Dhubulia Vivekananda Yuva Mahamandal

Dhubulia Vivekananda Yuva Mahamandal Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dhubulia Vivekananda Yuva Mahamandal, Nonprofit Organization, Vill/Dhubulia 3/25 No Group, Dhubulia.

Our organization 'Dhubulia Vivekananda Yuva Mahamandal' is guided by the ideals of central organization 'Akhil Bharat Vivekananda Yuva Mahamandal'

Our Motto - "Be & Make"

Our Motto - "BE & MAKE"

স্বামি ও শিষ্যের তাত্ত্বিক তর্ক _______________________স্থান: বেলুড় - ভাড়াটিয়া মঠ-বাটী শিষ্য আজ দুইদিন হইল বেলুড়ে নীল...
01/02/2026

স্বামি ও শিষ্যের তাত্ত্বিক তর্ক
_______________________

স্থান: বেলুড় - ভাড়াটিয়া মঠ-বাটী

শিষ্য আজ দুইদিন হইল বেলুড়ে নীলাম্বরবাবুর বাগানবাটীতে স্বামীজীর কাছ রহিয়াছে। কলিকাতা হইতে অনেক যুবক এ সময় স্বামীজীর কাছে যাতায়াত করায় মঠে যেন আজকাল চির-উৎসব! কত ধর্মচর্চা-কত সাধন-ভজনের উদ্যম-কত দীন-দুঃখমোচনের উপায় আলোচিত হইতেছে! সন্ন্যাসী মহারাজগণ সকলেই মহা উৎসাহী-মহাদেবের গণরূপে স্বামীজীর আজ্ঞাপালনে উন্মুখ হইয়া অবস্থান করিতেছেন। স্বামী প্রেমানন্দ ঠাকুরসেবার ভার গ্রহণ করিয়াছেন। মটে পূজা ও প্রসাদের বিপুল আয়োজন-সমাগত ভদ্রলোকদের জন্য সর্বদা প্রসাদ প্রস্তুত।

আজ স্বামীজী শিষ্যকে তাঁহার কক্ষে রাত্রে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন। স্বামীজীর সেবাধিকার পাইয়া শ-ষ্যের হৃদয়ে আজ আর আনন্দ ধরে না। প্রসাদ গ্রহণান্তে সে স্বামীজীর পদসেবা করিতেছে, এমন সময় স্বামীজী বলিলেন, 'এমন জায়গা ছেড়ে তুই কি না কলকাতায় যেতে চাস-এখানে কেমন পবিত্র ভাব, কেমন গঙ্গার হাওয়া, কেমন সব সাধুর সমাগম! এমন স্থান কি আর কোথাও খুঁজে পাবি?"

শিষ্য। মহাশয়, বহু জন্মান্তরের তপস্যায় আপনার সঙ্গলাভ হইয়াছে। এখন যাহাতে আর না মায়ামোহের মধ্যে পড়ি, কৃপা করিয়া তাহা করিয়া দিন। এখন প্রত্যক্ষ অনুভূতির জন্য মন মাঝে মাঝে বড় ব্যাকুল হয়।

স্বামীজী। আমারও অমন কত হয়েছে। কাশীপুরের বাগানে একদিন ঠাকুরের কাছে খুব ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা জানিয়েছিলুম। তারপর সন্ধ্যায় সময় ধ্যান করতে করতে নিজের দেহ খুঁজে পেলুম না। দেহটা একেবারে নেই মনে হয়েছিল।

চন্দ্র, সূর্য, দেশ, কাল, আকাশ সব যেন একাকার হয়ে কোথায় মিলিয়ে গিয়েছিল, দেহাদি-বুদ্ধির প্রায় অভাব হয়েছিল, প্রায় লীন হয়ে গেছলুম আর কি! একটু 'অহং' ছিল, তাই সে সমাধি থেকে ফিরেছিলুম। ঐরূপ সমাধিকালেই 'আমি' আর 'ব্রহ্মের' ভেদ চলে যায়-সব এক হয়ে যায়- যেন মহাসমুদ্র-জল, জল, আর কিছুই নেই-ভাব আর ভাষা সব ফুরিয়ে যায়। 'অবাত্মনসোগোচরম্' কথাটা ঐ সময়েই ঠিক ঠিক উপলব্ধি হয়। নতুবা 'আমি ব্রহ্ম' একথা সাধক যখন ভাবছে বা বলছে, তখনো 'আমি' ও 'ব্রহ্ম' এই দুই পদার্থ পৃথক থাকে-দ্বৈতভান থাকে। তারপর ঐরূপ অবস্থালাভের জন্য বারংবার চেষ্টা করেও আনতে পারলুম না। ঠাকুরকে জানাতে, বললেন, "দিবারাত্র ঐ অবস্থাতে থাকলে মা-র কাজ হবে না; সেজন্য এখন আর ঐ অবস্থা আনতে পারবি না, কাজ করা শেষ হলে পর আবার ঐ অবস্থা আসবে।"

শিষ্য। নিঃশেষ সমাধি বা ঠিক ঠিক নির্বিকল্প সমাধি হইলে তবে কি কেহই আর পুনরায় 'অহং'-জ্ঞান আশ্রয় করিয়া দ্বৈতভাবের রাজত্বে, সংসারে ফিরিতে পারে না?

- স্বামীজী। ঠাকুর বলতেন, "একমাত্র অবতারেরাই জীবহিতকামে ঐ সমাধি থেকে নেবে আসতে পারেন। সাধারণ জীবের আর ব্যুত্থান হয় না; একুশদিনমাত্র জীবিত থেকে তাদের দেহটা শুষ্ক পত্রের মতো সংসাররূপ বৃক্ষ হতে খসে পড়ে যায়।"

শিষ্য। মন বিলুপ্ত হইয়া যখন সমাধি হয়-মনের কোন তরঙ্গই যখন আর থাকে না, তখন আবার বিক্ষেপের-আবার 'অহং'-জ্ঞান লইয়া সংসারে ফিরিবার সম্ভাবনা কোথায়? মনই যখন নাই, তখন কে কি নিমিত্তই বা সমাধি-অবস্থা ছাড়িয়া দ্বৈতরাজ্যে নামিয়া আসিবে?

স্বামীজী। বেদান্তশাস্ত্রের অভিপ্রায় এই যে, নিঃশেষ নিরোধ সমাধি থেকে পুনরাবৃত্তি হয় না; যথা-'অনাবৃত্তিঃ শব্দাৎ'। কিন্তু অবতারেরা এক-আধটা সামান্য বাসনা জীবহিতকল্পে রেখে দেন। তাই ধরে আবার super conscious state থেকে conscious state-এ (জ্ঞানাতীত অদ্বৈতভূমি থেকে 'আমি-তুমি'-জ্ঞানমূলক দ্বৈতভূমিতে) আসেন।

শিষ্য। কিন্তু মহাশয়, যদি এক-আধটা বাসনাও থাকে, তবে তাহাকে নিঃশেষ নিরোধ সমাধি বলি কিরূপে? কারণ, শাস্ত্রে আছে, নিঃশেষ নির্বিকল্প সমাধিতে মনের সর্ব বৃত্তির, সকল বাসনার নিরোধ বা ধ্বংস হইয়া যায়।

স্বামীজী। মহাপ্রলয়ের পরে তবে সৃষ্টিই বা আবার কেমন করে হবে? মহাপ্রলয়েও তো সব ব্রহ্মে মিশে যায়? তার পরেও কিন্তু আবার শাস্ত্রমুখে সৃষ্টি-প্রসঙ্গ শোনা যায়-সৃষ্টি ও লয় প্রবাহাকারে আবার চলতে থাকে। মহাপ্রলয়ের পরে সৃষ্টি ও লয়ের পুনরাবর্তনের ন্যায় অবতারপুরুষদিগের নিরোধ এবং ব্যুত্থানও তদ্রূপ অপ্রাসঙ্গিক কেন হবে?

শিষ্য। আমি যদি বলি, লয়কালে পুনঃসৃষ্টির বীজ ব্রহ্মে লীনপ্রায় থাকে এবং উহা মহাপ্রলয় বা নিরোধ-সমাধি নহে, কিন্তু সৃষ্টির বীজ ও শক্তির (আপনি যেমন বলেন) potential (অব্যক্ত) আকার-ধারণ মাত্র?

স্বামীজী। তাহলে আমি বলব, যে ব্রহ্মে কোন বিশেষণের আভাস নেই-যা নির্লেপ ও নির্গুণ-তাঁর দ্বারা এই সৃষ্টিই বা কিরূপে projected (বহির্গত) হওয়া সম্ভবে, তার জবাব দে।

শিষ্য। এতো seeming projection! সে-কথার উত্তরে তো শাস্ত্র বলিয়াছে যে, ব্রহ্ম হইতে সৃষ্টির বিকাশটা মরুমরীচিকার মতো দেখা যাইতেছে বটে, কিন্তু বস্তুতঃ সৃষ্টি প্রভৃতি কিছুই হয় নাই। ভাব-বস্তু ব্রহ্মের অভাব বা মিথ্যা মায়াশক্তিবশতঃ এইরূপ ভ্রম দেখাইতেছে।

স্বামীজী। সৃষ্টিটাই যদি মিথ্যা হয়-তবে জীবের নির্বিকল্প-সমাধি ও সমাধি হইতে ব্যুত্থানটাকেও তুই seeming (মিথ্যা) ধরে নিতে পারিস তো? জীব স্বতই ব্রহ্মস্বরূপ; তার আবার বন্ধের অনুভূতি কি? তুই যে 'আমি আত্মা' এই অনুভব করতে চাস, সেটাও তাহলে ভ্রম, কারণ, শাস্ত্র বলছে, You are already that (তুই সর্বদা ব্রহ্মই যে হয়ে রয়েছিস)! অতএব "অয়মেব হি তে বন্ধঃ সমাধিমনুতিষ্ঠসি”-তুই যে সমাধিলাভ করতে চাচ্ছিস, এটাই তোর বন্ধন।

শিষ্য। এ তো বড় মুশকিলের কথা; আমি যদি ব্রহ্মই, তবে ঐ বিষয়ের সর্বদা অনুভূতি হয় না কেন?

স্বামীজী। Conscious plane-এ ('তুমি-আমি'র রাজত্ব দ্বৈতভূমিতে) ঐ কথা অনুভূতি করতে হলে একটা করণ বা যা দ্বারা অনুভব করবি, তা একটা চাই (some instrumentality)। মনই হচ্ছে আমাদের সেই করণ। কিন্তু মন পদার্থটা তো জড়। পেছনে আত্মার প্রভায় মনটা চেতনের মতো প্রতিভাত হচ্ছে মাত্র। পঞ্চদশীকার তাই বলেছেন, “চিচ্ছায়াবশতঃ শক্তিশ্চেতনেব বিভাতি সা”-চিৎস্বরূপ আত্মার ছায়া বা প্রতিবিম্বের আবেশেই শক্তিকে চৈতন্যময়ী বলিয়া মনে হয় এবং ঐজন্যই মনকেও চেতন পদার্থ বলিয়া বোধ হয়। অতএব 'মন' দিয়ে শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ আত্মাকে যে জানতে পারবি না, একথা নিশ্চয়। মনের পারে যেতে হবে। মনের পারে আর তো কোন করণ নেই-এক আত্মাই আছেন; সুতরাং, যাকে জানবি, সেটাই আবার করণস্থানীয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্তা, কর্ম, করণ এক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এইজন্য শ্রুতি বলছেন, "বিজ্ঞাতারমরে কেন বিজানীয়াৎ।” ফলকথা, conscious plane-এর (দ্বৈতভূমির) উপরে একটা অবস্থা আছে, সেখানে কর্তা, কর্ম, করণাদির দ্বৈতভান নেই। মন নিরুদ্ধ হলে তা প্রত্যক্ষ হয়। ভাষান্তর নেই বলে ঐ অবস্থাটিকে 'প্রত্যক্ষ' করা বলছি; নতুবা সে অনুভব-প্রকাশের ভাষা নেই! শঙ্করাচার্য তাকে 'অপরোক্ষানুভূতি' বলে গেছেন। ঐ প্রত্যক্ষানুভূতি বা অপরোক্ষানুভূতি হলেও অবতারেরা নিচে নেমে এসে দ্বৈতভূমিতে তার আভাস দেন-সেজন্যই বলে (আপ্তপুরুষের) অনুভব হতেই বেদাদি শাস্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে। সাধারণ জীবের অবস্থা কিন্তু 'নুনের পুতুলের সমুদ্র মাপতে গিয়ে গলে যাওয়ার' ন্যায়, বুঝলি? মোট কথা হচ্ছে যে, “তুই যে নিত্যকাল ব্রহ্ম” এই কথাটা জানতে হবে মাত্র; তুই সর্বদা তাই হয়ে রয়েছিস, তবে মাঝখান থেকে একটা জড় মন (যাকে শাস্ত্রে মায়া বলে) এসে সেটা বুঝতে দিচ্ছে না; সেই সূক্ষ্ম, জড়রূপ উপাদানে নির্মিত মনরূপ পদার্থটা প্রশমিত হলে-আত্মার প্রভায় আত্মা আপনিই উদ্ভাসিত হয়। এই মায়া বা মন যে মিথ্যা, তার একটা প্রমাণ এই যে, মন নিজে জড় ও অন্ধকারস্বরূপ। পেছনে আত্মার প্রভায় চেতনবৎ প্রতীত হয়। এটা যখন বুঝতে পারবি, তখন এক অখণ্ড চেতনে মনের লয় হয়ে যাবে; তখনই অনুভূতি হবে-'অয়মাত্মা ব্রহ্ম'।

অতঃপর স্বামীজী বলিলেন, "তোর ঘুম পাচ্ছে বুঝি? তবে শো।” শিষ্য স্বামীজীর পাশের বিছানায় শুইয়া নিদ্রা যাইতে লাগিল। রাত্রে স্বামীজীর সুনিদ্রা না হওয়ায় মাঝে মাঝে উঠিতে লাগিলেন: শিষ্যও তখন নিদ্রা ত্যাগ করিয়া উঠিয়া তাঁহাকে আবশ্যকমত সেবা করিতে লাগিল। এইরূপে সে-রাত্রি কাটিয়া গেল এবং শেষরাত্রে সে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গে আনন্দে শয্যা ত্যাগ করিল। প্রাতে গঙ্গাস্নানান্তে শিষ্য আসিয়া দেখিল, স্বামীজী মঠের নিচের তলায় বড় বেঞ্চখানির উপর পর্বাস্য হইয়া বসিয়া আছেন। গত রাত্রের স্বপ্ন-কথা স্মরণ করিয়া স্বামীজীর পাদপদ্ম অর্চনা করিবার জন্য তাহার মন এখন ব্যগ্র হইয়া উঠিল এবং ঐ অভিপ্রায় জ্ঞাপন করিয়া স্বামীজীর অনুমতি প্রার্থনা করিল। তাহার একান্ত নির্বন্ধাতিশয়ে স্বামীজী সম্মত হইলে, সে কতকগুলি ধুস্তুর পুষ্প সংগ্রহ করিয়া আনিয়া স্বামিশরীরে মহাশিবের অধিষ্ঠান চিন্তা করতঃ বিধিমত তাঁহার পূজা করিল।

পূজান্তে স্বামীজী শিষ্যকে বলিলেন, "তোর পুজো তো হলো, কিন্তু বাবুরাম (প্রেমানন্দ) এসে তোকে এখনি খেয়ে ফেলবে! তুই কিনা ঠাকুরের পুজোর বাসনে (পুষ্পপাত্রে) আমার পা রেখে পুজো করলি?” কথাগুলি বলা শেষ হইতে না হইতে স্বামী প্রেমানন্দ সেখানে উপস্থিত হইলেন এবং স্বামীজী তাঁহাকে বলিলেন, "ওরে, দেখ, আজ কি কাণ্ড করেছে!! ঠাকুরের পুজোর থালা বাসন চন্দন এনে ও আজ আমায় পুজো করেছে।” স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজ হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "তা বেশ করেছে; তুমি আর ঠাকুর কি ভিন্ন?” কথা শুনিয়া শিষ্য নির্ভয় হইল।

শিষ্য গোঁড়া হিন্দু; অখাদ্য দূরে থাকুক, কাহারও স্পৃষ্ট দ্রব্য পর্যন্ত খায় না। এজন্য স্বামীজী শিষ্যকে কখনো কখনো 'ভচার্য' বলিয়া ডাকিতেন। প্রাতর্জলযোগ সময়ে বিলাতি বিস্কুটাদি খাইতে খাইতে স্বামীজী সদানন্দ স্বামীকে বলিলেন, "ভাযকে ধরে নিয়ে আয় তো।" আদেশ শুনিয়া শিষ্য নিকটে উপস্থিত হইলে স্বামীজী ঐ সকল দ্রব্যের কিঞ্চিৎ তাহাকে প্রসাদস্বরূপে খাইতে দিলেন। শিষ্য দ্বিধা না করিয়া তাহা গ্রহণ করিল দেখিয়া স্বামীজী তাহাকে বলিলেন, "আজ কি খেলি, তা জানিস? এগুলি মুর্গির ডিমের তৈরি!" উত্তরে সে বলিল, "যাহাই থাকুক আমার জানিবার প্রয়োজন নাই। আপনার প্রসাদরূপ অমৃত খাইয়া অমর হইলাম।” শুনিয়া স্বামীজী বলিলেন, "আজ থেকে তোর জাত, বর্ণ, আভিজাত্য, পাপ, পুণ্যাদি অভিমান জন্মের মতো দূর হোক-আমি আশীর্বাদ করছি।"

স্বামীজীর সেদিনকার অযাচিত অপার দয়ার কথা স্মরণ করিয়া শিষ্য মানবজন্ম সার্থক হইয়াছে মনে করে।

অপরাহ্ণে স্বামীজীর কাছে একাউন্টেন্ট জেনারেল বাবু মন্মথনাথ ভট্টাচার্য উপস্থিত হইলেন। আমেরিকা যাইবার পূর্বে মাদ্রাজে স্বামীজী অনেকদিন ইঁহার বাটীতে অতিথি হইয়াছিলেন এবং তদবধি ইনি স্বামীজীকে বিশেষ ভক্তি-শ্রদ্ধা করিতেন। ভট্টাচার্য মহাশয় স্বামীজীকে পাশ্চাত্য দেশ ও ভারতবর্ষ সম্বন্ধে নানা কথা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন। স্বামীজী তাঁহাকে ঐসকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান ও অন্য নানারূপে আপ্যায়িত করিয়া বলিলেন, "একদিন এখানে থেকেই যান না!” মন্মথবাবু তাহাতে “আর একদিন এসে থাকা যাবে” বলিয়া বিদায়গ্রহণ করিয়া নিচে নামিতে নামিতে জনৈক বন্ধুকে বলিতে লাগিলেন, "ইনি যে পৃথিবীতে একটা মহাকাণ্ড করে তবে ছাড়বেন, তা আমরা পূর্বেই মাদ্রাজে টের পেয়েছিলুম। এমন সর্বতোমুখী প্রতিভা মানুষে দেখা যায় না।”

স্বামীজী মন্মথবাবুর সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গার ধার অবধি আসিয়া তাঁহাকে অভিবাদন করিয়া বিদায় দিলেন এবং ময়দানে কিছুক্ষণ পাদচারণা করিয়া বিশ্রাম করিতে গেলেন।

সংগৃহীত: (পূর্ব কাণ্ডের অষ্টাদশ অধ্যায়, স্বামি-শিষ্য-সংবাদ)

রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র সুভাষচন্দ্র বসুকে সন্ন্যাস দেয়নি রামকৃষ্ণ মিশন । যে সুভাষ দেশের স্বা...
27/01/2026

রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র

সুভাষচন্দ্র বসুকে সন্ন্যাস দেয়নি রামকৃষ্ণ মিশন । যে সুভাষ দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন সেই সুভাষই সন্ন্য্যাস নিতে চেয়ে মিশনের দ্বারস্থ হয়ে ছিলেন । সুভাষ যে সন্ন্যাসী হতে চেয়ে ছিলেন সেই তথ্য উঠে আসে রামকৃষ্ণ মিশনের ইতিহাসে । রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী স্বামী নির্ভয়ানন্দ জানিয়ে ছিলেন, সুভাষচন্দ্র ও নির্মল নামে দুই যুবক স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করে সন্ন্যাস নিতে চেয়েছিলেন ।
ব্রহ্মানন্দ মহারাজ জানতে চান কেন তারা সন্ন্যাসী হতে চাইছেন? তখন তারা দুজনই জানিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই মিশনের সন্ন্যাসী হতে চান তারা । স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজ, যুবক নির্মলকে মিশনে যোগ দিতে বলেন কিন্তু সুভাষকে ফিরিয়ে দেন । সুভাষচন্দ্র বসুকে তিনি বলেছিলেন তোমার জন্য মহান কর্মযোগ্য অপেক্ষা করছে । এই যুবক নির্মলই হয়েছিলেন স্বামী মাধবানন্দ মহারাজ, যিনি পরবর্তী কালে হন মঠের নবম অধ্যক্ষ । আর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু হয়ে ওঠেন কালজয়ী মহাকাল। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস সন্ন‍্যাসী হতে চেয়েছিলেন !

স্বামীজী লিখেছেন : প্রত‍্যেক জীব শক্তি প্রকাশের এক- একটি কেন্দ্র। পূর্বের কর্মফলে সে শক্তি সঞ্চিত হয়ে আছে, আমরা তাই নিয়ে জন্মেছি।

গবেষক শঙ্করীপ্রসাদ ‌বসু তাঁর সুভাষচন্দ্র বিষয়ক গবেষণাগ্রন্থে বলেছেন __ তিনি সেই ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি প্রথম জীবনে মোক্ষমার্গের অনুসারী পরে ‌ তাকে ত‍্যাগ করে পরিণত যৌবন থেকে __ ভারতীয় ‌ ইতিহাসে ধর্মমার্গী মহাবীর অর্জুনের ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে ভারতের ধর্মক্ষেত্র - কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের ভূমিকা নিয়েছিলেন __ স্বামী বিবেকানন্দ।

স্বামীজীর ত‍্যাগের মন্ত্রে সুভাষের জীবন উদ্বেলিত ‌হয়ে উঠেছিল যুবা বয়সেই।

কলেজে পড়তে পড়তেই মনে তোলপাড় আকুতি __ আর নয়, এবার বেরিয়ে পড়তে হবে গুরুর সন্ধানে __ তাঁর বয়স তখন ১৭ বছর। তখন একটা অভাবিত ঘটনা ঘটে তাঁর জীবনে।

দূর সম্পর্কের ‌এক ‌আত্মীয় যুবক এসেছিলেন কটকে। সুভাষ একদিন গেলেন তাঁর কাছে।
যুবকটি ছিলেন ‌ স্বামী বিবেকানন্দের ভক্ত। তাঁর টেবিলে রাখা ছিল বিবেকানন্দের লেখা অনেক গুলো বই। সুভাষ বই ‌গুলি ‌পড়তে ‌ শুরু করলেন __ এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল ‌ তাঁর সামনে।

ধর্মে ধর্মে কোনও ভেদ নেই;
দয়া নয় সেবা, ত‍্যাগ, ব্রহ্মচর্য।

দরিদ্র অবহেলিত মানুষের মানুষের সেবাই যে পরম কর্তব‍্য, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ রইল না তাঁর।

সন্ন‍্যাসী হওয়ার বাসনা __ প্রবল হয়ে উঠল তাঁর মনে। কিন্তু সন্ন্যাসী হতে গেলে প্রয়োজন একজন সদগুরুর।

তিনি শুনেছিলেন উত্তর - পশ্চিম ভারতে এমন সন্ন্যাসী আছেন, যাঁরা প্রকৃত পথের সন্ধান দিতে পারেন।

তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন, দু লাইনের লেখা একটি পোষ্টকার্ডে চিঠি দিয়ে।

উত্তর ভারতের সব কটি তীর্থ তিনি ঘুরলেন, সঙ্গে দু-জন বন্ধু ‌ ছিলেন। শুরু হল পরিব্রাজক ‌ সুভাষ চন্দ্রের হিমালয় যাত্রা। এ যেন স্বামী বিবেকানন্দের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পরিব্রাজক বেশে আর ‌একজন ভারত পথিকের তীর্থ যাত্রা।

লছমনঝোলা, হৃষিকেশ, হরিদ্বার, গয়া, মথুরা, বৃন্দাবন অনেক ‌ তীর্থে ‌ঘুরলেন। বৃন্দাবন হয়ে সুভাষচন্দ্রেরা এলেন বারাণসী তে।

সেখানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ‌ দুটি ‌ শাখাকেন্দ্র পাশাপাশি অবস্থান করছে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ, যিনি শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় রাখাল নামে পরিচিত, যাঁকে স্বামী বিবেকানন্দ 'রাজা' বলে ডাকতেন।

সুভাষচন্দ্র লিখেছেন, "বারানসীতে .... স্বামী ব্রহ্মানন্দ আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালেন, তিনি আমার বাবা ও ‌পরিবারের অনেককেই চিনতেন। এখানে আমরা কয়েকদিন রইলাম।"

সেই সময়ে ‌‌একদিন নিজের মনোগত বাসনা প্রকাশ করে সুভাষ, স্বামী ব্রহ্মানন্দের কাছে সন্ন্যাস প্রার্থনা করেন।

সুভাষের প্রার্থনা শুনে সিদ্ধসাধক স্বামী ব্রহ্মানন্দ সেই তরুণের তেজোদৃপ্ত মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে সম্ভবত অনাগত ভবিষ্যতের এক মহানায়কের আবির্ভাব লগ্নকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন .....

এই ঘটনার অল্প দিন পরে, সুভাষচন্দ্রের দেশ সেবা তথা রাজনীতির প্রভাব দেখা যায়।

স্বামী ব্রহ্মানন্দের দর্শনে সুভাষচন্দ্র অপার শান্তি পেয়েছিলেন। তাঁর তৃষিত বুকে শান্তিবারিধারা নেমে এসেছিল।

তিনি বলেছিলেন, "কৃপা যে পায়, তার জীবন বদলে যায়ই। ..... আমিও পেয়েছি এ কৃপার আভাস।"

বন্ধু দিলীপকুমার রায়ের দুহাত চেপে ধরে বললেন, "ঐ রাখাল মহারাজই আমাকে কাশী থেকে ফিরিয়ে পাঠান, বলেন, আমাকে দেশের কাজ করতে হবে।"

সন্ন্যাসজীবন নয়, অন্তরে বৈরাগী থেকে দেশের কাছে তাঁকে আত্মোৎসর্গ করতে হবে _ এই ছিল সুভাষের প্রতি স্বামী ব্রহ্মানন্দের উপদেশ।

সুভাষচন্দ্রের অগ্রজ সুরেশচন্দ্র বসু স্বামী শঙ্করানন্দের মুখে শুনেছেন,
"একদিন বারাণসীর মিশন বাড়িতে স্বামী ব্রহ্মানন্দ যখন বসেছিলেন, তখন মহারাজ দেখতে পান একটি ছেলে এসে ঢুকলো। মহারাজ বললেন, জানকীবাবুর ছেলে মনে হচ্ছে। যদি তাই হয়, তবে ছেলেটির যেন যথাযথ দেখাশোনা করা হয়।

বিকেলবেলা মহারাজের কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে _ তিনি তাকে গৃহে ফিরে যাওয়ার উপদেশ দেন এবং বলেন, _ তাকে তাঁদের মত সন্ন্যাস নিতে হবে না। দেশ তাঁর কাছে প্রভূত জিনিস প্রত্যাশা করছে।"

স্বামীজীর বাণী তাঁর অন্তরে অগ্নির স্ফুলিঙ্গের মত সঞ্চার করেছিল প্রেরণা আর উদ্দীপনা।

স্বামী ব্রহ্মানন্দের অধ্যাত্মশক্তির কৃপা মনকে দিল শক্তি, ধ্যানসন্জাত স্থিরলক্ষে অবিচলতা আর বৈরাগ্যের আদর্শ।

অন্তরে যেন অনুরণিত হলো, "কে তুমি বাজালে নবীন রাগেতে ভারতের প্রাণবীণা।"

স্বামী বিবেকানন্দেরই এক গুরুভাইয়ের নির্দেশে, সন্ন‍্যাস গ্রহণের সঙ্কল্প ত‍্যাগ করে ঘরে ফিরে এলেন সুভাষচন্দ্র।

এ ও এক অদ্ভুত যোগাযোগ !!!
(সংগৃহীত)

'I have given you advice enough; now put at least something in practice. Let the world see that your listening to me has...
24/01/2026

'I have given you advice enough; now put at least something in practice. Let the world see that your listening to me has been a success.'

~ Swami Vivekananda

13/01/2026
আজ ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ, সোমবার, ধুবুলিয়া বিবেকানন্দ যুব মহামণ্ডলের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম জন্মদিন শ্র...
12/01/2026

আজ ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ, সোমবার, ধুবুলিয়া বিবেকানন্দ যুব মহামণ্ডলের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম জন্মদিন শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে পালন করা হলো। সকালে প্রভাতফেরী, স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও বাণী আলোচনা এবং অনুধ্যান, কিশোর ও বিবেক বাহিনীর ভাই-বোনদের স্বামী বিবেকানন্দের কবিতা, স্বদেশমন্ত্র পাঠ এবং অনুষ্ঠানের শেষে সকলকে খিচুড়ি প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সুসম্পন্ন হয়। আজকের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩৫ জন যোগদান করেছিল। ঠাকুর মা স্বামীজীর আশির্বাদে আমাদের জীবন আরও সুন্দর ও স্বার্থক হয়ে উঠুক।
তারই কিছু খণ্ডাংশ।

সকলের উপস্থিতি প্রার্থণা করি।
06/01/2026

সকলের উপস্থিতি প্রার্থণা করি।

🌸
26/12/2025

🌸

।। স্বামীজীর লেখা একটি পত্রের অংশ।। ২৮শে আগষ্ট, প্যারিস"এই তো জীবন শুধু কঠোর পরিশ্রম। আর তা ছাড়া কীই বা আমাদের করবার আছে...
13/11/2025

।। স্বামীজীর লেখা একটি পত্রের অংশ।।

২৮শে আগষ্ট, প্যারিস

"এই তো জীবন শুধু কঠোর পরিশ্রম। আর তা ছাড়া কীই বা আমাদের করবার আছে? কঠোর পরিশ্রম কর। একটা কিছু ঘটবে; একটা পথ খুলে যাবে। আর যদি তা না হয়-হয়ত কখনও হবে না-তাহলে তারপর কী?

আমাদের যা কিছু উদ্যম, সবই হচ্ছে সাময়িক ভাবে সেই চরম পরিণতি মৃত্যুকে ঠেকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা! আহা, মহান সর্বদুঃখ হর মৃত্যু। তুমি না থাকলে জগতের কী অবস্থায়ই না হত! ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে বর্তমানে প্রতীয়মান এই জগৎ সত্য নয়, নিত্যও নয়। এবং ভবিষ্যৎই বা আরও ভাল হবে কি করে? সেও তো বর্তমানেরই ফলস্বরূপ; সুতরাং আরও খারাপ না হলেও ভবিষ্যৎ বর্তমানেরই অনুরূপ হবে। স্বপ্ন, আহা। কেবলই স্বপ্ন! স্বপ্ন দেখে চল। স্বপ্ন-স্বপ্নের ইন্দ্রজালই এ জীবনের হেতু, আবার ওর মধ্যেই এ জীবনের প্রতিবিধানও নিহিত রয়েছে। স্বপ্ন, আহা, কেবলই স্বপ্ন। স্বপ্ন দিয়েই স্বপ্ন ভাঙ।"

...লোকে জিজ্ঞাসা করে, 'তুমি কি ঈশ্বরে বিশ্বাসী? তুমি কি পরলোক মানো? তুমি কি এই মত অথবা ঐ শাস্ত্রবাক্য বিশ্বাস কর?' কিন্ত...
09/11/2025

...লোকে জিজ্ঞাসা করে, 'তুমি কি ঈশ্বরে বিশ্বাসী? তুমি কি পরলোক মানো? তুমি কি এই মত অথবা ঐ শাস্ত্রবাক্য বিশ্বাস কর?' কিন্তু মূলভিত্তিস্বরূপ সেই আত্মবিশ্বাসই যে নাই। যে নিজের উপর বিশ্বাস করিতে পারে না, সে আবার অন্য কিছুতে বিশ্বাস করিবে, লোকে ইহা আশা করে কিরূপে? আমি নিজের অস্তিত্ব-সম্বন্ধে নিঃসংশয় নহি। এই একবার ভাবিতেছি-আমি নিত্যস্বরূপ, কিছুতে আমাকে বিনষ্ট করিতে পারে না, আবার পরক্ষণেই আমি মৃত্যুভয়ে কাঁপিতেছি। এই ভাবিতেছি-আমি অজর অমর, পরক্ষণেই হয়তো একটা ভূত দেখিয়া ভয়ে এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলাম যে, আমি কে, কোথায় রহিয়াছি, আমি মৃত কি জীবিত-সব ভুলিয়া গেলাম। এই ভাবিতেছি-আমি খুব ধার্মিক, আমি খুব চরিত্রবান, পরমুহূর্তেই এমন এক ধাক্কা খাইলাম যে, একেবারে চিৎপাত হইয়া পড়িয়া গেলাম। ইহার কারণ কি?-কারণ আর কিছুই নহে, আমি নিজের উপর বিশ্বাস হারাইয়াছি, আমার চরিত্রবলরূপ মেরুদণ্ড ভগ্ন।...

- স্বামী বিবেকানন্দ

(১৯০০ খ্রিস্টাব্দ ৩রা ফেব্রুয়ারি প্যাসাডেনা শেক্সপিয়র ক্লাবে 'জগতের মহত্তম আচার্যগণ' শীর্ষক বক্তৃতার অংশ)

পাশ্চাত্যবাসীরা বলেন, 'দুঃখ-কষ্টের প্রতিকার করিয়া, উহা নিবারণ করিয়া আমরা দুঃখ কমাইবার চেষ্টা করিতেছি।' ভারতবাসী বলেন, 'দ...
08/11/2025

পাশ্চাত্যবাসীরা বলেন, 'দুঃখ-কষ্টের প্রতিকার করিয়া, উহা নিবারণ করিয়া আমরা দুঃখ কমাইবার চেষ্টা করিতেছি।' ভারতবাসী বলেন, 'দুঃখ-কষ্ট সহ্য করিয়া আমরা উহাকে নষ্ট করিবার চেষ্টা করিতেছি। এইরূপ সহ্য করিতে করিতে আমাদের পক্ষে দুঃখ বলিয়া আর কিছু থাকিবে না, উহাই আমাদের পরম সুখ হইয়া দাঁড়াইবে।' যাহাই হউক, এই দুইটি আদর্শের কোনটিই হেয় নহে। কে জানে-পরিণামে কোন্ আদর্শের জয় হইবে? কে জানে-কোন্ ভাব অবলম্বন করিয়া মানবজাতির যথার্থ কল্যাণ সর্বাপেক্ষা অধিক হইবে? কে জানে, কোন্ ভাব অবলম্বন করিলে পশুভাবকে বশীভূত করিয়া তাহার উপর আধিপত্য করা সম্ভব হইবে? সহিষ্ণুতা বা ক্রিয়াশীলতা, অপ্রতিকার বা প্রতিকার?

পরিণামে যাহাই হউক, ইতোমধ্যে যেন আমরা পরস্পরের আদর্শ নষ্ট করিয়া দিবার চেষ্টা না করি। আমরা উভয় জাতিই এক ব্রতে ব্রতী-সেই ব্রত সম্পূর্ণ দুঃখনিবৃত্তি। আপনারা আপনাদের ভাবে কার্য করিয়া যান, আমরা আমাদের পথে চলি। কোনও আদর্শকে, কোনও প্রণালীকে, কোনও পথকে উড়াইয়া দিলে চলিবে না। আমি পাশ্চাত্যবাসিগণকে এ কথা কখনও বলি না, 'আপনারা আমাদের প্রণালী অবলম্বন করুন'; কখনই নহে। লক্ষ্য একই, কিন্তু উপায় কখনই এক হইতে পারে না। অতএব আমি আশা করি আপনারা ভারতের আদর্শ, ভারতের সাধন-প্রণালীর কথা শুনিয়াই ভারতকে সম্বোধন করিয়া বলিবেন, 'আমরা জানি, আমাদের উভয় জাতির লক্ষ্য একই, এবং আমাদের উভয়ের ঐ লক্ষ্যে পঁহুছিবার যে দুইটি উপায়, তাহাও আমাদের পরস্পরের ঠিক উপযোগী। আপনারা আপনাদের আদর্শ, আপনাদের প্রণালী অনুসরণ করুন, ঈশ্বরেচ্ছায় আপনাদের উদ্দেশ্য সফল হউক।' আমি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় জাতিকে বলি, বিভিন্ন আদর্শ লইয়া বিবাদ করিও না, যতই বিভিন্ন প্রতীয়মান হউক, তোমাদের উভয়ের লক্ষ্য একই। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সম্মিলন-চেষ্টাই আমার জীবনব্রত। জীবনের উপত্যকার আঁকাবাঁকা পথে চলিবার সময় আমরা যেন পরস্পরকে বলিতে পারি, 'তোমার যাত্রা সফল হউক'।

-- স্বামী বিবেকানন্দ

(১৯০০ খ্রিস্টাব্দ, ৩১ শে জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তর্গত প্যাসাডেনায় শেক্সপিয়র ক্লাবে 'রামায়ণ' প্রদত্ত বক্তৃতার অংশ)

05/11/2025

আজ (০৫.১১.২০২৫, বুধবার)কৃষ্ণনগর বিবেকানন্দ যুব মহামণ্ডলের এক দিবসীয় যুবশিক্ষণ শিবিরে।

সঙ্গীত: "প্রভু মে গোলাম" (কবীর দাস রচিত)
হারমোনিয়াম ও কন্ঠে: শ্রী গৌরব মন্ডল
তবলায়: ড: অনুপ ভট্টাচার্য

প্রায় ষোল বৎসর বয়সে আমি তাঁহার (শ্রীরামকৃষ্ণদেবের) নিকট গিয়াছিলাম। -একদিন গুরুদেবের প্রয়াণকাল উপস্থিত হইল। সকলে মিলিয়া য...
04/11/2025

প্রায় ষোল বৎসর বয়সে আমি তাঁহার (শ্রীরামকৃষ্ণদেবের) নিকট গিয়াছিলাম। -একদিন গুরুদেবের প্রয়াণকাল উপস্থিত হইল। সকলে মিলিয়া যথাসাধ্য তাঁহার সেবা করিলাম। আমাদের বন্ধুবান্ধাব বিশেষ কেহ ছিল না-তারপর আসিল দুঃসময়-ব্যাক্তিগতভাবে আমার পক্ষে এবং অন্যান্য ভ্রাতাদের পক্ষেও। কিন্তু আমার পক্ষে সে কি নিদারুণ দুর্ভাগ্য। একদিকে মা ও ভাইরা, পিতার মৃত্যুতে আমরা তখন চরম দারিদ্র্যে উপনীত। বেশীর ভাগ দিন না খাইয়া থাকিতে হইত। পরিবারে একমাত্র আমিই আশাভরসা--- সাহায্য করিবার উপযুক্ত ছিলাম।

আমার সম্মুখে তখন দুইটি জগৎ। একদিকে মাতা ও ভ্রাতাদিগকে না খাইয়া মরিতে দেখিতে হইবে; অপর দিকে বিশ্বাস করিতাম যে, গুরুদেবের ভাবধারা ভারতের তথা জগতের পক্ষে কল্যাণকর, সুতরাং এই আদর্শ জগতে প্রচার করিয়া কার্যে পরিণত করিতেই হইবে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এই দ্বন্দু চলিল। কখনও কখনও পাঁচ ছয় দিন ধরিয়া অবিরত প্রার্থনা করিতাম। সে কি হৃদয় বেদনা; আমি তখন দারুণ যন্ত্রণা অনুভব করিতেছিলাম। তরুণ হৃদয়ের স্বাভাবিক স্নেহ, আত্মীয়গণের দিকে টানিতেছে -- অতি প্রিয়জনদের দুরাবস্থা সহ্য করিতে পারিতেছি না। অপর পক্ষে সহানুভূতি জানাইবার একটি লোকও নাই। বালকের কল্পনার প্রতি কে সহানুভূতি দেখাইবে? চারিপাশে সকলের নিকট অপমান ও লাঞ্ছনাই পাইলাম। অবশ্য দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করিয়া অন্ন সংগ্রহ করিতে হইত। এখানে ওখানে দু-এক টুকরো রুটি মিলিত। একটি অতি পুরাতন ভগ্নপ্রায় বাড়ি বাসস্থান হিসাবে জুটিল; উহার তলায় গোখুরা সাপের বাসা, তাহাদের ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যাইত। অল্প ভাড়ায় বাড়ি পাওয়ায় আমরা সেই গৃহে গিয়া বাস করিতে লাগিলাম। .... এইরূপে কয়েক বৎসর অতিবাহিত হইল। ইতোমধ্যে ভারতের সর্বত্র পরিভ্রমণ করিলাম। উদ্দেশ্য- ক্রমশঃ এই ভাবধারা প্রচারের চেষ্টা। দশ বৎসর কাটিয়া গেল কোন আলোকরেখাই দেখিতে পাইলাম না। দশটি বৎসর। সহস্রবার হতাশা আসিল। কিন্তু একটি জিনিস আমাদের সর্বদা আশান্বিত করিয়া রাখিয়াছিল সেটি হইল আমাদের পরস্পরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও গভীর ভালবাসা। কাল যদি আমি সাক্ষাৎ শয়তান হইয়া যাই, তাহারা বলিবে, "আমরা এখনও আছি। আমরা তোমাকে কখনই ত্যাগ করিব না!" এই ভালবাসাই পরম আশীর্বাদ।

ধীরে ধীরে আমরা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে লাগিলাম। শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই বিরুদ্ধাচারণ পাইলাম, সাহায্য আসিল অতি অল্পক্ষেত্রে। ইতোমধ্যে আমার শরীর ভাঙিয়া পড়িতে লাগিল।... একবেলা আহারের বন্দোবস্ত করিবার জন্য আমাকে দ্বারে দ্বারে ফিরিতে হইত। কখনও রাত্রি নয়টার একবেলা আহার, কখনও ভোরে আটটায় একবেলা আহার, তাও আবার তিনদিন পরে এবং সর্বদাই অতি সামান্য কদর্য অন্ন। পরিণামে শরীরের উপর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভিখারীকে কেই বা ভাল খাবার দেয়,..শুধু একবেলা আহারের জন্য বেশির ভাগ সময় পায়ে হাঁটিয়া তুষার শৃঙ্গ চড়াই করিয়া, কখনও দশ মাইল পথ দুর্গম পর্বত চড়াই করিয়া চলিয়াছি।

ঠাকুরের দেহত্যাগের পর সকলে আমাদের ত্যাগ করে দিলে হাবাতে গরীব ছোঁড়াগুলো মনে করে। কেবল বলরাম, সুরেশ মাস্টার ও চুণীবাবু ওরা সকলে বিপদে আমাদের বন্ধু।.... আমরা বরাহনগর মঠে কত জপ-ধ্যান করতুম। তিনটার সময় সব সজাগ হতুম। শৌচান্তে কেউ চান করে কেউ না করে ঠাকুর ঘরে গিয়ে বসে জপ-ধ্যানে ডুবে যেতুম। তখন আমাদের ভেতর কি বৈরাগ্যের ভাব। দুনিয়াটা আছে কি নেই তার হুঁশই ছিল না। শশী চব্বিশ ঘণ্টা ঠাকুরের সেবা নিয়েই থাকত এবং বাড়ীর গিন্নীর মতো ছিল। ভিক্ষা শিক্ষা করে ঠাকুরের ভোগরাগের ও আমাদের খাওয়ানো-দাওয়ানোর যোগাড় ওই সব করতো। এমন দিনও গেছে যখন সকাল থেকে বেলা ৪/৫ টা পর্যন্ত জপ-ধ্যান চলছে। শশী খাবার নিয়ে অনেকক্ষণ বসে থেকে শেষে কোনরূপ টেনে হিঁচড়ে আমাদের জপ-ধ্যান থেকে তুলে দিত। আহা শশীর কি নিষ্ঠাই দেখেছি। ভিক্ষা-শিক্ষা করে যা আসত, তাতেই সব চলে যেত। খরচপত্র অনটনের জন্য কখন কখন মঠ তুলে দিতে লাঠালাঠি করতুম। শশীকে আমাদের মঠের কেন্দ্রস্বরূপ বলে জানবি।

এক একদিন শুধু নুন ভাত চলেছে, তবু কারও ভ্রূক্ষেপ নেই, জপ-ধ্যানের প্রবল তোড়ে আমরা তখন ভাসছি। তেলাকুচোপাতা সেদ্ধ, নুন-ভাত এই মাসাবধি চলেছে। আহা, সে সব কি দিনই গেছে। সে কঠোরতা দেখলে ভূত পালিয়ে যেত - মানুষের কথা কি! ... কি সব দুঃখের দিনই না আমাদের গেছে। এক সময়ে না খেতে পেয়ে রাস্তার ধারে একটা বাড়ির দাওয়ায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম; মাথার ওপর দিয়ে এক পসলা বৃষ্টি হয়ে গেল, তবে হুঁশ হয়েছিল। অন্য এক সময়ে সারাদিন না খেয়ে কলকাতায় এ কাজ সে কাজ করে বেড়িয়ে রাত্রি ১০/১১ টার সময় মঠে গিয়ে তবে খেতে পেয়েছি-এমন এক দিন নয়।

আমার জীবনে এক সময়ে আমিও খুব উপাসনা করিয়াছি। বর্ষাকালে একটানা চারমাস ধরিয়া প্রত্যুষে গাত্রোত্থানের পর গঙ্গাস্নান ও আর্দ্র বস্ত্রে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জপ করিতাম। পরে কিছু খাইতাম, সামান্য ভাত বা অন্যকিছু। বর্ষাকালে এইরূপ চাতুর্মাস্য।

(সংগৃহীত: স্বামী বিবেকানন্দ-আত্মকথা, স্বামী সুরেশানন্দ রচিত)

Address

Vill/Dhubulia 3/25 No Group
Dhubulia
741139

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dhubulia Vivekananda Yuva Mahamandal posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Dhubulia Vivekananda Yuva Mahamandal:

Share