01/06/2024
জীবন নিয়ে আমার নিজস্ব একটা থট আছে। মানুষ জীবনে একবার না একবার এক্সট্রিম দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়। সেই এক্সট্রিম দুঃখ ভোগ করতে হয় বেশ কিছুদিন। এ সময়ে ধৈর্যের চরম পরীক্ষাটাও হয়ে যায়। এরপর একদিন ঝড় শেষের স্নিগ্ধ ভোরের মতো সেই এক্সট্রিম দুঃখের অবসান হয়ে জীবনে সুখ আসে। হ্যাঁ, জীবনে সত্যিই সুখ আসে। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন সুখে মানুষ তার স্রষ্টাকে ভুলে যায়। তাই মহাপ্রজ্ঞাবান আল্লাহ অবারিত সুখ না দিয়ে ছোটো ছোটো দুঃখ-কষ্ট দিয়েই থাকেন। কারণ করুণাময় আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন। তিনি চান না তাঁর বান্দারা অকৃতজ্ঞ হোক। রোগ-ব্যধি, আর্থিক কষ্ট, প্রিয়জন থেকে পাওয়া কষ্ট, দুশ্চিন্তা এগুলো প্রতিদিনের সূর্যাস্তের পর আঁধারের মতো জীবনকেও অল্প সময়ের জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখে। আর প্রতিদিনের সূ্র্যোদয়ের মতো জীবন থেকে ছোটোখাটো এইসব দুঃখগুলোও দ্রুত দূরীভূত হয়ে যায়। কিন্তু সেই এক্সট্রিম দুঃখ আর আসে না। এটা আমার বিশ্বাস। অর্থাৎ আমি বিশ্বাস করি, ছোটোখাটো দুঃখ কষ্ট জীবনে থাকবে। কিন্তু এক্সট্রিম লেভেলের দুঃখ জীবনে একবারই আসে এবং সেটা কেটেও যায়।
তাই যখনই মনে হয় আমার কষ্ট হচ্ছে অথবা আমার প্রিয় মানুষগুলোর কষ্ট হচ্ছে তখন আল কুরআন এর সেই আয়াত স্মরণ করি ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে আছে স্বস্তি’ - সুরা আল ইনশিরাহ (৫,৬)।
আরও স্মরণ করি,
‘‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে ভালো যা কিছু উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা আল বাকারা, ২৮৬)
আমি এটাও বিশ্বাস করি প্রতিটা মানুষই সুখ ডিজার্ভ করে। জীবনে উত্থানপতনের কোনো একসময় এক্সট্রিম দুঃখ কেটে গিয়ে অবধারিতভাবে তাই সুখও আসে। কিন্তু সবাই সেটা বোঝে না। সুখের নানা উপকরণ দিয়ে তার জীবন পূর্ণ থাকলেও ছোটো ছোটো দুঃখ-কষ্ট নিয়েই সে ব্যতিব্যস্ত থাকে। মনে করে, জীবনে কী পেলাম দুঃখ ছাড়া! আল্লাহ পাক আমাদের অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আমরা যেন সুখস্মৃতিগুলো নিয়ে দুঃখকষ্টগুলো ভুলে থাকতে পারি। এক্সট্রিম লেভেলের দুঃখ যেন সহ্য করতে পারি। যদি সহ্য করতে ব্যর্থ হই আল্লাহ যেন দ্রুতই আমাদের মুক্ত করেন। আল্লাহ যেন আমাদের কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন (আমিন ইয়া রাব্বুল আলামীন।
#জীবনের_আয়োজনে ৪২
সালসাবিলা নকি