01/02/2026
স্বামি ও শিষ্যের তাত্ত্বিক তর্ক
_______________________
স্থান: বেলুড় - ভাড়াটিয়া মঠ-বাটী
শিষ্য আজ দুইদিন হইল বেলুড়ে নীলাম্বরবাবুর বাগানবাটীতে স্বামীজীর কাছ রহিয়াছে। কলিকাতা হইতে অনেক যুবক এ সময় স্বামীজীর কাছে যাতায়াত করায় মঠে যেন আজকাল চির-উৎসব! কত ধর্মচর্চা-কত সাধন-ভজনের উদ্যম-কত দীন-দুঃখমোচনের উপায় আলোচিত হইতেছে! সন্ন্যাসী মহারাজগণ সকলেই মহা উৎসাহী-মহাদেবের গণরূপে স্বামীজীর আজ্ঞাপালনে উন্মুখ হইয়া অবস্থান করিতেছেন। স্বামী প্রেমানন্দ ঠাকুরসেবার ভার গ্রহণ করিয়াছেন। মটে পূজা ও প্রসাদের বিপুল আয়োজন-সমাগত ভদ্রলোকদের জন্য সর্বদা প্রসাদ প্রস্তুত।
আজ স্বামীজী শিষ্যকে তাঁহার কক্ষে রাত্রে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন। স্বামীজীর সেবাধিকার পাইয়া শ-ষ্যের হৃদয়ে আজ আর আনন্দ ধরে না। প্রসাদ গ্রহণান্তে সে স্বামীজীর পদসেবা করিতেছে, এমন সময় স্বামীজী বলিলেন, 'এমন জায়গা ছেড়ে তুই কি না কলকাতায় যেতে চাস-এখানে কেমন পবিত্র ভাব, কেমন গঙ্গার হাওয়া, কেমন সব সাধুর সমাগম! এমন স্থান কি আর কোথাও খুঁজে পাবি?"
শিষ্য। মহাশয়, বহু জন্মান্তরের তপস্যায় আপনার সঙ্গলাভ হইয়াছে। এখন যাহাতে আর না মায়ামোহের মধ্যে পড়ি, কৃপা করিয়া তাহা করিয়া দিন। এখন প্রত্যক্ষ অনুভূতির জন্য মন মাঝে মাঝে বড় ব্যাকুল হয়।
স্বামীজী। আমারও অমন কত হয়েছে। কাশীপুরের বাগানে একদিন ঠাকুরের কাছে খুব ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা জানিয়েছিলুম। তারপর সন্ধ্যায় সময় ধ্যান করতে করতে নিজের দেহ খুঁজে পেলুম না। দেহটা একেবারে নেই মনে হয়েছিল।
চন্দ্র, সূর্য, দেশ, কাল, আকাশ সব যেন একাকার হয়ে কোথায় মিলিয়ে গিয়েছিল, দেহাদি-বুদ্ধির প্রায় অভাব হয়েছিল, প্রায় লীন হয়ে গেছলুম আর কি! একটু 'অহং' ছিল, তাই সে সমাধি থেকে ফিরেছিলুম। ঐরূপ সমাধিকালেই 'আমি' আর 'ব্রহ্মের' ভেদ চলে যায়-সব এক হয়ে যায়- যেন মহাসমুদ্র-জল, জল, আর কিছুই নেই-ভাব আর ভাষা সব ফুরিয়ে যায়। 'অবাত্মনসোগোচরম্' কথাটা ঐ সময়েই ঠিক ঠিক উপলব্ধি হয়। নতুবা 'আমি ব্রহ্ম' একথা সাধক যখন ভাবছে বা বলছে, তখনো 'আমি' ও 'ব্রহ্ম' এই দুই পদার্থ পৃথক থাকে-দ্বৈতভান থাকে। তারপর ঐরূপ অবস্থালাভের জন্য বারংবার চেষ্টা করেও আনতে পারলুম না। ঠাকুরকে জানাতে, বললেন, "দিবারাত্র ঐ অবস্থাতে থাকলে মা-র কাজ হবে না; সেজন্য এখন আর ঐ অবস্থা আনতে পারবি না, কাজ করা শেষ হলে পর আবার ঐ অবস্থা আসবে।"
শিষ্য। নিঃশেষ সমাধি বা ঠিক ঠিক নির্বিকল্প সমাধি হইলে তবে কি কেহই আর পুনরায় 'অহং'-জ্ঞান আশ্রয় করিয়া দ্বৈতভাবের রাজত্বে, সংসারে ফিরিতে পারে না?
- স্বামীজী। ঠাকুর বলতেন, "একমাত্র অবতারেরাই জীবহিতকামে ঐ সমাধি থেকে নেবে আসতে পারেন। সাধারণ জীবের আর ব্যুত্থান হয় না; একুশদিনমাত্র জীবিত থেকে তাদের দেহটা শুষ্ক পত্রের মতো সংসাররূপ বৃক্ষ হতে খসে পড়ে যায়।"
শিষ্য। মন বিলুপ্ত হইয়া যখন সমাধি হয়-মনের কোন তরঙ্গই যখন আর থাকে না, তখন আবার বিক্ষেপের-আবার 'অহং'-জ্ঞান লইয়া সংসারে ফিরিবার সম্ভাবনা কোথায়? মনই যখন নাই, তখন কে কি নিমিত্তই বা সমাধি-অবস্থা ছাড়িয়া দ্বৈতরাজ্যে নামিয়া আসিবে?
স্বামীজী। বেদান্তশাস্ত্রের অভিপ্রায় এই যে, নিঃশেষ নিরোধ সমাধি থেকে পুনরাবৃত্তি হয় না; যথা-'অনাবৃত্তিঃ শব্দাৎ'। কিন্তু অবতারেরা এক-আধটা সামান্য বাসনা জীবহিতকল্পে রেখে দেন। তাই ধরে আবার super conscious state থেকে conscious state-এ (জ্ঞানাতীত অদ্বৈতভূমি থেকে 'আমি-তুমি'-জ্ঞানমূলক দ্বৈতভূমিতে) আসেন।
শিষ্য। কিন্তু মহাশয়, যদি এক-আধটা বাসনাও থাকে, তবে তাহাকে নিঃশেষ নিরোধ সমাধি বলি কিরূপে? কারণ, শাস্ত্রে আছে, নিঃশেষ নির্বিকল্প সমাধিতে মনের সর্ব বৃত্তির, সকল বাসনার নিরোধ বা ধ্বংস হইয়া যায়।
স্বামীজী। মহাপ্রলয়ের পরে তবে সৃষ্টিই বা আবার কেমন করে হবে? মহাপ্রলয়েও তো সব ব্রহ্মে মিশে যায়? তার পরেও কিন্তু আবার শাস্ত্রমুখে সৃষ্টি-প্রসঙ্গ শোনা যায়-সৃষ্টি ও লয় প্রবাহাকারে আবার চলতে থাকে। মহাপ্রলয়ের পরে সৃষ্টি ও লয়ের পুনরাবর্তনের ন্যায় অবতারপুরুষদিগের নিরোধ এবং ব্যুত্থানও তদ্রূপ অপ্রাসঙ্গিক কেন হবে?
শিষ্য। আমি যদি বলি, লয়কালে পুনঃসৃষ্টির বীজ ব্রহ্মে লীনপ্রায় থাকে এবং উহা মহাপ্রলয় বা নিরোধ-সমাধি নহে, কিন্তু সৃষ্টির বীজ ও শক্তির (আপনি যেমন বলেন) potential (অব্যক্ত) আকার-ধারণ মাত্র?
স্বামীজী। তাহলে আমি বলব, যে ব্রহ্মে কোন বিশেষণের আভাস নেই-যা নির্লেপ ও নির্গুণ-তাঁর দ্বারা এই সৃষ্টিই বা কিরূপে projected (বহির্গত) হওয়া সম্ভবে, তার জবাব দে।
শিষ্য। এতো seeming projection! সে-কথার উত্তরে তো শাস্ত্র বলিয়াছে যে, ব্রহ্ম হইতে সৃষ্টির বিকাশটা মরুমরীচিকার মতো দেখা যাইতেছে বটে, কিন্তু বস্তুতঃ সৃষ্টি প্রভৃতি কিছুই হয় নাই। ভাব-বস্তু ব্রহ্মের অভাব বা মিথ্যা মায়াশক্তিবশতঃ এইরূপ ভ্রম দেখাইতেছে।
স্বামীজী। সৃষ্টিটাই যদি মিথ্যা হয়-তবে জীবের নির্বিকল্প-সমাধি ও সমাধি হইতে ব্যুত্থানটাকেও তুই seeming (মিথ্যা) ধরে নিতে পারিস তো? জীব স্বতই ব্রহ্মস্বরূপ; তার আবার বন্ধের অনুভূতি কি? তুই যে 'আমি আত্মা' এই অনুভব করতে চাস, সেটাও তাহলে ভ্রম, কারণ, শাস্ত্র বলছে, You are already that (তুই সর্বদা ব্রহ্মই যে হয়ে রয়েছিস)! অতএব "অয়মেব হি তে বন্ধঃ সমাধিমনুতিষ্ঠসি”-তুই যে সমাধিলাভ করতে চাচ্ছিস, এটাই তোর বন্ধন।
শিষ্য। এ তো বড় মুশকিলের কথা; আমি যদি ব্রহ্মই, তবে ঐ বিষয়ের সর্বদা অনুভূতি হয় না কেন?
স্বামীজী। Conscious plane-এ ('তুমি-আমি'র রাজত্ব দ্বৈতভূমিতে) ঐ কথা অনুভূতি করতে হলে একটা করণ বা যা দ্বারা অনুভব করবি, তা একটা চাই (some instrumentality)। মনই হচ্ছে আমাদের সেই করণ। কিন্তু মন পদার্থটা তো জড়। পেছনে আত্মার প্রভায় মনটা চেতনের মতো প্রতিভাত হচ্ছে মাত্র। পঞ্চদশীকার তাই বলেছেন, “চিচ্ছায়াবশতঃ শক্তিশ্চেতনেব বিভাতি সা”-চিৎস্বরূপ আত্মার ছায়া বা প্রতিবিম্বের আবেশেই শক্তিকে চৈতন্যময়ী বলিয়া মনে হয় এবং ঐজন্যই মনকেও চেতন পদার্থ বলিয়া বোধ হয়। অতএব 'মন' দিয়ে শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ আত্মাকে যে জানতে পারবি না, একথা নিশ্চয়। মনের পারে যেতে হবে। মনের পারে আর তো কোন করণ নেই-এক আত্মাই আছেন; সুতরাং, যাকে জানবি, সেটাই আবার করণস্থানীয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্তা, কর্ম, করণ এক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এইজন্য শ্রুতি বলছেন, "বিজ্ঞাতারমরে কেন বিজানীয়াৎ।” ফলকথা, conscious plane-এর (দ্বৈতভূমির) উপরে একটা অবস্থা আছে, সেখানে কর্তা, কর্ম, করণাদির দ্বৈতভান নেই। মন নিরুদ্ধ হলে তা প্রত্যক্ষ হয়। ভাষান্তর নেই বলে ঐ অবস্থাটিকে 'প্রত্যক্ষ' করা বলছি; নতুবা সে অনুভব-প্রকাশের ভাষা নেই! শঙ্করাচার্য তাকে 'অপরোক্ষানুভূতি' বলে গেছেন। ঐ প্রত্যক্ষানুভূতি বা অপরোক্ষানুভূতি হলেও অবতারেরা নিচে নেমে এসে দ্বৈতভূমিতে তার আভাস দেন-সেজন্যই বলে (আপ্তপুরুষের) অনুভব হতেই বেদাদি শাস্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে। সাধারণ জীবের অবস্থা কিন্তু 'নুনের পুতুলের সমুদ্র মাপতে গিয়ে গলে যাওয়ার' ন্যায়, বুঝলি? মোট কথা হচ্ছে যে, “তুই যে নিত্যকাল ব্রহ্ম” এই কথাটা জানতে হবে মাত্র; তুই সর্বদা তাই হয়ে রয়েছিস, তবে মাঝখান থেকে একটা জড় মন (যাকে শাস্ত্রে মায়া বলে) এসে সেটা বুঝতে দিচ্ছে না; সেই সূক্ষ্ম, জড়রূপ উপাদানে নির্মিত মনরূপ পদার্থটা প্রশমিত হলে-আত্মার প্রভায় আত্মা আপনিই উদ্ভাসিত হয়। এই মায়া বা মন যে মিথ্যা, তার একটা প্রমাণ এই যে, মন নিজে জড় ও অন্ধকারস্বরূপ। পেছনে আত্মার প্রভায় চেতনবৎ প্রতীত হয়। এটা যখন বুঝতে পারবি, তখন এক অখণ্ড চেতনে মনের লয় হয়ে যাবে; তখনই অনুভূতি হবে-'অয়মাত্মা ব্রহ্ম'।
অতঃপর স্বামীজী বলিলেন, "তোর ঘুম পাচ্ছে বুঝি? তবে শো।” শিষ্য স্বামীজীর পাশের বিছানায় শুইয়া নিদ্রা যাইতে লাগিল। রাত্রে স্বামীজীর সুনিদ্রা না হওয়ায় মাঝে মাঝে উঠিতে লাগিলেন: শিষ্যও তখন নিদ্রা ত্যাগ করিয়া উঠিয়া তাঁহাকে আবশ্যকমত সেবা করিতে লাগিল। এইরূপে সে-রাত্রি কাটিয়া গেল এবং শেষরাত্রে সে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গে আনন্দে শয্যা ত্যাগ করিল। প্রাতে গঙ্গাস্নানান্তে শিষ্য আসিয়া দেখিল, স্বামীজী মঠের নিচের তলায় বড় বেঞ্চখানির উপর পর্বাস্য হইয়া বসিয়া আছেন। গত রাত্রের স্বপ্ন-কথা স্মরণ করিয়া স্বামীজীর পাদপদ্ম অর্চনা করিবার জন্য তাহার মন এখন ব্যগ্র হইয়া উঠিল এবং ঐ অভিপ্রায় জ্ঞাপন করিয়া স্বামীজীর অনুমতি প্রার্থনা করিল। তাহার একান্ত নির্বন্ধাতিশয়ে স্বামীজী সম্মত হইলে, সে কতকগুলি ধুস্তুর পুষ্প সংগ্রহ করিয়া আনিয়া স্বামিশরীরে মহাশিবের অধিষ্ঠান চিন্তা করতঃ বিধিমত তাঁহার পূজা করিল।
পূজান্তে স্বামীজী শিষ্যকে বলিলেন, "তোর পুজো তো হলো, কিন্তু বাবুরাম (প্রেমানন্দ) এসে তোকে এখনি খেয়ে ফেলবে! তুই কিনা ঠাকুরের পুজোর বাসনে (পুষ্পপাত্রে) আমার পা রেখে পুজো করলি?” কথাগুলি বলা শেষ হইতে না হইতে স্বামী প্রেমানন্দ সেখানে উপস্থিত হইলেন এবং স্বামীজী তাঁহাকে বলিলেন, "ওরে, দেখ, আজ কি কাণ্ড করেছে!! ঠাকুরের পুজোর থালা বাসন চন্দন এনে ও আজ আমায় পুজো করেছে।” স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজ হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "তা বেশ করেছে; তুমি আর ঠাকুর কি ভিন্ন?” কথা শুনিয়া শিষ্য নির্ভয় হইল।
শিষ্য গোঁড়া হিন্দু; অখাদ্য দূরে থাকুক, কাহারও স্পৃষ্ট দ্রব্য পর্যন্ত খায় না। এজন্য স্বামীজী শিষ্যকে কখনো কখনো 'ভচার্য' বলিয়া ডাকিতেন। প্রাতর্জলযোগ সময়ে বিলাতি বিস্কুটাদি খাইতে খাইতে স্বামীজী সদানন্দ স্বামীকে বলিলেন, "ভাযকে ধরে নিয়ে আয় তো।" আদেশ শুনিয়া শিষ্য নিকটে উপস্থিত হইলে স্বামীজী ঐ সকল দ্রব্যের কিঞ্চিৎ তাহাকে প্রসাদস্বরূপে খাইতে দিলেন। শিষ্য দ্বিধা না করিয়া তাহা গ্রহণ করিল দেখিয়া স্বামীজী তাহাকে বলিলেন, "আজ কি খেলি, তা জানিস? এগুলি মুর্গির ডিমের তৈরি!" উত্তরে সে বলিল, "যাহাই থাকুক আমার জানিবার প্রয়োজন নাই। আপনার প্রসাদরূপ অমৃত খাইয়া অমর হইলাম।” শুনিয়া স্বামীজী বলিলেন, "আজ থেকে তোর জাত, বর্ণ, আভিজাত্য, পাপ, পুণ্যাদি অভিমান জন্মের মতো দূর হোক-আমি আশীর্বাদ করছি।"
স্বামীজীর সেদিনকার অযাচিত অপার দয়ার কথা স্মরণ করিয়া শিষ্য মানবজন্ম সার্থক হইয়াছে মনে করে।
অপরাহ্ণে স্বামীজীর কাছে একাউন্টেন্ট জেনারেল বাবু মন্মথনাথ ভট্টাচার্য উপস্থিত হইলেন। আমেরিকা যাইবার পূর্বে মাদ্রাজে স্বামীজী অনেকদিন ইঁহার বাটীতে অতিথি হইয়াছিলেন এবং তদবধি ইনি স্বামীজীকে বিশেষ ভক্তি-শ্রদ্ধা করিতেন। ভট্টাচার্য মহাশয় স্বামীজীকে পাশ্চাত্য দেশ ও ভারতবর্ষ সম্বন্ধে নানা কথা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন। স্বামীজী তাঁহাকে ঐসকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান ও অন্য নানারূপে আপ্যায়িত করিয়া বলিলেন, "একদিন এখানে থেকেই যান না!” মন্মথবাবু তাহাতে “আর একদিন এসে থাকা যাবে” বলিয়া বিদায়গ্রহণ করিয়া নিচে নামিতে নামিতে জনৈক বন্ধুকে বলিতে লাগিলেন, "ইনি যে পৃথিবীতে একটা মহাকাণ্ড করে তবে ছাড়বেন, তা আমরা পূর্বেই মাদ্রাজে টের পেয়েছিলুম। এমন সর্বতোমুখী প্রতিভা মানুষে দেখা যায় না।”
স্বামীজী মন্মথবাবুর সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গার ধার অবধি আসিয়া তাঁহাকে অভিবাদন করিয়া বিদায় দিলেন এবং ময়দানে কিছুক্ষণ পাদচারণা করিয়া বিশ্রাম করিতে গেলেন।
সংগৃহীত: (পূর্ব কাণ্ডের অষ্টাদশ অধ্যায়, স্বামি-শিষ্য-সংবাদ)