14/04/2026
জে এস এস ফুটবল কোচিং সেন্টার—নামটা হয়তো খুব সাধারণ শোনায়। কিন্তু এই নামের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক মানুষ, এক লড়াই, আর অনেকগুলো অসমাপ্ত স্বপ্ন।
দীপু সানা। মানুষটা খুব চুপচাপ। নিজের কষ্ট নিয়ে তিনি খুব একটা কথা বলেন না। অথচ তার জীবনের গল্পটা শুনলে একটু থমকে যেতে হয়। একসময় মাঠই ছিল তার সবকিছু—পা দিয়ে বল ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন স্বপ্নগুলোও দৌড়াতো। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো শেষ পর্যন্ত থেমে যায় বাস্তবের দেয়ালে। সংসার টানতে তাকে জুট মিলে কাজ নিতে হয়।
এখন সেই কাজটাও নেই। মিল বন্ধ। আয় নেই বললেই চলে।
তবু…
এখানেই গল্পটা অন্যরকম হয়ে যায়।
নিজের জীবন থেমে গেলেও, তিনি অন্যদের থামতে দেননি। প্রতিদিন, ঠিক প্রতিদিন, তিনি মাঠে আসেন। দাঁড়িয়ে থাকেন। ডাক দেন ছেলেগুলোকে—“চল, প্র্যাকটিস শুরু করি।”
এই মাঠে প্রায় ২০০ জন ছেলে আসে। অনেকের পায়ে জুতো নেই। কারো নিজের বল নেই। কিন্তু চোখে আছে আগুন—একটা অদ্ভুত জেদ, কিছু একটা করে দেখানোর ইচ্ছে।
আর সেই আগুনটা নিভে যেতে দেন না দীপু সানা।
কখনও কখনও মনে হয়—এই মানুষটা নিজের স্বপ্নটা হয়তো হারিয়েছেন। কিন্তু অন্যদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার যে চেষ্টা তিনি করছেন, সেটার মূল্য কি আমরা ঠিকমতো বুঝি?
এই ছোট্ট মাঠটা খুব আধুনিক নয়। এখানে বড় বড় সুযোগও নেই। কিন্তু এখানে ভালোবাসা আছে। আছে বিশ্বাস। আছে একসাথে লড়াই করে যাওয়ার সাহস।
তাই আজ আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ—
যদি পারেন, একটু পাশে দাঁড়ান।
হয়তো আপনার ছোট্ট সাহায্য—একজোড়া জুতো, একটা বল, কিংবা সামান্য অর্থ—কারও জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
হয়তো এই মাঠ থেকেই একদিন কেউ বড় খেলোয়াড় হবে।
অথবা… একজন ভালো মানুষ।
সব সাহায্য বড় হতে হবে না।
কখনও কখনও, ছোট ভালোবাসাই সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয় ❤️