব যাত্রীকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয় বিশেষ বিমানে।
স্মিত মুচ্ছার এখনো সৌদির হাসপাতালে চিকিৎসারত। তাঁর সার্জারি সফল হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ভারতীয় এমব্যাসি তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁকে যথাশীঘ্র কিভাবে দেশে ফেরত আনা যায়, তার ব্যবস্থা করছে।
আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তা হল সভ্যতার লড়াইয়ের যুগ। প্রত্যেক মানুষের ইসলামিক টেরর রেডি থাকা প্রয়োজন এই যুগে। কে কখন কোন দিক দিয়ে আক্রমণ করতে পারে, কেউ জানে না। আমাদের কাজ টিঁকে থাকা। অসভ্য বর্বর আগ্রাসক এই মতের বিরুদ্ধে যত বেশি সংখ্যক মানুষকে পারা যায়, বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাওয়া। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করে যাওয়া। হ্যাঁ, এর জন্য কোন মেডেল অপেক্ষা করে নেই। এ আমাদের, মনুষ্যপ্রজাতির, সভ্যতা বাঁচানোর লড়াই। জিতলে সভ্যতা টিঁকবে। হারলে, সমগ্র পৃথিবী পঞ্চাশ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ছয় বছরের শিশুর বিয়ে দেওয়ার লাইসেন্স পাবে। কয়েক হাজার বছরের সভ্যতার ফসল, সব গান, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সৌন্দর্য ধ্বংস হয়ে যাবে বামিয়ানের বুদ্ধের মত। নারী অসূর্যস্পর্শা হবে।
পৃথিবীর আপনাকে প্রয়োজন। আপনার পূর্বমানবদের জ্ঞান, বোধ আর সভ্যতার উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য। ক্যাপ্টেন স্মিত মুচ্ছারের মত। FZ1073 ফ্লাইদুবাই প্লেনের সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের মত। পৃথিবী আপনাকে হাইজ্যাকিং এর এস ও এস মেসেজ পাঠাচ্ছে। আপনিই পারেন পৃথিবীকে অসভ্য, বর্বরদের দ্বারা হাইজ্যাক হওয়া থেকে আটকাতে।
পক্ষ নিন। তৈরি থাকুন।
(ছবিতে আমাদের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মুচ্ছার। অ্যাট দ্য কস্ট অফ সাউন্ডিং কাস্টিস্ট, লেট মি টেল ইউ, মুচ্ছার আসলেই বর্ণে ক্ষত্রিয়। 😎 এন্ড হি ডিড নট পুট হিজ ফোরফাদারস টু শেইম। কুডোজ টু হিম। যথাশীঘ্র সুস্থ হোন, ক্যাপ্টেন। দ্য ওয়ার্ল্ড নিডস ইউ।)