05/06/2026
আমাদের মোট উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সংখ্যা ৪৯৪ হলেও উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের সংখ্যা ৪৩২ টি।
সদর উপজেলা গুলোতে স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্য্যালয় থাকে। সদর উপজেলার মাঠের সেবা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয় সেই অফিস থেকে।
সদর উপজেলায় স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স থাকেনা। কারণ, সদরে জেলা সদর হাসপাতাল থাকে।
উপজেলার এই স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স গুলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় শুরু হয় ৩১শয্যা বিশিষ্ট থানা হাসপাতাল হিসেবে। পরবর্তীতে প্রায় সব ৩১বেড, ৫০ বেডে উন্নিত হয়। কোন কোন উপজেলা ১০০বেডের হাসপাতালে উন্নিত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স সংক্রান্ত আমার কাছে থাকা তালিকাটি এখানে দিয়ে রাখছি। এটিতে সামান্য ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। পরবর্তীতে সংশোধনী প্রয়োজন হলে দেয়া হবে। আপনাদের কারও কাছে সঠিক তথ্য থাকলে মন্ব্যে দিলে আমি সংশোধন করে নিব।
৪৩২টি উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের চিত্রঃ
★ ৩১শয্যা- ৫৪ টি।
★ ৫০ শয্যা-২৬৮( স্হাপনা ও জনবল অনুমোদিত)
★ ৫০ শয্যা- ৯১ (স্হাপনা আছে, জনবল ৩১ এর)
★ ১০০ শয্যা- ১৯ টি। এর সবগুলো এখনও জনবল অনুমোদিত নয়।
উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স হিসেবে এই মোট ৪৩২ টি হাসপাতাল আছে আমাদের।
এর সামারি করলে দাঁড়ায়ঃ
এখনও ৫৪টি কমপ্লেক্স ৫০বেডেই উন্নিত হয়নি।
৫০ বেডে উন্নিত ৯১ টি হাসপাতাল এখনও জনবলের অনুমোদন না পাওয়ায় ৩১ বেডের জনবল দিয়ে ৫০ বেডের রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
২৬৮টি হাসপাতাল নিয়মিত ৫০বেড হিসেবে কার্যক্রম চালাতে পারছে
১৯টি ৫০ বেড হাসপাতাল ১০০ বেডে উন্নিত হলেও এর বেশীরভাগেরই এখনও অর্থের এবং জনবলের অনুমোদন হয়নি।
তাহলে এই মুহুর্তে আমাদের ১০০ বেডে রূপান্তরিত করার সুযোগ আছে ২৬৮টি উপজেলা হাসপাতালে। যেগুলোতে ৫০ শয্যার প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে চালু আছে।
এখন প্রশ্ন হলো, আমরা সবগুলো ৫০ বেড হাসপাতালকে ১০০ বেড করবো কিনা।
হাসপাতালে বেড বাড়ানোর মূল সূত্রটি হচ্ছে মাসিক ও বাৎসরিক বেড অকোপেন্সি রেট। অর্থ্যাৎ, কোন হাসপাতালে প্রতিমাসে কত পারসেন্ট বেড রোগী দ্বারা অকুপায়েড থাকে।
যদি এই রেট সারা বছর হয় ১০০ ভাগের বেশী অর্থ্যাৎ ১৫০% বা আরও বেশী হয়, তাহলে ঐ হাসপাতালের বেড সংখ্যা বাড়িয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়া উচিৎ।
যেমন, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ বা প্রয়োজনে ১০০ শয্যা এবং ৫০ শয্যা থেকে ১০০ তে উন্নিত করণ যৌক্তিকভাবে প্রযোজ্য।
যেখানে কোন হাসপাতালে সারাবছর বেড অক্যুপেন্সি রেট ১০০ এর নীচে থাকে, সেখানে বেড বৃদ্ধির জন্য স্হাপনা বানালে শুধু অর্থের অপচয় হবে।
আবার, যেখানে বেড বাড়ানো যৌক্তিক, সেখানে যদি জনবল না অনুমোদন দিয়ে শুধু স্হাপনা বানানো হয়, সেখানেও সেবার মান বাড়েনা এবং অর্থের অপচয় হয়।
তাই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা ব্যাক্তিকেন্দ্রিক চাহিদায় নতুন হাসপাতাল বানানো, পুরাণা হাসপাতালের স্হাপনা বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়া আর্থিক অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় ঠিকাদারেরা ভুল তথ্য দিয়ে বা চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেগ উষ্কে দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সরকারের অনুমোদন করিয়ে নিজেরা লাভবান হন। এসব ক্ষেত্রে সরকার আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও একটি বিষয় আমাদের বিজ্ঞ কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মনে রাখতেই হবে, বাংলাদেশের যে কোন খাতে দুর্নীতির প্রধান দুটি ছিদ্র হলো ১) কন্স্ট্রাকশন ২) যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়।
ব্যাবসায়ী কেন্দ্রিক দুর্নীতির বড় বড় সিন্ডিকেট গুলো সর্বমহলেই সংশ্লিষ্ট থাকে অবাধে। নতুন নতুন কন্সট্রাকশন এবং ক্রয় পরিকল্পনার পিছনে এরাই মূলতঃ নানারকম দাবার ঘুটি চালাচালি করে।
যখন কোন হাসপাতাল নির্মান পরিকল্পনার সাথে অবকাঠামো অনুযায়ী ওই হাসপাতালের জনবল অনুমোদন না করিয়ে শুধু নির্মাণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ার বাজেট পাশ করানো হয়, তখন আপনাকে বুঝে নিতে হবে ওই পরিকল্পনার পিছনে কোন না কোন পক্ষের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা থাকার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ।
দুরু দুরু বুকে, হৃদরোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েই বারবার ভুল করে এসব লিখে ফেলি।
তাই, ভুলত্রুটি বা অপরাধ, যাই করি না কেন, ক্ষমা চাওয়া থাকলো।
আজ এ পর্যন্তই। ফিআমানিল্লাহ।
( তথ্যগত ভুল থাকলে সংশোধনী দেয়ার অনুরোধ রইলো।)
- SA Shafi